বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৭:৩৪ পূর্বাহ্ন

English Version
মুহম্মদ আশরাফুল ইসলাম’র একগুচ্ছ কবিতা

মুহম্মদ আশরাফুল ইসলাম’র একগুচ্ছ কবিতা

মুহম্মদ আশরাফুল ইসলাম
মুহম্মদ আশরাফুল ইসলাম



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

তোমার আছে একলা খনিজ

তুমি বরং জোছনালোকে বাজিয়ে যাও কুহক বীণা:
আমি না হয় নিঝুম কারোর বেহিসাবি প্রমোদ হবো।
আমি না হয় উসকে দেবো সমুদ্রকে সহজ কোনও অন্ধকারে…
নিকটে যার কামের উড়াল!

তাকে তুমি নস্যি ভেবে দিব্যি কোথাও ভ্রমণকালে
কাঁচ ভাঙা শব্দগুলো জড়িয়ে দিও ঘুমের আগে
রাঙিয়ে নিও পাখনা তোমার —
আমার অবুঝ স্পর্শগুলো

হয়তো আমি কারও চোখে ছন্নছাড়া, মুখচোরা মেঘ।
হয়তো আমি কারও ঠোঁটে খুব দুপুরের সুখের অসুখ।
হয়তো আমি খামখেয়ালি কারোর ডাকে দিই না সাড়া;

তুমি বরং লজ্জা ভুলে দেয়ালগুলো তুলতে থাকো:
আমি না হয় মুখ ফিরিয়ে রোদ্দুর হবো;
আমি না হয় চুপসে যাবো দুরারোগ্য খাদের তলাই।

তোমার আছে একলা খনিজ, চড়ুইভাতি।
ঘন হয়েই মিশে যেও অন্য কারোর বুকের পটে ;
দাগগুলো সব ফুটো করে মগ্ন থাকো উতল হাওয়ায়।
অনুতাপের পায়রাগুলো গলাটিপে হত্যা করে —
সোজা উঠান দখল নিয়ে নাচতে থাকো।

আমি না হয় নিজের খুনের দায় রেখেছি মুঠো ভরে।
আমি না হয় ভুলেই গেছি কবে কখন প্রেমিক ছিলাম;
আমিই না হয় ছাই হয়েছি তোমার মতো জ্বলতে চেয়ে।

আত্মপ্রলাপ

অন্তত একটা অঘটন ঘটুক!
অন্ততপক্ষে একবার তুমি বেহিসাবি হও;
বুকে অন্ধকার নিয়ে একটি রাত না হয় জেনে
কে কতোটা তৃষ্ণার্ত ছিল, অস্থির ছিল খুব

তুমুল খননে, বিছানা বালিশ অগোছালো থাক
ভোর পর্যন্ত, অন্তত আরও একবার।

আসবার কথা ছিলো না কখনো যার, সে আসুক।
ভাসবার কথা ছিলো না কখনো যার, সেই ভাসুক;

ঠোঁট এগিয়ে দিলেই হয়ে যাব দারুণ পুরুষ,
আঙুলে আঙুল ঝাপটে ধরলেই মাতাল হয়ে
ভেতরের এক আজন্ম বেহায়া প্রেমিক
বেণী ভাঙলেই ছড়িয়ে দেব নির্লজ্জ আক্রোশ!

এই পশমাবৃত বুকে গভীর স্পর্শ রাখলেই টের
পাবে, কতোটা জখম হৃদয়ে আমার;

স্থির থাকবার কথা ছিলো না কখনো যার, সে উড়ুক।
ছাই হবার কথা ছিলো না কখনো যার, সেই পুড়ুক।

কোথায় দাঁড়িয়ে আমি?

উলুখড়ে দেশলাই: চমন বাহার, মোড়কের টানে!
মণ্ডপের শিউলিতেই ফিরুক, বালিয়াড়ি গানে।

ভাঁজপত্র, টোটেমের ডানা,
তাসবাক্স আর নক্ষত্রের ভ্রূণ কুড়িয়ে নেবার ছলে;
মেলে দিয়ো ছাইরঙ গ্রীবা —
যদি হ্রেষাধ্বনি ভুলে যাই, যদি হই প্রভাকীট আস্তাবলে।

আরতির গহীন ডেরায়, হাওয়াই মিঠাইয়ের মতো, তন্দ্রালু ঘামে
মিশে একাকার হোক কীটদষ্ট বিছানা, চটুল বৃষ্টির আরামে।

পানপাত্র রেখো অভ্যর্থনাকক্ষে,
প্রমোদবালিকা নীলাভ বিভায় নাভিতে ঢালুক ছিমছাম রোদ;
সাজঘরে রেখে ঋতুমতী ওম —
অমল ডাহুকী নাচুক, ঠাণ্ডা অন্তর্বাসে মুড়িয়ে অস্থায়ী সরোদ।

বিকল পিয়ানো, কুমারী ঘোর নিয়ে সফল সঙ্গমের আগে!
কোথায় দাঁড়িয়ে আমি ? কোথায় রাখবো হাত অশালীন রাগে ?

সম্মুখ তীর্থ

আমাদের বহু বহু দিন বহুবছর রাখিনি মনে;
ডাগর জ্যোৎস্নার সর চেটে চেটে,
পরস্পর ফুরিয়ে যাবার কত কত রাত,
যত্ন করে করে ভুলে আছি যেন।

একটু দূরের দেয়ালে ভেজা শ্যাওলা দেখে,
একটু বিষণ্ণতা নাড়িয়ে নিই লেবু চায়ের গ্লাসে।
তবু অন্ধকারে চমকে উঠে না আর সতেজ জোনাকি;

একটু ঘন হলেই ভেংচি কাটে একার খেয়াল,
একটু কামুক হলেই ঘিরে ধরে সুরেলা স্মৃতি
তবু টানাপোড়নের দীঘল ছায়ায়
ক্লান্ত হয়ে মিলেমিশে রই।

আমাদের বহু বহু পথ মিশে গেছে বহুপথের ভীড়ে;
ভাঙা ভাঙা লয় কবেকার মূর্ছনা রেখে,
হয়ে গেছে হিঙ্গলের টিকা; উড়ুউড়ু ঘোরে —
ফণা তুলে আছে মিহি মিহি ভ্রুকুটি, প্রলাপ।

হয়তো মুখোশেরও মুখোশ ছিল অচেনা মুখের,
হয়তো আড়ালেরও কোনও আড়াল ছিলো।
যদিও বিনাশী কুঠার ডেকে আনে শেষ লোবানের ঘ্রাণে

হয়তো অভিসারী মিথ্যে দরোজায় টোকা দিচ্ছে ,
হয়তো পুরনো নিমজ্জনে শুধু ঢেলে যাবো চোখের তরল।
যদিও সম্মুখ তীর্থ বলে আমাদের কোনকিছু কোনকালেই ছিলনা।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com