উন্নয়নের ছোঁয়া নেই বালুচরের গ্রামগুলোতে - Nobobarta

আজ রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০৬:২২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
খালেদা জিয়ার মুক্তি ছাড়া গণতন্ত্র মুক্তি পাবে না : খন্দকার লুৎফর জাবি উপাচার্যকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে কালো পতাকা প্রদর্শন আন্দোলনকারীদের মোহামেডানসহ ৪ ক্লাবে জুয়ার বর্ণাঢ্য আয়োজন জবিতে শুরু হচ্ছে আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেইস কম্পিটিশন আবৃত্তিকার কামরুল হাসান মঞ্জু’র মৃত্যুতে জাতীয় মানবাধিকার সমিতির শোক দুর্নীতি দমনে প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে দেশবাসী : জিএম কাদের বঙ্গবন্ধু প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করবেন নার্গিস ফাখরি পাকিস্তানে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ২৬ আইনজীবীদের সঙ্গে দেখা করতে হাইকোর্টে মিন্নি
উন্নয়নের ছোঁয়া নেই বালুচরের গ্রামগুলোতে

উন্নয়নের ছোঁয়া নেই বালুচরের গ্রামগুলোতে

  • 15
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    15
    Shares

 

সালাহউদ্দিন সালমান।
মুন্সীগঞ্জ সিরাজদিখান উপজেলাধীন ইউনিয়নগুলোর মধ্যে বালুচর ও বাসাইল ইউনিয়নের ৪ টি ওয়ার্ডের জনপদ উপজেলার মূল ভূখন্ড থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন।সিরাজদিখান উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে বালুচরের ১,২,৩ নং ওয়ার্ড ও বাসাইল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মাঝখান দিয়ে বয়ে গেছে ধলেশ্বরী নদী।নদীদ্বারা বিভক্ত হওয়ায় আধুনিকতার এ যুগেও অনেকটা পিছিয়ে পড়ে আছে এ চরাঞ্চলবাসী।ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাথে ঘেষা চরেরগাও,উত্তর খাসকান্দি,মোল্লারচর,খাসকান্দি, মধ্যেরচর,চান্দের চর,চরপানিয়া,চরগুলগুলিয়া,চরকুন্দলিয়া গ্রামের মানুষগুলোর মাঝে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগেনি স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও যেনো উপজেলার মূলপটভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন এই চরাঞ্চলগুলোর উন্নয়নে বাঁধা হয়ে আছে ধলেশ্বরী নদীটি।ইউনিয়ন তথ্য অনুযায়ী চারটি ওয়ার্ডে বসবাসরত জনসংখ্যা মোট ১৭২৪৫ জন প্রায় এবং ভোটার সংখ্যা নারী পুরুষ সব মিলিয়ে ১৫ হাজারের ও বেশী।

এই জনপদ যেমন লোকসংখ্যায় পরিপূর্ণ তেমনি সমস্যারও কোন কমতি নেই এখানে শিা, চিকিৎসা, বেকারত্ব, বাল্যবিবাহ, যাতায়াত, মাদক ও নৈতিকতাবোধের অবয় রয়েছে তীব্র অকারে। বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থায় জেনো এগুতোই পারছেনা জনপদটির উঠতি বয়েসের শিার্থীরা। ব্যাপক ব্যাহত হচ্ছে শিাব্যবস্থায় অত্র চরাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ নেই তাই উচ্চশিায় শিা গ্রহণের জন্য এখানকার ছাত্রছাত্রীদের অন্য জেলা যেমন কেরানীগঞ্জ অথবা ধলেশ্বরী পাড়ি দিয়ে যেতে হয় তাই প্রাথমিকের গন্ডি পেরিয়ে অকালেই ঝড়ে পড়ছে শিার্থীর সংখ্যা।চরাঞ্চলে বসবাসকারী ১৭২৪৫ জন মানুষ স্বাস্থ্যসেবাসহ প্রায় সব ধরনের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। জীবিকার অন্যতম মাধ্যম কৃষি,উর্বর জমিতে অনেক খাটাখাটনি করে দেশ বিদেশের অনেক নামিদামি শাকসবজি যেগুলো অন্য জেলায় চাষ হয়না অথচ মুন্সীগঞ্জ জেলায় শুধুমাত্র এই চরাঞ্চলেই চাষ হয় যেমন লেটুসপাতা,পুদিনাপাতা,মেহেদী,ধান,আলু সহ নানা ফসল উতপাদন করেছে এই চরাঞ্চলবাসী।নিজের চেষ্টায় অভাব অনটন এবং সরকারের কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা ছাড়াই এগিয়ে যাচ্ছেন তারা।নিজেদের চেষ্টা আর চেতনার বদৌলতে আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাবার অভেদ্য বাধা হয়ে আছে এ চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা।ঢাকা মাওয়া মহাসড়ক হতে মাত্র ৪ কিলোমিটার দূরত্বের এই গ্রামাঞ্চলের চরগুলোর মধ্যে চলাচলের আধা কাচা রাস্তাঘাট মানুষ চলাচলে অনেকাংশে একেবারেই অনুপযোগী।রাস্তাঘাট খানাখন্দে ভরপুর আর মেঘবৃষ্টির মৌসুমে সবচাইতে বেশী সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এখানকার কৃষিনির্ভর মানুষগুলোর। যোগাযোগ ব্যবস্থা সমস্যার কারণে সঠিক সময়ে ফসল নিয়ে সুনির্দিষ্ট হাটে পৌছাতে পারেনা কৃষকরা।দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের েেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে চরগুলো কিন্ত পরিবহনের জন্য কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো না থাকায় কঠোর পরিশ্রমে উতপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেনা কৃষকরা।এখানে সরকারের কমিউনিটি কিনিক থাকলেও অভিজ্ঞ কোন ডাক্তার না থাকায় সুচিকিৎসা পাচ্ছেনা এলাকাবাসী। তাই প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে এ জনপদটির দিকেও প্রশাসন তথা সরকারের নজর দেয়া উচিৎ বলে মনে করেন অভিজ্ঞরা।এ ব্যাপারে বাসাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, এলাকাটিতে মাধ্যমিক স্কুল প্রয়োজন। দিন দিন সেখানে লোক সংখ্যা বেড়েছে। প্রাথমিক পেরিয়ে মাধ্যমিক শিা প্রতিষ্ঠানের অভাবে শিার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। তাই সরকারসহ বিত্তবানদের উচিৎ এখানে একটি মাধ্যমিক শিা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।পূর্বচান্দের চর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক মো: জিয়াউল ইসলাম জানান,এই এলাকাগুলি উপজেলার মূল ভূখন্ড হতে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় প্রশাসনের ও তেমন নজর নেই এদিকে,সুযোগে বেকারত্ব,বাল্যবিবাহ,যাতায়াতসহ মাদকের সমস্যাগুলো প্রকটভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।দেশের অন্যান্য স্থানের মতো এখানে ও উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে হলে এই চরাঞ্চলের দিকে প্রশাসন তথা সরকারের সুনজর দেওয়া একান্তই জরুরী এ ব্যাপারে বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুবকর সিদ্দিক জানান,সত্যিকারার্থেই অন্যান্য জেলা উপজেলার মতো এখানে তেমন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি ঢাকার একেবারে কাছে হওয়ার পরও আমরা সবদিক দিয়ে ব্যাপকভাবে পিছিয়ে আছি তবে আশা করি অতিশিঘ্রই সব সমস্যার সমাধান হবে সরকার থেকে আমাদের চাওয়া পাওয়ার মূল্যায়ন করবে। উপজেলা প্রকৌশলী শোয়াইব বিন আজাদ দৈনিক সভ্যতার আলো কে জানানূএই চর এলাকা রাস্তাঘাটের বেহাল দশার ব্যপারে আমি জেনেছি এবং আগামী মাসে এই এলাকাগুলোতে আমি নিজে সশরীরে গিয়ে দেখবো এবং শীঘ্রই ব্যবস্থা নেবো।উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহিউদ্দিন আহমেদ জানানূএই এলাকাগুলোর রাস্তা ঘাট আসলেই খুব খারাপূআপনারা পত্রপত্রিকায় নিউজ করেন ইনশাআল্লাহ এ ব্যাপারে আমরা যথাযথ পদপে নেবো।সিরাজদিখান উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার বলেনূআপনাদের মাধ্যমে এলাকাগুলোর কথা জেনেছি শীঘ্রই এ ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নেবো।

 

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply