বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:০৩ পূর্বাহ্ন

English Version
কবিবাড়ি : বাপ্পি সাহা

কবিবাড়ি : বাপ্পি সাহা



যাওয়া হয়নি। কবিবাড়ি যাওয়া হয়নি। অনেকদিন ভেবেছিলাম- যাবো, যাবো। অাজ ১৭ই মার্চ ২০১৮। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন। বঙ্গবন্ধু কবিতা উৎসব ও আজ কবিসংসদ বাংলাদেশ এর আয়োজনে,উৎসবের প্রধান ছিলেন অতিথি কবি।

উদ্ধোধন করবেন শিশু সাহিত্যিক রফিকুল হক দাদু ভাই,বিশেষ অতিথি কবি রাজু আলীম, কবি আরিফ মঈনুদ্দীন,কবি হানিফ খান সভাপতিত্ব করবেন কবি আব্দুল গনি মিয়া। কবিকে আনতে হবে। দায়িত্ব পড়লো অামার-ই উপর। অাসলে তখন কি করবো ভাবছিলাম। তারা যখন (কনক ভাই) অাবার অামাকে বললো- যাও, তুমি। কিছুক্ষন নিশ্চুপ ছিলাম অার ভাবছিলাম- না, এখুনি কবিবাড়ি যাবার মোক্ষম সময়। ছুটির দিন, রাস্তায় অতোটা জ্যাম থাকবে না।

কিছুক্ষন পর গাড়ি চলে এলো,অবশ্য গাড়ি পাঠালো সংগঠনের সভাপতি কবি রাজু আলীম,চ্যানেল আই এর গাড়ি, অামি গাড়িতে উঠলাম, সাথে গবেষক স্বপন রেজাও। অামি তো কবিবাড়ি চিনি না, তাহলে, কেমনে কি, তারা ড্রাইভারকে কবি’র ফোন নাম্বার দিয়ে বাড়ির ঠিকানা বলে দিলো। অত:পর গাড়ি রওনা হলো কবিবাড়ির দিকে, সেই কামাঙ্গিচর। গাড়ি ছুটছে। রাস্তা ফাঁকা। শাঁ-শাঁ শব্দে গাড়ি ছুটছে। দু’পাশের জানালা খুলে দিলাম। বাতাসের দোলায় অামাদের শরীরমন জুড়িয়ে গেল। অামরা কথাবার্তা, হাসি-ঠাট্টার ফাঁকে কয়েকটা যুতসই সেলফি তুলে ফেললাম। গাড়ি ছুটছে। কবি’র বাড়ির অাশেপাশে গিয়ে একজন পথচারিকে জিজ্ঞেস করলাম- কবিবাড়ি কই, মানে কবি নির্মলেন্দু গুণ দা’র বাড়ি কই। তখন লোকটি দেখিয়ে বললো- এই পথ দিয়ে যেতে হবে। গাড়ি অাবার ছুটছে। বলে দিয়েছিল বুড়িগঙ্গা ভবন পেলাম খুঁজে বুড়িগঙ্গা সিটি,সিটির পাশেতে দাড়িয়ে কবিকে ফোন দেয়া হলো ,তখন কবি জানালো বুড়িগঙ্গা সিটি নয় বাদশা স্কুলের সামনে এসো,গাড়ি নিয়ে যখন সামনে এগুবো তখন এক লোককে জিজ্ঞেস করলাম আবার কবি নির্মলেন্দু গুণ দা’র বাড়ি কোথায়, তখন লোকটি বললো আসেন আমার সাথে,পরে গাড়িতে লোকটিকে উঠিয়ে নিলাম যেন চিনতে অসুবিধে না হয়,চলে এলাম বাড়ির কাছাকাছি,রাস্তা প্রশস্থ কম হওয়ায় গাড়ি আর ভেতরে নেইনি,পরে হালকা নাস্তা করে সামনে এগিয়ে গেলাম কবির বাড়ীর কাছাকাছি,বুড়িগঙ্গা তীর ঘেষে বেড়ে উঠা কবির বাড়িটি।

বাড়িটির নাম “বুড়িগঙ্গা” আসলে কবির মন আর প্রকৃতি কবিকে আজ প্রিয় মানুষ থেকে অতি প্রিয় করে তুলেছেন সকলের কাছে, আবার কারো কারো কাছে প্রিয় ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠেছেন,আমারো প্রিয় একজন কবি মানুষ,যার কবিতায় স্বাধীনতা,এই শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো সেই লেখার জনক,ভালো না লেগে পারে, অবশেষে কবির বাড়িতে গেলাম সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম,দাদা দুতলায় থাকে ভেতর থেকে এক লোক এসে বললো দাদা একটু বিশ্রাম নিচ্ছে দাদা বিকেল ৫.৩০ মিনিটে যাবে আপনাদের সাথে, আপনারা ভেতরে এসে বসেন,আমরা বললাম একটু ছাদে যেতে চাই ছাদে কি যাওয়া যাবে?উনি বললেন হা যাওয়া যাবে,পরে ক্যামেরা ব্যাগ থেকে বের করে ছাদে গেলাম দুজনে আমি আর গবেষক স্বপন রেজা।এসেছি দাদার বাসায় দুজনে,কিছু ছবি না তুললে হয় তুলেছিও সূর্যের তীঘ্নতা বেশী থাকায় ছাদ থেকে নেমে নদীর পার গেলাম মৃদু বাতাস, সুন্দর প্রকৃতি উপভোগ করতে,চমৎকার পরিবেশ একটি ছোট নৌকা ছিল পাড়ে বাঁধা চেষ্ঠা করেছিলাম উঠার, কিন্তু পরে ব্যর্থ হলাম কাঁদা ছিলো বলে, একদিকে লাউরের বাগান আরেকদিকে বড় বটগাছ হঠাৎ একদিকে নজর পরলো কিসের যেন ধোঁয়া বের হচ্ছে হয়তো কেউ আগুন ধরিয়ে দিয়েছে, হালকা হালকা করে ধোঁয়া উড়ছে,কিছু ছবি তুললাম,সূর্য যখন অস্ত যাবে সূর্যের লাল অাভা যেন পানিতে ছুঁয়ে যাচ্ছে কিছু নৌকা লঞ্চ ও দেখা যাচ্ছে কিছুক্ষণ পর পর এখান দিয়ে চলছে,অপরূপ দৃশ্য যা বলে বুঝাতে পারবো না, ছবি তোলা শেষ করে গেলাম আবার কবির বাড়িতে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলাম পরে একজন বললো দাদা রেডি হয়েছে বের হবে,আপনারা আসেন ভেতরে, পরে গেলাম ভেতরে ঢুকে দাদাকে নমস্কার জানালাম, দাদা বললো তুমি বাপ্পি না আমি বললাম হা দাদা কেমন আছেন জানতে চাইলাম বললো ভালো,আরো কিছু কথা হলো, এরপর ২০১৮ বইমেলায় আমার পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ বাপ্পি সাহা’র শত কবিতা এবং সম্পাদনা কবিয়াল কবির লেখক কবি বুঝিয়ে দিলাম, কবির রুমে কিছু ছবি তুললাম।ভালো লাগলো কবির সাথে কথা বলে, এরপর আমরা সবাই বের হলাম প্রোগামের উদ্দ্যেশে যথারিতি গাড়িতে উঠে চলে আসলাম তোপখানা রোডে শিশু কল্যান পরিষদে।সবাই অপেক্ষা করছিলো কখন আসবে কবি কখন আসবে কবি,যখন নির্মলেন্দু গুণ দা কে নিয়ে প্রবেশ করি সবার আগ্রহের যেন অবসান ঘটতো, সুন্দর একটি মুহূর্তের মধ্য দিয়ে কবিকে বরন করে নিলেন, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। জয় হোক কবিতার… এরপর প্রোগাম শেষ করে কবিকে নিয়ে গেলাম কাঁটাবনে কনর্কড এ কবিতাকুঞ্জ নামে কবির অফিসে। গিয়ে দেখা হলো কবি অসীম সাহা, ভারতীয় এক কবি এবং কিছু লোক বসা ছিল কবির জন্য অপেক্ষা করছিলো, কিছুক্ষণ কথা বলার শেষে কবি আমাদের একটি করে বই উপহার দিলো অটোগ্রাফ সহ নির্মলেন্দু গুণের ষড় ঋতুর কবিতা “ঋতু সমগ্র”। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভালোই কাটলো বড় কবিদের সান্নিধ্যে থেকে কিছুটা অর্জন নিজের জন্য রেখে দিলাম।

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com