অমর কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা – Nobobarta

আজ শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৩:০৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম:
আজ উদয় সমাজ কল্যান সংস্থা সিলেটের ১২তম ওয়াজ মাহফিল দলীয় কার্যালয় সম্প্রসারণের লক্ষে আগৈলঝাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটির প্লট উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর যবিপ্রবিতে ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশের নতুন কমিটি গঠন আটোয়ারীতে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে এ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত জবি রোভার দলের হেঁটে ১৫০ কিলোমিটার পরিভ্রমণের উদ্বোধন মারুফ-তানহার ‘দখল’ লক্ষ্মীপুরে রামগতি পৌরসভায় ৮ কোটি টাকার টেন্ডার জালিয়াতি চেষ্টার অভিযোগ নলছিটিতে যুবকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার সভাপতি সরফরাজ, সম্পাদক লিটন রাজাপুরে আ.লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০১৯ অনুষ্ঠিত সহকারী পরিচালক সমিতির নির্বাচন আগামীকাল!!
অমর কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা

অমর কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে রচনা প্রতিযোগিতা

প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক, অমর কথাশিল্পী অধ্যাপক শাহেদ আলীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী (জন্ম-২৬ মে ১৯২৫ মৃত্যু-৬ নভেম্বর ২০০১) উপলক্ষে এক রচনা প্রতিযোগিতার আহ্বান করা যাচ্ছে। এতে বাংলাদেশের সকল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীগণ অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

রচনার বিষয়ঃ বাংলা ছোটগল্পে অধ্যাপক শাহেদ আলীর অবদান। নিয়মাবলীঃ
১. কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার্থীগণ নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান অথবা বিভাগীয় প্রধানের মাধ্যমে রচনা প্রেরণ করবেন।
২. সব্বোর্চ দুই হাজার শব্দের মধ্যে রচনা সীমাবদ্ধ থাকবে।
৩. আগামী ১০ নভেম্বর, ২০১৯ তারিখের মধ্যে নিন্মঠিকানায় রচনা পৌঁছাতে হবে।
৪. বিচারকম-লির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
৫. প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং সাতটি বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হবে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিজয়ীদের জন্য সার্টিফিকেট, ক্রেস্ট, পুস্তক ও নগদ অর্থ পুরস্কার, বাকীদের জন্য সার্টিফিকেট ও পুস্তক পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হবে।
৬. রচনা মৌলিক হতে হবে। কোনো বই থেকে কপি করা চলবে না। তবে যথাযথ উদ্ধৃতি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হবে। অন্য কোনো রচনার সাথে হুবহু মিলে গেলে সেটাকে নকল হিসাবে গণ্য করা হবে এবং তা পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না।
৭. কুরিয়ার/ পোস্ট অফিস/ ইমেইলযোগে লেখা পাঠানো যাবে। লেখা পাঠানোর সময় অংশগ্রহণকারীর পূর্ণ ঠিকানা, মোবাইল নাম্বর দিতে হবে।
ঠিকানা- কথাশিল্পী শাহেদ আলী-চেমন আরা ট্রাস্ট
বাড়ি-৮০, ব্লক-ডি, সড়ক-১১, বনানী, ঢাকা-১২১৩
ইমেইল- সধঃরঁৎৎধযসধহ১৯৪১@মসধরষ.পড়স
বিস্তারিত জানার জন্য প্রয়োজনে যোগাযোগ করুন, মোবাইল-০১৭১৭২৯৮৮১২

রচনা লেখার সহায়ক গ্রন্থঃ
১. কাহেদ আলী স্মারকগ্রন্থ
২. বহুমাত্রিক, শাহেদ আলী সংখ্যা
৩. অবিনশ্বর, শাহেদ আলী সংখ্যা
৪. কথাশিল্পী শাহেদ আলীর প্রকাশিত বই- ১.গল্পগ্রন্থঃ জিবরাইলের ডানা, একই সমতলে, শাহেদ আলীর নির্বাচিত গল্প, শাহেদ আলীর শ্রেষ্ট গল্প, অতীত রাতের কাহিনী, অমর কাহিনী, নতুন জমিনদার। ২.উপন্যাসঃ হৃদয়নদী, কাদা মাটির সাহকাহন। ৩. শিশুতোষঃ রুহীর প্রথম পাঠ, সোনার গায়ে সোনার মানুষ। ৩. প্রবন্ধঃ শাহেদ আলীর প্রবন্ধ সমগ্র এক। ৪. অনুবাদমূলকঃ মক্কার পথ, হিরোডোটাস, ককেশাসের মহানায়ক ইমাম শামিল ইত্যাদি।

অধ্যাপক শাহেদ আলীর সংক্ষিপ্ত জীবনপঞ্জি : বিশিষ্ট কথাশিল্পী, শিক্ষাবিদ, মননশীল লেখক, প্রাজ্ঞ বুদ্ধিজীবী, ভাষাসৈনিক ও রাজনীতিবিদ অধ্যাপক শাহেদ আলী সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর থানার মাহমুদপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে ১৯২৫ সালের ২৬ শে মে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা- মৌলবী ইসমাইল আলী, মাতা- আয়েশা খাতুন। ২০০১ সালের ৬ নভেম্বর তিনি ঢাকায় ইন্তিকাল করেন।

শিক্ষাঃ গ্রামের পাঠশালায় হাতেখড়ি। ১৯৪৩ সালে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী হাই স্কুল থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সিলেট এম.সি কলেজ থেকে ১৯৪৫ সালে আই, এ এবং ১৯৪৭ সালে ডিস্টিংশনসহ বিএ এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ পাস করেন।

কর্মজীবন : পরিচালক : অনুবাদ ও সংকলন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ১৯৭৭-৮২।
সংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকা- : ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, স্বকীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতিক আন্দোলনের আজীবন কর্মি, তমুদ্দুন মজলিসের মুল সংগঠকদের অন্যতম, আবুজর গিফরী সোসাইটির সেক্রেটারি, আবুজর গিফারী কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা কলেজ সাগঠনিক কমিটির সদস্য, বাংলা একাডেমি ফেলো, দুইবার বাংলা একাডেমি কাউন্সেলের নির্বাচিত সদস্য, সাবেক পূর্বপাকিস্তান রাইটার্স সিল্ডের কার্যকারি কমিটির নির্বাচিত সদস্য, আল্লামা ইকবাল সংসদের উপদেষ্টা, চট্টগ্রাম জমিয়াতুল ফালার সদস্য, ঢাকাস্থ জালালাবাদ সমিতির সাবেক সম্পাদক, গুলশান-বনানীর পাথ্ ফাউন্ডার ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, আলগামাদি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের চেয়ারম্যন, বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার পরিষদের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, লিবার্টি ফোরামের উপদেষ্টা, ইসলামি বিশ্ব কোষের অন্যতম সম্পাদক, ফ্রাংকলিন পাবলিকেশনের বাংলা বিশ্বকোষ প্রকল্পের প্রথম সম্পাদক, ইনসানিয়াত সোসাইটির সাবেক পরিচালোক, ইসলামিক একাডেমিক সেরা কৃতি কোরানুল কারিমের তর্জমা ও সম্পাদনা বোর্ডের সদস্য, তামরিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যন।

পারিবারিক জীবন : অধ্যাপক শাহেদ আলী ১৯৫০ সালের বিশিষ্ট লেখক, শিক্ষাবিদ ও ভাষাসৈনিক অধ্যাপিকা চেমন আরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শাহেদ আলী-চেমন আরা দম্পতির তিন ছেলে ও তিন কন্যা। সন্তানরা হলেন যথাক্রমে-আহমেদ আব্দুল্লাহ, দিলরুবা জিনাত আরা, আহমেদ রুহুল্লাহ, আহমেদ ফজলুল্লাহ, বিলকিস ফেরদৌস আরা, দিলশাদ রাহাত আরা। সকলেই উচ্চশিক্ষিত ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত।

সাহিত্য ও সাংবাদিকতা জীবন : কথাশিল্পী শাহেদ আলী বিভাগ-পূর্বকাল থেকেই সাহিত্য সাধনা শুরু করেন। ১৯৪০ সালে প্রখ্যাত ‘সওগাত’ পত্রিকায় তাঁর লেখা গল্প ‘অশ্রু’ প্রকাশিত হয়। তিনি তখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ১৯৪৪-১৯৪৬ সাল পর্যন্ত তিনি ‘মাসিক প্রভাতি’ পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র ‘সৈনিক’ পত্রিকা সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৪৮ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তাঁর সম্পাদনায় ‘সৈনিক’ প্রকাশিত হয়। ঐ সময় ভাষা আন্দোলনের মুখপত্র হিসাবে তাঁর সুসম্পাদনায় ‘সৈনিক পত্রিকা’ বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এছাড়া, তিনি ‘দৈনিক বুনিয়াদি’ এর সম্পাদক ছিলেন। কর্মজীবনের শেষপ্রান্তে এসেও তিনি বহু মূল্যবান পত্রিকা, সংকলন ও সম্পাদনার সাথে কখনো একক, কখনো যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করেন। তন্মধ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পত্রিকা (গবেষণা), মাসিক সবুজপাতা (শিশুতোষ) ১৯৬৩ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত এবং ত্রৈমাসিক গবেষণা পত্র ‘আল্লামা ইকবাল সংসদ পত্রিকা’ সবিশেষ উল্লেখযোগ্য।

পুরস্কার : বাংলা একাডেমি পুরস্কার, ছোটগল্প-১৯৬৪, নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদক, কথা সাহিত্য- ১৯৮৫, ইসলামিক ফাউন্ডেশন পুরস্কার, অনুবাদ-১৯৮৬, একুশে পদক, সাহিত্য-১৯৮৯, একুশে ও স্বাধীনতা পদক-১৯৯০, সহ অনেক।


Leave a Reply