,

ভালুকায় সওজের উচ্ছেদ অভিযান : এখনও ভাঙ্গা হয়নি শতাধিক ভবনের অংশ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকা সদরের বাসস্ট্যান্ড, পাঁচরাস্ত মোড় ও গফরগাঁও সড়কের দু’পাশে কোটি কোটি টাকা মূল্যের সড়ক ও জনপথের জমি দখলে নিয়ে বহুতল ভবনসহ কয়েক’শ অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠায় কয়েক দফা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হলেও রহস্যজনক কারণে পাঁচরাস্তা মোড় এলাকায় সড়ক ও জনপথের জায়গা অবৈধভাবে দখলে নিয়ে বিশাল আকারের রায় মার্কেট নির্মাণ, হক মার্কেট, ভিআইপি গেস্টহাউজ ভবন ও আক্তার কমপ্লেক্সসহ আশপাশে প্রায় অর্ধশত বহুতল ভবনের অংশ দখলমুক্ত করা হয়নি। এতে খুদ্র ও মাঝারী ব্যবসায়ীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সচিব এটিএম কামরুল ইসলামের নেতৃত্বে সড়ক ও জনপথের উচ্ছেদ অভিযানে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটপাত দখল মুক্ত করা হয়। এ সময় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সওজের জমি দখলে নিয়ে গড়ে উঠা কয়েক’শ অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। তবে রহস্যজনক কারণে দখলমুক্ত করা হয়নি ভালুকা বাজার পাঁচরাস্তা মোড় ও গফরগাঁও সড়কে কোটি কোটি টাকা মূল্যের সড়ক ও জনপথের জমি দখলে নিয়ে গড়ে তুলা অর্ধশত বহুতল ভবনের অংশ।

অভিযোগ রয়েছে, ভালুকা মল্লিকবাড়ি সখিপুর সড়কে ভালুকা বাজার পাঁচরাস্তা মোড় এলাকায় সড়কের দু’পাশে সড়ক ও জনপথের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের জমি দখলে নিয়ে রায় মার্কেটের বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন। ভালুকা সরকারী হাসপাতালের ড্রাইভার্সন রাস্তার জন্য ৫৭ দাগ হতে এলএ কেইচ নম্বর ০৪/২০০০-২০০১ মূলে ৪৯ শতাংশ ভূমি সড়ক ও জনপথ বিভাগ অধিগ্রহন করে। যার সঠিক মালিকানা না থাকায় ক্ষতিপূরণের টাকা কাউকে প্রদান করা হয়নি। উক্ত জমি তপন রায় গং সড়ক ও জনপথের চোখ ফাঁকি দিয়ে সড়কের দু’পাশে অন্তত ২০ ফুট জায়গা দখলে নিয়ে উচু সিঁড়ি ও আন্ডার গ্রাউন্ড সিঁড়িসহ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথের পক্ষ থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারণের জন্য মার্কেট মালিককে কয়েক দফা নোটিশ প্রদান করা হলেও বিষয়টি আমলে না নিয়ে স্থাপনা সম্প্রসারণের কাজ অব্যাহত রাখা হয়। এ ব্যাপারে রায় মার্কেটের মালিক তপন রায় জানান, তাদের পূর্বপুরুষদের জমিতেই তারা মার্কেট নির্মাণ করেছেন। লাল কালির দাগকৃত অন্যান্য মার্কেট মালিকগনও জানান, তারা তাদের ক্রয়কৃত জমিতেই মার্কেট নির্মাণ করেছেন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহা সড়কের সিডস্টোর বাজার ও মাস্টারবাড়ীসহ অন্যান্য এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান না চলায় অবৈধ স্থাপনা এখনো রয়ে গেছে। কেউ কেউ নতুন করে স্থাপনা তৈরীতে ব্যস্ত। অজ্ঞাত কারনে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ রয়েছে।

সড়ক ও জনপথে সার্ভেয়ার মো: জাহিদ জানান, মাপজোখ দেয়ার পর পাবলিকের পক্ষ থেকে কমপ্লেন আসছে। আবারো যৌথ ভাবে মেপে অভিযান চালানো হবে। তবে বিষয়টির ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী স্যার ভাল বলতে পারবেন। এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মাসুদ খানের ব্যক্তিগত মোবাইলে বার বার ফোন দিলেও রিসিপ না করায় তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

সিডস্টোর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ শাহাব উদ্দিন তালুকদার বলেন- আমরা ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এসব স্থাপনা না ভাঙ্গার জন্য মৌখিক ভাবে আবেদন করেছি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সচিব এটিএম কামরুল ইসলাম জানান, মাপজোখে একটু ত্রুটি থাকায় আপাতত অভিযান বন্ধ রাখা হয়েছে। অচিরেই যৌথ জরিপের মাধ্যমে সীমাণা নির্ধারন পূর্বক পূণরায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে বেদখলে যাওয়া সরকারী সম্পদের উপর গড়ে উঠা বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে সরকারী সম্পদ ফিরিয়ে আনা হবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com