‘আমরা নিজেরাই অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত’ – Nobobarta

আজ শনিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ০২:৩৫ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
উদয় সমাজ কল্যান সংস্থার ১২ তম ওয়াজ মাহফিল সম্পন্ন ১০ ডিসেম্বর উপাচার্যের দুর্নীতির ক্ষতিয়ান প্রকাশ করবে আন্দোলনকারীরা মার্শাল আর্ট ‘বিচ্ছু’ নিয়ে আসছেন সাঞ্জু জন আজ উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটের ১২তম ওয়াজ মাহফিল দলীয় কার্যালয় সম্প্রসারণের লক্ষে আগৈলঝাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্লট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর যবিপ্রবিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন আটোয়ারীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত জবি রোভার দলের হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণের উদ্বোধন মারুফ-তানহার ‘দখল’ লক্ষ্মীপুরে রামগতি পৌরসভায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগ
‘আমরা নিজেরাই অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত’

‘আমরা নিজেরাই অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত’

ড. রুবানা হক
ড. রুবানা হক

ড. রুবানা হক। মোহাম্মদী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি হিসেবে। পোশাক শিল্পের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন জনপ্রিয় একটি দৈনিকের সঙ্গে। তা হুবহু তুলে ধরা হলো-

দেশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস পোশাক শিল্প। কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে শিল্পটি?

আমাদের ভাবমূর্তির একটা চ্যালেঞ্জ আছে—স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক দুই অঙ্গনেই। কথায় কথায় আমাদের বিরুদ্ধে সবাই লেগে যান। যেমন সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন বের হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, একটা সার্ভে হয়েছে, সেখানে দেখা গেছে, পোশাক খাতে ৯০ শতাংশ নারী নাকি মানসিকভাবে নির্যাতিত। আমি বলেছি, এটা কেমন অদ্ভুত কথা। রফতানি করি বলে এ খাতকে ধরে যেকোনো গবেষণা করা খুব সহজ। পৃথিবীতে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নারী কোনো না কোনোভাবে, কোনো না কোনোদিন মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়েছেন। কাজেই আমাদের লক্ষ্য করে যদি শুধু আমাদের নিয়ে নেতিবাচক খবরে ঝোলাটাকে সারাক্ষণ ভারী করা হয়, তাহলে সেটি অন্যায়। এ ধরনের গবেষণা রেকর্ড হিসেবে থেকে যাচ্ছে। যখন হ্যারাজমেন্ট হ্যাশট্যাগ দিয়ে গুগলে খুঁজবে, সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশকে পাওয়া যাবে। ইচ্ছাকৃতভাবে এ খাতকে যদি টার্গেট করা হয়, তাহলে কারোই কল্যাণ হয় না। কাজেই ভাবমূর্তির একটা চ্যালেঞ্জ আছে।

দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জটা হলো আমাদের মজুরি ও দাম এবং দক্ষতার চ্যালেঞ্জ। এটি আমরা অ্যাড্রেস করতে পারছি না। কারণ মজুরি বাড়ছে, দক্ষতা বাড়ছে না। দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনেক রকম প্রকল্প হচ্ছে। কিন্তু দক্ষতা বাড়ছে না। দক্ষতা কেন বাড়ছে না, তার প্রকৃত কারণ আমরা জানিও না। আবার একই সঙ্গে ক্রেতা দামও দিচ্ছে না। তো ক্রেতাকে যখন জিজ্ঞাসা করছি, দাম দিচ্ছ না কেন? তখন খুব সুন্দর একটা জবাব দিচ্ছে, সেটা হলো, তোমরা নিজেরাই তো একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে দাম কমাচ্ছ অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে। কাজেই আমাদেরও বুঝতে হবে, আমাদের যতগুলো কারখানা আছে, অতিরিক্ত সক্ষমতা আমরা তৈরি করছি কিনা! একপর্যায়ে সবাই কিন্তু আমরা বড় হয়ে গিয়েছি, এখন বাড়তে বাড়তে এমন অবস্থায় এসেছি যে আমরা প্রডাকশন লাইনগুলোকে অপটিমাইজ করছি না। কিন্তু আমরা যেটা করছি, খুব সুন্দর করে কারখানায় খালি লাইন বাড়াচ্ছি আর অর্ডার নিয়ে নিচ্ছি যেকোনো দামে। সবাই করছেন তা বলছি না, কিন্তু বেশির ভাগই করছেন অর্ডার চলে যাওয়ার ভয়ে। ক্রেতারা বিভিন্ন সময় আমাদের ভয় দেখান বাজার পরিবর্তনের। এই মনের বাঘই আমাদের খাচ্ছে, বনের বাঘ নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এটাই হচ্ছে।

আমাদের তৃতীয় চ্যালেঞ্জ হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব। এখানে আমাদের উদ্ভাবনের দরকার আছে। অনেক সময় হয় কি, নতুন নতুন অনেক কিছু আমাদের হঠাৎ করে প্রডাকশন ফ্লোরে দিতে হয়, যেটি প্রেসক্রাইবড। ধরেন, আমাদের স্থানীয় পর্যায়ে নির্ধারিত মানদেণ্ডর একটা ইআরপি (এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্ল্যানিং) সফটওয়্যার নেই এখন পর্যন্ত। সব বিদেশ থেকে আসছে। এটি কি আমরা করতে পারতাম না? আমরা বাংলাদেশে ঠিকমতো একটি ওয়াশিং মেশিনও বানাই না, একসময় হয়তোবা বানাতাম। আসলে খুব মৌলিক জায়গাগুলোয় আমরা আটকে যাচ্ছি। কারণ কিছুতেই সেগুলো হচ্ছে না। এর অর্থ দাঁড়ায়, উদ্ভাবনের একটা ঘাটতি বা অভাব আছে।

এরপর বলতে হয় নতুন বাজারের কথা। নতুন বাজার যেমন—ব্রাজিল, রাশিয়া এগুলোর পেছনে যদি দৌড়াতে হয়, তাহলে অর্থনৈতিক কূটনীতির দরকার আছে। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র, বাণিজ্য, শ্রম মন্ত্রণালয় এবং আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে সমন্বয়ের মাধ্যমে। কারণ অনেক সময় আমরা দেখি, সবাই বিচ্ছিন্নতায় ভুগছি। আমরা হয়তো একটা কথা বলছি, কিন্তু ভালোভাবে বুঝিয়ে বলতে পারছি না। এ বিষয়ে একটি কমিটি করে দিলে হয়তোবা আমাদের জন্য ভালো হবে।

এরপর আসে টেকসই শিল্পের বিষয়টি। এর প্রকৃত সংজ্ঞা কী? আসলে কিন্তু শ্রমিক ও পরিবেশ দুটি বিষয়কেই টেকসই শিল্পের সংজ্ঞার মধ্যে আনতে হবে। শুধু স্থাপত্য, বৈদ্যুতিক ও অগ্নিকাণ্ডের বিষয়গুলোকে আনলে হবে না। বিজিএমইএতে এসে দেখলাম, এত প্রকল্প, এত এমওইউ। মানে ছবি উঠছে, এমওইউ সই হচ্ছে, কিন্তু পরের কাজটি হচ্ছে কিনা সেটি শনাক্ত করার কোনো পদ্ধতি বা ব্যবস্থা নেই। আমাদের চ্যালেঞ্জের আসলে শেষ নেই।

সব সমস্যার মধ্যে দক্ষতা একটা বড় সমস্যা। এ সমস্যা সমাধানে সরকার বা আপনারা কি যথাযথ ভূমিকা পালন করছেন?

এ সমস্যা দূর করতে আমরাও যথাযথ ভূমিকা পালন করছি না। কারণ আমাদের মিড লেভেল ম্যানেজমেন্টকে আমরা ওভাবে ইকুইপড করতে পারছি না। আমাদের মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট অতটা দক্ষ নয়। আমাদের এ খাতে সুশৃঙ্খলভাবে কোনো গবেষণা উন্নয়ন হয়নি। প্রত্যেকটি শিল্প খাতে গবেষণা লাগে। আমাদের এ খাতে কোনো গবেষণা নেই। খুব পরিকল্পিতভাবে যে আমরা আমাদের ব্যবসা বাড়িয়েছি তা নয়। ব্যবসা ভালো হচ্ছিল, কিন্তু তারপর খাতের কী হবে সে ভাবনাটা ছিল না। আর সাধারণভাবে আমাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার ব্যাপারটা নিয়েও সন্দেহ আছে। শুধু মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট নয়, আমরা যদি আজকে লোক চাই, শুদ্ধ ইংরেজি বাদ দেন, শুদ্ধ বাংলা লিখতেও পারেন না। অথচ মানুষটা হয়তো মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। অর্থাৎ যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয়তার মধ্যে বিস্তর ফারাক। আমি তাকে কোনোভাবে ভালো চাকরিটা দিতে পারছি না। কারণ তিনি উপযুক্ত নন। আমার জন্য মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট গড়াটা খুব কঠিন একটা কাজ। আমার কারখানায় দক্ষ মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট দাঁড়াচ্ছে না। কারণ প্রয়োজনীয় দক্ষতার মানুষ আমি খুঁজে পাচ্ছি না। আমাদের যোগ্য মানুষ লাগবে। শুধু শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, আমাদের মিড লেভেল ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কাউন্সেলিং করতে হবে।

শ্রমিকরা কিছুক্ষণ পরপর চিত্কার করে বলেন, আমাদের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার লাগবে না, সরান ওদের, আমরা নিজেরাই যথেষ্ট। কিছুতেই শ্রমিকরা মানতে চান না। কিন্তু ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারের যে একটা প্রয়োজনীয়তা আছে, সেটা কাউন্সেলিং করে বোঝাতে হবে। এ কাউন্সেলিংটা অনেক সময় ঠিকমতো করাও সম্ভব হচ্ছে না। আমার ধারণা, আমাদের মিড লেভেল ম্যানেজমেন্টে যারা আছেন, অন্তত তাদের হয়তো কাউন্সেলিংয়ের মোটিভেট করা যায়। মোটিভেশন বা উদ্বুদ্ধ করা শিল্পের কর্মক্ষেত্রে খুব প্রয়োজন।

চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা বা সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়ন কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কি?

নাম উল্লেখ না করেই বলি। একটা কারখানায় ছয়টা ইউনিয়ন আছে। গত কয়েক বছরে ঘুরে ঘুরে ওই কারখানাতেই সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে। বলতে চাইছি, ওই কারখানায় ছয়টা ইউনিয়ন কী ভূমিকা রাখছে? একটি কারখানা যদি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনায় না নিই, তাহলে আমরা আশুলিয়া এলাকার প্রেক্ষাপটটি ভাবতে পারি। কিছু হলেই ওই এলাকাটিতে গণ্ডগোল হয়। আমি আমার নিজের কারখানার কথা বলি, আমার কারখানায় বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট হওয়ার সাতদিনের মাথায় পানির ট্যাংকের মধ্যে ইঁদুর মারার বিষ মিশিয়ে রেখেছে। অজু করতে গিয়ে আমাদের শ্রমিক পানির ভিন্নতা টের পান। এ নিয়ে রিপোর্ট করলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল, ইঁদুর মারার বিষ মিশিয়ে রাখা হয়েছে। কে মেশাল? আমার কোনো শ্রমিক এ কাজ করেননি, এটা আমি বলতে পারি। কেউ কাউকে দিয়ে হয়তো করিয়েছে। আমি শ্রমিকদের অনেক কাছাকাছি যাই। আমাদের কারখানায় যদি এ অবস্থা হয়, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, এসব ক্ষেত্রে শিল্পে যথাযথ ভূমিকার অভাব রয়েছে। শিল্পে যতগুলো ট্রেড ইউনিয়ন লিডার আছেন, তাদের সঙ্গেও আমাদের দূরত্ব অনেক। সমস্যা সমাধানে সাংঘর্ষিক অবস্থানে গেলে চলবে না; আলোচনা ও সংলাপে আসতে হবে।

এবারের ঈদের সময় ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের বলেছি, আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে। একসঙ্গে থাকতে হলে আপনাদের কথা বদলান। আপনারা হুট করে বিদেশে চিঠি দেয়ার আগে আমাদের কাছে আসেন। সবাই রাজি হয়েছেন। আশা করি, এক ধরনের পরিবর্তন আসবে। কারণ ইউনিয়ন করতে গেলে যথেষ্ট পরিমাণ শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে, মোটামুটিভাবে সজাগ থাকতে হয়। এ জায়গাগুলো আমাদের খুব দুর্বল, হ্যান্ডল করতে হবে। ট্রেড ইউনিয়ন লিডাররা যখন কাজ শুরু করেছিলেন, তখন বাংলাদেশের কর্মক্ষেত্রের অবস্থা খুব খারাপ ছিল। সে অভিজ্ঞতাগুলোও অনেকের ক্ষেত্রে দাগ হিসেবে রয়ে গেছে, যা পরবর্তী সময়ে তার ব্যক্তিত্বের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পেতে পারে। কাজেই তাদের ও আমাদের দুই পক্ষেরই কাউন্সেলিংয়ের দরকার আছে। এত প্রশিক্ষণ হয়, এ প্রশিক্ষণটা হয় না। কারণ আমরা মানসিক স্বাস্থ্যে কিছুতেই জোর দিই না বাংলাদেশে। এটা খুবই জরুরি এবং এক্ষেত্রে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করলে একটা জায়গায় যেতে পারব বলে আশা করি।

শিল্পে অসম প্রতিযোগিতা, সংশ্লিষ্টদের যথাযথ ভূমিকা পালন করাসহ টেকসই ভবিষ্যতের দিকে যেতে শিল্প ও শিল্পসংশ্লিষ্টদের করণীয় কী?

টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগোতে গেলে আমাদের অনেক গবেষণা কার্যক্রমের প্রয়োজন হবে। ফ্লোর প্রাইসটা সেট করতে হবে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মূল্যসীমার নিচে আমরা রফতানি করতে পারব না। কাজটি করতে হবে সরকারকে। বর্তমানে মুক্তবাজার অর্থনীতির প্রেক্ষাপট হলেও কিছু করার নেই। মূল্যসীমাটি নির্ধারণ করতে হবে বেসিক বা মৌলিক পণ্যের ক্ষেত্রে। বেসিক টি-শার্ট কোনোভাবেই নির্ধারিত মূল্যসীমার নিচে রফতানি করা যাবে না। এ ধরনের সীমা বেঁধে দিতে হবে। বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এটা সম্ভব হয়েছে। যেমন শ্রীলংকায় হয়েছে, ভারতেও একসময় এটা হয়েছে। কাজেই এটা সম্ভব। এই বার সেট করা দরকার। এতেও প্রতিবন্ধকতা আছে। আমরা ১ হাজার ৯৫০ সদস্যের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, আপনারা কী কী পণ্য তৈরি করেন তার একটা তালিকা ও কাটিং-মেকিং (সিএম) কত চার্জ করেন, সেটা আমাদের ধারণা দেন। আমরা জবাব পেয়েছি মাত্র ২৫ জন থেকে। এ ২৫ জনকে নিয়ে আমরা বসব মূল্য নিয়ে আলোচনা করতে।

অর্থাৎ আপনাদের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আপনারাই প্রতিবন্ধক?
নিজেরাই আমরা অসম প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এ বিষয়ে কিছু বলুন।

এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে আমরা আমাদের শিল্পে কারা বন্ডের অপব্যবহার করছে, সে তালিকা চেয়েছি। আশা করছি তিনি দেবেন। দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নেব। কোনোভাবেই আমরা সহ্য করব না। অপব্যবহার বেশি হচ্ছে অ্যাকসেসরিজের ক্ষেত্রে। কিন্তু অপব্যবহারের কার্যক্রমটি কেউ একলা করছে না। একার পক্ষে এটা করা সম্ভব নয়। বন্ড নিয়ে কিছু হয়রানির বিষয়ও আছে, সেগুলোও দূর করতে হবে। আসলে পুরো ব্যবস্থাকে পরিচ্ছন্ন করতে হলে সবাইকে স্বচ্ছ হতে হবে।

অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের মূল্যায়ন কর্মসূচিগুলোর শেষ প্রান্তে আছি আমরা। আপনি কি মনে করেন, অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্সের কাজগুলো নিজেরা করার জন্য আমরা প্রস্তুত?

হ্যাঁ, পোশাক শিল্পের মালিকরা আমরা প্রস্তুত। তারা (অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স) বারবার বলছে, সরকারের সংস্কার সমন্বয় কেন্দ্র (আরসিসি) প্রস্তুত নয়, তাই আমরা যাব না। আমরা তাই বলেছি, বিজিএমইএর প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হয়েছে, আমাদের সহযোগিতা করো। আমরা প্রস্তুত আছি। বিষয়টিতে আমাদের অবস্থান হলো, এত টাকাপয়সা খরচ করে আমরা সংস্কারগুলো করেছি, এগুলো চলমান রাখতেই হবে। এ-সংক্রান্ত বিনিয়োগগুলো আমাদের নিজেদের। আমি কেন আমার সুন্দর কারখানা নষ্ট করব অ্যাকর্ড-অ্যালায়েন্স চলে গেছে বলে? কাজেই আমাদের উৎসাহ আছে। আমরা আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) করতে চাই। এর মাধ্যমে আমাদের আরো টেকসই হওয়ার পরিকল্পনা এগিয়ে নেয়া হবে।

(দৈনিক বণিক বার্তা থেকে সংগৃহীত)


Leave a Reply