,

আবিরের লাল জামা ।। রুদ্র আমিন

সাত সকালেই চাঁন মিয়ার বস্তিতে ব্যাপক হট্টগোল, সকাল থেকেই হইহই রব, বাতেন ভাই, ও বাতেন ভাই ঘরে আছোনি? কেডা মজিবর ভাই? কি হইছে, আরে বাতেন ভাই সর্বনাশ হইয়া গেছে বস্তিতে এক মাইয়্যার লাশ পাওয়া গেছে, জলদি চলো। বাতেন এতোক্ষণ দাঁত মাজছিলো, টুথব্রাশ হাতে নিয়েই ছুট। চারদিকে  গোল হয়ে লোকজন দাঁড়ানো, মনে হচ্ছে সাপ খেলা হচ্ছে, আসলে সাপ খেলা নয়, একটা কিশোরী মেয়ের লাশ শোয়ানো। কয়েকজন পুলিশের লোক রাইফেল কাঁধে দাঁড়ানো, একটা চেয়ারে দারোগা সবুর সাহেব বসা, আরেকটা চেয়ারে চাঁন মিয়া, চাঁন মিয়াকে দেখে মনে হচ্ছে সে রাত ভর ইবাদত বন্দেগি করে এসেছে, তার ফতুয়া থেকে তরতাজা বেলী ফুলের সুবাস বের হচ্ছে, যেন কিছুই হয়নি এখানে।

দারোগা সবুর মিয়া ব্যাপক পান খায়, তার ঠোঁট বেয়ে পানের রস বারবার নীচে যাচ্ছে আর রুমাল দিয়ে মুছতেছে, সবুর মিয়ার হাতের রুমাল দেখে যে কেউ বুঝতে পারবে, তার ঘরে শান্তি নাই, এত ময়লা একটা রুমাল কেউ মুখে লাগায়। হঠাৎ হইচই ভেদ করে সবুর মিয়ার হুংকার, এই হারামির বাচ্চারা সত্যি কইরা ক তো দেখি? এই আকামডা কেডা করছোত? সত্যি কইরা কইলে বাইচা যাবি, নতুবা থানায় নিয়া যখন সাপ মাইর দিমু তখন  টের পাবি, এই সব কয়ডারে গাড়িতে তোল? একজন কনষ্টেবল সবুর সাহেবের কানেকানে এসে বললো, স্যার সবাইকে ধরে না নিয়ে ভাগে ভাগে নিই, তাতে আমাদেরই সুবিধা হবে, নতুবা বস্তিবাসীর আন্দোলনে উপর মহল পর্যন্ত জানাজানি হলে ব্যাপারটা সামাল দিতে সমস্যা হবে। সবুর মিয়া হাসতে হাসতে মাথা নাড়তে থাকলো, মনে হচ্ছে সে সব বুঝে গেছে, হঠাৎ আবার হুংকার, এই বেটা এইদিকে আয়, তোর নাম কি? স্যার আ.. আ.. আব্দুল বাতেন, কি করিস? স্যার সিজনাল ব্যবসা, সিজনাল ব্যবসা মানে খারপ কিছু, না.. আ.. স্যার, মানে যখন সে যেটা পাই, ও আচ্ছা, চাঁন মিয়া তোমারে দেইখাতো মনে হইতাছে কিছু হয় নাই, লাশ থানায় নিয়া গেলাম, তুমি কি লগে যাইবা? চাঁন মিয়া যেন ঘুম থেকে উঠলেন, সে বললো স্যার কি দরকার এই সবের ভিতরে আমার মত ধর্মপ্রাণ মুসলমান কে টানা হেঁচড়া করা। এটা কোন বিক্ষিপ্ত ঘটনা, আপনে যান শোয়ারী ঘাট থাইক্কা আমার ছোট বিবি আইতাছে, তার সাথে মোলাকাত করেই থানায় আইতাছি।

বস্তিটা এখন খা খা, লাশ নিয়ে পুলিশ চলে গেছে, ঘরে ঢুকে দেখি তানিয়া খুব তাড়াহুড়ো করে তৈরি হচ্ছে, তানিয়া আমার বউ, খুব শখ করে তাকে বিয়ে করেছিলাম, তখন আমাদের অবস্থা এমন ছিলো না, গোয়ালে গরু, বছর চুক্তি চাকর, বাবার ছিলো গঞ্জে বড় মনিহারী দোকান। আমার বন্ধু মির্জার বিয়েতে গিয়ে ওর সাথে পরিচয়। তানিয়ার বয়স তখন নতুন কিশোরী, তার বান্ধবীর বিয়ে, লাল একটা তাঁতের শাড়ি পড়ে এসেছিল, বরের পাশে এসে সে কি দুষ্ট দুষ্ট কথা, ওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম বিয়াইন সাহেবের নামকি? সেদিন যে উত্তর দিয়েছিল তা প্রকাশ যোগ্য নয়, জেদ চেপে গিয়েছিল সেদিন, কি ত্যাদর রে বাবা, বিয়ের অনুষ্ঠানে একা একা হাঁটছিলাম, তানিয়া ভুতের মত এসে জিজ্ঞাসা করলো, কি বিয়াই সাহেব কি খুঁজছেন? গরু? উত্তরে বললাম বিয়াইন সাহেব না, আমি ডালিম বাগান খুঁজছি, সে বললো দুত্তরি বেয়াই যে কি বলেন, আমাদের সাত গ গ্রামেও ওষুধ খাওয়ার জন্য একটা ডালিমের গাছ খুঁজে পাইবেন না, এবার একটু সাহস করে বলে ফেললাম, বিয়াইন সাহেব যে ডালিম বাগান নিয়া ঘুরতাছেন, তাতে আমার মত পুরুষ কিন্তু ঘুরে আপনারেই খুঁজে পাবে, ছি! ছি! বিয়াই আপনিতো পোংটা, আপনার সাথে কথা নাই। কথা নাই বললেই কি হয়, বিয়াইন সেদিনই মনের ভিতরে জায়গা করে নিয়েছিল, সেই বিয়ে ছিলো আষাঢ় মাসে এরপর জৈষ্ঠ্য মাসে আমাদের মিলন হলো, বিয়াইন থেকে বউ, এর মাঝের সময় গুলো যে কীভাবে কেটেছিল তা এক অন্য ইতিহাস, গ্রাম শুদ্ধ লোক বলতো বাতেনের কপালডা ভালা, পরীর মত বউ তাঁর ঘরে, আজ সেসব কথা মানে সোনালি অতীত, পদ্মার ঢেউে সব এখন পানি আর পানি, নিত্য রোজ অভাবের ছাপ তানিয়ার যৌবনে যেন হঠাৎ কোন দুর্ঘটনা। সে এই সাত সকালে খাঁ সাহেবের ফ্ল্যাটে কাজ করতে যাবে, খাঁ সাহেবের বউ শেলী খালা বড় ভালো মানুষ, ঘরে যেদিনই ভালো মন্দ রান্না হবে সেদিনই বাটি ভরে দিয়ে দিবে কিছু না কিছু। অসুখ বিশুখে উনিই এখন আমাদের বিধাতা বলা চলে। আমার ছেলে আবির, বয়স চার ছুই ছুই, শেলী খালার মেয়ে টুনটুনি তাঁকে পড়ায়, বাংলা ইংরেজি অংক, আবিরকে নিয়ে আমাদের চেয়ে টুনটুনির স্বপ্ন বেশি।  শুনেছি সে নাকি আবিরকে ভালো স্কুলে ভর্তি করাবে, শেলী খালার পরিবারের এই ভালবাসা প্রায়ই চোখে জল এনে দেয়।

কয়দিন আগেও খুব ঝুম বৃষ্টি ছিলো, ঘরে চাল ডাল কিছুই নেই, ক্ষুধার কষ্ট ঘর হারানো পর অনেকবার টের পেয়েছি, দুই মুঠ ভাত দুইজনে শুধু পানি দিয়ে খেয়ে রাত কাটিয়েছি, কিন্তু ঘরে যে বাড়ন্ত শিশু, ওর মায়া ভরা মুখের দিকে তাকালে মনে হয় সব কিছুই করতে পারবো ওর জন্য।
এই আবিরের বাপ পাতিলে ভাত ছালুন সবই আছে খাইয়া যাইয়ো, আর যাওয়ার সময় ঐ মাজেদা খালার কাছে আবিররে দিয়া যাইয়ো, মাজেদা খালা সে আরেক রহস্য আমাদের এই বস্তির, সবাই তাকে কুটনা বুড়ি বলে, কিন্তু খালা খুব ভালো মানুষ, এই কয় বছরে কারো সাথে ঝগড়া করতে দেখি নাই, অনেকের সন্দেহ সে গাল কাটা নাজমুলের গুপ্তচর, তাঁর কোমরে নাকি অনেকে পিস্তল দেখেছে, গাল কাটা নাজমুল হচ্ছে এ এলাকার ত্রাস, সবাই তাকে খুব ভয় পায়, মানুষ খুন করা নাকি তাঁর কাছে দুধ-ভাত। সে সপ্তাহের একটা নিদিষ্ট দিন এসে মাজেদা খালার সাথে দেখা করবে, বস্তির একটা রুমে বসে কি যেন নিরিবিলি সময় কাটায়, গালকাটা নাজমুল বুড়ির জন্য বেশ ভালো পয়সার বাজার সদাই নিয়ে আসে। নাতি হিসাবে আমার ছেলে আবিরও তাঁর হিস্যা পায়, আবির একবার বুড়ি কাছে হোন্ডায় চড়ার বায়না ধরেছিল, গাল কাটা নাজমুল হোন্ডায় চড়িয়েছে, সে মজার গল্প প্রায়ই আবির আমাকে বলে, হোন্ডায় চড়তে নাকি বেশ আরাম, বড় হলে যেন তাকে হোন্ডা কিনে দিই। ছেলেটাকে নিয়ে আরেকটা সমস্যায় আছি, টুনটুনি হয়তো তাকে আঁকা শিখিয়েছে, এখন তাঁর আবদারের সব জিনিস ছবি হয়ে আমাদের বেড়ার দেয়ালে ঝুলতে থাকে। তখন খুব কষ্ট হয়, মনে হয় আবিরে ভুল জায়গায় জন্ম  গ্রহন হয়েছে।

আজকের দিনটা বেশ ভালই, কাজের আশায় এখন আমি, এলাকার দিন মজুরের হাঁটে। এখানে আমার মত অনেকেই আসে, বৃদ্ধ, যুবক, মহিলা। আমাদের সাথে আছে দালাল, যদিও ওনাদের সম্মান করে সর্দার বলি, কোট টাই পড়া, লুঙ্গী পাঞ্জাবি পড়া সব ধরেন ক্রেতাই আসে, আমাদের কাজের অনুযায়ী দৈনিক মুজুরী, আজকের কাজটা আগে কখনো করিনি, এটা টাইলসের উপর থেকে দাগ উঠানের কাজ, এখন গোড়ান থেকে সাহেবের পিক-আপ ভ্যানের খোলা অংশে বসে বসুন্ধরাতে এলাম।

আহ! কি সুন্দর বাড়ি, আমার মত হাজার শ্রমিকের ঘাম দিয়ে তৈরি, অথচ তৈরি হয়ে গেলে আমরা এর ভিতরে ঢোকার যোগ্যতা রাখি না, কাজ বলে কথা সাহেবের বাড়ির ফ্লোরে ক্যামিকেল দিয়ে ঘষে ঘষে পরিস্কার করছি, এর ভিতরে নীচ তলায় গাড়ি ঢোকার শব্দ পেলাম, হয়তো এই ফ্ল্যাটের মালিক এসেছেন, কিছুক্ষণ পর এক অল্পবয়েসী মেয়ে একটা ছোট্ট বাচ্চা হাতে এলো, এসেই ধমকের শুরু, এই দয়াল এসব কি লোক এনেছো? এরা দেখি কচ্ছপ এর মত ধীরে কাজ করছে।

দয়াল আমাদের চুক্তিতে এনেছে, সে বয়স্ক একজন মানুষ চুল নেই মাথায়, শরীর থেকে পেট অনেকাংশে বড়, কাচুমাচু করে সে ঐ মেয়েটির পাশে গিয়ে বললো ম্যাম, এরা খুব অভিজ্ঞ, দক্ষ, পরিশ্রমী। মেয়েটি আবার চেঁচিয়ে উঠলো, তাঁর গায়ের রং ফিনফিনে ফর্সা, টোকা দিলে রক্ত বের হওয়ার অবস্থা, ফর্সা মেয়েরা একটু রাগীই হয়, তাকে দেখে এ মুহুর্তে ধাঁতাল শুয়োরের মত কিছু লাগছে, দয়াল যেন আরো ভয় পেয়ে গেলো, সে কুকুরের মত আমারদের চারপাশে ঘুরতে থাকলো, আমার মনে হলো মানুষের যদি লেজ থাকতো দয়াল নিশ্চয়ই এতক্ষণে লেজ নাড়া শুরু করে দিত।

মেয়েটির এবার নজরে গেলো তাঁর ছেলেটির দিকে, আবিরে মত বয়সী হবে, কি ফুটফুটে বাচ্চা, লাল টকটকে একটা শার্ট পড়ে এসেছে, সাথে জাম কালারের হাফপ্যাণ্ট, সাদা ডোরাকাটা মোজা, আর কালো সু, এই বাঁদরের বাঁচচা একদম দুষ্টামি না, চুপচাপ আম্মুর সাথে আসো, এই দয়াল ওকে কোলে নাও, দেয়ালের যেন বিশ্ব কাপের ট্রফি হাতে পেল, তাঁর চোখ দেখেই সেটা বুঝাই যাচ্ছে, মেয়েটি এবার তাঁর ভ্যানেটি ব্যাগ খুললো, ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার একটা চকচকে নোট বের করে আমাকে ইশারা করলো, এই তুমি, আমি এগিয়ে গেলাম, বললাম বলেন আফা, নাম কি তোমার? জ্বী আফা বাতেন, ওহ আচ্ছা তোমার নাম বাতেন আর টাতেন যাই হোক, এই নাও এক হাজার টাকা, এটা দিয়ে তোমারা সবাই কাজের ফাঁকে তরমুজ কিনে খাবে, আমার বাড়িতে আসলে তো নিজেই খাওয়াতাম, এই গরমে পানি বেশি খেতে হয়, নতুবা অসুস্থ হয়ে যাবে। তোমরা অসুস্থ হলে তোমাদের বউ বাচ্চাদের কষ্ট হবে, আর শোনা দয়াল কে দিবা না, সে মিচকা শয়তান, রোজ রোজ তোমাদের পয়সা কম দিয়ে ঠকায়, এটা তাঁর শাস্তি, ঠিকঠাক মত কাজ করো, মেয়েটি চলে গেলো, আমাদের শ্রমিকদের সবাই হা হয়ে গেলাম, একজন তো বলেই বসলো মাইয়্যডা রাগী হইলেও মনডা বড় ভালা, আরেকজন বলে উঠলো হ খাওয়াইলে বেবাকতেই ভালা, আমাদের সমাজটাই এমন।

নদী ভাঙ্গার পর কিছু দিন গার্মেন্টস এ ছিলাম, তখন লেখাপড়া জানি সেটা বলতে ভালো লাগতো, বেতনের দাবিতে পুলিশের পিটা খেয়ে এই সমাজে ঢুকে অশিক্ষিত হয়ে অনেক ভালো আছি স্বাধীন আছি। এইখানে শরীরের জোর আর তাগড়া স্বাস্থেরই দাম বেশি, আবিরে কথা মনে পড়ছে, এই মৌসুমে তরমুজ কেনা হয়নি, ওকে ফেলে তরমুজ খাই কি করে, তরমুজের ভাগে পাওয়া অংশটা পলিথিনে রেখে দিলাম, বাসায় গিয়ে বাপবেটা এক সাথে খাবো।

খিলগাঁও রেল লাইনে ধারে ভিক্ষুকদের বিক্রি করা চালের খুচরা বাজার বসে রোজ সন্ধ্যায়, এখানে হাফিজ চাচা বসেন নিয়মিত, আমিও উনার একজন কাষ্টমার ও ভক্ত, হাফিজ চাচা বেশ ভালো মানুষ, চাল বিক্রির পাশাপাশি উনি টোটকা ওষুধ পত্র বিক্রি করেন, উনি নাকি ছিলছিলা পাওয়ার পথে, কিসের ছিলছিলা পাবেন বা কোন পীরের মুরীদ এখনও জানতে পারিনি, ওনার পানি পড়া খুব কামেল। অসুখ বিসুখ হলে উনার কাছে চলে আসি, অনেকেই সন্ধ্যায় উনার সাক্ষাৎ পাওয়ার জন্য ঘোরাঘুরি করেন, হাফিজ চাচার সাথে দেখা হলেই দাড়ি রাখার জন্য চাপাচাপি করেন, উনি একদিন দাওয়াত করে নারিন্দা নিয়ে গিয়েছিল, সেখানে গিয়ে আমার চোখ তো ছানাবড়া। হাফিজ চাচার আশেকানগণ কি আদর যতœ উনাকে, দুধ দিয়ে উনারে গোসল করালেন, ইস এক বাটি খাঁটি গরুর দুধ কত দিন খেতে পাই না, ফলমূল আপেল আঙ্গুর এ যেন বালাখানা, সেখান থেকে ফিরে চাচা একদিন বলেছিল, কিরে বাতেন হবি নাকি? কি চাচা, আমার খাদেম, মরার পর আমার কবরে বাত্তি দিবি, আমার তো ছাওয়াল পাওয়ালা নাই, মনে মনে খুব আনন্দ হয়েছিল, আমার আছে, আমার আবিরই আমার মৃত্যূর কবরে বাতি দিবে।

বাসায় ফিরে দেখি আবির প্রতিদিনের মত আজ আর দুষ্টুমিতে নেই, তানিয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম আবিরের কি হয়েছে, সে তো মহা ক্ষ্যাপা। সারাদিন কি করো, আবিরের জ্বর সেই সকাল থেকে ওর জন্য একটু ওষুধ আনবা। চাল, নুন, তেল এর ব্যাগ বুঝিয়ে, আবিরের গায়ে হাত দিয়ে বুঝতে পারলাম, কথা সত্যি গা পুড়ে যাচ্ছে জ্বরে। আমি তানিয়াকে বললাম চাইয়া দেখ কি? ওরে মাথায় জল পট্টি দাও, আমি ওষুধ নিয়া ফিরে আইতাছি। কাঁধে গামছা নিয়ে আবার বেড়িয়ে এলাম। পাড়ার পাশেই রেহানা আপার ফর্মেসী। রেহানা আপাকে আমরা বলি গরীবের ডাক্তার। মধ্যবয়সী এই মহিলা অনেক দিন থেকেই এখানেই আছেন। ছোটখাটো সব রোগের ওষুধই তাঁর কাছে পাওয়া যায়। রেহানা আপাকে বিস্তারিত বলার পর, সে বললো ভয়ের কিছুই নাই এটা সিজনাল জ্বর। একটা প্যারাসিটিমাল এর বোতল ধরিয়ে দিলেন, পথে দেরি করলাম না, বাসায় ফিরে আবির এর মুখে ওষুধ দিলাম, ওরে জিজ্ঞাসা করলাম বাপজান কি খাইবা? উত্তরে সে বললো আপেল খাবো।

পকেট হাতড়ে দেখলাম তেমন একটা টাকা পয়সা নেই, আচ্ছা তানিয়াকে বিষয়টা জানাবো, এখন তো মাসের অর্ধেক, তার কাছে টাকা থাকার কথা না, তবুও একবার জিজ্ঞাসা করলাম। সে না সূচক মাথা নাড়িয়ে জানান দিলো, এমন সময় মাজেদা খালা ঘরে ঢুকলো, কিরে তানিয়া আবিরের জ্বর তুই আমারে জানাইলি না, হেয় আপেল খাইতে চাইছে, আকাইম্মাডার কাছে টেহা নাই, এই বাতেন্যা ধর, পোলাডারে ভালা মন্দ কিছু আইন্না খাওয়া, মাজেদা খালা চকচকে একটা পাঁচশত টাকার নোট দিলেন। আমি বললাম খালা এতো টাকা তো লাগবো না। মাজেদা খালা বললেন, টেহা কত লাগবো হেইডা দিয়া কি করবি, ধর টাকা নিয়া আপেল কিনা নিয়া আয়। আমার নাতী খাইতে চাইছে, এইডাই বেশি।

চোখের কোণটা কেমন জানি ভিজে উঠতে লাগলো, আসলেই গরীবের দু:খ গরীবরাই বুঝে, অন্যরা যা দেখায় তা হচ্ছে মিথ্যা সান্ত¡না অথবা এর পিছনে কোন স্বার্থ লুকিয়ে থাকে। আজকাল কাজকর্ম একদম কমে গেছে, ঈদের আর বেশি বাকি নাই, চারদিকে মানুষজনের কেনাকাটার ধুম লেগে আছে। ঈদ এলে মনে হয় এই ঢাকা শহরটা একটা বিয়ে বাড়ি, চারদিকে কত রংয়ের বাতি জ্বলে উঠে, কত রং বেরংয়ের মানুষজন ঘর থেকে বেড়িয়ে আসে। আজ কাজ পাইনি, মুজুরী যা বলে তাও পানির দরে। লোক বেশি থাকায় এখানেও ভীড় ঠেলাঠেলি।

দুপুরের রোদটা একটু কড়া মনে হচ্ছে, সিপাহীবাগের এই এলাকাটা আগে ভরা ডোবা ছিলো। একদল এখানে শুয়োর পালতো, ময়লার ডোবায় শুয়োরের পাল ময়লা খেয়ে বেড়াতো, এখন এখানে রিকশার রাজ্য, পথে সাকিব মিয়া ডাক দিলো, আবে বাতেন ভাই নাকি? আহ মিয়া, তোমার লগে অনেক দিন ধরে বাতচিত নাই, সাকিব মিয়া রংপুরের লোক, ঢাকা এসে ঢাকাইয়া ভুলবাল ভাষায় কথা বলে খুব মজা পায়, সারাদিন গাঁজা খেয়ে চোখ লাল করে রাখে, এই ভর দুপুরেও গাঁজা খেয়ে লাল লাল চোখ করে বসে আছে। একটা ভাঙ্গা টুল এগিয়ে দিয়ে বললো, কিও মিয়া রোজানি? আমি বললাম না, এই শরীর নিয়ে রোজা রেখে কি হবে ভাই। কোন দিন বিছানায় পরে গেলে আমার মত গরীবের কি হইবো।

কতা হাছাই কইছো, ঐ চান্দু আমাগো লাইগ্গা একডিব্বা চা লইয়া আয়, আর দুইডা শেখ ছিগারেট আনিছ কইলাম, ছিগারেট বাকি, সন্ধ্যায় দিয়া আমুনে। আইচ্ছা; যাউগা বাতেন ভাই খবর পাইছোনি, গালকাটা নাজমুলরে তো র‌্যাব খুঁজতাছে। তোমার পোলাডারে দেহি ঐ কুটনীবুড়ি নিয়া ঘুরাঘুরি করে। ঐ বুড়ি কইলাম বেশি সুবিধার না, ওর ঘরে গালকাটা নাজমুল যন্ত্রপাতি রাখে। সাবধানে থাইকো মিয়া প্যাঁচে পইড়া গেলে কিন্তু কেউ আগাইবো না। এইডা ঢাহা শহর বেবাকেই জান বাঁচাইয়া চলে, লও চা খাও।

সাকিব ভাই আইজক্যা উঠি, কামকাইজ মিলে নাই। সাকিবের ডেরা থেকে বেড়িয়ে এসে বস্তির দিকে এগোচ্ছিলাম, হঠ্যাৎ দুইটা গুলির শব্দ হইলো। কে যেন একটা হাত বোমা ফাটিয়েছে, লোকজন উল্টো দিকে দৌড়ে পালাচ্ছে। আমি কোন দিকে যাবো, আমার ঘরে ফিরতে হলে সামনের দিকেই যেতে হবে। হঠ্যাৎ করে দেখলাম চারটা মোটর সাইকেল দ্রুত বেগে চলে যাচ্ছে। এদের আমি চিনি, এরা গালকাটা নাজমুলের চেলাচামুন্ডা। আমি তো কোন দোষ করি নাই। আমি সামনের দিকে দৌড়ে গেলাম, একটা রিকশা উল্টে পড়ে আছে। আশে পাশের খুপড়ি চায়ের দোকান গুলো বন্ধ। রাস্তায় একজন পরে আছে, মনে হয় গুলি খেয়ে আছে, হঠাৎ কার যেন গলা শুনতে পাইলাম। কেউ আমাকে বাঁচাও, আমাকে হাসপাতালে নিয়ে চলো।

সেই গলা আর কারো নয়, রাস্তায় পড়ে থাকা সাহেবটির, তার হাতের একপাশে গুলি লেগে ছড়িয়ে গেছে, লোকটা একটু ভয় বেশি পেয়ে গেছে, আমি গিয়ে তাকে ধরলাম, লোকটা কাঁপতেছে। পিছন থেকে কয়কেজন যেতে বলছে, ঐ মিয়া পালাও, ঐ ব্যাটা মরলে তোমারে পুলিশে ধরে নিয়া যাইবো, কিন্তু একটা আহত বিপদগ্রস্থ মানুষকে রেখে কীভাবে পালাই, লোকটা জ্ঞান হারিয়েছে, তাঁর পাশে একটা ব্যাগ পড়ে আছে, এটা তারই হবে হয়তো। তাকে নিয়ে এক রিকশাওয়লার সহায়তায় হাসপাতালে পৌছলাম। হাসপাতাল থেকে বললো এটা পুলিশ কেইস, রোগী ফেলে কোথাও যাবেন না, পুলিশ আসলে যাবেন। রোগীকে ভিতরে নিয়ে যাওয়া হলো, ব্যাগ আমার হাতে। ব্যাগটা ভারী মনে হচ্ছে, চেইনটা একটু ফাঁক করে খুলে দেখি ব্যাগ ভর্তি টাকা। কিন্তু এই টাকাসহ ব্যাগটা রোগীকে কি করে ফেরত দিই! কতটা নিরাপদ এই টাকার ব্যাগ এখন রোগীর কাছে। কিছুক্ষণপর পুলিশ এলো, এরা আমাকে একের পর এক প্রশ্ন করলো, পরে সাধারণ মানুষ ভেবে, আমার ঠিকানা রেখে ছেড়ে দিলো এবং বললো থানায় খবর দিলে যেন চলে আসি।

আজ অসময়ে ঘরে ফেরার পর, তানিয়া বুঝতে পারলো, আজ কাজ যোগাড় হয়নি, মেয়েরা আসলেই চোখের ভাষা পড়তে পারে, তানিয়া বললো, তোমারে আইজক্যা এমন লাগছে কেন? এই ব্যাগে কি? তানিয়াকে কখনও মিথ্যা বলিনি, তবুও ওকে সত্যটা বলতে ইচ্ছে হলো না, বললাম ও যন্ত্রপাতির ব্যাগ, আজই কিনলাম, এর মধ্যে আবির ছুটে এলো, বাপজান তুমি আইছো, আমার জন্য কি আনছো, না বাবা এখন কিছুই আনি নাই, রাতে মজা নিয়া আসুম, আচ্ছা তোমার টুনটুনি খালা আইজ কি পড়াইছে? বাপজান খালা আমারে জিরাফ আঁকা শিখাইছে, আইচ্ছা বাপজান তুমি কি জিরাফ চিনো?

বাপজান আমি ঘুমাইয়া গেলে তুমি ঘরে আহো, আমার এইবার ঈদে কিন্তু একটা লালজামা চাই, একটা না দুইটা চাই, একটা এহন পড়ুম, আরেকটা ঈদের সময়, ঠিক আছে বাপজান, আমি বললাম হ বাবা আইনা দিমুনে, তোমার মায় ভাত বারছে চলো খাইয়া লই, আজ দুপুরে ভাতের সাথে তেমন কিছু নাই, ভাত ডাল আর বেগুন ভার্তা, আবির ঝাল খেতে পারে না, ওর জন্য দুইটা আলু সেদ্ধ, ভাতের সাথে ডাল দিয়ে মাখিয়ে খাবে। বাপজান আমার রোজ রোজ আলু দিয়া ভাত খাইতে ভালা লাগে না, মাছ আনবা কবে?

আবিরে প্রশ্নটার একটা সহজ উত্তর দিলাম, কালই আনুম, খুব কষ্ট লাগে বাচ্চা ছেলেটার সাথে মিথ্যা বলতে, আবিরে খাওয়ার দৃশ্যটা অন্যসব শিশুদের মত নয়, সে খুব চকচকে চোখ নিয়ে ভাতের থালা দিকে তাকাবে, খুব মনযোগ দিয়ে খাবে, কখনও খাওয়ানোর জন্য ওকে মিথ্যা রাক্ষস খোক্কস এর গল্প বলতে হয়নি। আবিরের খাওয়া দেখে মনে হয় ছেলেটাকে যদি রোজ কিছু ভালো মন্দ খাওয়ানো যেত, ওর খাওয়া শেষ হলে মায়ের পিছু পিছু শেলী খালার বাসায় চলে যাবে, সেখানে গিয়ে টুনটুনির সাথে টিভিতে কার্টুন দেখবে, আমাদের বস্তিতেও দুই চারটা টিভি আছে, ওদের টিভি গুলোতে সারাদিনই বাংলা ছিনেমা চলে, মারপিট আর গানবাজনা ছাড়া কিছুই নেই, আবির সে সব পছন্দ করে না, চায়ের দোকানের টিভিতে মারপিট এর দৃশ্য দেখে জিজ্ঞেস করেছিল, বাপজান এরা এত মাইরপিট করে ক্যান? এরা এত দুষ্টু কেন? আচ্ছা বড় হলে কি সবাই মারপিট করে, আমার উত্তর খুব সংক্ষিপ্ত ছিলো, বললাম বাবা এগুলো অভিনয়।

আজ সন্ধ্যায় কোন কাজ নেই, একবার ভাবছিলাম ওদের অনুপস্থিতিতে একবার ব্যাগটা খুলে দেহি কত টাকা আছে, পরক্ষণেই মনে হলো, এই টাকা দেখলে হয়তো লোভে ধরবে, তার চেয়ে বরং না দেখাই ভালো, তালতলা মার্কেটের দিকে রওনা দিলাম, সেখানে বন্ধু শরীফের সাথে দেখা করতে হবে, শরীফ আমার স্কুলের জীবনের বন্ধু, এখন আমারই মত, ভিটেমাটি হীন, তালতলা মার্কেটের পাশে চিরবিদায় ষ্টোর চালায়, লাশ, কফিন বক্স, মূর্দা গোছল ও দাফন কাফনের কাজ করে, সারাদিন মানুষ মরার অপেক্ষায় থাকে, প্রতিদিন কাষ্টমার থাকে না, তাই সপ্তাহে যে কয়টা পায়, খুব বেশি দর নিয়ে ছেড়ে দেয়। এব্যাপারে ওকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, এতে তার পাপ বোধ হয় কিনা? সে উত্তরে বললো মানুষ যদি মাদক বিক্রি করে পরোক্ষ মানুষ হত্যা করে অনুশোচনা না করে, এটা তো তার চেয়ে উত্তম, প্রতি মিনিটে যদি মানুষ মরতো, তাহলে সে পাইকারি দরে বেঁচে দিতো।

শরীফের দোকানের সামনে এসে, আমি থ হয়ে গেলাম, শরীফের চেয়ারে অন্য কেউ বসে, দাড়ি জোব্বা পড়া, মাথায় সৌদিয়ানদের মত পাগড়ি, কিন্ত এতো রফিকই, রফিক দাঁড়িয়ে আমাকে খুব ন¤্র গলায় সালাম দিলো, এবার আমি নিশ্চিত হলাম এটাই রফিক, সালামের উত্তর নিয়ে আমি জিজ্ঞেস করলাম, কি রে তোর এই বেশ কেন, সে উত্তরে বললো আরে বাতেন দুনিয়ার কোন খবরই দেখি তোর নাই, এখনকার যুগে একটু বেশভুষা না ধরলে কি চলে, আমি করি মরা মানুষের জিনিস পত্রের ব্যবসা, আমি যদি প্যান্ট টি শার্ট পড়ি সেইটা কি মানায়?

তাই একটু সুরুত পাল্টাইছি, এবার আমি বললাম ওহ আচ্ছা তাইলে ঐ বদ নেশাটা কি গেছে, শরীফ বললো কোনটা দোস্ত? আমি বললাম ঐ যে মাইয়্যা মাইনশের নেশাটা, শরীফ একটু লজ্জা পেয়ে গেলো মনে হয়, সে এবার সরব হয়ে বললো, দোস্ত আখিরী জমনার লোক আমরা একটু বদখত স্বভাবের দোষ তো থাকবেই, সব ছেড়ে দিছি, তুইতো এদিকে ইদানিং আইয়োছ না, এখন নিয়মিত ওয়াজ করা শুরু করে দিছি, গত সপ্তাহে বরিশালের মঠবাড়িয়ায় ওয়াজ করে আইলাম, দেড় হাজার লোক হইছে, তিনটা গরু আর দুইটা মহিষ জবাই দিছিলো ওরা, টাকা পয়সা ভালই উঠাইয়া দিছি, তবে শালাক কিপটা চাইর আনা বেশি দেয় নাই, আমিও শিখা গেছি, সামনে রেইট বাড়াইয়া দিমু পঞ্চাশ হাজার একটাকার নীচে ওয়াজ হইবো না।

শরীফের কথা শুনতে ভালই লাগছে, কি ছেলে কি হয়ে গেলো, মানুষের দিন কিভাবে পাল্টায়, দুষ্টামির জন্য এমন কোন দিন নাই, ওদের বাসায় বিচার শালিস হয় নাই, অথচ সে এখন একজন আলেম, যদিও আমি জানি এটা ভন্ডামী ছাড়া কিছুই নয়, হঠাৎ করে টাকার ব্যাগের কথা মনে পড়ে  গেলো, এতগুলো টাকা সহ ব্যাগ ঘরে রেখে এসেছি, পাছে কেউ যদি নিয়ে যায়, অবশ্য চোরের ভয় কম, ঘরের দৈনদশা দেখে চোরেরও ঘরে ঢুকতে অরুচি হবে, আচ্ছা এই টাকার ব্যাগের কথাটা কি শরীফ কে বলা যায়? নাহ এ ব্যাপারে যত কান কম হবে ততই ভালো, এটা তো আমার টাকা না, এটা অন্যের টাকা, ঐ ভদ্রলোককে ফেরত দিতে পারলেই বাঁচি কাল সকালেই ওনার কাছে যাবো ভাবছি, আহারে ওনার না জানি কি অবস্থা, টাকা গুলো পেলে হয়তো আরেকটু খুশি হবে।

একটা বোকামি  অবশ্য আমার আছে, একটা বোকামি অবশ্য আমার আছে, এত গুলো টাকা যেভাবে রেখে এসেছি সেট আসলে ঠিক না, শরীফকে ঐ দিনের ঘটনা বলতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে, আসলে মনের ভিতরে গোপন কথা থাকলে তা কেবল উসখুস করে, শরীফ এর মধ্যে চা আনালো, নিরবতা ভেঙ্গে শরীফ জিজ্ঞোসা করলো, কিরে কি ভাবছিস ? আমি বললাম আরে তেমন কিছুই না, এমনি, শরীফ বললো, কিছু তো একটা হয়েছে, তুই তো খালি খালি আইছ না, কি টাকা লাগবো, পাঁচশর বেশি দিতে পারুম না, দোয়া কর যাতে দুই একজন মরে তাইলে কপালে খানাপিনা থাকবো । শরীফের এই ধরনের ব্যবসায়িক চিন্তা মোটেই ভালো লাগছে না, মিথ্যা করেই বললাম আজ উঠি, টাকা পয়সা লাগবো না, একটু কাম আছে, বলে বেড়িয়ে এলাম।

তালতলা মার্কেটে সন্ধ্যায় ভাজা পোড়ার দোকান বসে, কত কত রং বেরংএর মানুষ এসে বসে খেতে, এই মার্কেটে এসব খাওয়ার চেয়ে দেখতে অনেক ভালো লাগে, মার্কেটের এক কোনায় কে যেন বাশিঁ বাজাচ্ছে, আজকাল এ শহরে প্রকাশ্য রাস্তা ঘাটে কিছু ঘরহারা মানুষই বাশিঁ বাজায়, আমিও বাশিঁ বাজাতে পারি, এক সময় রাতের আধারেঁ বাশিঁ বাজাতাম, বাশিঁ আর বেহালা বোধহয় সবচেয়ে বেশি আবেগ ঢেলে দিতে পারে মানুষের মনে, আমি যখন বাঁশি বাজাতাম , এলাকার অনেক মুরুব্বীই মানা করতো, আমি শুনি নাই, বাশিঁর সুরে নাকি সাপ জ্বীন চলে আসে, আমার এসবে ভয় ছিলো না, এক সন্ধ্যায় নদীর ধারে বসে বাশিঁ বাজাচ্ছি এমন সময় খেয়াল করলাম পিছনে কেউ হয়তো দাড়িয়ে আছে, সে আর কেউ নয়, সলিমের বউ, বেচারা সলিম গরীব মানুষ এমন পরীর মত মেয়েটারে বিয়ে করে এনেছিলো, বিয়ের তিন বছরে কোন বাচ্চাকাচ্চা হয় না, সবাই তাকে অপবাদ দিতে থাকলো।

সলিম দরিদ্র মানুষ , পরের বাড়ি কামলা দিয়ে খায়, এক ধানের মৌসুমে সিলেট গিয়ে আর ফিরেনি, গরীব মেয়ে মানুষের আরেক বিপদ হইলো রুপ, তারে আর বেশিদিন অপেক্ষা করতে হয়নি, এলাকার বদ মানুষ গুলো, রাতভর তার ঘরের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করে, মরচে পড়া টিনের চালে ঢিল ছুড়ে, সলিমের বউ ভয় পায়, সলিম নেই , কার বুকে মাথা লুকাবে, দরিদ্র মেয়েদের স্বামী হলো শেষ আশ্রয়।

একদিন খারাপ লোকের কু প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে ঝলসে দিলো এসিডে, এখন সলিমের বউয়ের দিকে দিনের বেলায় তাকাতেই ভয় হয়, কিন্তু তার ভেতরটা তো সেই রূপের মতই সুন্দর রয়ে গেছে, সে দিন সলিমের বউয়ের পোড়া মুখের চোখে পানি দেখে, আমার সারা রাত ঘুম হয়নি, এরপর থেকেই আর বাশিঁ বাজাই না। এই সলিমের বউ এখন কোথায় আছে কে জানে, তানিয়াকে ওর ব্যাপারে কখনও গল্প করা হয়নি, মেয়ে মানুষের মন নরম, কত কিছুই ভাবতে পারে ।

তবুও বাশিঁ যেন আমাকে টানে, কাছে গিয়ে দাড়িয়ে দেখলাম, একজন মধ্য বয়স্ক লোক বাশিঁ বাজাচ্ছে, তার চারপাশে সাহেবদের বাচ্চারা তালি বাজাচ্ছে, বাশিঁওয়লাকে দেখেই মনে হচ্ছে সে ঠিকমত ভাত খেতে পায় না, এ শহরে হয়তো তার কোন আশ্রয় নেই, রাস্তা ঘাটকেই হয়তো সে নিজের রাজ্য বানিয়ে রেখেছে। আমার আব্বা বলতেন বাশিঁওয়লাদের নাকি সংসার হয় না, কথটা আ অনেক বাশিঁওয়ালাকে দেখে ঠিকই সত্য বলে মনে করে আসছি। মসজিদে আযানের শব্দ পেলাম, বাশিঁ বন্ধ হয়ে গেছে, আমিও আমার কল্পনার রাজ্য থেকে বেড়িয়ে গেলাম, বাশিওয়লা আপতত টাকা কুড়াচ্ছে, সে হাত বাড়াচ্ছে আর সাহেবের বাচ্চা গুলো টাকা দিচ্ছে, বাঁশিওয়ালার চোখ যেন চকচক করছে, মানুষ যখন খুব কষ্টে কিছু পায়, তার চোখে তখন আনন্দের অশ্রু আসে, আমার ছেলের চোখে প্রায়ই সেই অশ্রু দেখি, সে এখন একটা লাল জামার জন্য পথ চেয়ে থাকে, পথ চেয়ে থেকে একটা লাল জামা পড়ে , লাল ফড়িং এর মত উড়ে বেড়াবে ।

আজকাল তানিয়ার চোখের রং কেমন জানি পাল্টে যাচ্ছে, ছেলেটাকে স্বরে-অ, স্বর-আ পড়াচ্ছিলাম, সে কেন জানি মেজাজ করে বললো, হ আর লেহা পড়া কইরা কি অইব, তোর বাপ একখান অর্থব হইছে, কাজ কাম পায় না, ঘরের ভাড়া দিবার পারে না ঠিকমত, ঠিকমত ঘরে চাইল নুন আনবার পারে না, আর কত? পোলাডা কয়দিন ধইরা একটা লাল জামার লাইগা জ্বালাইতাছে, নিজেরও একখান ভালা কাপর নাই, এক কাপড় কয়দিন আর পিন্দন (পড়া) যায়, কয়দিন?

কি কতা কও না কেন আবীরের বাপ, এহন তো তোমার বড় বড় কথা আর অইব না, নিজের বউয়ের শরীর পর পরুষে দেখলে তোমার ভালা লাগবো, এই নেও ব্যাগ, ঘরে চাইল নাই, তেলের শিশি টাও নিয়া যাও, ঘরে আলু পেয়াজ নাই, রাইতে খাইবা কি? সারাদিনের ধকল শেষ করে এখন যেন মাথায় বাজ পড়লো, পকেটে যে কয়টা খুচরা টাকা আছে, তাতে এত কিছু হবে না, তবুও ওরা কি রাতে না খেয়ে থাকবে, অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও বাজারের ব্যাগটা হাতে নিয়ে ঘর থেকে বেড়িয়ে এলাম, কি করি, কোথায় পাই টাকা? গলির মোড়ের রাস্তাটা যেন ফুরাতে চাচ্ছে না, পাড়ার এক পাশে একটা অস্থায়ী বাজার বসে, হোটেলে উছিষ্ট মোরগের গিলা কলিজা ঠ্যাং নিয়ে বসে আছে এক বুইড়া, এই রাতেও মাছির অভাব নাই তার ঝুড়িতে, পরিমাণে কম করে আলু পেয়াজ কিনলাম, পকেটে হাত দিলে আর কিছুই খুজে পাই না, এখনও বাকি চাল আর তেল।

বাজারের হট্টগোল ছেড়ে একটা চায়ের দোকানে বসে আছি, দোকানদার একটা সস্তা বাউলের পালা গান লাগিয়ে ক্রেতা আর্কষণের চেষ্টা করে যাচ্ছে, আমাকেও কয়েকবার চা দিবে কিনা জিজ্ঞাসা করলো, আমার মাথা ঘুরছে এখন অন্য চিন্তা, আচ্ছা সব চিন্তাইতো শেষ করা যায়, ঘরে তো ব্যাগ ভর্তি টাকা, একটা নোট  সরালেই তো সব কিনে নেওয়া যায়, এখন কি আবার বাসায় গিয়ে টাকা নিয়ে আসবো, আর এত গুলো টাকার মধ্যে একটা নোট তেমন কিছুই না, কিন্তু পুরো টাকা খরচ করা আর একটা নোট খরচ করা তো একই, এটা তো আমানত, এটা তো পাপ, নাহ! আর চিন্তা করতে একদম ভালো লাগছে না। এমন সময় ভো ভো করে দুইটা মটর সাইকেল এসে দোকানের সামনে থামলো, আমার চিন্তায় ছেদ কেটে গেলো, তাকিয়ে দেখি গাল কাটা নাযমুল, তার সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে হাজির, আবীরের কল্যাণে সে আমাকে ভালই চিনে, দোকানে বসে থাকা কয়েকজন দাড়িয়ে সালাম দিলো।

আমি বসে রয়েছি, গাল কাটা নাজমুল মিয়া বয়সে আমার চেয়ে ছোট, ছোট বড় সবাইকে সে তুই তুমি করেই বলে, সে জিজ্ঞাসা করলো, কিও আবিরের বাপ, এমন কইরা বইসা রইছো, কি হইছে? কাম কাজ পাও নাই, দোকানীকে সিগেরেট দিতে বলে, আবার শুরু করলো, মিয়া এইডা ঢাকা শহর এইখানে আইসা কত লাথ্থি গুতা খাইছি, কত রাস্তা ঘাটে ঘুমাইছি, বৃষ্টির রাইতে মার্কেটের সামনে শোয়া থেকে উইঠা সারা রাত দাঁড়াইয়া রইছি। আইচ্ছা এখন কও কি হইছে তোমার, আবিররে আমার ভালা লাগে, আমার পিচ্চি গো লাইগা মায়া মহব্বত একটু বেশি, আবির কেমন আছে? এতক্ষণ কোন উত্তর দেই না, বললাম ভাই কোন কাজ কাম পাই না, বাজার করতে আসছিলাম, আমাকে থামিয়ে দিয়ে গাল কাটা নাজমুল বললো বুঝছি, পকেট ফাঁকা, এই ইয়াকুব ওরে পাঁচশ টাকা দে, আমি বললাম না ভাই লাগবো না, সে হেসে বললো আবিরের বাপ গরীবের কোন লজ্জা রাখতে নাই, তাইলে এই শহরের মত ভঙ্কর কিছুই হইতে পারে না ।

এই ধর, এইডা আর ফেরত দেওয়ন লাগবো না, এইডা আমার ভাগিনা আবিররে দিছি, যাওয়ার সময় ওর জন্য চকলেট নিয়া যাবি কিন্তু, যা এইখান থাইক্কা। আমি দোকান থেকে বেড়িয়ে এলাম, পকেটে এখন পাঁচশত টাকার একখান নোট, এবার চাল কেনা যায়, তেল কেনা যায়, গালকাটা নাজমুল অনেকের কাছে ত্রাস হলেও , আমার কাছে এখন দেবতার মত। সবই হয়তো উপরওয়ালার ইচ্ছা, উনি কলকাঠি নাড়ছেন, আমি আমরা খেলে যাচ্ছি ।

সবাই এখন ঘুমিয়ে, বস্তিতে কে যেন হিন্দি গান শুনছে, সাইয়া দিল মে আনা রে, ছম ছামাছম, রাতের বেলা এসব হিন্দি গান যে শুনছে, সে আর কেউ নয়, সে মতি মিয়া, দীর্ঘদিন ধরে সে এই বস্তিতে থাকে, ঘর সংসার নেই, বয়স হয়ে গিয়েছে, বিয়ে করার মত বয়স বা মন আর নেই, সারাদিন বস্তির ঘরে ঘুমায়, এর ওর সাথে গল্প করে কাটায়, বিকালের দিকে মিষ্টি পানের থালি নিয়ে বেড়িয়ে যায়, মতি মিয়ার পানের একটা সুখ্যাতি এই এলাকায় আছে, বেশিক্ষণ লাগে না তার এই পান বিক্রি করতে, প্রতিদিনই সে দুইশত পান বানাবে,প্রথম পানটা খাবে এই বস্তির সর্দার চাঁন মিয়া, চাঁন মিয়া কেন জানি মতি মিয়ার উপর খুব দূর্বল, মতি মিয়া ঘরে ফিরে রাত বারোটা একটার দিকে,প্রতিদিনই চেলাই মদ নিয়ে আসে, রাতভর মদ খাবে আর পুরানো সব হিন্দি গান শুনবে, একদিন মতি মিয়ারে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ভাই আপনি রাত জেগে মদ খান কেন? সে উত্তরে বলেছিলো, হুন বাতেন, তুমি বয়সে ছোট হইবা, মদ খাইয়া মানুষ তিনটা কাম করে, কেউ ল্যাংটা হইয়া নাচে, কেউ মাতলামি করে, কেউ বইসা বইসা পাপের প্রায়শ্চিত করে, ধর আমি তিন নাম্বারটা করতাছি, আমি এক বিরাট পাপী, জোয়ান বয়সে খুব কাম কাইজ করতাম, একদিন শখ হইলো বিয়া করমু , বাপে বিয়া করাইয়া দিলো, তারে লইয়া আইলাম ঢাকা শহরে, গ্রামের মেয়ে সে, শহরের অত কিছু বুঝে না সে, আমার বন্ধু বান্ধব ছিলো বেশি, প্রায় সময়ই বন্ধু বান্ধব লইয়া ঘরে ভালো মন্দ খাওন দাওন করতাম, এডাই আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিলো, আমার বিশ্বাসের ঘরে ঢুকলো কাল সাপ, সেই কাল সাপ আমার সব শেষ করছে বাতেন ভাই।

একদিন খুব বৃষ্টি নামলো, হাতের কাম শেষ কইরা ঘরের দিকে রওনা দিলাম, ঘরে আইসা দেখি আমার বউ আর কাল সাপ এক লগে বিছানায় ঢলাঢলি করতাছে, কও বাতেন মিয়া , এইসব কি সহ্য করা যায়, মাথায় রক্ত উঠা গেল সে দিন, কান দিয়া যেন গরম বাতাস বাইর হইতাছিল, এর পর হাতের কাছে পাইলাম একখান দাও (দা) এক কোপে কালসাপের মাথাটা নামাইয়া দিলাম। তখন কবুতরের বাচ্চার মত কাপঁতাছিলো তোমার ভাবী, ক্ষমা চাইছিলো, আমি ক্ষমা করি নাই, পাড়া দিয়া ধইরা তারে জবাই করে দিলাম, এরপর আর আমার জ্ঞান হারালাইম, এরপর থানা পুলিশ, আঠার বছর জেল খাটছি, জীবনে আর কোন আশা ভরসা নাই, কোন বিশ্বাস নাই ।

এরপর থেকে মতি মিয়ারে দেখলে আমারও কষ্ট হয়। তানিয়ার গায়ে হাত দিয়ে দেখলাম তার ঘুম কেমন, না বেঘোরে ঘুমাচ্ছে, চকির নীচ থেকে ব্যাগটা বের করলাম, টিনের দরজা খুলে দেখে নিলাম, কেউ চোখ রাখছে কি না, বাশেঁর মেঝেতে বসে, ব্যাগের চেইন খুলে দেখি, সবই এক হাজার টাকার নোট, প্রায় ষাট টা বান্ডিল, তার মানে ষাট লাখ টাকা, আমার শরীর দিয়ে যেন ধোয়া বের হতে লাগলো, এত টাকা জীবনেও কখনও এক সাথে দেখি নাই, দেখব যে তার চিন্তাও করি নাই কোনদিন।

ইস্ এতো গুলো টাকা যদি আমার হতো, জীবনের রংটা পাল্টে যেতো আমার, তানিয়া আর আবিরের জীবনটা রাতারাতি সুখের হয়ে যেতো। নাহ, টাকা গুলো দেখে লোভ বেড়ে যাচ্ছে কেবল। আবার ব্যাগের চেইন বন্ধ করে চৌকির নিচে রেখে দিলাম, আবার টিনের দরজাটা খুলে দেখলাম কেউ দেখলো কি না।  
    
প্রতিদিনের মত আজও সকাল হলো, আজকে আর কাজ কর্মে যাবো না বলে মনস্থির করেছি, ভাবছি ঐ ব্যাগের মালিককের সাথে দেখা করতে যাবো, আবিরের মা কাজে চলে গেছে, আবির মাজেদা খালার খুপড়িতে খেলা করছে, প্রথমে একবার ভাবলাম ব্যাগটা সাথে নিয়ে বের হই, কিন্তু এত টাকা পয়সার ব্যাপার, রাস্তায় পুলিশ চেকিং এ পড়লে আমি এই টাকার কোন সুদোত্তর দিতে পারবো না, তা ছাড়া রাস্তায় আমি যে ছিনতাইকারীর কবলে পড়বো না, এরও কোন গ্যারান্টি নেই । এইসব সাত-পাঁচ ভেবে বস্তি ছেড়ে বাইরে চলে এলাম, প্রধান রাস্তা ধরে হাসপাতালে পৌছে গেলাম, হাসপাতালের অনুসন্ধান ডেস্কে গিয়ে গতকালের ভদ্র লোকের খোঁজ করতে, উনি জানালেন, তিনি সুস্থ হয়ে চলে গেছেন, হাতের একপাশে গুলি লেগে বেড়িয়ে গেছে, এটা যে মারাতœক নয়, সেটা আমি আগেই বুঝেছিলাম, যাক লোকটা ভালো আছে এটা যেনেই যেন ভালো লাগলো, কিন্তু সেই লোকটাকে আমার যে খুব প্রয়োজন, কেন প্রয়োজন তা তো প্রকাশ করতে পারছি না, সাত-পাঁচ ভেবে ওনার  ঠিকানা চাইলাম, অনুন্ধান ডেস্কে বসে থাকা লোকটি বললো, ওহ বড় লোক বাঁচাইছেন, বিনিময়ে পুরস্কার নিতে যাবে, যাও কোন লাভ হবে না, ধনীরা বিপদে আমাদের এখানে আসে  অথচ সুস্থ হয়ে আমাদের সাথে দেখা করতে আসেন না, পথে ঘাটে দেখা হলেও কখনও সালাম দিলে না চেনার ভান করে চলে যায়, আমি মনে মনে ভাবলাম উনার বিষয় আর আমার দেখা করার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন, আমি তো কোন পুরস্কার চাইনা,আমি শুধু চাই যেন তার আমানত ঠিকমত পৌছে দিতে পারি, ভদ্রলোক একটা কাগজে ওনার বাসার ঠিকানা এবং মোবাইল নাম্বার লিখে দিলেন। আমার তখন খুব আনন্দ হচ্ছিল একই সাথে বিস্ময়, এত গুলো টাকা আমার কাছে অথচ উনি আমার কোন খোঁজ করলেন না, পুলিশের কাছে তো আমার ঠিকানা ছিলো, সেখানেও তো একবার খোঁজ নিতে পারতেন।
 
রাস্তার পাশে ফোন ফ্যাক্স এর দোকান, লোকজন ভীড় করে আছে, কেউ টাকা ভরে নিচ্ছে মোবাইলে, কেউ টাকা পাঠাচ্ছে, দোকানী খুব ব্যস্ত, মনটা খুব দুরদুর করছে, দোকানীকে নাম্বারটা দিয়ে বললাম এই নাম্বারে একটা ফোন করতে চাই, ফোন করার পর রিং হলো কয়েকবার কিন্তু কেউ রিসিভ করলো না, হয়তো অপরিচিত নাম্বার হওয়ায় রিসিভ করেননি। কিছুক্ষণ বিরতি দিয়ে আবার কল দিলাম, ওপাশ থেকে কে একজন হ্যালো বললো, স্লিপ থেকে নাম দেখে বললাম সৈয়দ সাহেব বলছেন, আস্সালামু  আলাইকুম, ওপাশ থেকে বললো হ্যাঁ আমি সৈয়দ আব্দুল লতিফ বলছি, তুমি কে? কি চাও? আমি বললাম স্যার গতকাল আপনাকে আমি হাসপাতালে রেখে এসেছিলাম, আপনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন, ওপাশ থেকে বললো, ওহ তুমি আমার জীবন বাঁচিয়েছো, তোমার ঋণ আমি শোধ করতে পারবো না, তোমার কাছে কি আমার ঠিকানা আছে, আমি বললাম জ্বী স্যার আছে, ওপাশ থেকে বললো, ঠিক আছে তুমি কখন আসছো? আমি বললাম স্যার আপনার হয়তো মনে নেই আপনার সাথে একটা ব্যাগ ছিলো, আর সেই ব্যাগটা এখন আমার কাছে, ওপাশ থেকে অবাক হয়ে বললেন, বলো কি! তুমি কি ব্যাগ খুলে দেখেছো ওতে কি আছে, আমি বললাম জ্বী স্যার আমি দেখেছি, ব্যাগে টাকা রাখা ছিলো, আপনি যদি ব্যাগটা ফেরত নিতেন, ওপাশ থেকে বললেন তোমার নাম? স্যার, আমার নাম বাতেন, আমি আমার ঠিকানা বলে দিলাম, বললাম স্যার আমি গরীব মানুষ, আমি এত গুলো টাকা নিয়ে আপনার বাসায় আসতে ভয় পাচিছ, ওপাশ থেকে বললেন, তুমি বাসায় চলে যাও আমার লোক পৌছে যাবে, এই নাম্বারটা কি তোমার, আমি বললাম স্যার আমার মোবাইল নেই, তবে বস্তির সবাই আমাকে চেনে, আপনি লোক পাঠান, স্যার এখন ফোন রাখি মোবাইলে বেশি বিল হয়ে গেলে মেটাতে পারবো না। ফোন কেটে দিলাম, বুকের ভেতর থেকে যেন পাথর সরে গেলো, যার টাকা তাকে ফেরত দিতে পারলে আমার উপর থেকে আমানতের বোজাটা দূর হয়।

বস্তির সামনে একটা দামী গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে, বস্তির বাচ্চা গুলো গিরে ধরেছে, মনে হচ্ছে এখানে হাতি এসেছে, কৌতুহলী কিছু বেকার লোকজনও গাড়িটাকে দেখছে, গাড়িতে কোট প্যান্ট পড়া বেশ কয়েকজন স্যার আছেন, ওনাদের হাতে ব্যাগটা তুলে দিলাম, উনারা আমাকে গাড়ির ভিতর বসতে দিলেন, কোন খারাপ ব্যবহার করলেন না, কিন্তু খুব আর্শ্চয ব্যাপার হলো সবাই কেমন চুপচাপ, কালো চশমায় ঢেকে আছে সবার চোখ, আমার কেমন জানি তেষ্টা পাচ্ছে, বুকের ধড়ফড়ানি শুরু হয়ে গেছে। কেমন জানি অজানা শঙ্কা কাজ করছে। একজনকে বললাম স্যার একটু গাড়ি থামাবেন, আমি একটু পানি খাইতাম, ওনারা কোন কথা বললো না, গাড়ি থামানোর কোন লক্ষণও দেখছি না, একজন গাড়ির একটা অংশ থেকে পানির বোতল বের করে আমার হাতে ধরিয়ে দিলেন, বেশ ঠান্ডা পানি মনে হচ্ছে। বোতলের অর্ধেক পানি একটানে খেয়ে নিলাম, বাকিটা হাতে নিয়ে বসে আছি, কিছুক্ষণ পর গাড়িটা এক বাড়ির সামনে এসে হর্ণ বাজালো, সাথে সাথে দুজন লোক এসে গেইট খুলে দিলো, খুব সুন্দর একটা ফুল বাগান পেড়িয়ে গাড়িটা থামলো, গাড়ি থেকে নামতে বলা হলো আমাকে, নেমে দেখি এটা যেন স্বর্গরাজ্য, এমন সুন্দর বাড়ি আর বাগান কখনও দেখিনি, চারপাশটা কেমন পরিস্কার চকচকে তকতকে, এর পর কোট পরা স্যারদের ইশারায় বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করলাম, সেখানে একটা রুমে আমাকে নিয়ে আসা হলো, অনেক গুলো দামী সোফা রাখা, মেঝেতে দামী কার্পেট বিছানো, সোফায় বসতে বলা হলো, কিন্তু এখানে এসে মনে হচ্ছে আমি নিজেই যেন একটা ময়লা, বসতে ইতস্ত লাগছিলো, কি করবো ভেবে পাচ্ছিলাম না, অবশেষে বসেই পড়লাম, এবার কোট টাই পড়া স্যার গুলো রুম ছেড়ে চলে গেলেন, এখন রুমে আমি একা, একটা ফুটফুটে কিশোরী মেয়ে এসে চা নাস্তা রেখে গেছে, চায়ের কাপ হাতে নিয়েছি, কিন্তু সামনে রাখা নাস্তা গুলোর কোনটা আসলে কি সেটাই চিনতে পারছি না, এভাবে কেটে গেলো প্রায় আধা ঘন্টা, অথচ এই রুমে কেউ নেই আমি ছাড়া, আমার পাশেই রাখা আছে সেই টাকার ব্যাগটা, আবার মনের ভিতরে অস্থিরতা বাড়তে লাগলো, কি ঘটছে আমার সাথে, হারিয়ে যাওয়া টাকা সন্ধান পেলে মানুষ হন্তদন্ত হয়ে আসবে সেটাই স্বাভাবিক, অথচ এদের কার্যকলাপ দেখে মনে হচ্ছে, এ বাড়িতে মরা পড়ে আছে, কেমন শুনশান নিরবতা ।

আনুমানিক প্রায় দেড় ঘন্টা পরে একজন রুমে এলেন, চিনতে অসুবিধা হলো না, উনি সেই ভদ্র লোক, হাতে ব্যান্ডেজ, সাদা ফতুয়া লুঙ্গী পড়ে আছেন, মাথাটা ঘুরপাক খেলো, যিনি এত বড় লোক অথচ তিনি গতকাল রিকশায় কেন ছিলেন হিসেবটা মিলছে না, দাঁড়িয়ে সালাম দিলাম, উনি মাথা নেড়ে সালামের উত্তর নিলেন, মুখোমুখি সামনের সোফায় বসলেন, তারপর চোখ থেকে চশমা নামিয়ে নিরবতা ভেঙ্গে বললেন, তুমিই তাহলে বাতেন? আমি বললাম জ্বী স্যার, উনি বললেন দাঁড়িয়ে কেন বসো, আমি নিরবে বসে গেলাম, উনি আবার বললেন, নাস্তা খেয়োছো, নাস্তা দিয়েছে ওরা তোমাকে? আমি বললাম জ্বী স্যার, এবার তিনি বললেন আচ্ছা বাতেন সবাই তো আমাকে রাস্তায় রেখে পালিয়ে গেলো, তুমি পালাওনি কেন? আমি বললাম স্যার মানুষ হয়ে একটা মানুষকে বিপদে রেখে কিভাবে চলে যাই, উনি বললেন গুড, আচ্ছা তুমি আমাকে হাসপাতালে রেখে এলে কিন্তু এই ব্যাগটা নিয়ে বাসায় চলে গেলে কেনো? আমি বললাম, স্যার টাকার লোভ এই দুনিয়ার সবারই কম বেশি আছে, আমি আপনাকে রেখে গেলাম, আপনার তখনও জ্ঞান নেই, ওখানকার কেউ সরিয়ে ফেললে, সেটা আমার জন্য দূর্ণাম হতো, তাছাড়া সবাইকে খুব অল্পতে বিশ্বাস করটা আমি হয়তো শিখি নাই, স্যার বললেন, গুড, আচ্ছা ওখানে কত টাকা আছে তুমি জানো, আমি বললাম জ্বী স্যার জানি, স্যার বললেন আচ্ছা এখন কত আছে, আমি বললাম স্যার আপনার পুরো ষাট লাখ টাকাই আছে, আমি গরীব মানুষ, নদী ভাঙ্গনে আমাদের সব কিছু বিলিন হয়ে গেছে, লেখাপড়া কলেজ পর্যন্ত করেছি, আজকে কপাল দোষে হয়তো, খুব কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি, আমার বাচ্চা ছেলে বউকে খুব কষ্ট দিচ্ছি, তাই বলে কোন অন্যায় আমার দ্বারা সম্ভব হবে না, জানেন স্যার আমার ছোট একটা ছেলে আছে, ওর নাম আবির, তার একটা লালজামা চাই, আপনার টাকার ব্যাগ আমার চৌকির তলে, তবুও আমি সেখান থেকে একটা নোট সরাইনি, গতকাল ঘরে চাল ছিলো না, রাতে খাবারের ব্যবস্থা ছিলো না, তবুও আমি আপনার ব্যাগে হাত দিইনি। স্যার আমাকে যদি বিদায় দিতেন, আজকে একটা কাজ আমার করতেই হবে, নতুবা খুব কষ্ট হবে ।

অনেকক্ষণ ধরে চুপচাপ বসে রইলেন সৈয়দ সাহেব, তার চোখে টলমল করছে, উনি উঠে দাঁড়ালনে, আমার দিকেই আসছেন, আমি দাঁড়িয়ে গেলাম, স্যার আমাকে জড়িয়ে ধরলেন, কান্না মাখা কন্ঠে বলতে লাগলেন, দেখ বাতেন, তুই আমার চোখ খুলে দিয়েছিস, আমি ভেবেছিলাম পৃথিবীটা খারাপ আর লোভের স্বর্গ রাজ্য, মানুষ মানুষের খুনোখুনি করতে ব্যস্ত, সবাই অন্যকে ঠকাতে চায়, তুমি আমার ধারণা পাল্টে দিয়েছো । আল্লাহ আমাকে অনেক দিয়েছেন এই ব্যাগ তোমার, এর ভিতরে যা কিছু আছে সবই তোমার, এই ব্যাগের টাকা দিয়ে তুমি তোমার পরিবারকে সুখী করো, আমি উনাকে সরিয়ে, উনার পায়ে জড়িয়ে ধরে বললাম, স্যার আমাকে ক্ষমা করুন, আমি এভাবে অর্থ সম্পদের মালিক হতে চাই না, আল্লাহ আমাকে শক্তি সামর্থ্য দিয়েছেন, আমি কাজ করে খেয়ে বাঁচতে চাই, আমি রক্ত দিয়ে আমার সোনালী দিন আনতে চাই, আমার ঘামের মূল্য যা আসবে তাই হবে আমার সুখের জন্য যথেষ্ট। স্যার আমাকে দাঁড় করিয়ে বললেন, ঠিক আছে, তিনি ব্যাগ খুলে আমাকে দুইটি বান্ডিল দিয়ে বললেন, এটা তো তুমি রাখো, এটা আমি তোমাকে নয়, তোমার ছেলে আবিরকে দিলাম, ওর জন্য যতখুশি লাল জামা কিনে নিয়ে যেও, ওর জন্য খেলানা গাড়ি কিনে নিবে, আর তোমার সততার পুরস্কার হিসাবে তোমকে আমি আমার ফ্যাক্টরীর সিকিউরিটি ইনচার্জ এর চাকুরি দিলাম, আমার সম্পদ যেভাবে রক্ষা করেছো, তুমিই পারবে, তোমার চেয়ে যোগ্য লোক আমি দেখি না, হাল্কা স্বরে ডাকলেন হামিদ নামে একজনকে, উনাকে বললেন, বাতেন কে বাড়ি পৌছে দিয়ে আসো, তাকে আমাদের অফিসের ঠিকানাটা দিয়ে দিও, সে আগামীকাল থেকে আমাদের ফ্যাক্টরীতে কাজ করবে। দুই বান্ডিল টাকা নিয়ে স্যার কে সালাম  করলাম, আর বললাম, স্যার আপনি অনেক বড় মনের মানুষ, আমার জন্য দোয় করবেন। স্যার বললেন ঠিক আছে, বড় হও ।

স্যারের গাড়িতে বাসায় ফিরছি, এখন মনে খুব আনন্দ হচ্ছে, অবশেষে একটা চাকুরী হলো, আবিরকে একটা স্কুলে ভর্তি করে দিবো, ওর জন্য এক জোড়া লাল জামা তো কিনবোই, আচ্ছা তানিয়ার জন্য কি কিনবো, আহ কত দিন ওকে কোন কিছুই কিনে দেওয়া হয় না, আজ বিকালে সবাই মিলে গিয়ে কিনবো, পরক্ষণে মনে হলো না, সবাইকে অবাক করে দিই, এখনই কিনবো, ততক্ষণে গুলশান থেকে গাড়িটা মালিবাগ আবুল হোটেলের মোড়ে পৌছে গেছে, ড্রাইভারকে বললাম, ভাই আমাকে নামিয়ে দেন, আমি যেতে পারবো, গাড়ি থেকে নেমে মালিবাগ মার্কেট এর দিকে রওনা হলাম, ঈদের আর বেশি বাকি নেই মার্কেট ভর্তি লোকজন, ভীড়ের ভিতরে আবিরের জন্য দুইটা লালজামা কিনলাম, তানিয়ার জন্য কিনলাম দুইটা শাড়ি, ওর আবার হাল্কা ফিরোজা কালারের উপর খুব দূর্বলতা, একটা কাঁঠাল চাপা কালারের বিছানার চাদর কিনলাম, নিজের জন্য দুইটা লুঙ্গী কিনলাম । টাকার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন রকম, বেশি থাকলে খরচ বেশি হয়। মনের সুখে বাজার করছিলাম, হঠাৎ দেখি মানুষজন জটলা পাকিয়ে দোকানের টিভিগুলোতে কি যেন দেখছে, কৌতহল হলো, ভীড় ঠেলে যা দেখলাম তা নিজেও বিশ্বাস করতে পারছি না, আমাদের বস্তিতে দূর্ধষ সন্ত্রাসী গালকাটা নাজমুলকে ধরতে র‌্যাব পুলিশের যৌথ অভিযান চলছে, দুই পক্ষের গোলাগুলি চলছে, বেশ কয়েকজন নাকি গুলিবিদ্ধ হয়েছে, মাথাটা আবার  নষ্ট হয়ে গেলো, বস্তিতে আবির একা, ছেলেটা এখন কীভাবে কোথায় আছে কে জানে, তানিয়া হয়তো এতক্ষণে পৌছে যাওয়ার কথা, আল্লাহ তুমি সহায় হও , দৌড়ে মার্কেট থেকে বেড়িয়ে এলাম, একটা সিনজি কে বললাম বিপদের কথা, একটু তাড়াতাড়ি যেতে ।

বস্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি, লোকজনের খুব ভীড়, ভীড় ঠেলে এগুতে খুব কষ্ট হচ্ছে, পুলিশের লোক এক জায়গায় পথ আগলে দাঁড়ালো, বললাম স্যার আমার ছেলে বস্তির ভিতরে, তার মানছিলো না, ঠেলে ভিতরে ঢুকে গেলাম, গোলাগুলি এখন থেমে গেছে, লোকজন বলাবলি করছে, গলাকাটা নাজমুল আর তার তিন সহযোগী মারা পড়েছে, বস্তির খুব সামনে গিয়ে দেখলাম চাঁন মিয়া আর র‌্যাবের  কয়েকজন সদস্য, চাঁন মিয়া আমাকে দেখ এগিয়ে এলেন, ভিতর থেকে ট্রলি করে কাকে যেন বের করা হচ্ছে, পুলিশ বাঁশি ফুঁকে ভীড় সরাচ্ছে, ট্রলির পাশে তানিয়াকে দেখে, মনের ভিতর মোচড় দিয়ে উঠলো , দৌড়ে গিয়ে দেখলাম স্ট্রেচারে আবির শুয়ে, হাল্কা ব্যান্ডেজ লাগানো, বুকে গুলি লেগে গেছে, মাথা ঘুরে গেলো, আবির বললো বাপজান তুমি আইছো, আমার বাপজান আইছে, বাপজান তোমার হাতে লালজামা, হ বাপজান তোমার লাল জামা, থেমে নেই কেউ দ্রুত আমাদের একটা এ্যাম্বুলেন্স এ তুলে নেওয়া হলো, র‌্যাব এর একজন বললো, আমরা ইচ্ছে করে কাউকে গুলি করি না, তোমার ছেলে ছিলো কুখ্যাত গড মাদার মাজেদার কোলে, সে পচিঁশ হত্যা মামলার আসামি, গাল কাটা নাজমুল, ট্যারা মাসুম, বিচি খালেদ সহ সব সন্ত্রাসীদের হোতা এই মহিলা, দীর্ঘ দিন ধরে তাকে খুঁজছি, কিন্তু আমাদের দূভাগ্য তোমার ছেলে আবিরকে ঢাল বানিয়ে সে আমাদের লক্ষ করে গুলি চালিয়েছে, তাতে আমাদের এক হাবিলদার নিহত হয়েছে, পড়ে তাকে ঘায়েল করার জন্য পায়ে গুলি চালাতে গেলে সে নিজে বাঁচার জন্য আবিরকে সামনে ঠেলে দেয়, আবির গুলিবিদ্ধ হয়। এ্যাম্বুলেন্স এখন জ্যামে পড়ে গেছে, আবির স্পষ্ট স্বরে বলছে, বাপজান আমার আর লালজামা লাগবো না, দেখো আমার জামা লাল হয়ে গেছে, আমি বললাম বাপজান তোমার কিছুই হয়নি, তুমি ভালো হয়ে যাবে, দেখো তোমার জন্য দুইখান কত সুন্দর লালজামা আনছি, আবির হাত বাড়িয়ে দিলো, আমি তারে লালজামা দিলাম, সে হাতে নিয়ে কেমন খুশি হয়ে গেলো, যেন তার কিছুই হয়নি, সে আবার বললো বাপজান সত্যিই তুমি লালজামা আনছো, মা, মা গো, আমি কালকে লাল জামা পড়ুম, লাল জামা পড়ে টুনটুনি খালার বাসায় যামু, আম্মা আমারে লালজামা পড়াইবা না, আম্মা আমি লাল জামা পড়ুম ।

এখন ঢাকা মর্গের সামনে বসে আছি, তানিয়া আমার পাশেই লাল জামাগুলো নিয়ে বিলাপ করছে, নাকে মুখে তুলো গুজে রাখা, সারা শরীরে বড় বড় সেলাইয়ের দাগ, একা একা কত গুলো লাশের পাশে হাসি মাখা, মায়া ভরা মুখটা নিয়ে শুয়ে আছে, আর কোন দিনও সে বলবে না, আমার একটা লাল জামা চাই, আর কোনদিনও বলবে না,  আমার আবিরের সারা শরীরে জুড়ে আছে এখন রক্তে লাল জামা, ছেলেটার শখ পুরুণ হয়েছে মরে গিয়ে, আমার ছেলেকে আমি লাল জামা পরাতে পারি নাই, এখন এই দুটো লাল জামা ব্যথা বয়ে আমি কোথায় যাবো? কতকাল এই লাল জামাকে বুকে জড়িয়ে কাঁদাবো? আমার হয়তো জানা নেই, এখনও আবিরের স্পষ্ট গলায় শুনতে পাচ্ছি “বাপজান আমি লাল জাম পড়ুম, লাল জামা”। 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com