মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০১:০৪ পূর্বাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :
আসন্ন নির্বাচনে ভালো প্রার্থী মনোনয়ন দিন : রাষ্ট্রপতি ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে চান ট্রাম্প শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যেতে রাজি ড. কামাল দেশের উন্নয়নে প্রধান বাঁধা মাদক সন্ত্রাস- ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি মুন্সীগঞ্জে পুলিশের নারী ব্যারাক উদ্বোধন করলেন আইজিপি মহানগর যুবদল নেতা নয়নের অসুস্হ বাবার রোগমুক্তির জন্য দোয়া প্রার্থনা সিসিকের নতুন সিইও বিধায়ক রায় চৌধুরী সিলেট নগরীর বন্দরে রুই মাছের পেটে ৬১৪ পিস ইয়াবা, আটক ১ ঝালকাঠি -১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী মনিরুজ্জামানের ব্যাপক গনসংযোগ রাজাপুরে ১০ টাকা কেজির খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১২ বস্তা চালসহ ২০ টি কার্ড জব্দ
নানাভাই আবিদ হাসান জুয়েল’র একগুচ্ছ ছড়া

নানাভাই আবিদ হাসান জুয়েল’র একগুচ্ছ ছড়া



সূচির আচরণ

এতো শান্ত বউ আনিলাম-
এইতো সেদিন ঘরে,
চোখে মুখে শান্ত’র ছাপ-
বুলি’নাতো ঝরে |
চলন শান্ত,বলন শান্ত-
শান্ত সর্ব অঙ্গেতে,
আদব কায়দাকানুন শান্ত-
যেনো-গর্ব বঙ্গেতে |
এমন বউ পেয়ে কারো-
হবেই জীবন ধন্য,
ফেরাবে সে বরের যতই-
থাকুক মনন বন্য |
এমনি করেই গেলো,যাচ্ছে-
সপ্তাহ মাসের গত’ই,
হঠাৎই আজ রঙ বদল-
ঢাকা দূর্বাঘাসের মতই |
পাল্টে গেলো চলনবলন-
ফুটলো মুখে বুলি,
বুলি তো নয় একেকটা-
যেনো ছোঁড়া গুলি |
শাসন শোষন করছে শুরু-
সে তার মতো করে,
করার আর নেইতো কিছু-
চলছি মাথা নত করে |
স্বাধীনচেতা মানুষ হয়েও-
অবাদ নেই আর বিচরন,
আমি যেনো, রোহিঙ্গা; তাই-
সূচির মতো তার আচরণ |

উল্টাপাল্টা-৬৯

হঠাৎ আমার কিযে হলো-
আবেগ পাইনা আবেগে,
কষ্টগুলোয় সুখটা খুঁজি-
সুখটা ঠেলি তা’রেগে |
বড় ব্যাথায় কাতর হইনা-
ছোট্টটাতে উফ করি,
বন্ধু স্বজন দূরে ঠেলে-
শত্রুুধরি খুউব করি |
ভাবনা বিষয় এড়িয়ে যাই-
অ-ভাবনাতে ভাবি,
গৃহকোণটা আঁকড়ে ধরেই-
জগৎ দেখার দাবি !
পরের দুঃখ শুনতে যেয়ে-
যতোটা দুঃখ পাই,
সে হিসেবে আমার তো-
ততোটা দুঃখ নাই!
এমন কেন হচ্ছে বলো-
সবি যে- উল্টাপাল্টা,
কমলা ভেবে যা কিনলাম-
বউ বুঝে-তা মাল্টা |
বউটা ভীষণ রেগে গিয়ে-
তোমার কমলা তুমিই খাও,
এও বলেছে ; সঙ্গে আরো-
নয়তো তুমি পাবনা যাও ||

ঘটক মামা

দীর্ঘদিন পর ঘটক মামা-
দুপুর বেলা এসে,
উঠোনেতে দাড়িয়ে কয়,বুবু-
কই গেলা ? হেসে |
বের হও জলদি করে-
খবর আছে জম্পেশ,
ভাগ্নের বিয়ে এবার হবেই-
পাত্রীও দেখতে বেশ |
চোখদুটো তার নীলে ভরা
নাকটাও লম্বা বেশ,
কোমর নীচে দোল খায়-
গুচ্ছ কালো কেশ |
ছিপ-ছিপা গড়ন-পিটন
গায়ের রঙও উজ্জ্বল,
মিষ্টি হেসে কথা বলে-
লাজুক কিন্তুু উচ্ছ্বল |
দেখতে শুনতে অন্যরকম-
পাবেনাতো দশ গ্রামে,
পাত্রীর বাবা টাকাঅলা ঢের-
পরিচিত যশ নামে |
পড়াশুনায় বেশ ভালো সে-
রান্নাবান্না তার জানা,
নামটিও আহা কি চমৎকার-
তামান্না ফারজানা |
বিয়ের কথা উঠার পরেই-
যেনো কাড়াকাড়ি,
অনেক পাত্র দিতেও রাজি-
সোনাদানার হাড়ি।
যা বললাম সত্যি সবে-
বিন্দু মিথ্যে নয়,
এবার বলো, বুবু তোমার-
মনে কি কয় ?
মা বলে,যা বলেছো-
ঠিক আছে সবেই,
কিন্তুু আমার ছেলের বিয়ে-
হয়ে গেছে কবেই !
দো’য়া কইরো জবর করে-
আল্লাহ্ যদি চায়,
ক’দিন পরে দেখবো আমি-
নাতি,নাতনীটায় ।
মায়ের কথায় কপালে চোখ-
উঠলো ঘটক মামার,
কথা ছাড়াই পথ ধরিলো-
নাই লক্ষণ থামার ।

ইচ্ছে জাগে

মা যখন বাবাকে বলে
যাও বাজারে এখন,
চাউল ডাউল মরিচ আনো
সাথে হলুদ লবন ।
বিদ্যুতের বিল দাও
কালকেই ডেট শেষ,
এরকম’ই হাজার ঘ্যানর
সামনে করে পেশ ।
মেয়েটার কলেজ বেতন
বাকি পড়লো তিনমাস,
বাঁদরামিটা বাড়ছে ছেলের
করো তারে শাস ।
নিত্য বাজার হচ্ছে চরম
বাড়ছেনা বাবার আয়,
সংসার চাপে হয়তো উনার
পরাণখানি যায় ।
সংসার বড়ই আজব জিনিস-
সত্যি আজব লাগে,
এ হিসেবে চিরকুমার রই-
মনে ইচ্ছে জাগে ।

আজব কাঁশি

বিড়ি খেয়ে করিম চাচা
কাঁশে দেখো খকখক,
কাঁশির জ্বালায় অস্থির চাচী
দিনমান তাই-বকবক ।
পুরোদিন যায় যেমন তেমন-
সন্ধে থেকে বাড়ে,
কাঁশিতে কাঁশিতে বুড়া চাচা
চাচীরে ঝাড়ি মারে ।
কইগো তুমি জয়নুন বিবি
বিড়ির প্যাকেট রাখছো কই ?
দাও জ্বালিয়ে তাড়াতাড়ি
পরাণ যাচ্ছে দেখো অই।
চাচী এবার নাক উচাঁয়া
মুখটি করে লাল,
মরার বুইড়্যা মরেনা কেন-
আজরাঈলের আকাল ?
রাগ’টা রেখে চাচী দৌড়ে
বিড়ির প্যাকেট নিয়ে,
চটজলদি চাচার মুখে-
দিলো বিড়ি জ্বালিয়ে।
একটান দুইটান তিনটানে-
কাঁশি তার উধাও !
এমন আজব কাঁশি চাচী
দেখছেনা আর ভাউ ।
কাঁশি থামায় চাচা-চাচীর
ফুটলো মুখে হাসাহাসি,
চাচীর ঠোঁটে, চাচার তরে-
জুটলো তোকে ভালবাসি |

গরম শরম

হঠাৎ সূর্যতাপে হাজির-
ভেপসা গরম চর্তুদিক,
ছুটছে সবাই ছায়াতলে-
তখন বেলা দুপুরঠিক |
পুবের বায়ু ছুটছেনা তাই-
নড়ছেনা’তো গাছ পাতা,
দীঘির জলও গরমে চুপ-
কীটপতঙ্গ মাছ মাতা |
কপাল থেকে পড়ছে ঘাম-
গড়িয়ে টরতর বুকে,
লাগছে ভীষণ অসহ্য’টাই-
নিজের গতর শুকে |
এই সময়ে পাশের বাড়ির-
চাচা শরীর দুলে,
হাঁটছে একা উরু অবধি-
লুঙ্গি’টা হায় তুলে |
উনার চোখে চোখ পরাতে-
বিব্রত হই নিজে,
মনের ভুলে লুঙ্গিটা ; হয় –
তিনি উঠাননি’যে |
চাচা বলে,মৃদু হেসে-
কি ভাবছো বেটা ?
ভীমরতি’টা ধরেনি গো-
স্ব-ইচ্ছেতেই এটা !
পরিবেশ এর মর্জিমাফিক-
আসবে যাবে গরম,
গরম মোকাবিলা’য় বেটা-
রাখবে কেন শরম ?

কানমলা

ক্রেতার বেশে ঢুকছো তুমি-
আজব এক দোকানে,
বেঞ্চে বসার আগেই এলো-
‘ কি খাবেন ? দু’কানে |
খেলে দেব প্লেটে করে-
সঙ্গে গ্লাসের পানি,
বাসায় নিয়ে গেলে কিছু-
প্যাকেট করতে জানি |
ঘরে বাবু আছে- নাকি ?
নিয়ে যান চিপস,
না থাকিলে দিতে পারি-
কয়েক খান টিপস |
ভাবীর জন্য নিতে পারেন-
ভিনদেশি এই আচার,
এটা সূদুর বার্মা দেশের-
আসলো,হয়ে পাচার |
চানাচুরও বেশ ভাল সেই-
কোম্পানির নাম প্রাণ,
তাছাড়াও আরো আছে,তা-
যা নিতে চান |
নিতে না চাইলে- তবে
কি দেব ? খান,
বলে ফেলুন- মিয়া ভাই
সিনা করে টান |
বলে ফেলুন,বলে ফেলুন-
নিরবতা করে ভেদ,
এই নিরবতা’তে হায় হায়-
পরবে ওঠে জেদ |
বলছি শুনুন-
মুখটা খুলুন,
জ্বললে জ্বলুন-
তেলে বেগুন |
ক্লান্তিটা ছেড়ে যায় সহজে-
যদি খান কলা,
ভার মুখে এই রসদেও যে-
রইবে চাঁন জ্বলা |
বিনা খাওয়ায় ছাড়বো’না –
ভুলে যান ছলা,
খেয়ে যেতে হবেই, মিয়া-
নইলে ; কানমলা |
এমন কাণ্ডে পড়লে তুমি-
কি করবে কওরে ?
আমি কিন্তুু পালাবো ঠিক-
জ্বি- এক দৌড়ে |

সু- বাতাস

মন্দ বাতাস বইলে বাপু-
বছর জুড়েই গ্রীষ্মকাল,
গতর ভিজে অ-সময়েও-
ঘাম জলেরই দৃশ্যহাল |
দৃশ্য হালে সু’জন কু’জন-
অবাধ করে বিচরণ,
নিকট জনেও সুশীল তখন-
অদ্ভুতুড়ে আচরণ |
আচরণের বচন ঝড়ে হায়-
ভাঙ্গে কঠিন হৃদয়ও,
ডান হাতটি হয়রে দেখো-
বাম হাতে’তে নির্দয়ও |
মন্দ বাতাস পাশ কাটিয়ে-
সু-বাতাস এলে,
মরুর বুকেও হারহামেশা-
বৃক্ষ ছায়া মেলে |

বদলে গেছি

পল্টিটা নিতে পারি,সঙ্গে-
অভিনয়ও,
শুনছো কি তমা? ভঙ্গিতে-
সবিনয়ও |
কথা দিয়ে কথা,আমিও-
রাখিনা,
সুনীলের কথা,গায়ে’তা-
মাখিনা !
নি-রাগী শরীরে, এনেছি-
রাগ,
তিলটুকু ছাড়িনা, সমান চাই-
ভাগ |
হেরে হেরে জিতে গেছি,এখন-
বলিনা,
স্বার্থ ছাড়া কারো সাথে,আর-
চলিনা!
বেঈমানী শিখে গেছি,সত্য-
কইনা,
দশজনের বোঝা একা আর-
বইনা !
বদলে গেছি,যেটা তুমি,তা-
চাইতে,
এখনও কি প্রহর গুনবো, তোমারে-
পাইতে ?
শুনছো তমা,ওগো নাকি-
শুনছো’না?
নাকি আমার প্রহর আর-
গুনছো’না |

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com