আজ রবিবার, ২৫ অগাস্ট ২০১৯, ১০:২৮ অপরাহ্ন

অভিনেত্রী ববিতা’র ৬৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

অভিনেত্রী ববিতা’র ৬৬তম জন্মবার্ষিকী আজ

Farida Akhtar Babita

  • 5
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •  
    5
    Shares

আজ ৩০ জুলাই, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তারকা একসময়ের বাংলাদেশের জনপ্রিয় ধ্রুপদী অভিনেত্রী বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সুপার হেরোইন ববিতার ৬৬তম জন্মদিন। এই দিনটিতে বাংলাদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রখ্যাত এই অভিনেত্রী যশোর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

ববিতার অভিনয়ের শুরুটা তার বোন সুচন্দার হাত ধরে। ৬০ এর দশকের শুরুতে ববিতার বড় বোন সুচন্দা অভিনয় শুরু করেন। সুচন্দার স্বামী বিখ্যাত পরিচালক শহীদ জহির রায়হানের ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ববিতার যাত্রা শুরু। ববিতার জন্ম নাম ফরিদা আকতার। ডাকনাম পপি। স্ত্রিননেম ববিতা হওয়ার পেছনে তার প্রথম ছবির প্রযোজক আফজাল চৌধুরীর অবদান রয়েছে। আফজাল চৌধুরী তার ছবিতে নায়িকার মূল নাম পরিবর্তন করার চিন্তা করেন। ফরিদা আকতার পপি নামের পরিবর্তে আফজাল চৌধুরী ববিতা নামটি প্রস্তাব করেন। তারপর থেকে ফরিদা আকতার পপি হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় অভিনেত্রী ববিতা।

দুই শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন ববিতা। চলচ্চিত্রে তাঁর শুরুটা হয়েছিল গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে। ষষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী পপি (ববিতার ডাক নাম) সংসার ছবিতে রাজ্জাক ও সুচন্দার মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন। ছবির নির্মাতা ছিলেন জহির রায়হান। ছবিটি মুক্তি পায়নি। জহির রায়হান ববিতাকে নিয়ে জ্বলতে সুরুজ কা নিচে নামে একটি উর্দু ছবির কাজ শুরু করেন। মাঝপথে থেমে যায় ছবিটির কাজ। এরপর জহির রায়হান রাজ্জাক ও ববিতাকে নিয়ে তৈরি করেন চলচ্চিত্র শেষ পর্যন্ত। আর এটিই ছিল ববিতার প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। এর পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘গোলাপি এখন ট্রেনে’, ‘দহন’, ‘দিপু নম্বর টু’, ‘মিস লঙ্কা’, ‘লাভ ইন সিঙ্গাপুর’, ‘তিন কন্যা’, ‘পোকা মাকড়ের ঘর বসতি’র মতো অসংখ্য উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছেন ববিতিা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন-‘বান্দি থেকে বেগম’ (১৯৭৫ সালে), ‘নয়ন মনি’ ( ১৯৭৬ সালে), ‘বসুন্ধরা’ (১৯৭৭ সালে), ‘রামের সুমতি’ ( ১৯৮৫ সালে) ছবিতে। এছাড়া চলচ্চিত্রে সার্বজনীন অবদানের জন্য অস্কার পাওয়া সত্যজিৎ রায়ের দুর্ভিক্ষের উপর করা বিখ্যাত ছবি “অশনি সংকেত”এ তিনি অভিনয় করে বাংলাদেশের ফিল্মকে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত করাতে সক্ষম হয়েছিলেন।

নন্দিত এই অভিনেত্রী প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন ফুলশয্যা, আগমন, লেডি স্মাগলার (বাংলাদেশ-পাকিস্তান-নেপালের যৌথ ছবি), লটারি, পোকা মাকড়ের ঘর বসতি প্রভৃতি ছবিতে। প্রায় দুশো’র উপরে ছবিতে অভিনয় করা ববিতা চলচ্চিত্রে অভিনয় করা ছেড়ে দিলেও ব্যক্তিগতভাবে একেবারে বসে নেই। তাঁর জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে তিনি অনেকটাই ‘আইডল’ হিসেবে নিয়েছেন অভিনেত্রী অর্ডে হেপবার্ণকে। ববিতা তাঁর মতোই সামাজিক কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রাখবেন বলে মনস্থ করেছেন। ইতিমধ্যেই তিনি এসিডদগ্ধ নারীদের নিয়ে কর্মরত সংস্থা “এসিড সারভাইভরস ফাউন্ডেশন” এর সঙ্গে আছেন। তাছাড়া তিনি এখন ডিসিআই “ডিসট্রেসড চিলড্রেন এ- ইনফ্যান্ট সোসাইটি” নামক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি চ্যারিটি সংগঠনের শুভেচ্ছাদূত (গুডউইল অ্যাম্বাসাডার) হিসেবে কাজ করছেন।

ছিন্নমূল ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উন্নয়নের জন্য কাজ করছে সংগঠনটি। তবে, সবকিছুর উপরে ববিতা নিজের একটি পরিচয় দিতেই সবচেয়ে গর্ববোধ করেন আর তা হচ্ছে, তিনি “অনীক ইসলামের মা”। ওয়াটার লু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভালো ছাত্র হিসেবে অনীকের সুনামের শেষ নেই। শিক্ষকরাও তাঁকে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী! তুখোড় মেধাবী ছেলে প্রসঙ্গে তাই টরন্টো স্টারকে সহসা সহাস্যে তিনি জানিয়ে দেন, “আমার ছেলেকে নিয়ে আমি গর্বিত। ববিতা ম্যাডামকে তার এই জন্ম দিনে আমার পক্ষ থেকে অনেক অনেক শুভ কামনা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইলো অনীক ইসলামের এই বিশাল সাফল্যের জন্য। বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সুপার হেরোইন ববিতার জন্মদিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি আজীবন আমাদের বাঙালির হৃদয় জুড়ে থাকা নন্দিত এই অভিনয়শিল্পীর কৃতি ও কীর্তি!

লাইক দিন এবং শেয়ার করুন


Leave a Reply