,

আবিদ হাসান জুয়েল-এর একগুচ্ছ ছড়া

শাস্তি

শাক দিয়ে ঢাকতে যেয়ে-
হলোনা’তো মাছ ঢাকা,
ডিজিটাল বোরকা দিয়েও-
যায়না,যেমন লাজ ঢাকা |
সত্য যেমন লুকানো দায়-
সময়ের’ই চাঁদরে,
লাজটা তেমন বসনে নয়-
ভেতরের’ই যা’ধরে |
সত্যকে ঘায়েল করো সদা-
সত্য দিয়ে হরদম,
নয়তো সত্য ; মিথ্যা হবে-
ফেলার আগেই দম |
লাজটা নয়তো তেমন কিছুই-
যদি তুমি না পাও,
কিংবা আবার লাজ শরমের-
পেয়ে চুমি পা’ খাও |
সত্য বলো,লাজটা ধরো-
তুমি পারো যতক্ষণ,
হাজার মাথা নত হবে-
তোমার তরে ততক্ষণ |
নইলে তোমায় শাস্তি দেবে-
জগৎ মেয়ে চুমুতে,
কিংবা যেতে হতেও পারে-
ডেরায় যেয়ে ঘুমুতে |

স্ব-ঘোষিত

আমিও ভাই সম্মানী লোক-
নিজেই জ্ঞানী শ-ভূষিত,
নুন আনতে পান্তা ফুরোয়-
তবুও ধনী স্ব-ঘোষিত |
এ ঘোষনায় জ্ঞানীরা পর-
সঙ্গী এখন আপদ
হা-হুতাশায় কাটছে সময়-
ভঙ্গী যখন বিপদ।
স্ব-ঘোষিত ধনী সাঁজায়-
পাড়া-পড়শির চক্ষুশূল,
দুর্যোগেতেও নিরব তারা
দান করেনা ইক্ষুমূল |
স্ব-ঘোষিত ঘোষক সেঁজে-
পড়ছি ধূলোর কাদায়,
বায়ু বেরুয় খেলে,তবুও-
কেন মূলোর এদায় ?
দায় নেবেনা, নেবে’টাকে
আহা বেশ বেশ,
কি লাভেতে কলঙ্কের হার
বইবে গলে এদেশ ?

লেজুড়বৃত্তি

আজব এক মেশিন অাছে-
নাম তার ক্ষমতা ;
লেজুড়বৃত্তির পন্থা গাছে-
ফল যার সমতা |
সমতা’রি রঙ মেখে-
শত্রুু থেকে বন্ধুবর,
সরকারি ঢঙ দেখে-
মিত্র বেঁকে নন্দু’পর |
এহেন দৃশ্যে নব্যবন্ধু-
খালে-বিলে খুশি,
নিজের আখের পুরোসিন্ধু-
বিরোধ ঝিলে পুষি |
বর্তের চিত্রে, কষ্ট নৃত্যে-
শুভাকাঙ্ক্ষী না-লীগ,
স্বার্থবাদের মন্ত্র চিত্তে-
‘ দল ‘ হয়, আ-লীগ |
এও যদি শেষটা হতো-
আংশিক দি’সলাম,
লীগের বাড়ি না নিতো-
ভাড়া ঐ ইসলাম |
ভাড়ার টাকা, পকেটে কার-
কে নেবে গো খোজঁ ?
দাড়িঅলা খেয়ে আবার-
পড়বে না’তো ধরা মুঁছ |
মুঁছ কিংবা দাড়ি, যেই-
হোক ; তারি খবর আছে,
বিন্দু তার রক্ষে নেই-
হাসু’ বেটির কাছে ।

সম্বল

পাখি উড়ে সবাই জানে-
তাই বলে হাতি ?
নানার বয়স বেশিই হবে
তাই বলে নাতি ?
প্রশ্ন দুটো প্রশ্ন হয় কি-
তবুও যদি ধরো,
ধরতে পারো ইচ্ছে তোমার
ধরে তুমি মরো !
মাথা খাটাও বু্দ্ধি খাটাও
ভাবো দিন রাতি’টা
পাখা ইঞ্জিন লাগালে কেন
উড়বেনা ওই হাতিটা ?
সৃষ্টি একই দিনে রূহ-
নাতির সঙ্গে নানার,
তবে কি দরকার বলো-
মিছে বয়স টানার ?
এই প্রশ্নের উত্তর বের-
করতে চান যিনারা,
পরিশেষে বুদ্ধিজীবী’র-
তর্কমা লাগান তিনারা |
প্রশ্ন তো করতেই পারেন-
এসব বিষয় নাড়িকেন ?
নেড়েই তো সম্বল হলো-
ভাঙ্গা ঐ হারিকেন |

টনক

দেখছি হেডাম কার কতো-
বুকের তটে আছে ?
কতটুকু থাকলে’ই বিড়াল-
দৌড়ে উঠে গাছে |
ভয়টা পেয়ে না হয় তিনি-
চড়লেন একা গাছে,
একবারও কি ভাবলেন কর্তা-
উনার কেউ আছে ?
কেউনা জানুক পড়শি জানে-
রয়েছে শিশু তার,
এখনও ঠিক জানেনা সে-
অর্থ হিস্যুটার !
দুধের ছানা দুধ ছাড়েনি-
খেতে হবে ভাত,
এই ছানাকে দিলেন দত্তক-
কর্তা,ভুলে জাত |
জাতের পাতে হিস্যু করে-
জাত উঠাতে চাঁন্দে,
সেই শিশুটা পড়লো এখন-
ছলচাতুরীর ফাঁন্দে !
ফাঁন্দ ঘরের মূল ফটকে-
পড়শি দিলো তালা,
কর্তা মশাই গাছে চড়েও-
এখন ঘরে জ্বালা |
কর্তা মশাই, দত্তক মশাই-
সঙ্গে কর্তার শালা,
ব্যস্ত এখন সবাই মিলে-
ভাঙ্গতে ফাঁন্দের তালা |
একবার না’হয় ভাঙ্গলো-
আরো তালা পড়বে,
কত পরার পরে কর্তার-
টনক খানা নড়বে ?

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com