,

ভাস্কর চৌধুরী-এর একগুচ্ছ কবিতা

নারীর টান

জলের সাথে শীঘ্রই আমার দেখা হবে
আমি জলের দুয়ারে ফের ভিক্ষা নিতে যাবো
তখন মূর্তি নদীর মেয়েরা আমাকে বলবে,
কোথায় ছিলে গো ? মাঝে মাঝে কোথা যাও?
আমাদের বড় একা একা লাগে। খারাপ লাগে।
.
আমি এ কারণেই বার বার ফিরি আর তাদের বলি
আমিও তোমাদের মতো করে , তোমাদের ভালোবাসি।
.
আঁধার হয়ে আসে নদী , দক্ষিণে মেঘ ওঠে , কালো
মানুষ বলে , ঘরে চলো , এ জলের টান , নারীর মতন।

জীবনের লেনদেন

বুকের ছাতির উপর কিছু কালো পশম
তার ভেতরে চলছে কয়েকটি আঙুল
ধীরে ধীরে এবং ধীরে। ঘুম ও দহনখেলা একসাথে
এবং হঠাৎ হাত ধরে চুমু দেয়া , এ এক অসুখ নাকি?
নিত্য লোকে এই কাজ সমতালে করে যায় , হাতড়ায়
কোথায়? কোথায় ? মানুষ অনভিজ্ঞতার সব শেখে
করে এবং অভিজ্ঞ হয়। বিতরণ যোগ্য জ্ঞান নয়
এ জীবন ঘষা পাথর ঘষা পাওয়া। জীবনের জয়
কোথায় যে নাই? শিখতে শিখতে সারাটা জীবন পর
ঠিক মৃত্যুর আগে সে ঠিক বুঝে যায় , নাই । এই জ্ঞান
আর তার কাছে নাই। কিছু ঘাস পাতা লতার বাতাসও
এখন বড় দরকারি লাগে। জীবন কি চায় ?

খাদক

পক্ষীকুল মাংসাশী , তৃণ নয়, দূর্বা নয়,
পোকা তার প্রধান খাবার ।
কথাটা ভাবতেই ভেতরে কাটা দিয়ে ওঠে।
.
বড় পাখি মৎস্য খাদক , সুন্দর তাদের গা এর রং
মাছরাঙ্গা পাখি থেকে , গাং শালিক বা শঙ্খচিল
তাদের প্রজাতি । সুন্দর পাখিগুলো এমন খাদক
অথচ গরু ও হরিণ , বাড়ির ছাগল , পালিত শোকর
তৃণ খায় , খড় খায় , পেলে ভাত বা দানাপানি খায়।
তাদের কাছে মাটিলগ্ন খাদ্য ও জলই আসল জীবন।
.
এসব কবিতা না হলেও অভিজ্ঞতা বলতেও পারো।
মুরগি হলো সর্বভুক , মাটিলগ্ন মানুষ প্রজাতি আছে।
মাংসাশী গুলো বাসা বাঁধে , নদীর পাড়ে ও গাছে।
মাঝে মাঝে তুমি আমি কিছুটা সময় মাংসাশী হই।
চাল, আটা , গুড়ে পোকা , এসব কি ভাবা যায় ?

ঘোলাজল

আমাকে কাঁদাবে না , বলে দিচ্ছি, একেবারে না
নিতান্ত ভদ্র মানুষ ,এর চেয়ে বেশি আমি বলতে পারি না
তাই তুমি এটা ওটা বলে বলে আমাকে তাতিয়ে তোল
নিজের বিষ মারা হলে , আমার উপর ফের বিষ ঢালো।
একি ভালো বলো ?
.
এর চে সামান্য ছোঁয়া ,একটু আদর ,অনেক কাজে লাগে
বলেছি তো কিছুই পড়বে না কম , তোমার যা আগে
যা যা লাগতো , সব তুমি পাবে। তবু দ্যাখো, তাং করা
তোমার স্বভাব । কিসের অভাব বল , কিসের অভাব?
.
কেউ কেউ ঘোলা করে জল খায়। কাদায় ভিটামিন আছে , কে জানতো আগে? কেউ না জেনেই অমন করে
ধর্ষ কাম , কারো কাছে বড় ভালো লাগে, যেমন মোরগ
তুমিও তাপাও , তোমার মনে কি থাকে?
মনের ভেতরে গরম ভাপ , ঠেলে দাও কাকে?

পাগল কবির পথ

মেয়েটি কবির প্রত্যাবর্তনের পথ চেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এ পথে হাজার পথিক আসে যায়, পড়ার মানুষ আসে
এ পথে তার চোখ মাটি ও ধুলোর গায়ে পদচিহ্ন দেখে।
.
মাথাটা আউল বাউল , এই পথে গিয়েছিল একদিন বুঝি
হয়তো বা এই পথ তখন বনের ভেতর ছিল। চিহ্ন নাই
কত পথে কতজন আসে আর যায়। ‘ও যে পাগল কবি’
মেয়েটি ভাবতে ভাবতে বলেছিলো , সাধারণ হলে আমি
কি তার জন্যে এতো ভাবতাম? লোকটা ফিরবেই জানি
ওর মাথা রাখার জায়গা যে এ বুক , ওর চে কে বেশি জানে?
.
মেয়েটি এই বলে কেঁদেছিলো , পাগল কবি এই পথে ঠিক ফিরেছিল। বুকে ছিলো ক্ষুধা কবিতার , পাণ্ডুলিপি
আর লিখার টেবিল মেয়েটির বুক এইখানে আছে তার।
পাগল কবির প্রেমিকা , বসে আছে , অপেক্ষা দিন পোহাবার।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com