রবিবার, ২৪ Jun ২০১৮, ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন



নির্বাচিত ১০১ কবিতা” গ্রন্থ থেকে পাঁচ কবিতা || ফয়সাল হাবিব

নির্বাচিত ১০১ কবিতা” গ্রন্থ থেকে পাঁচ কবিতা || ফয়সাল হাবিব



রেললাইন
ট্রেনের চাকায় ঘর্ষিত হতে হতে
একদা রেললাইনের শখ হলো
ট্রেন হবে।
প্রবল দম্ভে তাই সোজা উঠে দাঁড়ালো রেললাইন।
কিয়ৎক্ষণ পর পেছন থেকে একটি ট্রেন এসে চাপা দিয়ে গেলো দাম্ভিক রেললাইনকে
রেললাইনের নিথর দেহ অযত্নে কেবলই পড়ে থাকলো রাস্তার ওপারে!
মানুষও ঠিক যেন এ রেললাইনের মতোই;
নিজের অবস্থানে তুষ্ট নয় সে
তাইতো অবস্থান অারও পাঁকাপোক্ত করতে বেশির অাশায় রেললাইনের মতোই
তছনছ হয়ে যায় মানুষ অার প্রতিদিনই নিকষ কৃষ্ণ গহ্বরে হারিয়ে যায় একগুচ্ছ সাদা জীবন!
মানুষকুকুর
অামার পায়ের কাছে যে কুকুরটি বসে থাকে- তাকে অামি কুকুর বলেই জানি,
ছ্যাঁই ছ্যাঁই করে তাড়িয়ে দিই কুকুরটাকে- জিভ বের করে কুকুর চেয়ে থাকে অামার দিকে-
সকলে কুকুরের ওই চেয়ে থাকা দেখে বলে- তোর মুখের কিছু খাবার ওর মুখের সামনে ফেলে কুকুরটাকে খেদাই করে দে!
কিন্তু অামি কুকুরের চোখে চোখ রেখে অামার ভেতরকার চোখ স্পর্শ করে বুঝেছি কুকুরের ওই জিভ বের করে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকার কারণ-
জিভ বের করে কুকুর অামাকে উপহাস করে- কুকুর অামাকে জিভ ভ্যাচকায়!
মনে মনে হয়তো কুকুরও উপহাসাত্নক হেসে বলে, অ্যারে শালা- তুই-ও তো কুকুর!
শুধু বাহ্যিক চেহারায় তোর অার অামার পার্থক্য-
কেননা কুকুর বুঝেছে অামার ভেতরেই এক কুকুর পুষি-
সেই পোষা কুকুর এই কুকুরের থেকেও অনেক বেশি হিংস্র ও ভয়ংকর!
তাইতো অামার পায়ের সামনে প্রচণ্ড দম্ভে বাইরের কুকুরটা ওর ব্যঙ্গাত্নক জিভ বের করে মুখনিঃসৃত লালা ঝরাতে ঝরাতে অামায় `মানুষকুকুর’ উপাধি দিয়ে কয়েকবার তার লম্ববক্র লেজ নাড়িয়ে নাড়িয়ে চলে গেলো…!
 বেশ্যালয়
বেশ্যালয়ে নাকি বেশ্যাগিরি চলে
সেখানে বেশ্যারা থাকে, উদম ফূর্তি হয়, অারও…
কিন্তু বেশ্যালয়ের দোষ কি? ও তো মাত্র একটি ঘর
ওই ঘর কি পাপ-পুণ্য বোঝে?
তাহলে বেশ্যালয় নয়, বেশ্যারা খারাপ; তাই তো?
তাই যদি হয়, তবে তো বেশ্যাদের সন্তানও খারাপ হবার কথা! কিন্তু বেশ্যাদের সন্তানও কি বেশ্যা হয়?
গাছ যে প্রজাতির সেই গাছে তো সেই প্রজাতিরই ফল জন্মাবে এটাই স্বাভাবিক; তাই না?
তাহলে তো বেশ্যার গর্ভে বেশ্যা জন্ম নেবে এটাই হবার কথা ছিলো
কিন্তু তা কি হয়? বেশ্যার গর্ভে কি বেশ্যাই জন্ম নেয়?
তা যদি নাই-ই হয় তবে বেশ্যাও খারাপ নয়
জেনে রেখো, `বেশ্যালয়’ এবং `বেশ্যা’ শব্দ দু’টি খারাপ।
 
ওভার ব্রীজ
রাজধানীর পিচঢালা রাস্তা
ছাতার মতো তার মাথা অাগলে রেখেছে অারেক রাস্তা, যেন রোদ স্পর্শ না করে চিৎ হয়ে শুয়ে থাকা সে রাস্তার শক্ত শরীর।
প্রতিদিন এ রাস্তা থেকে মানুষ উপরে ওঠে, ওভার ব্রীজ বেয়ে অাবার নিচে নেমে অাসে
নিচে নেমে অাসে, আবার উপরে ওঠে।
অর্থাৎ, মানুষ তার শুরুর মূল বিন্দু থেকে কখনো বিচ্যুত হতে পারে না
শেকড়ের কাছে তাকে ফিরে অাসতেই হয়।
যেখান থেকে শুরু একসময় ঘুরে ফিরে অাবার সেখানেই মানুষের ফিরে অাসা
যেখানে শুরু, সেখানেই শুরু…
তেমনি জীবনের কোনো কিছুই শেষ নয়, শেষ হয় না
স্বপ্ন বিস্তৃত থেকে বিস্তৃততর হয় বাস্তবে
মনে রেখো, কেবলই শুরু অার শুরু…
নিঃসঙ্গতা
কী এক নিঃসঙ্গ আঁধার হেলে পড়ে রাতের গতরে!
নির্লজ্জের মতো রাতের শরীরে শরীর এলিয়ে রাতের গতরেই খুঁজে পায় তার সম্ভাব্য সুখ।
রাত নিঃসঙ্গ হলে আঁধারকে পায়
আঁধার নিঃসঙ্গ হলে রাতের কাছে যায়…
কিন্তু মানুষ আমি; মানুষ নিঃসঙ্গ হলে নিঃসঙ্গতা তাকে কুরে কুরে খায়
মানুষ নিঃসঙ্গ হলে আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে যায়!
ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর





© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com