,

নানাভাই আবিদ হাসান জুয়েল’র একগুচ্ছ ছড়া

সূচির আচরণ

এতো শান্ত বউ আনিলাম-
এইতো সেদিন ঘরে,
চোখে মুখে শান্ত’র ছাপ-
বুলি’নাতো ঝরে |
চলন শান্ত,বলন শান্ত-
শান্ত সর্ব অঙ্গেতে,
আদব কায়দাকানুন শান্ত-
যেনো-গর্ব বঙ্গেতে |
এমন বউ পেয়ে কারো-
হবেই জীবন ধন্য,
ফেরাবে সে বরের যতই-
থাকুক মনন বন্য |
এমনি করেই গেলো,যাচ্ছে-
সপ্তাহ মাসের গত’ই,
হঠাৎই আজ রঙ বদল-
ঢাকা দূর্বাঘাসের মতই |
পাল্টে গেলো চলনবলন-
ফুটলো মুখে বুলি,
বুলি তো নয় একেকটা-
যেনো ছোঁড়া গুলি |
শাসন শোষন করছে শুরু-
সে তার মতো করে,
করার আর নেইতো কিছু-
চলছি মাথা নত করে |
স্বাধীনচেতা মানুষ হয়েও-
অবাদ নেই আর বিচরন,
আমি যেনো, রোহিঙ্গা; তাই-
সূচির মতো তার আচরণ |

উল্টাপাল্টা-৬৯

হঠাৎ আমার কিযে হলো-
আবেগ পাইনা আবেগে,
কষ্টগুলোয় সুখটা খুঁজি-
সুখটা ঠেলি তা’রেগে |
বড় ব্যাথায় কাতর হইনা-
ছোট্টটাতে উফ করি,
বন্ধু স্বজন দূরে ঠেলে-
শত্রুুধরি খুউব করি |
ভাবনা বিষয় এড়িয়ে যাই-
অ-ভাবনাতে ভাবি,
গৃহকোণটা আঁকড়ে ধরেই-
জগৎ দেখার দাবি !
পরের দুঃখ শুনতে যেয়ে-
যতোটা দুঃখ পাই,
সে হিসেবে আমার তো-
ততোটা দুঃখ নাই!
এমন কেন হচ্ছে বলো-
সবি যে- উল্টাপাল্টা,
কমলা ভেবে যা কিনলাম-
বউ বুঝে-তা মাল্টা |
বউটা ভীষণ রেগে গিয়ে-
তোমার কমলা তুমিই খাও,
এও বলেছে ; সঙ্গে আরো-
নয়তো তুমি পাবনা যাও ||

ঘটক মামা

দীর্ঘদিন পর ঘটক মামা-
দুপুর বেলা এসে,
উঠোনেতে দাড়িয়ে কয়,বুবু-
কই গেলা ? হেসে |
বের হও জলদি করে-
খবর আছে জম্পেশ,
ভাগ্নের বিয়ে এবার হবেই-
পাত্রীও দেখতে বেশ |
চোখদুটো তার নীলে ভরা
নাকটাও লম্বা বেশ,
কোমর নীচে দোল খায়-
গুচ্ছ কালো কেশ |
ছিপ-ছিপা গড়ন-পিটন
গায়ের রঙও উজ্জ্বল,
মিষ্টি হেসে কথা বলে-
লাজুক কিন্তুু উচ্ছ্বল |
দেখতে শুনতে অন্যরকম-
পাবেনাতো দশ গ্রামে,
পাত্রীর বাবা টাকাঅলা ঢের-
পরিচিত যশ নামে |
পড়াশুনায় বেশ ভালো সে-
রান্নাবান্না তার জানা,
নামটিও আহা কি চমৎকার-
তামান্না ফারজানা |
বিয়ের কথা উঠার পরেই-
যেনো কাড়াকাড়ি,
অনেক পাত্র দিতেও রাজি-
সোনাদানার হাড়ি।
যা বললাম সত্যি সবে-
বিন্দু মিথ্যে নয়,
এবার বলো, বুবু তোমার-
মনে কি কয় ?
মা বলে,যা বলেছো-
ঠিক আছে সবেই,
কিন্তুু আমার ছেলের বিয়ে-
হয়ে গেছে কবেই !
দো’য়া কইরো জবর করে-
আল্লাহ্ যদি চায়,
ক’দিন পরে দেখবো আমি-
নাতি,নাতনীটায় ।
মায়ের কথায় কপালে চোখ-
উঠলো ঘটক মামার,
কথা ছাড়াই পথ ধরিলো-
নাই লক্ষণ থামার ।

ইচ্ছে জাগে

মা যখন বাবাকে বলে
যাও বাজারে এখন,
চাউল ডাউল মরিচ আনো
সাথে হলুদ লবন ।
বিদ্যুতের বিল দাও
কালকেই ডেট শেষ,
এরকম’ই হাজার ঘ্যানর
সামনে করে পেশ ।
মেয়েটার কলেজ বেতন
বাকি পড়লো তিনমাস,
বাঁদরামিটা বাড়ছে ছেলের
করো তারে শাস ।
নিত্য বাজার হচ্ছে চরম
বাড়ছেনা বাবার আয়,
সংসার চাপে হয়তো উনার
পরাণখানি যায় ।
সংসার বড়ই আজব জিনিস-
সত্যি আজব লাগে,
এ হিসেবে চিরকুমার রই-
মনে ইচ্ছে জাগে ।

আজব কাঁশি

বিড়ি খেয়ে করিম চাচা
কাঁশে দেখো খকখক,
কাঁশির জ্বালায় অস্থির চাচী
দিনমান তাই-বকবক ।
পুরোদিন যায় যেমন তেমন-
সন্ধে থেকে বাড়ে,
কাঁশিতে কাঁশিতে বুড়া চাচা
চাচীরে ঝাড়ি মারে ।
কইগো তুমি জয়নুন বিবি
বিড়ির প্যাকেট রাখছো কই ?
দাও জ্বালিয়ে তাড়াতাড়ি
পরাণ যাচ্ছে দেখো অই।
চাচী এবার নাক উচাঁয়া
মুখটি করে লাল,
মরার বুইড়্যা মরেনা কেন-
আজরাঈলের আকাল ?
রাগ’টা রেখে চাচী দৌড়ে
বিড়ির প্যাকেট নিয়ে,
চটজলদি চাচার মুখে-
দিলো বিড়ি জ্বালিয়ে।
একটান দুইটান তিনটানে-
কাঁশি তার উধাও !
এমন আজব কাঁশি চাচী
দেখছেনা আর ভাউ ।
কাঁশি থামায় চাচা-চাচীর
ফুটলো মুখে হাসাহাসি,
চাচীর ঠোঁটে, চাচার তরে-
জুটলো তোকে ভালবাসি |

গরম শরম

হঠাৎ সূর্যতাপে হাজির-
ভেপসা গরম চর্তুদিক,
ছুটছে সবাই ছায়াতলে-
তখন বেলা দুপুরঠিক |
পুবের বায়ু ছুটছেনা তাই-
নড়ছেনা’তো গাছ পাতা,
দীঘির জলও গরমে চুপ-
কীটপতঙ্গ মাছ মাতা |
কপাল থেকে পড়ছে ঘাম-
গড়িয়ে টরতর বুকে,
লাগছে ভীষণ অসহ্য’টাই-
নিজের গতর শুকে |
এই সময়ে পাশের বাড়ির-
চাচা শরীর দুলে,
হাঁটছে একা উরু অবধি-
লুঙ্গি’টা হায় তুলে |
উনার চোখে চোখ পরাতে-
বিব্রত হই নিজে,
মনের ভুলে লুঙ্গিটা ; হয় –
তিনি উঠাননি’যে |
চাচা বলে,মৃদু হেসে-
কি ভাবছো বেটা ?
ভীমরতি’টা ধরেনি গো-
স্ব-ইচ্ছেতেই এটা !
পরিবেশ এর মর্জিমাফিক-
আসবে যাবে গরম,
গরম মোকাবিলা’য় বেটা-
রাখবে কেন শরম ?

কানমলা

ক্রেতার বেশে ঢুকছো তুমি-
আজব এক দোকানে,
বেঞ্চে বসার আগেই এলো-
‘ কি খাবেন ? দু’কানে |
খেলে দেব প্লেটে করে-
সঙ্গে গ্লাসের পানি,
বাসায় নিয়ে গেলে কিছু-
প্যাকেট করতে জানি |
ঘরে বাবু আছে- নাকি ?
নিয়ে যান চিপস,
না থাকিলে দিতে পারি-
কয়েক খান টিপস |
ভাবীর জন্য নিতে পারেন-
ভিনদেশি এই আচার,
এটা সূদুর বার্মা দেশের-
আসলো,হয়ে পাচার |
চানাচুরও বেশ ভাল সেই-
কোম্পানির নাম প্রাণ,
তাছাড়াও আরো আছে,তা-
যা নিতে চান |
নিতে না চাইলে- তবে
কি দেব ? খান,
বলে ফেলুন- মিয়া ভাই
সিনা করে টান |
বলে ফেলুন,বলে ফেলুন-
নিরবতা করে ভেদ,
এই নিরবতা’তে হায় হায়-
পরবে ওঠে জেদ |
বলছি শুনুন-
মুখটা খুলুন,
জ্বললে জ্বলুন-
তেলে বেগুন |
ক্লান্তিটা ছেড়ে যায় সহজে-
যদি খান কলা,
ভার মুখে এই রসদেও যে-
রইবে চাঁন জ্বলা |
বিনা খাওয়ায় ছাড়বো’না –
ভুলে যান ছলা,
খেয়ে যেতে হবেই, মিয়া-
নইলে ; কানমলা |
এমন কাণ্ডে পড়লে তুমি-
কি করবে কওরে ?
আমি কিন্তুু পালাবো ঠিক-
জ্বি- এক দৌড়ে |

সু- বাতাস

মন্দ বাতাস বইলে বাপু-
বছর জুড়েই গ্রীষ্মকাল,
গতর ভিজে অ-সময়েও-
ঘাম জলেরই দৃশ্যহাল |
দৃশ্য হালে সু’জন কু’জন-
অবাধ করে বিচরণ,
নিকট জনেও সুশীল তখন-
অদ্ভুতুড়ে আচরণ |
আচরণের বচন ঝড়ে হায়-
ভাঙ্গে কঠিন হৃদয়ও,
ডান হাতটি হয়রে দেখো-
বাম হাতে’তে নির্দয়ও |
মন্দ বাতাস পাশ কাটিয়ে-
সু-বাতাস এলে,
মরুর বুকেও হারহামেশা-
বৃক্ষ ছায়া মেলে |

বদলে গেছি

পল্টিটা নিতে পারি,সঙ্গে-
অভিনয়ও,
শুনছো কি তমা? ভঙ্গিতে-
সবিনয়ও |
কথা দিয়ে কথা,আমিও-
রাখিনা,
সুনীলের কথা,গায়ে’তা-
মাখিনা !
নি-রাগী শরীরে, এনেছি-
রাগ,
তিলটুকু ছাড়িনা, সমান চাই-
ভাগ |
হেরে হেরে জিতে গেছি,এখন-
বলিনা,
স্বার্থ ছাড়া কারো সাথে,আর-
চলিনা!
বেঈমানী শিখে গেছি,সত্য-
কইনা,
দশজনের বোঝা একা আর-
বইনা !
বদলে গেছি,যেটা তুমি,তা-
চাইতে,
এখনও কি প্রহর গুনবো, তোমারে-
পাইতে ?
শুনছো তমা,ওগো নাকি-
শুনছো’না?
নাকি আমার প্রহর আর-
গুনছো’না |

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com