সোমবার, ২৩ Jul ২০১৮, ০৯:৩০ পূর্বাহ্ন

English Version


বগুড়া-২ আসন, বিএনপির ঘাটিতে সরব আ’লীগ

বগুড়া-২ আসন, বিএনপির ঘাটিতে সরব আ’লীগ



মতিউর রহমান মুসা ও মাহবুবা পারভীন, নববার্তা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া-২ শিবগঞ্জ আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইছে অনেক আগে থেকেই। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি মিলিয়ে প্রায় দুই ডজনের মতো প্রার্থী ইতিমধ্যেই গোটা উপজেলায় বিভিন্ন সভা, সমাবেশ সহ সামাজিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণসংযোগ করে নিজের যোগ্যতা প্রমানে ব্যস্ত সময় পার করছেন। বিভিন্ন উৎসব, দিবস কিংবা দলীয় কর্মসূচির নামে রাস্তাঘাট, হাটে-বাজারে ব্যানার, প্যানা, ফেস্টুনে নিজেদের তুলে ধরছেন তারা।

একটি মাত্র উপজেলা ‘শিবগঞ্জ’ নিয়ে গঠিত এ আসনে ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৯৬হাজার ৪শত ৯এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৬শত ৯৫ ও নারী ভোটার সংখ্যা ১লক্ষ ৪৮ হাজার ৭শত ১৪জন।

বগুড়া জেলার উত্তর সীমানায় অবস্থিত এ উপজেলাতেই অবস্থিত প্রাচীন নগরী পুন্ড্রনগর (বর্র্তমানে মহাস্থানগড়)। যা বর্তমানে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী। সব-মিলিয়ে এ আসনের গুরুত্ব অনেকটাই বেশি।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মস্থান হওয়ায় বগুড়া জেলায় বিএনপির ভোটের পরিমাণ অতীত থেকেই ভারি। সেেেত্র শিবগঞ্জ উপজেলাও বিএনপির ঘাটি বলে পরিচিত। তাছাড়া স্বাধীনতার পর মাত্র একবারই শিবগঞ্জ আসনে জয়ের স্বাধ হয়েছিল আওয়ামী লীগের। বাঁকি ৮ বারের মধ্যে ৫ বারই জয় হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর, ২ বার স্বতন্ত্র ও সর্বশেষ জাতীয় পার্টির প্রার্থীর জয়।

বর্তমানে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিশেষ করে মতাসীন দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা অনেকটাই লণীয়। দল এবং নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এঁটে-সেঁটে নেমেছেন তারা।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আজিজুল হক অনেক আগে থেকেই এ আসনে নির্বাচনের আগ্রহ প্রকাশ করছেন। এর আগে তিনি শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থী হয়েছিলেন। তিনি উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরে গণসংযোগ করছেন বলে জানা গেছে।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা ইতিমধ্যে গোটা উপজেলা চষে বেড়াচ্ছেন।

ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক, নিয়মিত নেতাকর্মীদের খোজ খবর নেওয়া সহ সাধারণ মানুষদের সাথে করছেন উঠোন বৈঠক।

উপজেলার রাজনীতিতে কীন ইমেজের অধিকারী এ নেতা এর আগের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে বিপূল ভোটে ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

মনোনয়ন প্রত্যাশী এ নেতার সাথে কথা বললে তিনি জানান, দেশের উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার একটি রোল মডেল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তাঘাট, বিদ্যুতায়ন সহ সকল ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের সাফল্য প্রশংসনীয়।

যা অন্য কোন সরকারের আমলে হয়নি। তাই দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিকল্প নাই। আগামী নির্বাচনে আমি এ আসন থেকে নৌকার হাল ধরতে আগ্রহী।

তবে দলের সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত হবে।

তিনি ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন, বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) বগুড়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপাধ্য ডা. রেজাউল আলম জুয়েল। ডা. জুয়েল বগুড়া স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ থেকে টানা ৩ বার জেলা বিএমএ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। প্রায় এক যুগ ধরেই তিনি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফ্রি ম্যাডিকেল ক্যাম্প, শীতবস্ত্র বিতরণ সহ বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে জড়িত। সাধারণ মানুষদের মাঝে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই লক্ষণীয়।

তিনি ছাড়াও আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আকরাম হোসেন তিনি ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের দলীয় মনোয়ন পেয়ে সংসদ নির্বাচন করেছিলেন । নির্বাচনের পর থেকে এলাকার সাধারণ জনগনের সাথে যোগাযোগ ও দলীয় সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে ।

মাঝে মধ্যে পোষ্টার ও ফেস্টুনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়া লক্ষনীয় কোনো মিটিং মিছিল সমাবেশে তার দেখা পাওয়া যায়নি । অপর দিকে শিবগঞ্জ পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে সম্মেলন সফল করে ও ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত না হলেও বেগুড়া জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য হয়ে শক্ত হাতে হাল ধরেছেন নৌকার ।

সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ে গণ সংযোগ দলীয় নেতাকর্মীদের খোজ খবর রাখেন নিয়মিত । এছাড়াও তিনি গরীব দুস্থদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরন ,নেতাকর্মীদের চিকিৎসার খোজ খবর রাখেন , শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনোয়ন পেয়ে নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচিত হন ।

তার জনপ্রিয়তা তরুণ প্রজন্মের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা অর্জন করেছেন তেমনি রয়েছে বৃদ্ধ যুবকদের মধ্যে ও । তিনি দলীয় মনোয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক ।

অপরদিকে জনগণ থেকে একটু কোনঠাসা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হলেও বিএনপির দূর্গ বলে খ্যাত এ আসনে বিএনপির জনসমর্থন একটু বেশিই। এ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রকাশ্য ও গোপনে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এ আসনে বিএনপি হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী বগুড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মীর শাহে আলম। এ উপজেলায় তিনি তরুণ প্রজন্মের নেতা হিসেবেও পরিচিত। গেল বিএনপি-জামায়াতের লাগাতার কর্মসূচিতে তার ভূমিকা লক্ষণীয় ছিল। অনেকটাই নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার কাজে ব্যস্ত এ বিএনপি নেতা।

মীর শাহে আলম ছাড়াও এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি বেগম। টানা ২ বার রেকর্ড পরিমাণ ভোট নিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে। তাই তৃণমূলে তার জনপ্রিয়তা অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন কেউ কেউ। দল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে অতঃপ্রত ভাবে জড়িয়ে আছেন এ বিএনপি নেত্রী।

এ বিষয়ে বিউটি বেগম বলেন, আগামী নির্বাচনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক ঘোষিত ভীষণ ২০৩০ রূপকল্প পালনে আমরা সচেষ্ট থাকব। ভোটারবিহীন সরকারকে প্রত্যাখান করে গণতন্ত্র পুনরূদ্ধারে এ আসনে বিএনপির জয় নিশ্চিত, ইনশাআল্লাহ্। কারণ বিএনপিই পারে নাগরিকদের প্রকৃত সেবা ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে।

বিএনপির আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন ২ বারের নির্বাচিত সাবেক সাংসদ এ্যাডভোকেট হাফিজার রহমান। তাঁর আমলে লক্ষণীয় উন্নয়ন না হওয়া এবং সম্প্রীতি রা না করার অভিযোগ অনেক পুরাতন। তবে দলের প্রবীন নেতা হিসেবে তিনি অনেকটাই এগিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশে। এছাড়াও বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এমআর ইসলাম স্বাধীন, সাবেক পৌর মেয়র আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান মতিন ও অধ্যক্ষ নূরে আফরোজ বেগম জ্যোতি।

জামায়াতে ইসলামীর দৌড়াত্মও কম নয় এ আসনে। প্রকাশ্য কার্যক্রম বন্ধ হওয়া সত্বেও গেল উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীকে হারিয়ে নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতের আলমগীর হুসাইন। শুধু তাই-ই নয় নেতাকর্মীদের নামে ডজন ডজন মামলা থাকা সত্ত্বেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও তাদের একাধিক প্রার্থী জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।

এ আসনে জামায়াত থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হলেন সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা শাহাদতুজ্জামান। তিনি ইতিমধ্যে বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ, শীতার্থদের শীতবস্ত্র বিতরণ, দুঃস্থদের সাহায্য-সহযোগিতা সহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ কবছেন।

বর্তমানে এ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি-জামায়াতের অনেকটা সমপর্যায়ের প্রতিপক্ষ হলো জাতীয় পার্টির বর্তমান সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্।

বীর মুক্তিযোদ্ধা শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ্ বিগত ৪ বৎসরে উপজেলায় দৃশ্যমান অনেক উন্নয়ন করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতে তার অবদান অনস্বীকার্য। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলেও তিনি জনগণের কাছে অনেকটাই গ্রহণযোগ্য সাংসদ হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

গত সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করলেও এখন পর্যন্ত জাতীয় পার্টির ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা আছে বিধায় আওয়ামী লীগ-বিএনপির সাথেই লড়তে করতে হবে এ হেবিওয়েট প্রার্থীকে।

সেক্ষেত্রে প্রধান দুই দলের প্রার্থীর সাথে লড়াইটা বেশ হাড্ডা-হাড্ডিই হবে এ নেতার, এমনটিই মনে করছেন অনেকে।

এ আসনে এবার আলোচিত মূখ হলেন ডাকসুর ২ বারের সাবেক ভিপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার পরিকল্পিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘নাগরিক ঐক্যে’র আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। একাধিকবার তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে লড়েছেন এ আসন থেকে।

তবে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হাড়তে হয়েছে তাকে। তবে বেশ কিছুদিন আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় এ আসন থেকে তার নির্বাচন করার আগ্রহ নিশ্চিত করেছেন তিনি। শোনা যাচ্ছে বিএনপির সাথে জোট বাঁধলে এ আসন থেকে এবার বিএনপির টিকিট নিতে পারেন তিনি।

সব মিলিয়ে শিবগঞ্জ আসনে কোন দল বা প্রার্থীই সহজ ভাবে নিতে পারছেন না এ নির্বাচনকে। তবে প্রার্থী ঘোষণার পরই নির্বাচনী ফিল্ড পরিস্কার হয়ে দাড়াবে সবার কাছে, এমনটাই মনে করছেন সাধারণ জনসাধারণ।

নববার্তা/নজরুল

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com