,

পিরোজপুরে দুই বার মনোনয়ন পাওয়া পান্না এবারও নৌকার মাঝি হতে চান

কাউখালী প্রতিনিধি: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে মাঠ পর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। জনশ্রুতি রয়েছে আগামী জাতীয় নির্বাচনে অপেক্ষাকৃত ত্যাগী, পরিশ্রমী ও পরিচ্ছন্ন তরুণদেও এবার প্রাধান্য দেবে আওয়ামীলীগ । আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকায় থাকবে তরুণদের নাম। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাদেও মনোনয়ন পাওয়ার গুঞ্জন শুরু হয়েছে।

একাধিকবার অনেকে জাতীয় সংসদ সদস্য হয়েছে দলের মনোনয়ন নিয়ে কিন্তু বর্তমানে তারা তৃনমূল নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন এবং তাদের কর্মকান্ডে দলের ভাবমুর্তি নষ্ট হয়েছে। এলাকায় তারা সুনাম ক্ষুন্ন করেছে এবং তারা তাদের গ্রহণযোগ্যতাও হারিয়ে ফেলেছেন। এ কারনে এবার দলে তরুণ ও গ্রহণযোগ্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদেরকে গুরুত্ব দিতে পারে। বিগত দিনে নৌকার বিপক্ষে ইউনিয়ন পরিষদ ও জেলা পরিষদের নির্বাচনে অবস্থান নেয়া অর্থাৎ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও পার্লামেন্টের বোর্ডের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে কাজ করছেন সেসব নেতারা এবার মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার সম্ভাবনা । এমন এলাকায় সাবেক ছাত্র নেতা এবং তরুণ প্রার্থীদের স্থান পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জানাগেছে, পিরোজপুর- ১ আসন অথবা ২ আসন থেকে এবার সাবেক ছাত্রনেতা বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও পিরোজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য ইসহাক আলী খান পান্না নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি ইতিমধ্যে এলাকায় পরিশ্রমী, ত্যাগী, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, সদালাপি, কর্মী বান্ধব প্রার্থী হিসেবে আলোচনা এসেছেন। সে লক্ষে এবার তিনি পিরোজপুর-১(পিরোজপুর-নাজিরপুর) ও পিরোজপুর- ২ (ভান্ডারিয়া-কাউখালী-ইন্দুরকানী) আসনে প্রার্থী হতে স্থানীয় জনমানুষের সাথে মতবিনিময় করছেন। অংশ নিচ্ছেন নানা সামাজিক কর্মকান্ডে।

যদিও বিগত অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচেন পিরোজপুর-২ আসন থেকে ইসহাক আলী খান পান্না বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে মহাজোটগত এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার নির্বাচনী পদ প্রত্যাহার করার কারনে এ আসন থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দীতায় জাতীয় পার্টি(জেপি) প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে নির্বাচিত ঘোষনা করা হয়। সে কারণে আ.লীগের প্রার্থীর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দীতা করা সম্ভব হয়নি। আগামী সংসদ নির্বাচনে এবারও আসাহাক আলী খান পান্না নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী। গত আওয়ামীলীগের কাউন্সিলে সাবেক ছাত্রলীগের নেতাদের পান্না সহ কেন্দ্রীয় কমিটির পদে আনার আলোচনা উঠে ছিল। পরে দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্তে অনেকে পদ পাননি। পরবর্তীতে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সাবেক ছাত্রলীগের নেতাদের যাদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে ভাল অবস্থান আছে তাদের দলীয় মনোনয়ন দিয়ে সংসদ নির্বাচন করানো হবে।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি বার বার নির্যাতিত, হামলা, অসংখ্য মামলা ও কারা বরন করেন এবং ওয়ান ইলেভেনের সময় তিনি যৌথ বাহিনীর হয়রানী শিকার হয়ে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। দুদক তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন হয়রানী মূলক মামলা দিয়ে হয়রাণি করে । তিনি ২১শে আগষ্ট গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হন দলীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহযোগিতায় বিদেশে তাঁর সু চিকিৎসা হয়। তৃণমূল রাজনীতি থেকে উঠে আসা সাবেক এ ছাত্র নেতা আগামী সংসদ নির্বাচনে এবারও আ.লীগের মনোনীত প্রার্থী হতে চান। তিনি জানান, আগামী নির্বাচনে মহাজোট যদি বর্তমান বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পুনরায় জোটের প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-২ আসন থেকে মনোনয়ন দেন। তাহলে পিরোজপুর-১ আসনে ইসহাক আলী খান পান্না মনোনয়ন প্রত্যাশী হবেন বলে তাঁর ঘনিস্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

সাবেক এ ছাত্র নেতা জানান, তাঁর জন্ম পিরোজপুর শহরে । পিরোজপুরে ছোট বেলা থেকে তার ছাত্র জীবন, কলেজ জীবন ও রাজনীতিক জীবন শুরু হয়। জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। সে সময় অন্দোলনকে সংঘঠিত করতে গিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে এক বোমা বিস্মফোরনে তার তিন স্বজন নিহত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। পড়াশুনার পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতির আন্দোলন সংগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত আছেন।

বঙ্গবন্ধুর কন্যা বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের পর ১৯৮১ সনের পর থেকে তিনি পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের হাল ধরেন। পিরোজপুরে থাকা কালীন অবস্থায় তিনি সাংবাদিকতার সাথেও জড়িত ছিলেন। তিনি একজন ক্রীড়া সংগঠক ছিলেন। এলাকায় তিনি নানা সামাজিক কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন।
উল্লেখ্য এবার পিরোজপুরের নির্বাচনী এলাকা বিন্যাসের কথা আলোচনায় আসছে। এতে পিরোজপুরে একটি আসন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তেমনটি হলে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর-নাজিপুর), পিরোজপুর-২ (স্বরূপকাঠী-কাউখালী), পিরোজপুর-৩ (ভান্ডারিয়া-ইন্দুরকানি), পিরোজপুর-৪ (মঠবাড়িয়া)। পিরোজপুরে একটি আসন বেড়ে ৩টির জায়গায় ৪টি হয় তবে পিরোজপুর-১ অথবা পিরোজপুর-২ এর যে কোন একটিতে সাবেক ছাত্র নেতা ইসহাক আলী খান পান্না এবার নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশা করেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com