,

খুলনায় সোনালী ব্যাংকের ছয় শাখায় বকেয়া ঋণ ১৫ শ’ কোটি টাকা

মোহাম্মদ রাহাদ রাজা,খুলনা বিভাগীয় স্টাফ রিপোর্টারঃ খুলনায় সোনালী ব্যাংকের ৬টি শাখায় ১১২জন ব্যবসায়ীর কাছেই মোট পাওনা ১৪’শ ৯৮ কোটি টাকা। রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় তাদের বিরদ্ধে বিধি-বিধান মত ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিতে পারছে না।এর ফলে পাট খাতে রাজনৈতিক প্রভাব দেওয়া দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

খুলনা জেনারেল ম্যানজার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের খুলনা কর্পোরেট শাখার পাট খাত ৫২জন ব্যবসায়ীরকাছে দেওয়া ঋণ মোট ৩৮৩ কাটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিধি-বিধান মত ঋণখলাপি হয়েছে সবাই এবং খেলাপি ঋণ ৩৮২ কাটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। দৌলতপুর কর্পোরেট শাখায় ১৯জন গ্রাহকের কাছে ঋণ ৬৬৯ কোটি ৫ লাখ টাকা । এর মধ্যে ১৬ জন ঋণখেলাপির কাছে পাওনা ৪৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। দৌলতপুর কলেজ রোড়শাখার ২০ জন গ্রাহকের কাছে মোট পাওনা ৩২২ কাটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৯ জন গ্রাহকের কাছে পাওনা ৩১৮ কাটি ৮৫ লাখ টাকা। শতকরা হিসাবে ঋণ খেলাপি ৯৮ দশমিক ৮৮ শতাংশ। একই চিত্র খুলনা খালিশপুর এবং স্যার ইকবাল রোড় সোনালী ব্যাংক শাখায়।

পাট ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র জানা গেছে, বাংলাদেশ জুট এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী চলতি বছরের ২৬ ফেব্রয়ারী অর্থমন্ত্রী বরাবর একটি চিঠি পাঠান। ওইচিঠিতে তারা কাঁচা পাট রফতানিকারকদের সকল বকেয়া এবং দেনা একটি সুদবিহীন ব্লক হিসাব স্থিতি পূর্বক ১০ শতাংশ সহায়ক জামানতের ভিত্তিতে ২৫ বছর পরিশোধের সুযোগ দাবি করেন। এই আবদনের সূত্র ধরে সংসদ সদস্য সাবক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানসহ বিজেএ’র নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে তাদের দাবির স্বপক্ষে নানা যুক্তি প্রদর্শন করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ব চারটি ব্যাংক পাট রফতানিকারকদের এসব প্রস্তাব রাজি না হওয়ায় কয়েক দফা বিষয়টি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর উপর নানা ভাবে প্রভাব বিস্তার করা হয়। রাজনৈতিক ভাবে প্রভাব বিস্তারের ফলে সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মো: খায়রুল কবীর, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গোলাম নবী মল্লিক স্বাক্ষরিত এক অফিস আদশ জারি করে গত ২৬ আগস্ট।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, চিঠিতে ব্যাংকের ঋণ খেলাপিদের কোন ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই ছাড়াই দুই বছর সময় দেওয়া হয়। দুইবছর পর থেকে তারা কিস্তি পরিশাধ করবে। এসব ঋণখেলাপিরা পুনরায় নতুন ভাবেঋণ গ্রহণের সুযেগ পাবে। এই চিঠির ফলে সোনালী ব্যাংকের নেওয়া সকল পদক্ষেপ স্থগিত হয়েছে। ব্যাংক ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্ত ব্যাংক কর্মকর্তাদর মধ্যে হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। তবে কেউ মুখ খুলতে রাজি নন।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার ম্যানজার ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো: জাকির হোসেন খান জানান, সিরাজুল ইসলাম, তার পুত্র সুমনসহ তাদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় একশত কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। আদায়ের জন্য মামলা করার পূর্ব পদক্ষেপ হিসাবে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তিনি স্বীকার করেন সিরাজুল ইসলাম কারণে অকারণে ব্যাংকের ডিএমডি, জিএম পরিচালকদের দিয়ে মুঠোফানে নির্দেশ দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করছেন। সম্প্রতি ব্যাংকের ঊর্ধতন মহল সিরাজুল ইসলামকে সুবিধা দিতে আবারও ফোন করেন। তিনি ঊর্ধতন কর্মকর্তাদর জানিয়ে দিয়েছেন লিখিত আদেশ না দিলে তিনি কোন কিছু করতে পারবেন না।

এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের জেনারল ম্যানজার মো: মোশারফ হোসেন জানান, পাট খাতে বিনিয়াগকৃত প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণখেলাপি হয়েছে। সরকারতাদের আবারও সুযোগ দেওয়াই তারা সেই প্রক্রিয়া শুর করেছেন। এই সুবিধায় পাট খাতের ব্যবসায়ীদের দুই বছরের মধ্যে কোনআইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, প্লেজ ঋণ বিপর্যয়ের কারণে নতুন করে কোন ঋণ দেওয়া হচ্ছে না।

উল্লেখ্য, জাল জালিয়তি করে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ইতোমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে সোনালী ব্যাংকের জিএম নেপাল চন্দ্র, একাধিক ডিজিএম, ঊর্ধতন কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ ৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com