ইরান-সৌদি যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু? - Nobobarta

আজ বুধবার, ১৬ অক্টোবর ২০১৯, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন

ইরান-সৌদি যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু?

ইরান-সৌদি যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটুকু?

ছবি: এএফপি

  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    3
    Shares

সৌদি তেলক্ষেত্রে হামলার জন্য আবারও ইরানকে দায়ী করেছে দেশটি। ওই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পেছনে যে ইরান রয়েছে সেই প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করেছে রিয়াদ। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য শনিবার নতুন করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সৌদি আরব।

শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কি যুদ্ধ বেঁধে যেতে পারে? বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে সে বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এতে বলা হয়, যে মাত্রায় হামলার ঘটনাটি ঘটেছে সৌদি আরব তা কোনোমতেই এড়িয়ে যেতে পারবে না। ইরানই যে ওই হামলার জন্য দায়ী সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর পর সৌদি আরবকে একটা পাল্টা জবাব দিতেই হবে। ওই হামলার ঘটনাটি জাতিসংঘ এখন তদন্ত করে দেখছে। সেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সৌদি সরকার সম্ভবত অপেক্ষা করবে।

এর ফলে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সৌদি সরকার কিছুটা সময় হাতে পাবে। যদিও বিশেষজ্ঞরা সবাই একমত যে ইরানের বস্তুগত সাহায্য এবং নির্দেশনা ছাড়া ওই হামলার ঘটনা ঘটানো অসম্ভব।

সৌদি আরব কি সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে?
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, তেমন সম্ভাবনা কম বলেই মনে হচ্ছে। ইরানের জনসংখ্যা এখন ৮ কোটি। অন্যদিকে সৌদি আরবের জনসংখ্যা ৩.৩ কোটি। এছাড়া ইরান তার অস্ত্রভাণ্ডারে হাজার হাজার মিসাইল মজুদ রেখেছে। সৌদি তেলক্ষেত্র, শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি এবং জনবহুল শহরগুলো এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে সৌদি আরবের অস্ত্রভাণ্ডারে শত শত চীনা মিসাইল থাকলেও তাদের মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ দুর্বল।

অবশ্য সৌদি বিমান বাহিনীতে জঙ্গি বিমানের সংখ্যা ইরানের প্রায় সমান। তবে সৌদি বিমানগুলো বেশ আধুনিক এবং কার্যকর। অন্যদিকে ইরানের বিমান বাহিনীর জঙ্গি বিমানগুলো বেশ পুরোনো এবং অদক্ষ। অন্যদিকে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ইরানের মিত্ররা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সৌদি আরবের শিয়া জনগোষ্ঠীর সমর্থনও ইরান পাবে।
ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব ইতোমধ্যেই এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। এই যুদ্ধের জন্য তার প্রচুর অর্থব্যয় হচ্ছে।

শেষ পর্যন্ত সৌদি আরব এবং ইরানের মধ্যে কোনো সরাসরি লড়াই শুরু হলে দুপক্ষকেই নির্ভর করতে হবে বিমান বাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির ওপর। কিন্তু ওই যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই নিরঙ্কুশ বিজয় হবে না। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা, বিমান এবং নৌবহর মোতায়েন থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে নারাজ। কারণ, লড়াই শুরু হলে মার্কিন সেনা-ঘাঁটি এবং নৌবহরগুলো ইরানি হামলার ঝুঁকিতে পড়ে যাবে। এছাড়া বিশ্বের সর্বমোট তেল চাহিদার এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেটিও তখন যুদ্ধের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলে দাম হঠাৎ করে আকাশ-ছোঁয়া হয়ে গেলে ট্রাম্পের আবার নির্বাচনে জেতার আশা কঠিন হয়ে পড়বে। সৌদি আরবের জন্য মার্কিন সমর্থন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ট্রাম্প চাইছেন, এই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে হবে সৌদি আরবকে। এতে সহায়তা দিতে যুক্তরাষ্ট্রের যে ব্যয় হবে সৌদি সরকার সেটি পুষিয়ে দিলেই তিনি খুশি।

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply