আমি শিক্ষিত হতে চাই না, মানুষ হতে চাই – Nobobarta

আজ মঙ্গলবার, ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:২৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আমি শিক্ষিত হতে চাই না, মানুষ হতে চাই

আমি শিক্ষিত হতে চাই না, মানুষ হতে চাই

আমিনুল ইসলাম রুদ্র : “আমি শিক্ষিত হতে চাই না, মানুষ হতে চাই” এই শিরোনামে একটি কবিতা লিখেছিলাম সেই ২০১৪ সালের দিকে অনেকেই এই কবিতার লাইন ব্যবহার করে কলাম লিখেছেন অনেক পেজে শেয়ার করেছেন, ক্যানো করেছেন তারাই হয়তো ভালো জানেন। কিন্তু ক্যানো আমি শিক্ষিত হতে চাই না বলেছি তার কারণ অবশ্যই আছে।

কারণ, অমানুষের তালিকায় উচ্চশিক্ষিতরাই বেশি! ছোট্ট করে দুটি উদাহরণ দিচ্ছি, তবে সবাই এক নয় সেটাও বলে রাখছি। সময়ের সাহসী কবি আল মাহমুদ এবং অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের জীবন সম্পর্কে জেনে নিন।

পড়ালেখা ভাল্লাগে না, কি লাভ বলো পড়ালেখা ক’রে?
পড়ালেখা ক’রে সবাই তো শিক্ষিত হয়,
তবে ক্যানো শিক্ষিত মনে হয় না আমার;
আমি মূর্খ বলে? নাকি দৃষ্টিশক্তিহীন বলে? — রুদ্র আমিন

অভিনেতা আনোয়ার হোসেন ও কবি আল মাহমুদ

বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলা খ্যাত অভিনেতা আনোয়ার হোসেনের কথাই বলি কিংবা কবি আল মাহমুদ। অভিনেতা আনোয়ার হোসেন জীবনের সকল আয়, ব্যয় করেছেন সন্তানদের পেছনে। বড় ছেলে সুইডেন, বাকী ৩ ছেলে ও ১ কন্যা আমেরিকায়। একা বাসায় ধুকে ধুকে মরলেন তিনি। কোনো সন্তানও এলেন না বাবাকে দেখতে। জীবনের শেষ বেলাতেও অভিনয় করতে হয়েছে পেটের তাগিদে চাকর, বাকরের চরিত্রে।অপরদিকে সময়ের সাহসী কবি আল মাহমুদ এর কথাই বলি ২ সন্তানের জনক তিনি। বনানীর বাড়ী বিক্রি করে সন্তানদের বিদেশে পাঠান আর ফিরে আসেনি আদরের দুলালেরা। কবি মৃত্যুর আগে নিজ গ্রামের বাড়িতে বিছানায় কাতরেছেন।

তারা শিক্ষিত, তবুও কাঁদে দেশ, বৃদ্ধাশ্রমে কাঁদে পিতা-মাতা
চোখের সামনে প্রতিবেশী অনাহারে ক’রে আত্মহত্যা
সবলে দুর্বলকে অকারণে ক’রে প্রহার, দ্যাখে শিক্ষিত হৃদয়ে দ্যায় গীট
তবুও ওরা শিক্ষিত, যে ভাই মাঠে রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা ক’রে
ছোট্ট ভাইটিকে পাঠিয়েছে শহরে, করবে শিক্ষিত বলে, আজ
সেই বলে গেয়োভূত চাষারপুত এভাবে জড়িয়ে ধরো না বুক!

এটাই কি শিক্ষা? আমি শিক্ষিত হতে চাই না
যে শিক্ষা মানুষকে অমানুষ করে গড়ে তোলে।
আমি শিক্ষিত হতে চাই না, মানুষ হতে চাই।” — রুদ্র আমিন

সন্তান মেধাবী হলে বাবা মা তাঁদের পেছনে পয়সা খরচ করতে কৃপনতা করেন না। বাড়ি, গাড়ি, সোনা, গহনা সবই বিক্রি করে দেয়, তবুও মা-বাবার আনন্দের সীমা থাকে না- অথচ এই সন্তানগুলোই বড় হয়ে ভাল পজিশনে পৌঁছে মা-বাবাকে কষ্ট দেয়, ভীষণ কষ্ট দেয়। বিশ্বাস না হলে বৃদ্ধাশ্রমগুলো একবার ঘুরে আসুন। তার প্রমাণ সহজেই পেয়ে যাবেন।

“ক্যানো বৃদ্ধ পিতা-মাতা বৃদ্ধাশ্রমে
ধুকে ধুকে কাটায় জীবন?
ক্যানো পথের ধারে কিংবা বদ্ধ কুঠিরে
একাকি গুনে অন্তিমক্ষণ?
এটাই কি শিক্ষা? আমি শিক্ষিত হতে চাই না
যে শিক্ষা মানুষকে অমানুষ করে গড়ে তোলে।
আমি শিক্ষিত হতে চাই না, মানুষ হতে চাই।” — রুদ্র আমিন

৯০% উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা, ডাক্তার, সচিব, সেনা অফিসার, ইঞ্জিনিয়ার, বিদেশির মা বাবারাই বৃদ্ধাশ্রমে। অবিশ্বাস্য হলেও বেদনাদায়ক সত্যি এটিই। যে মেধার কারণে বাবা মাকে আজ দুরে থাকতে হয়, সেই মেধার কপালে জুতা। অমানুষ কোথাকার।


Leave a Reply