মঙ্গলবার, ২২ মে ২০১৮, ০২:১৩ পূর্বাহ্ন

সেহরী ও ইফতার সময় :
আজ ২২ মে রবিবার, রমজান- ৫, সেহরী : ৩-৪৩ মিনিট, ইফতার : ৬-৪১ মিনিট, ডাউনলোড করে নিতে পারেন পুরো ফিচার- সেহরী ও ইফতার-এর সময়সূচী


না ফেরার দেশে গরিবের ১০ টাকার ডাক্তার!

না ফেরার দেশে গরিবের ১০ টাকার ডাক্তার!



মোঃ রাজন আমান,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি # না ফেরার দেশে কুষ্টিয়ার মিরপুরের ১০ টাকার ডাক্তার আলহাজ ডা. আব্দুল হামিদ ওরফে হামু ডাক্তার (৮৮)। তিনি টানা ২৩ বছর মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যানও ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান এই বর্ণাঢ্য জীবনে মানবকল্যাণে নিয়োজিত থাকা ১০ টাকার গ্রাম্য চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুল হামিদ। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও দুই কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

চিকিৎসক হিসেবে খুবই জনপ্রিয় ছিলেন ডাক্তার আব্দুল হামিদ। এলাকার আদর্শ মানুষ হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন তিনি। গ্রামের আদর্শ মানুষ হওয়ায় টানা ২৩ বছর নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লেখাননি।

আব্দুল হামিদ ওরফে হামু ডাক্তার কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামের মৃত শেখ আব্দুল জব্বারের ছেলে। আব্দুল হামিদ ১৯৫১ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষা দেওয়ার পর স্থানীয় ডা. আক্তার হোসেনের কাছে এক বছর কম্পাউন্ডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর তিনি চার বছর মেয়াদি বগুড়ার কলেজ অফ দ্য ফিজিশিয়ানের ওপর ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়ে ১৯৫৫ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। তারপর নিজ এলাকায় ফিরে এসে চিকিৎসা সেবা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে সার্টিফিকেট অনুযায়ী বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল ঢাকা কর্তৃক রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত হন তিনি।

এলাকায় জনপ্রিয় হওয়ার কারণে ১৯৫৬ সালে তদানীন্তন বারুইপাড়া ইউনিয়ন বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খাঁনের মার্শাল ‘ল’ জারি হলে বোর্ডের কার্যক্রম বাতিল হয়ে যায়। তখন তিনি নওপাড়া বাজারে যথাযথ নিয়ম মেনে ড্রাগ লাইসেন্স করে ওষুধের ব্যবসা ও চিকিৎসা সেবা প্রদানে আরো বেশি মনোনিবেশ করেন।

১৯৬৪ সালে তিনি মৌলিক গণতন্ত্র সিস্টেমে নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়ে বারুইপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বচিত হন। এরপর ১৯৭৭ ও ১৯৮৩ সালে জনগণের ভোটে আরো দুই বার ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

ইউনিয়নবাসীর জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা মানুষটিকে ১৯৮৭ সালের ইউপি নির্বাচনে ইউনিয়নবাসী আবারো তাকে চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের দাবি জানালে তিনি বিনয়ের সঙ্গে তাদের অনুরোধ ফিরিয়ে দেন।

বারুইপাড়া ইউনিয়নের চুনিয়াপাড়া গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার ইদবার আলী বলেন, উনি ২৩ বছর ধরে এ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তার চেয়ারম্যান জীবন থেকে এ পর্যন্ত এলাকার একজন আদর্শ মানুষ হিসাবেই পরিচিত ছিলেন। আমার চোখে দেখা শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি।

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সদস্য আলহাজ হাজী মহাম্মদ আলী জোয়াদ্দার বলেন, উনি একজন ভালো মানুষ ছিলেন। গ্রামের আদর্শ মানুষ হওয়ায় টানা ২৩ বছর নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার মানুষের সেবা প্রদান করতেন এটাই তার বড় পরিচয়। আসলে মানবকল্যাণে নিয়োজিত থাকা মানুষগুলো না ফেরার দেশে চলে গেলে কষ্ট লাগে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media








© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com