,

মহসীন চৌধুরী জয়-এর একগুচ্ছ কবিতা

পারাপার

সূর্য হাসে উপরে—
অন্ধ বাতাসে হাঁটে উজ্জ্বল অথচ দিকভ্রান্ত আলো
গোধূলির পাশে আলো শান্ত হয়—বাতাস খোঁজে পথ
সাঁকো পার হয় পুষ্করিণীর এপার-ওপার
প্রতিটি বাঁশে খেলা করে নূপুর—নাচে নারীর নিতম্ব-বুক
রাতের শরীর জুড়ে কালোর প্রলেপ—
যেন ধ্যানমগ্ন সাধুর বিনিদ্র চোখ
নেশাখোর খোঁজে পথ—
বাঁশের প্রতীতি-জুড়ে কম্পিত পায়ের যাত্রা
বাঁশে এসে বসে চাঁদের গাঢ় আলো—পারাপার হয় অন্ধ কুকুরের চিৎকার…

নদী-প্রেম ও ছন্দের কথা…

সাঁতার শিখি নি বলে হাঁসকে ভালোবাসা যাবে না এমনটা কখনো ভাবি নি। জাত ডুবুরি জেনেও মাছের ভালোবাসার স্বাদ নেই ডাঙায় তুলে। জলকে ভালোবেসেছি স্নানের সম্পর্কে এমনটাও নয়।
জল শীতল বন্ধু!
প্রতিটি জলের কণা এক একটি নদী—সমগ্র হয়ে ভাসতে ওরা ভালোবাসে।
মাছের সাথে কিছু জল-কণা ঘুরে আসে গভীরে—খুঁজে ফিরে নিজেদের ভেতরের অনন্ত অতলন্ত
প্রতিটি সন্ধ্যা আসে নদীর কাছে—বিষণ্নতা নিয়ে
প্রতিটি সকাল হাসে নদীর সাথে—প্রফুল্লতায়
নির্ঘুম রাত জেগে শুয়ে থাকে জলের কণায় কণায়
ভাবি, জীবন নিয়ে কতটুকু মিশব জলে—মৃত্যুতে উঠব ভেসে জলের ছন্দে হেসে…

আঁধার

বিশ্বস্ত ছায়ার নিচে বসে আছে রাতের মৌলিক আঁধার। সেই আঁধারেও দেখি, রাস্তা হেঁটে যায় দূর-বহুদূর। শরীরে আলো নিয়ে জোনাকিদের গল্প শুরু। গাছেদেরও স্বাভাবিক দাঁড়িয়ে থাকা। আমি মানসিকভাবে অস্বাভাবিক কি? আমার বাহিরে কোনো আলো নেই—ভেতরের আলোর সন্ধানে নির্জন আঁধারে আশ্রয় নেই। আমার যাবতীয় ভাবনার ঘোর বেশ জায়গা দখল করে। অস্থিরতার গল্প জমা হয় মাথায়। অতঃপর মুহ্যমান এ দেহ বসে রয় আঁধারের কোলে—কিছুটা সময়। রাস্তার সাথে হাঁটি—ভাবি, কত আলোর জমানো শক্তি সাময়িক ঘুমিয়ে রয় আঁধারের বুকে!

বৃষ্টি

রাতের সাথে সাথে হেঁটে যায় আলো
চাঁদ!
মেঘের ভেতর খুঁজে বৃষ্টিজীবন
কিছুটা পতনে ছন্দ তৈরি হয়
পার্থিব ঘোর!
মাটি পালিয়ে যায় ভেসে ভেসে—আঁকাবাঁকা
ফাঁকা এক মাঠে জোছনা দেখছিল ঘাস
জোনাকি উধাও!
মেঠোপথে চলে যায় বৃষ্টিজল
অশ্বত্থের নিচে চাঁদের আলো
তোমার মুখ!
বৃষ্টি গভীরভাবেই দেখে তোমার রূপ…

কামনা

স্পর্শহীন প্রেম তো পাথরের মতো
শুধু চাতকের মতো চেয়ে থাকা জলের দিকে—ঢেউয়ের অপেক্ষা…
কামনা হলো এমন—সুতীব্র…
যেন ঢেউ নয়, ঢেউয়ের তাণ্ডব খেলা করে জলের গভীরে
আর হৃদয়ের গভীরে অনুভূতি জাগ্রত হলে,
চুমুগুলো সবসময় সজীব থাকে
এবং কিছু স্পর্শও চামড়াতে লিখিত থাকে, বুকের গভীর পর্যন্ত যেতে হয় না
একটি রাত শেষ হয় কালো ফুরালে
তার রেশ আলো হয়ে ঔজ্জ্বল্য ছড়ায় বহুদিন
কিছু রক্তিম আপেল যেন শরীরে ফুটে ওঠে—রাতের বিভ্রমে, কামনার শিখরে…

ঘুম

ঘুমের বাড়ি গাঢ় অন্ধকারে। সেখানে নৈঃশব্দ্য-মেখে বসে ছিল অন্ধকারসম কালো বিড়াল। আমার অস্ফুট চলনেও নিস্পন্দ বিড়াল নড়ে উঠল। চেয়ে দেখি চারিদিকে ছায়াদের খেলা—বিভ্রম যেন, উলঙ্গ অবয়ব নিয়ে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। বাহিরে অশ্বত্থ গাছ আনমনে বাতাসের সাথে খেলছে অর্ধস্ফুট গোলাপের সূচনা ঘ্রাণ নিয়ে। সেই ক্ষণে আমার দিকে তাকিয়ে বিড়ালের চোখ জ্বলে উঠল। মুহূর্তেই উজ্জ্বল দ্যুতি ছুঁড়ে মিশে গেল গাঢ় অন্ধকারে। সেই ক্রূর চোখে তাকিয়ে রইলাম সারারাত, মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে, পাপড়ির বিশ্রামে। ভাবি, আলো রেখে ঘুম নিয়ে দ্রুত চলে গেল অন্ধকার বিড়াল।

চোখ

বর্তুল পৃথিবী উড়ে পাখির চারপাশ, ডানাবিহীন
ডানাহীন মেঘেদেরও চলে গহন যাতায়াত
রৌদ্র পাশে হাসে—দূরের পুকুরে পরে তার টোল
উড়ন্ত ছায়ার যাতায়াত ঘোর সৃষ্টি করে পাখির চোখে
রৌদ্র ও ছায়ার খেলা ফুটে উঠে কিছু ঘাসের ভাবনাতে
অতঃপর কী শান্ত আর স্থিরতা নিয়ে রাতের আগমন
চোখ দেখে শুধু রাতের শরীরে ছায়া, ছায়ার শরীরে রাত
চোখটাও ডানাহীন—ঘুমিয়েও উড়াল দেয় হাওয়ার মতো…

লেখক: মহসীন চৌধুরী জয়—নারায়ণগঞ্জ—joychironton@gmail.com

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com