আবরার হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ক্ষোভ - Nobobarta

আজ শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৪:১২ অপরাহ্ন

আবরার হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ক্ষোভ

আবরার হত্যাকাণ্ডে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ক্ষোভ

বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যার ঘটনায় সমাজের সর্বস্তরে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই এই ঘটনার বিচার দাবির পাশাপাশি নানান ধরনের বিশ্লেষণ দিয়েছেন। তার নজির পাওয়া গেল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

বিষয়টি নিয়ে ফেইসবুকে একাধিক স্ট্যাটাস দেন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আব্দুর নূর তুষার। তিনি লেখেন, “তীব্র ঘৃণা… অভিশাপ… যারা নিজের ভাইকে হত্যা করতে পারে তারা পশুরও অধম। অসহ্য, কুৎসিত এই রাজনীতি।” আরও লেখেন, “অন্যের সন্তানের হত্যাকারীদের মা বাবারা কই? তারা এই কুলাঙ্গার সন্তানদের পরিত্যাগ করে না কেন?” ও “রাজনীতিবিদদের সন্তানদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বাধ্যতামূলক করা হোক। সন্তানদের নিরাপদ রাখতে তখন সন্ত্রাস বন্ধ হতে পারে।”

সোমবার রাতে সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ লেখেন, “আবরার ফাহাদ দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের ছাত্র। সে ঢাকা মেডিকেলেও চান্স পেয়েছিল। ঘুমানোর আগে অন্তত একটা প্রতিবাদ করে ঘুমান। আমাদের বাচ্চারাও বড় হচ্ছে …” ক্ষোভ প্রকাশ করে দীর্ঘ পোস্ট দেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, “বুয়েটের নিউজটা মাত্র দেখলাম। দেখে গলাটা শুকাইয়া গেল। এই সমাজই তো আমরা সবাই মিলে বানাচ্ছি, নাকি? যেখানে আমার মতের বিরোধী হলে তাকে নির্মূল করা আমার পবিত্র দায়িত্ব। আমাদের সামাজিক-রাজনৈতিক-ধর্মীয় নেতারা সবাই মিলে তো এত বছর এই কামই করছি, এই ভাবেই একটা প্রজন্ম বানাইছি! আর আমাদের এই নির্মূলবাদী মন বানানো হইছে বাংলার বুদ্ধিজীবীদের ওয়ার্কশপে!

তাই আমি তোমাদের অভিশাপ দেই! আমি অভিশাপ দেই কারণ তুমি এই ঘৃণা আর নির্মূল তত্ত্বকে মহৎ বানিয়ে প্রচার করেছ দেশের নামে, জাতীয়তার নামে, ধর্মের নামে, লিঙ্গের নামে, আমার নামে, তোমার নামে! আমি অভিশাপ দেই তাদের যারা আমাদের সমাজটাকে এই জায়গায় এনে দাঁড় করালো যেখানে অপ্রিয় কথা বলার জন্য সহপাঠীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়!

আমি অভিশাপ দেই! অভিশাপ দেই! অভিশাপ দেই! কারণ আমার কিচ্ছু করার ক্ষমতা নাই, কেবল অভিশাপ দেয়া ছাড়া!” এ ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষাঙ্গনে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিও উঠেছে। এর পক্ষ-বিপক্ষে মত দিয়েছেন অনেকে। নির্মাতা মাহমুদ দিদার লেখেন, “কলুষাশ্রিত, উন্মাদ, খুনে রাজনীতির শিক্ষা এই! ক্ষমতার লালসা এই সবক দিয়েছে যে ‘খুনি হয়ে উঠো?’ এই সর্বগ্রাসী ছাত্ররাজনীতি অদরকারি শুধু নয়, ঘাতক উৎপাদনের প্রধান কারখানা হয়ে উঠছে ক্রমশ।” হ্যাশ ট্যাগ দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আবরার হত্যার বিচার দাবি করি’ ও ‘অসভ্য ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করো’।

একই বিষয়ে ভিন্নমত জানান লেখক-নির্মাতা তাসমিয়াহ্ আফরিন মৌ। তিনি লেখেন, “ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ নয়, ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী-গুন্ডামি-কেন্দ্রের ক্ষমতার লাঠিয়াল বাহিনীকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ হলে যে ছাত্ররা এখন মিছিল করছেন ও কর্মসূচি দিচ্ছেন- তা তারা করতে পারতেন না। তারা এখন রাজনৈতিক কার্যক্রমই করছেন। আন্দোলনকারীরা ছাত্র রাজনীতিই করছেন। সকল সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, শিক্ষক-প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা, গুন্ডামি হত্যার বিরুদ্ধে মৌন মিছিল পর্যন্ত ছাত্র রাজনীতির মধ্যে পড়ে। এসব কিছু করা তখন নিষিদ্ধ কাজ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

আবরারের শেষ স্ট্যাটাসের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন চলচ্চিত্র সংগঠক বেলায়াত হোসেন মামুন। তিনি লেখেন, “এখন আপনি যত এই তরুণের হত্যার বিচার চাইতে গলা ফাটাবেন ততই আড়াল হবে এই তরুণ কেন খুন হলো তার কারণ… আপনি, আপনারা এবং আমরা চলুন কথা বলি সে সব নিয়ে যা নিয়ে কথা বলার ‘অপরাধে’ এই তরুণ খুন হলো… এই ছেলে দেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বলছিল বলে ওকে মেরে ফেলা হয়েছে… এটাই সত্য।

দেশের স্বার্থ নিয়ে কথা যে বলে সে দেশপ্রেমিক… আর দেশের স্বার্থ নিয়ে কথা বললে যারা হত্যা করে তারা দেশদ্রোহী… আসুন এই বর্গে চিন্তা করি… এই তরুণের মৃত্যু নিয়ে অধিক চিৎকারে ওর মৃত্যুর কারণকে আড়াল হতে দেবেন না।” নাটকের দল বটতলার সৃজনশীল পরিচালক মোহাম্মদ আলী হায়দার বলেন, “আবরার হত্যাকাণ্ডের দায় বুয়েটের ভিসি ও হল প্রভোস্ট এড়াতে পারেন না। এই দলকানা দুই অপশিক্ষকদ্বয়কে অবিলম্বে বুয়েট থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হোক। হলগুলোকে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প বানানোর দায় অবশ্যই ভিসি, প্রক্টর ও প্রভোস্টদের্ নিতে হবে। শিক্ষকদের দলকানা ও অপরাজনীতির বলি আর একজন ছাত্রকেও হতে দেয়া যাবে না।”


Leave a Reply



Nobobarta © 2020। about Contact PolicyAdvertisingOur Family DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com