শনিবার, ২৬ মে ২০১৮, ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন

সেহরী ও ইফতার সময় :
আজ ২৪ মে বুধবার, রমজান- ৭, সেহরী : ৩-৪২ মিনিট, ইফতার : ৬-৪২ মিনিট, ডাউনলোড করে নিতে পারেন পুরো ফিচার- সেহরী ও ইফতার-এর সময়সূচী


ফয়সাল হাবিব সানি’র এ সময়ের প্রেমের পাঁচ কবিতা

ফয়সাল হাবিব সানি’র এ সময়ের প্রেমের পাঁচ কবিতা

ফয়সাল হাবিব সানি
ফয়সাল হাবিব সানি



হৃদয়ে তুমি পড়ে অাছো

তোমাকে অামি অামার হৃদয় ভেবেছি
একবার তুমি সেখানে তাকিয়ে দেখো-
দেখবে অনাদিকাল থেকে শুধু তুমি পড়ে অাছো,
অামি সেই তুমি'কে বুকে ভরে হাসতে হাসতে নির্বিঘ্নে বয়ে বেড়াচ্ছি অামার প্রেমের মতো...
তুমি যেন অামার প্রেমের মতো গাঢ় অার বেদনার মতো প্রগাঢ়; হৃদয়ের মতো নিঃসীম প্রদাহ!
একবার তুমি প্রেমকে বিশ্বাস করো-
পাঠ করো এ হৃদয়ের প্রতিটা অক্ষর,
শুনতে পাবে শুধু তোমার নাম-
সেখানে তুমি পড়ে অাছো;
একবার অন্তত তুমি অামার হৃদয়ে তাকাও-
সেখানে শুধু তুমি অার তুমি বসে অাছো,
একবার তুমি অামার ওই চোখের দিকে তাকাও-
চোখ রেখে একবার তুমি মুখ ফুঁটে বলো,
ভালোবাসি না’?
অামি জানি, বলতে যেয়ে তোমার ঠোঁট ভীষণ কেঁপে উঠবে! তুমি মুখ লুকোবে লজ্জায়;
কারণ তোমার চোখ ততোক্ষণে অামার চোখের ভেতর ঢুকে গেছে!
একবার শুধু স্পর্শ করো অামায় তোমার কোমল করতলে-
দেখবে তুমি শিউরে উঠবে! শরীরজুড়ে ভীষণ কাঁপন উঠবে তোমার;
মুহূর্তেই অামার থেকে দূরে ছিটকে পড়বে তুমি…
কিন্তু ততোক্ষণে অামার বুক তোমায় বুকে টেনে নেবে প্রবল উৎসাহে-
বলোতো, কোথায় যাবে তুমি?
এই যে দেখছো হাঁড়, মাংস, চামড়া
অার গভীরে দেখছো হৃৎপিণ্ড;
সবকিছু বলেছে অামায়, দিয়েছে সাক্ষ্য-
ওদের ভেতরও নাকি তুমি মিশে অাছো!
অামার পাঁজরের রক্ত ঝরতে ঝরতে বলেছে,
সেখানেও নাকি তুমি খেলা করো, খেলতে খেলতে অামায় তুমুল পাগল করে তোলো-
অারক্ত রক্তে তোমার এ উত্তেজনা অামায় কি রকম মাতাল করে তোলে!
একবার শুধু তুমি `অামি’ হয়ে যাও-
অামরা দু’জন অভিন্ন হয়ে যাব চোখ থেকে চোখে, ঠোঁট থেকে ঠোঁটে, মুখ থেকে মুখে, হৃদয় থেকে হৃদয়ে, শরীর থেকে শরীরে, ভেতর থেকে ভেতরে- বৃন্ত থেকে দু’জনে না হয় ফুটব সদ্য যৌবনপ্রাপ্ত একটি লাল গোলাপের মতো
অামাদের হৃদয় থেকে পৃথিবীর সমস্ত হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়বে অমৃত তৃষা…
একবার শুধু অামার হৃদয়ে হাত দাও-
সেখানে তোমার অস্তিত্ব শুয়ে থাকে, সেখানে তুমি পড়ে অাছো;
অামি অনাদিকাল থেকে সেখানে বিদীর্ণ দাহে প্রেমের মতো পুঁষেছি তোমাকে!

তোমার বুকের ওপাশে

তোমার বুকের ওপাশে অামার হৃদয় রেখে দেবো;
বর্ণিল স্বচ্ছ নীল, নয়তো রক্তাক্ত ক্ষত-বিক্ষত বিবর্ণ এক হৃদয়!
হয়তো চকচকে সাদা কাঁশফুলের মতো তোমার বুকে বড়ো বেমানান সেই হৃদয়; তবুও হৃদয় তো, হৃদয়ই তো!
অাচ্ছা বলোতো, কোথায় ফেলবে তুমি সেই হৃদয়?
তুমি তাচ্ছিল্যে অামায় ছুঁড়ে ফেললেও তোমার বুক যে কখনো হৃদয় ছুঁড়ে ফেলতে পারবে না সেই কথা অামি জানি।
অামি জানি, বুকের ভেতর হৃদয়ের স্থান, সেখানেই হৃদয় থাকে- তো কোথায় লুকোবে সেই হৃদয় তুমি?
মানুষ নাকি বুকে হাত দিয়ে মিথ্যে বলতে পারে না-
তবে তুমিও কি বুকে হাত দিয়ে কক্ষনো বলতে পারবে, তোমার বুকের ওপাশে কোনো হৃদয় ছিলো না, তোমার বুকের ভেতরে কখনোও এক চিলতে হৃদয়ের নীল বিষ সংক্রমিত হয়নি'!
বুক সে কিভাবে মিথ্যে বলবে, প্রতারণা করবে হৃদয়ের সাথে?
তোমার বুক নির্দ্বিধায় বলে দেবে,
সেখানে একদিন হৃদয় ছিলো, ওখানে অামার হৃদয় ছিলো’;
তারপর কোনো একদিন কোনোদিন তোমার বুকে অামার হৃদয় মিশে অভিন্ন হৃদয়ে হাত রেখে অকপটে তুমিও বলে দেবে, তুমিও বলে দেবে, `সেখানে একদিন অামি ছিলাম,
অামিও ছিলাম’!

তুমি বরং দূরে চলে যাও

যতোটুকু কাছে অাসলে ছোঁয়া যায় তোমাকে, স্পর্শ করা যায় তোমার হাত, তারপর শরীর- অামি বরং ততোটুকুই দূরে থাকব।
তুমি কিন্তু কাছে অাসতে চেয়ো না;
কাছে অাসলেই তোমায় হারিয়ে ফেলব অামার ভেতর।
কাছে অাসলেই তুমি' হয়ে যাবেঅামি’- অামি এতোটা `অামি’ নিয়ে কিভাবে থাকব বলো?
তুমি বরং অারও দূরে চলে যাও, যেখান থেকে দেখা যায় না তোমায়;
যতোটা দূরে গেলে তোমাকে খুঁজতে শিখব অামি, যতোটা দূরে গেলে তোমাকে খুঁজতে খুঁজতে পৌঁছে যাব নীল সমুদ্রের কাছে তুমি বরং ততোদূরেই চলে যাও…
তোমাকে খুঁজতে যেয়ে অামি সমুদ্র দেখতে চাই, হিমালয় দেখতে চাই, নীলনদ দেখতে চাই- তোমাকে খুঁজতে যেয়ে যেন অামি পৃথিবীকেই পড়ে পাই- পৃথিবীকেই বুকে ধরে কারও জন্য অন্তত তো অাবার জন্মাতে পারি!
তবুও তো কারও জন্য…

পাগলি কোথাকার! এসব শুনে রাগ করলে বুঝি?
অাচ্ছা, জেনে রেখো তবে-
যতোটুকু দূরে গেলে ছোঁয়া যায় না তোমার হাত, স্পর্শ করা যায় না শরীর-
অামি ততোটুকু দূরে থেকে ততোটুকুই তারও বেশি অারও নিকটের কাছে থাকব তোমার!

তুমি

কেউ যদি অামায় তোমাকে দেখাতে বলে,
অামি হৃদয়ের থেকে কলিজা বের করে বলতে পারবো না, এটা তুমি।
সোজাসুজি জন্মের হৃৎপিণ্ডে হাত রেখে বলে দেবো, ওই জন্মটাই তোমার জন্য!
কেউ যদি অামায় তোমাকে ভুলতে বলে,
বুকের থেকে হৃদয় টেনে হৃদয় অার বুককে অালাদা করতে বলে দেবো নিঃসংকোচে!
যতোই অালাদা করবার চেষ্টা করা হবে ততোই তা মিশে যাবে নিবিড়; জড়িয়ে যাবে অাষ্টেপৃষ্ঠে, হৃদবৃক্ষের গায়ে গেঁথে যাবে সরু ধনুকের মতো ওতোপ্রোত!
তবে কেউ যদি অামার মৃত্যুদিন জিজ্ঞেস করে,
তবে সোজাসাপ্টা ঈশ্বরকে জানিয়ে দেবো-
জন্ম থেকে ছেড়ে যাওয়া তুমিটাই হবে অামার মৃত্যু, বিভৎস করুণ অন্তিম জন্ম বিনাশ!
অার অতঃপর ঈশ্বরও নির্দ্বিধায় ঘোষণা করবেন,
অামার জন্মতারিখ ও মৃত্যুদিন, অামার মৃত্যুদিন ও জন্মতারিখ তুমি', শুধুতুমি’!

প্রেমিক

তোমরা শুধু হৃদয় হৃদয় করে ভেতরের পাঁজরটা ভাঙো- একটি অনির্দিষ্ট অনিয়মে প্রতিদিন ভাঙো, প্রতিরাত ভাঙো!
ভাঙতে ভাঙতে তোমরা অাজ নিজেরাই কখন যেন ভেঙে গেছো তোমাদের নিজেদের সত্তার কাছে ভঙ্গুর দর্পণে পুরু কাঁচের মতন;
অার সেই কাঁচে তোমরাই রক্ত ঝরিয়েছো, তোমরাই রক্তে রঞ্জিত করেছো তোমাদের হৃদয়!
তোমাদের হৃদয় ভেঙেছে তোমাদের হৃদয়ের ব্যথায়, হৃদয়ের দাহ্যতায় পুড়িয়েছো হৃদ্য প্রেম!
তোমরা নিজেরাই নিজেদের মেরেছো, অদৃশ্য হৃদয় খুঁজতে যেয়ে পড়ে পেয়েছো নীলরাঙা ম্যাজিক- নির্ঘাত অদ্ভূত অনল!
তোমরা খামোখায় হৃদয় হৃদয় করো, মরার থেকেও অধিক মরো তোমরা!
তথাপি জানি, অামার এ কথার কোনো মূল্যায়ণ হবে না অাদৌ এক প্রেমদগ্ধ দগ্ধিক প্রেমিকের কাছে;
এ সবই অস্বীকার করে একজন প্রেমিক সবকিছু ভুলে নির্বিঘ্নেই দ্যর্থস্বরে বলে দিতে পারে,
হৃদয় অাছে!
ভালোবাসায় একবার ধরেছে যাকে সেই উন্মত্ত প্রেমিক শুধু জানে,
পুড়তে পুড়তে সে অারও প্রেমিক হয়ে উঠবে!
মাতাল প্রেমিক জানে-
যদি কখনো তাকে প্রশ্ন করা হয়, পোড়ানোর পরও কি অারও বাড়তে থাকে?'
কোনো কিছু না ভেবেই সেই প্রেমিক উদাত্ত কণ্ঠে চোখ বন্ধ করে ঔদ্ধত্য নখের অাঁচড়ে বুক খামচে বলে দেবে,
প্রেম’!
শেষবারও একইভাবে না কিছু ভেবেই বুক চেপে প্রতি নিঃশ্বাসে সে অনবরত বলে দেবে, শুধুই প্রেম', শুধুইপ্রেম’…

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media








© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com