,

জায়েদ হোসাইন লাকী-এর একগুচ্ছ কবিতা

মৃত্যু; আমার সঙ্গম সুখের মতো

সমুদ্রের ঢেউয়ের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে আছে ক‚লের যৌবন
অনেক বছরের সংসার জীবনে; সঙ্গম সুখে বিপন্ন
যেমন, এক সময়ের সে-গোলাপগন্ধা নারী।
রৌদ্রের মুঠোর চাপে জলাঙ্গী লালায়িত হয়ে
গড়ে তার বিপ্রতীপ যৌবন।
আমার টেরাকোটা চেতনা জুড়ে আজ
কেবলই বিপন্ন লেহাঙ্গা জীবন
তবুও জীবনের মাঠে চাষ করি আমি সান্দ্র মানবিকতা
আর, দুহাতে নত্রে নিপে করি রোজ;
ভুল সময়ের বেকারিতে গড়া জীবানুর সালাদ।
এখন প্রতিবার মৃত্যুকে আমি তিনবার করে ঠ্যাঙ্গাই।

কেউ আমাকে কখনো গোলাপ দেয়নি ! 

রাজশ্রী, তোমার এক চোখে একটি গোলাপের বাগান আছে, অন্যটিতে আছে একটি সাগর! আমি কখনো সমুদ্র দেখিনি, ছুঁইনি কখনোই একটি আধফোটা গোলাপ! জীবনে বসন্ত গুলো বড় দেরী করে আসে বলেই আজ সমুদ্র খুঁজি সামান্য কোন জলাঙ্গিতে। যদিও আমার কোন সমুদ্র বা গোলাপের বাগান নেই। তোমার চোখে তাকালে আমি হয়ে উঠি এক জলে ডোবা মাছরাঙা পাখি। রাজশ্রী, আমাকে এক আজলা জল নয়তো কিছু গোলাপের বীজ দিবে?

নৈকট্য উড়ে যায় দূরের ডানায়

কিছু মানুষকে ভুলতেও বেশ কিছুদিন সময় লাগে! অতঃপর থেকে যায় শুধু তার ফেলে যাওয়া পালকের ওম! শরীরটাকে পোড়া কাবাব বানিয়ে আজ উনুনে চড়িয়ে রেখে দিয়েছি! নানরুটির মতো তোমার নরম পেলব মন আজ হয়েছে যেন এক পাথরের কিমা। ফিরে যাব না বলেইতো, তোমাকে ভুলতে আমার বেশ কিছুদিন সময় লেগে যাবে। পরিত্যক্ত মৈথুনে গলে যাচ্ছে আমার পাললিক প্রেম; তোমার শরীর থেকে ক্রমাগত খসে খসে পড়ছে যেন পরিযায়ী পাখির কার্পাস পেখম; অবাধ্য পালক! আমার বিব্রত দুঃখ গুলো এখন বেড়ে ওঠে প্রতিদিন পালিত রোদ্দুরে।

রাত গভীর হলে আমার এরকমই হয়

মধ্যরাতে মাথায় পাটিগণিত ঢুকলে
খাটের দৈর্ঘ্য প্রস্থ অমিমাংসিত থেকে যায়।
রাত দেড়টা বেজে গেলে
এখনো আমি তোমাকে অনুভব করি
খাট বদল হয় মাঝেমধ্যে;
শরীর দেখি সব একই।
মাঝরাতে মাঝে মাঝে আমি ঘুমোতে পারি না
অথচ আমি এক সময় আলোকবর্ষ ঘুমিয়েছিলাম
তখন আমি কিশোর ছিলাম। এ
খন মুঠোফোনে যৌবন আসে রোজ রাত দেড়টার ট্রেনে
ঘুমোতে পারিনা আমি জৈবিক হুইসেলে
যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছি বলেই বহুদিন শুইনি নিজের বিছানায়
মাথায় পাটিগণিত ঢুকলে মধ্যরাতে;
যৌবন থেকে খসে খসে পড়ে অভিমানী অমরাবতী নারী।

প্রজাপতির খামার প্রকল্প

তোমার আর আমার গড়ে তোলা যৌথ খামার। মথের চাষ করে আমরা প্রজাপতি ফলাবো। সেই আশায় গুটিপোকারা বাসা বাঁধে আমার মাথায়। হাঁস-মুরগির চাষ না করে করবো প্রজাপতির চাষাবাদ। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের সাথে যদি এই প্রকল্পকে জুড়ে দেয়া যায়; তাহলে বরং ভালোই হয়। সমগ্র দেশে শুধু প্রজাপতি ছেয়ে যাবে। ঘরে ঘরে থাকবে সব রঙিন প্রজাপতির ঘ্রাণ; শহরে-গ্রামে, রাস্তায়, নদী-খালে বিলে, রমনা পার্কের গাছে গাছে, নারীর খোঁপায়, পুরুষের মনে প্রজাপতিরা নেচে নেচে উড়ে বেড়াবে। ভালোবাসা দিবস তখন প্রতিদিনই হবে। সবাই ব্যস্ত থাকবে প্রজাপতি উৎপাদন প্রক্রিয়ায়। প্রজাপতি বিদেশেও রপ্তানি হবে। প্রধানত ইজরাইল, ইন্ডিয়া, রাশিয়া, চীন, আমেরিকা ও যুক্তরাজ্য হবে আমার খামারে উৎপাদিত  প্রজাপতির প্রধান ক্রেতা দেশ। পাকিস্তানেও কিছু কিছু চালান যাবে। (এসব দেশে প্রজাপতি খুব কম, পারমাণবিক অস্ত্র মজুদ থাকার কারণে) প্রজাপতির পাখনা মেলে উড়া দেখতে যেয়ে বিএসএফ-এর ট্রিগার লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে। আর কোন গুলি লাগবে না ফেলানির গায়ে। কুমারীর শরীরে ছুঁড়বেনা এসিড কোন দুষ্ট বালক। বেপাড়া যাওয়া নষ্ট যুবকও তখন শুধুই প্রজাপতি ধরার জন্য দৌড়ে বেড়াবে এ গ্রাম, ও গ্রাম। মৌলবাদীদের হাতে তখন বোমার বদলে প্রজাপতি থাকবে। প্রজাপতিরা দল বেঁধে উড়ে উড়ে মানুষকে উড়তে শেখাবে, ভালবাসতে শেখাবে। আমার প্রজাপতির খামার দেখতে একদিন প্রধানমন্ত্রী আসবেন হেলিকপ্টারে চড়ে। যাবার বেলায় তিনিও প্রজাপতির ডানায় উড়তে চাইবেন। বিরোধী দলীয় নেত্রীও হয়তো তখন সিলেটে লংমার্চ না করে আমার খামারের দিকে হেঁটে আসতে চাইবেন। দিকে দিকে ছড়িয়ে যাবে আমার ব্যবসা সফল প্রজাপতির খামার। আমাকে আর তোমাকে হয়তো তখন দেয়া হবে শ্রেষ্ঠ খামারির পদক।

সময়ের পোস্টমর্টেম

মুরগির খোপ থেকে চুরি যাওয়া মোরগ
জবাই করা হয় প্রতিদিন
বড় সাহেবের বাড়িতে
হত্যাযজ্ঞের এই বীভৎসতা রোজ প্রত্যক্ষ করে
বড় সাহেবের খোপের পালিত মুরগিরা

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com