আজ রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ১০:৩১ অপরাহ্ন

একটি রেলভ্রমণ ও কিছু অজানা রহস্য!

একটি রেলভ্রমণ ও কিছু অজানা রহস্য!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  

আজহার মাহমুদ : বাংলাদেশ রেলওয়ে। যার সাথে জড়িত আছে কয়েক লক্ষ মানুষ। এর মূল উপাদান হচ্ছে রেল গাড়ি। এই গাড়ির সাথে জড়িত আছে দৈনিক হাজার হাজার মানুষের যাতায়ত।

বলা যায় সবচেয়ে আরামদায়ক যাতায়ত রেল পথেই। এটা প্রায় পৃথিবীর সবদেশের মানুষ পছন্দ করে। সে পছন্দের স্থান থেকে ১৮৬২ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রা যখন শুরু হয় তখন এই ভূখন্ড রাজত্ব করছিলো ব্রিটিশরা। তাদের হাত ধরেই এসেছে এই রেলওয়ে।

এরপর ব্রিটিশ গেলো পাকিস্তান হলো। তখন রেলওয়ের নাম ছিলো ইবিআর (ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে)। এরপর রক্তদিয়ে পাকিস্তানীদের হাত থেকে স্বাধীন হয়েছে বাংলাদেশ। তখন থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে হিসেবে পরিচিত। চলতে চলতে আজ সেটা ১৫৬ বছরে এসে ঠেকেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের বয়স। কিন্তু এই ১৫৬ বছরে প্রাপ্তি কতটুকু? উন্নতি কতখানি? আচ্ছা ১৫৬ বছর বলা ঠিক হবে না। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ রেলওয়ের বয়স ৪৭ বছর। হ্যাঁ, এই ৪৭ বছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রাপ্তি আর উন্নয়ন দুটোই আছে বেশ। দেশের রেল সংযোগ বেড়েছে, বেড়েছে রেলের যাত্রী আরও কত কি। কিন্তু অনিয়ম? সেটা কি বেড়েছে? হ্যাঁ, সেটাও বেড়েছে বেশ। রেলওয়ের অনিয়ম এসব আমরা হরহামেশা শুনি। কিন্তু এসব কতটা সত্য সেটা নিজের দু-চোখ ভরে না দেখলে বুঝবেন না আপনি। তেমনি একটা অভিজ্ঞতার কথা বলছি আমি। গত ৪ এবং ৫ এপ্রিল রাতের ট্রেনভ্রমণ করে সেই দৃশ্য আমি নিজ চোখেও দেখলাম।

টিকেট করতে গিয়ে দেখি দালালের অভাব নাই। একজন আমাকে বলে, তার কাছে টিকেট আছে। আরাম করে বসে যেতে পারবো। আমি বলছি আমি কাউন্টার থেকে নিবো। লোকটা বলে কাউন্টারে সিট পাবেন না। আমি বলছি সমস্যা নাই। দাঁড়িয়ে যাবো। আরেকজন বলে, ভাই টিকেট লাগবে না। আমার সাথে আসুন আমি ট্রেনে আপনাকে বসিয়ে দিবো আমার একটা লোক আছে ট্রেনে। ৩০০ টাকা দিলে হবে। যাইহোক আমি এসব পাত্তা না দিয়ে কাউন্টার থেকে টিকেট করলাম। যেহেতু ৫ এপ্রিল সকালে আমার কাজ, তাই যেভাবেই হোক আমার যেতে হবে। তাই সিট না পেয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকেট নিলাম। অতঃপর টিকেট নিয়ে যথাসময় ট্রেনে উঠলাম।

ট্রেনে উঠে দেখি প্রচুর মানুষ। সিট শেষ বহু আগে। কিন্তু দাঁড়িয়ে যাওয়ার মানুষ যে এতোজন সেটা জানতাম না। তবে এতোজন হবে জানলে আমিও ট্রেনে যেতাম না। ট্রেনে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে সকালের প্রোগ্রামটা যেন মিস না করি এবং ভালো ভাবে পৌঁছাতে পারি। বাসেও অনেকবার ঢাকায় যাওয়া হয়েছে, তাই রাস্তায় জ্যামের অভিজ্ঞতাটাও আছে। সবচে বড় কথা ট্রেনে করে কখনও দূরের ভ্রমন করিনি। তাই ট্রেনে যাওয়া। কিন্তু মানুষ দেখে আমি রীতিমতো হতভম্ব। এতো মানুষ লোকাল বাসেও অনেকসময় উঠতে দেখিনাই। যাইহোক মন খারাপ করে যাত্রা শুরু।

অল্পকিছুক্ষণ পর আমার পাশের ভদ্রলোক থেকে জানতে পারলাম এদের কারও টিকেট নেই। বেশিরভাগ অবৈধভাবে ট্রেনের কর্মচারীকে অল্পটাকা দিয়ে উঠেছে। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে তারাই জামাই আদর পাচ্ছে। আমি যেখানটাই দাঁড়িয়ে ছিলাম তার পাশের বগিটায় দেখি ট্রেনের কর্মচারীরা নাস্তা বিক্রি করছে। সেখানেও দেখি ১২ থেকে ১৫ জন মানুষ টুলে বসে আরামে যাচ্ছেন। আমিও হাটতে হাটতে তাদের পাশে গেলাম। তারা আমার দিকে তাকিয়ে থাকে কিছুক্ষণ।

এরমধ্যে একভদ্রলোক এসে টিকেট চেক করছে। তখন দেখছি যারা দাঁড়িয়ে আছে এবং টুলে বসে যাচ্ছে তাদের প্রায় লোকের টিকেট নেই। কিন্তু টিকেট নেই কেন জিজ্ঞেস করতেই তারা অন্যএকজন কর্মচারীকে দেখিয়ে দেয়। এবং যিনি টিকেট চেক করছেন তিনিও আর কথা না বলে চলে গেলেন। তারপর দেখি যিনি টিকেট চেক করছিলেন তিনি টাকা ভাগ বাটোয়ারা করে চলে যাচ্ছেন। টিকেট ছিলো হাতেগুনা আমাদের কয়েকজনের কাছে। আমরা টিকেট দেখিয়েছি। তখন যিনি টিকেট দেখছিলেন তিনি আমাকে বলছেন, এতো দূর দাঁড়িয়ে যাবেন? আমাদের কর্মচারীর সাথে কথা বলুন। একটা টুল এনে দিবে। কিছু টাকা দিবেন আরকি।

মনে মনে তখন ভাবছি এই হলো আমাদের রেলওয়ে। টাকা থাকলে যে সব কিছু সম্ভব সেটা আবারও প্রমাণিত। এর মধ্যে আমার কাছে এলো একটা ফোন। ফোনে কথা বলার পর একটু হাসি আর অধিক চিন্তা বেড়ে গেলো। কতারণ ৬ তারিখ আমার চাকরির ইন্টরভিও। প্রথম ইন্টারভিওতে পাস করেছি বলেই ভাইবাতে সুযোগ পেলাম। তাই একটু হাসি। আর চিন্তা হচ্ছে কাল ঢাকায় কাজ সেরে আবারও রওনা দিতে হবে চট্টগ্রামে। কি এক অসহ্য ব্যপার।

যাইহোক যেতে যেতে কুমিল্লা চলে এলা। স্টেশনে থামার পর দেখি অনেক লোক নেমেছে। অনেকটা ফাঁকা হলো বগি। দু-একটা সিটও খালি পড়ে রইলো। তবে সেখানে বসার সুযোগও আমাদের নেই। কারণ সেখানে অবৈধ যাত্রীরা বসবে। আমরাতো বৈধভাবে টিকেট করে দাঁড়িয়ে যাচ্ছি। তখন নিজের প্রতি নিজের ঘৃণা হচ্ছে। আসলেই কোন সমাজে আমাদের বসবাস। মানুষও যে কীভাবে তাল মিলিয়ে চলছে। হঠাৎ আমার পাশের লোকটাকে দেখলাম একটা টুলে বসে আছে। আমার দিকে চোখ পড়তেই বলে উঠে, ১৪০ টাকা দিলাম তারপর টুলটা পেলাম। তিনি আমাকে বলেন তুমিও একটা টুল নাও। আর কতক্ষণ দাঁড়িয়ে যাবা?

আমি তখন বলছিলাম অর্ধেকতো চলে এলাম, আর অর্ধেকও না হয় এভাবে চলে যাবো। ঠিক এমন সময় ট্রেনের কর্মচারির পরিচিত একলোক ট্রেনে উঠলো। ট্রেনের বগিতে লেখা আছে ধূমপান মুক্ত এলাকা। কিন্তু তার হাতে দেখি সিগেরেট। তাকে দেখি টুল এনে দিলো তার বন্ধু। তারা সবাই একসাথে দেখি সিগারেট ধরিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। পরিবশটা তখন আর আমার অনুকূলে রইলো না। ধোঁয়ায় নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দেখি প্রতিবাদও করছে না কেউ। তাই দ্রুত বগিটা ত্যাগ করে অন্য একটিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। প্রতিবাদ করার সাহস থাকলেও সে মূহুর্তে সাহসটা হারিয়ে ফেলেছি। কারণ একা একজন মানুষ কখন কে কি করে বসে। এসব চিন্তা থেকেই চুপ থাকা। তবুও চুপ থাকতে না পারায় লিখতে বসা। এভাবে অবৈধ যাত্রি, ট্রেনের বগির ভেতর সিগারেট খাওয়া, শব্দ দূষণ করা এসব মেনে নিতে না পারায় লিখতে বসা। তবে শেষ এখানেই নয়।

কুমিল্লার পরের এক স্টশনে একটা লোক নেমেছে। তার সিট খালি হলে আমার পাশের একজন লোক বসে পড়ে। লোকটার সাথে অনেক্ষণ কথা বলেছি আমি। তার নাম জাবেদ। সেও আমার মতো জরুরী কাজে ঢাকা যাবে। লোকটা মনে হয় দাঁড়াতে পারছে না আর। তাই বসে পড়লো। কিন্তু বেচারি বেশিক্ষণ বসতেও পারলো না। হঠাৎ একজন লোক উঠলো ট্রেনে। তিনি বসে থাকা সবার টিকেট চেক করেন। সবাই টিকেট দেখায়। অতঃপর আমার পাশের লোকটির টিকেটে দেখে সিট নেই, দাঁড়িযে যেতে হবে। তখন লোকটা তাকে উঠিয়ে দিয়ে নিজে বসে পড়লো। বিষয়টা দেখে আমরা সবাই অবাক। আমার পাশের লোকটা অর্থৎ জাবেদ তাকে বলছে, আপনার টিকেট কই? তখন বসে থাকা লোকটি আমার পাশের লোকটিকে যেন তাৎক্ষণিক মারবে এমন ভাব করে কথা বলছে।

সে বলছে, এই ট্রেন তার বাড়ির মতো। এখানে তার সব আত্বীয়। আরও কত কি। এই ট্রেনের সবকিছু তার হাতের নাগালে। যাইহোক সবাই বুঝতে পেরেছে লোকটা কেমন। অপর দিকে পাশর বগিতে কয়েকটা ছেলে সিগারেট খাচ্ছে তাই ওদিকে যেতেও পারছি না। তাদের হাসি-তামাশার আওয়াজ কিন্তু আমাদের কানে আসছে। এভাবে এসব দেখতে দেখেতে ট্রেন ভ্রমন শেষ হলো। একটু পর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনে নামলাম। তারপর নির্দিষ্ট কাজ শেষ করলাম। তারপর চট্টগ্রামে রওনা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। রাতেই চট্টগ্রাম পৌঁছাবো। কিন্তু গাজিপুর এক সেনাবাহিনীর অফিসারের সাথে ভালো সর্ম্পক। তার সাথে দেখা না করলে তিনি আবার রাগ করবেন। তাই গাজিপুর যাওয়া। তখন তিনি আমার জন্য চট্টগ্রামের টিকেট ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

যাওয়ার সময় এসি সিট নিয়ে আরামে যাবো। যদিও ট্রেনে যাওয়ার স্বাদ আমার একবারেই ছিলো না। কিন্তু টিকেট যখন ঠিক করে রেখেছে প্রিয়জন, তখন তো আর ফেলতে পারি না। অন্যদিকে দু’রাত না ঘুমিয়ে থাকা। উফ, কি কষ্ট। যাইহোক সে জন্য আমাকে কমলাপুর রেলস্টশনে যেতে হবে। আমার সাথে ছিলো আমার একটা সঙ্গী। তাকে নিয়ে জয়দেবপুর রেলস্টশন থেকে কমলাপুরের টিকেট কাটলাম। টিকেট কেটে কিছুক্ষণ দাঁড়ানোর পর ট্রেন এলো। কিন্তু তারপর যা হলো তা দেখে অবাক আমি। ট্রেনে বিন্দু পরিমান জায়গা নেই। ছাদে দেখি প্রচুর মানুষ। আমার সাথের জন ছাদে গেলো। আমি ছাদে উঠার সাহস করতে পারিনি। তাই কোনোরকম ট্রেনের হাতল ধরে ভেতরে ঠেলে দাঁড়িয়েছি।

তখন ভাবছি এটাই কি সেই আরামদায়ক ভ্রমন! যেভাবে ঘেষা ঘেষি করে দাঁড়িয়েছে মানুষ, যেমন দুর্গন্ধ তেমনি নিশ্বাস নেওয়ার কোনো অবস্থা নেই। যেন দম বন্ধ হয়ে আমি মৃত্যুর পথযাত্রী। এভাবে যেতে কত কষ্ট তা নিজে না গেলে বুঝা যাবে না। এভাবে প্রতিটা স্টেশনে উঠা নামা হচ্ছে। নামছে বললে ভুল হবে, উঠছে। সেই বিমান বন্দর স্টেশনে এসেও থামলো ট্রেন। কিছু রেলওয়ে পুলিশ বাঁশি বাজিয়ে ট্রেনের ছাদ থেকে সবাইকে নামিয়ে দিচ্ছে। তখন আমি ভাবছি এরা যদি ভেতরে আসে তাহলে নিশ্চিত মৃত্যু। এছাড়া আমার সঙ্গীকে ছাদে উঠেছে। তাই তার খোঁজ করতে অনেক কষ্টে ঠেলে-ঠুলে নামলাম। এর মধ্যে সবাই যে যার মতো ছাদ থেকে নেমে ভেতরে আসছে। তখন আমার সাথে যে লোকটি ছিলো তাকে দেখছি না। ট্রেন থেকে নামার পর খুজঁছি। এর মধ্যে তার ফোন। ফোন দিয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে, কোথায় ভাইয়া? আমি তখন বললাম প্রথম বগির দিকে আসতে। সে এসে দাঁড়ালো আমার পাশে। ততক্ষণে ট্রেনও ছেড়ে দিচ্ছে। আমরা ট্রেনে উঠতে গিয়ে দেখি বিন্দু পরিমান জায়গা নেই। ছাদ থেকে সবাই ভেতরে চলে আসায় একদম টাইটফিট।

আমরা শেষপর্যন্ত ট্রেনে উঠতেই পারলাম না। ট্রেন আমাদের সামনে চলে যাচ্ছে আমরা যেতে পারছি না। অথচ টিকেট পকেটে। তখন আমার সাথের ছেলেটি বলে, ভাই এতো মানুষের জায়গা থাকে না, টিকেট কেন বিক্র করে। আমি তখন চুপ করে শুনছি। কিছু বলে উঠতে পারছে না।

এরপর সিদ্ধান্ত নিলাম বাসে করে কমলাপুর যাবো। ঠিক তখনি দেখলাম কিছু ছেলে একটা লোককে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমি তখন তাদের অনুসরণ করলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, কি হয়েছে ভাই, ওনাকে এভাবে টানছেন কেন? ওরা বলে উনি ছাদে উঠেছে তাই। আমি তাদের বলি এখন কি করবেন তাহলে? ওরা বলে, আমাদের স্যারের কাছে নিয়ে যাবো। ওদের স্যার বলতে একজন রেলওয়ে পুলিশ (কনেস্টেবল) ওখানে দাঁড়িয়ে আছে। তাকে ওই ছেলেগুলো বলে, স্যার। এই লোকটা ছাদে ছিলো, ধরে এনেছি। এরপর পুলিশটা কোনো কথা না শুনে একটা রুমের ভেতর আটকে রেখেছে লোকটাকে।

ভেতরে দেখি আরও কয়েককটা ছেলে আছে। ভেতর থেকে ছেলেগুলো বলে আমাদের কালকে পরীক্ষা। আমাদের ছেড়ে দিন। পুলিশ সে কথায় কান দিচ্ছেন না। এরপর পুলিশটাকে আমি বললাম, ভাই এখন ওদের শাস্তি কি এটাই? ওদের ছেড়ে দিবেন কখন? তখন পুলিশটা বললো, আমাদের স্যার না আসলে ছাড়া যাবে না। আর ১০০ টাকা করে দিতে হবে। এটা জরিমানা। আমি বুঝতে পারলাম ব্যপারটা আসলে কি।

এরপর ভেতরের একটা ছেলেকে বললাম তুমি এ বিষয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে সবকিছু পরিষ্কার করে জানাও। এতটুকু বলে আমি বাসে রওনা দিলাম কমলাপুরের পথে। কারণ এরপর কমলাপুরে পৌঁছে রাতের খাবার খেয়ে নির্দিষ্ট ট্রেনে উঠে নিজের আসনে বসলাম। স্টেশনে একটু আগে আসায় পুরো ট্রেন একবার চক্কর দিলাম। তখন আসার সময় যা দেখেছি তার পুনরাবৃত্তি দেখলাম। যাইহোক নিজের আসনে বসে পড়লাম। ট্রেনেও ছেড়ে দিলো নির্দষ্ট সময়ে। মাঝপথে এক ভদ্রলোক নেমে যাওয়ার পর তার সিট ফাঁকা রইলো। এরপর ট্রেনের এক গার্ড এসে সেখানে একজন লোককে বসিয়ে দিলো। সে বললো ৩০০ টাকা দিয়ে এখানে বসতে পেরেছে। যাইহোক এসব নিয়ে আর না ভেবে চোখ বন্ধ করেই চট্টগ্রাম ফিরে এলাম। আর বাসায় ফিরতে ফিরতে ভাবলাম অনিয়ম নেই কোথায়?

এই যে অবৈধ যাত্রী, ধূমপান, ঘুষ নেওয়া, ট্রেনের সিটের তুলনায় অধিক টিকেট বিক্রি করা, ছাদে বসতে দেওয়া আবার তার বিনিময়ে জরিমানার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। এসব কি শুধু অনিয়ম? নাকি অপরাধ? আমার কাছেতো অপরাধ। ছাদে যখন যাত্রী ওঠে তখনই সবাইকে বাঁধা দেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু যেখান থেকে ছাদে উঠে সেখানের পুলিশগুলো সেটা নিরবে দেখে। কারণ নামিয়ে দিলেতো পরের স্টেশনে টাকা পাবে না তার সহকর্মীরা। ট্রেনের ভেতর যে পরিমান জায়গা রয়েছে টিকেট বিক্রি করে তার দ্বিগুন। আর মানুষ বাধ্য হয়ে ছাদে উঠে। এবং পুলিশের হাতে পড়লে টাকা দিয়ে চলে আসো। প্রকৃত পক্ষে এভাবে মানুষ রেলের প্রতি আস্থা হারাচ্ছে।

হারাচ্ছে রেলওয়ের সম্মান। অবৈধ যাত্রি নিয়ে সরকারের টাকা কর্মচারীরা খাচ্ছে। এটা কি দৃর্নীতির মধ্যে পড়ে না? ট্রেনে ধূমপান করা, এটা কি অপরাধ নয়? আসলে এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া দুস্কর। আর জন্যই রেলওয়ের প্রতি মানুষের ধারণাটা এমন। এসব সমস্যা যতদ্রুত সমাধান করা যাবে তত তাড়াতাড়ি বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরবে।

লেখক: আজহার মাহমুদ
প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট।
শিক্ষার্থী : বিবিএ-অনার্স, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, ওমরগনি এমইএস কলেজ, চট্টগ্রাম।
মোবাইল: ০১৮৩০১৩৬৮৩৪
ইমেইল: azharmahmud705@gmail.com
ঠিকানা : সালাম হাইটস (৪র্থ তলা), খুলশী-১, চট্টগ্রাম।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply