আগৈলঝাড়ায় পাঁচ বছরের শিশু বলাৎকারের ঘটনায় এলাকা তোলপাড় – Nobobarta

আজ বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১৫ অপরাহ্ন

আগৈলঝাড়ায় পাঁচ বছরের শিশু বলাৎকারের ঘটনায় এলাকা তোলপাড়

আগৈলঝাড়ায় পাঁচ বছরের শিশু বলাৎকারের ঘটনায় এলাকা তোলপাড়

বিশেষ প্রতিনিধি: পাঁচ বছরের শিশু বলাৎকারের ঘটনায় এলাকা তোলপাড়। ভয়ভীতির দেখিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া স্থানীয় একদল সুবিধাভোগী। এ ঘটনা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভালুকশী গ্রামের। তবে এব্যাপারে জানে না থানা। খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছেন থানার ওসি। স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের ভালুকশী গ্রামের মহিউদ্দিন মৃধার পাঁচ বছরের ছেলে আমানত গত রবিবার দুপুরে বাড়ির পাশে খেলছিল।

এসময় পার্শ্ববর্তী বাড়ির মৃত আবুল বাশার কাজীর ছেলে সজীব কাজী (১৮) তাকে নাড়ু খাওয়ানোর কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে জোর করে বলাৎকার করে। অসুস্থ অবস্থায় শিশুটি বাড়ি ফিরলে তার মা জেসমিন বেগম শিশুপুত্রর কাছ থেকে ওই অমানবিক ঘটনা জানতে পারেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আগৈলঝাড়া থানার ইলেকট্রিশিয়ান বিএম মনির হোসেন তার কতিপয় সঙ্গীদের নিয়ে সোমবার নির্যাতিত শিশুর বাড়িতে হাজির হয়। সেখানে ঘটনার সত্যতা পেয়ে বর্বর সজীবের বাড়িতে হাজির হয় বিভিন্ন টিভি ও পত্রিকার পরিচয় দেয়া কথিত সাংবাদিকরা। সজীব ও তার পরিবার কথিত ওই সাংবাদিকদের ম্যানেজ করে শিশুর পরিবারকে ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য হুমকি ধামকি দিয়ে চাপের মুখে রেখে গ্রামের প্রভাবশালীদের ম্যানেজে মরিয়া হয়ে ওঠে।

শিশু বলাৎকারের ঘটনা তোলপাড় হলে মঙ্গলবার আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা ওই শিশুর বাড়িতে গেলে শিশুর মা তাদের সমস্ত ঘটনা খুলে বলেন, যার ভিডিওচিত্র সাংবাদিকরা ধারণ করেন। সেখানে আগে আসা সাংবাদিকদের কাছেও ঘটনার সত্যতা খুলে বলেছেন বলে জানিয়েছেন শিশুটির মা। সাংবাদিকরা ভালুকশী গ্রাম থেকে ফেরার পরে শিশুটির পরিবারকে জিম্মি করে বিষয়টি স্থানীয় প্রভাবশালী সুরুজ কাজীকে সালিশ মিমাংসার মাধ্যমে সমাধান করে দিতে সজীবের পরিবার অনুরোধ করে। তবে সুরুজ কাজী এই রকম ন্যাক্কারজনক ঘটনার সালিশ করবেন না বলে তার পরিবারকে জানিয়ে দেন। এব্যাপারে সুরুজ কাজী ফোনে ঘটনার সত্যতা জানিয়ে বলেন, তার কাছে সালিশের জন্য সজীবের পরিবার এসেছিল। তিনি সালিশ করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন।

আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আফজাল হোসেন বলেন, তিনি এরকম কোন ঘটনার ব্যাপারে জানেন না। তবে সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে ঘটনা জেনেছেন। এব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান তিনি।


Leave a Reply