বৃহস্পতিবার, ১৯ Jul ২০১৮, ০২:০৫ অপরাহ্ন

English Version


অবশেষে গ্রেপ্তার হলো মিরাবাজারে মা-ছেলে খুনের সন্দেহভাজন তানিয়া

অবশেষে গ্রেপ্তার হলো মিরাবাজারে মা-ছেলে খুনের সন্দেহভাজন তানিয়া



সিলেট নগরের মিরাবাজারে মা-ছেলে হত্যার নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারী তানিয়া ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজমুল। তারা ছাড়াও হত্যাকাণ্ডে আরো অন্তত ৬ জন জড়িত ছিলেন। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তানিয়ার কাছ থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ বুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা বলেন, শুক্রবার (৩০ মার্চ) বিকেলে কাল বৈশাখী ঝড়ের সময় রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনকে খুন করা হয়েছে। হত্যার পর ঘাতকরা পালিয়ে যায়।

তানিয়া ও তার স্বামী মামুনের দেওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী নাজমুলের সঙ্গে সখ্যতা ছিল নিহত রোকেয়ার। তার বাসায় নিয়মিত যাওয়া আসা করতেন নাজমুল ও তানিয়া। রোকেয়াকে আপা বলে ডাকতেন তানিয়া। যে কারণে শিশু রাইসা উদ্ধার হওয়ার পর ‘তানিয়া আন্টি’ নামটি উচ্চারণ করেছিলো।

ছায়া তদন্তে জড়িত পিবিআই’র ওই কর্মকর্তা বলেন, হত্যার পর ৩১ মার্চ সিলেট ছেড়ে বাড়িতে চলে যান তানিয়া। ওই দিন একবারের জন্যও মামুন ও তানিয়া মোবাইল খোলেননি। কোনো কল আসেনি-যায়নি। ফলে তাদের ধরা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।

তদন্তে জড়িত অপর একটি সূত্র নিশ্চিত করে, রোকেয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল নাজমুলের। কিছু দিন আগে জনৈক লন্ডন প্রবাসী কন্যার সঙ্গে নাজমুলের বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। এ নিয়ে রোকেয়া ও নাজমুলের সঙ্গে বাদানুবাদ হয়। এ ঘটনার জের থেকে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে কিনা- এ বিষয়টিও তদন্তে সামনে আনা হয়েছে।

তবে নিহত রোকেয়ার সঙ্গে কিসের সম্পর্ক ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের দেওয়া তথ্য পিবিআই যাচাই-বাছাই করবে বলেন মামলার ছায়া তদন্তে সংশ্লিষ্ট পিবিআইর ওই কর্মকর্তা। এ হত্যার নেপথ্যে তানিয়া ছাড়াও ছয়ের অধিক খুনি অংশ নিয়ে থাকতে পারেন! এমন ধারণা থেকে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে তদন্ত।

তানিয়া গ্রেফতারের পর চাঞ্চল্যকর এই জোড়া খুনের রহস্য ভিন্ন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে- সংবাদ সম্মেলনে এমনটি নিশ্চিত করে পিবিআই সিলেটের বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, মাদকসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তানিয়া হত্যার মূল পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। নিহত রোকেয়ার বাসায় আসা-যাওয়া করতেন তিনি। নিহত রোকেয়ার সঙ্গে তার কী সম্পর্ক ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আরো তদন্তের প্রয়োজন।

এর আগে সোমবার সকালে কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার ঘোষকান্দির নিজ বাড়ি থেকে তানিয়াকে গ্রেফতার করে পিবিআই সিলেটের একটি বিশেষ টিম।

তানিয়া ঘোষকান্দির বিলাল মিয়ার মেয়ে। তার আগের স্বামী বাহরাইন প্রবাসী। ওই স্বামীর ঔরসজাত ৫ বছরের একটি শিশু সন্তান রয়েছে। বছরখানেক আগে মামুনের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে হয় তানিয়ার। গ্রেফতার ইউনুস খান মামুন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামের সারজন খানের ছেলে ও নগরীর তালতলার বাসিন্দা।

সোমবার বিকেল ৩টায় তাদের সিলেট পিবিআই কার্যালয়ে আনা হয়। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয় গ্রেফতারকৃত তানিয়া আক্তার ও তার স্বামী ইউনুছ খান মামুনকে।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার রেজাউল করিম মল্লিক আরো বলেন, রোববার নগরের বন্দরবাজার এলাকা থেকে মামুনকে গ্রেফতার করা হয়। মামুন একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জড়িত। তার দেওয়া তথ্য মতে তানিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, তানিয়া বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত ছিলেন। পূর্বে তিনি কোন পেশায় জড়িত ছিলেন, রোকেয়ার সঙ্গে তার কী সম্পর্ক ছিল, কতদিন সিলেটে অবস্থান করছিলেন, হত্যাকাণ্ডে মামুনের ভূমিকা কী ছিল-সব কিছু তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তানিয়াকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন হবে বলে মনে করছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, গত ১ এপ্রিল নগরের খারপাড়ার ‘মিতালী ১৫/জে’ নম্বর বাসা থেকে রোকেয়া বেগম (৪০) ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনের (১৬) মরদেহ এবং নিহত নারীর শিশুকন্যা রাইসাকে (৫) রক্তাক্ত অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়। এদিন রাতেই দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোকেয়ার ভাই ব্যবসায়ী জাকির হোসেন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com