আগৈলঝাড়ায় হোমল্যান্ড এনজিও’র উদ্যোগে প্রয়াত কর্মী রাজিব সরকারের স্মরণ সভা – Nobobarta

আজ বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৭:০৯ অপরাহ্ন

আগৈলঝাড়ায় হোমল্যান্ড এনজিও’র উদ্যোগে প্রয়াত কর্মী রাজিব সরকারের স্মরণ সভা

আগৈলঝাড়ায় হোমল্যান্ড এনজিও’র উদ্যোগে প্রয়াত কর্মী রাজিব সরকারের স্মরণ সভা

অপূর্ব লাল সরকার, আগৈলঝাড়া (বরিশাল) থেকে:

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রয়াত এনজিও কর্মী রাজিব সরকারের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১ নভেম্বর শুক্রবার উপজেলার গৈলায় হোমল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এইচডিও’র উদ্যোগে সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে সাহেব আলী সরদারের সভাপতিত্বে প্রয়াত রাজিব সরকারের স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন হোমল্যান্ড এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক ও উপজেলা এনজিও সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজল দাশগুপ্ত, কোষাধ্যক্ষ মাহমুদ আলম মিঠু, নির্বাহী সদস্য মাইনউদ্দিন সরদার, জসীম সেরনিয়াবাত, সমন্বয়কারী গোপাল দাস, শাখা ব্যবস্থাপক অধীর দাস, কারফা এলাকার মাঠকর্মী সুমা কবিরাজ প্রমুখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্থার নির্বাহী কমিটির সকল সদস্য ও প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। প্রয়াত রাজিব সরকার ওই এনজিওতে সুপারভাইজার পদে চাকরি করতেন।

উল্লেখ্য, গত ১৮ আক্টোবর ভারতের ব্যাঙ্গালুরু শাহিবাবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে হার মানলেন রাজিব। স্ত্রী, নাবালক সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের শোকসাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন উপজেলার উত্তর শিহিপাশা গ্রামের দিলীপ সরকার চানুর ছেলে রাজিব সরকার (২৮)। গত ২০ অক্টোবর ভারত থেকে বাংলাদেশে রাজিবের মরদেহ তার বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তার মৃত্যুর খবর এলাকার সবাইকেই স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তার লাশ বাড়িতে আনার পর একনজর দেখার জন্য এলাকার বন্ধু-বান্ধব, শুভাকাঙ্খী, আত্মীয়স্বজন, জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লোকজন তার বাড়িতে ভিড় করেন। রাজিব ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। তার পরিবারে স্ত্রী, সন্তান ছাড়াও রয়েছে বৃদ্ধ পিতা-মাতা ও ছোট দুইবোন। রাজিবের লাশ বাড়িতে আনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা সবাই শোকার্ত ও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদের সাথে পুরো গ্রাম শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

রাজিব অনেক সংগ্রাম করে পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বহন করে লেখাপড়া শেষ করে ২০১৭ সালে গৈলাস্থ হোমল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন নামক এনজিওতে সুপারভাইজার পদে চাকরি করে সংসার চালাতেন। তার স্কুল জীবনের সহপাঠী মিতু রানী সরকার ভালবাসার মানুষটিকে জীবনসঙ্গী করে নেয়। নিজের ঘর আলো করে তাদের সংসারে একটি ছোট্ট কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। সেই কন্যা শিশুর বয়স মাত্র সাত মাস। কিন্তু নিজের পৃথিবীকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার দ্বারপ্রান্তে এসেই শরীরে জমে থাকা মরণ ব্যাধির যন্ত্রণাটা চেপে ধরে। অনেক কষ্টে সাজানো ফুলের বাগানটায় বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে চিকিৎসার জন্য গেলেও ফিরলেন নিথর মরদেহ হয়ে।

তার মৃত্যুতে বাবা মা হারালো বেঁচে থাকার সম্বল একমাত্র পুত্র সন্তানকে। একমাত্র জন্ম নেয়া সাত মাসের ছোট্ট শিশু কন্যাটি হারালো দুনিয়া সমতুল্য তার প্রিয় বাবাকে। আর নিজের সুখের ঠিকানা গড়ার জন্য স্ত্রী হারালো তার জীবনসঙ্গী আর সামনে চলার পথকে। তার একমাত্র কর্মস্থল গৈলা হোমল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন- এইচডিও’র পরিচালক কাজল দাশগুপ্ত হারালো একজন সৎ ও আদর্শবান দক্ষ কর্মীকে। আর তার প্রিয় সহপাঠী বন্ধুরা হারালো তাদের প্রিয় বন্ধুকে। রাজিবের মৃত্যুতে এলাকার প্রতিবেশী আর শুভাকাঙ্খীরা হারালো শান্তশিষ্ট শান্তিপ্রিয় একটি মানুষকে।


Leave a Reply