,

লক্ষ্মীপুরে শারদীয় দূর্গা পুজার চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর: আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠির মধ্যে দিয়ে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরে ৭৬টি মন্ডপে চলছে শারদীয় দুর্গা পুজার প্রস্তুতি। বিভিন্ন মন্ডপে দিনরাত প্রতিমা তৈরি কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে কারিগররা। ২৬ সেপ্টেম্বর পুজা শুরু হয়ে ৩০ অক্টোবর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে। আয়োজকরা বলছেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর দুর্গোৎসবে প্রতিমা তৈরির ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এরপরও থেমে নেই তাদের কোনো আয়োজন। রকমারী আলোকসজ্জার বর্ণালী বাহারে সাজানো হচ্ছে পুজা মন্ডপ ও তার আশপাশ এলাকা। হাতে আছে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। তাই কারিগররা রাত-দিন চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সাজসজ্জা কাজ। সব মিলে উৎসবের রংয়ে সাজছে উপকুলীয় এ জেলা লক্ষ্মীপুর।

জানা যায়, দুর্গাদেবী অসুর দমনের শুভ শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আগমন করবেন। দুষ্টের দমন আর সৃষ্টের পালনের জন্যই দশহস্তে দেবী দূর্গা স্বর্গ থেকে মর্ত্যলোকে আগমন করেছিলেন। এরই ধারাহিকতায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ গুলো প্রতি বছর শারদীয় উৎসব হিসেবে দূর্গাপূজা উদযাপন করে আসছে। এবার জেলার ৫টি উপজেলায় ৭৬টি পুজা মন্ডপে এবার দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। অপরদিকে পরিবার পরিজনের জন্য কেনা কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। ঘরে বাইরে পূজাকে ঘিরে চলছে ব্যস্ততা। জামা কাপড় তৈরি, কেনা-কাটায় সরগরম শহরের বিপণিবিতানগুলোতে। শারদীয় দুর্গা উৎসবকে কেন্দ্র করে চারপাশে চলছে এখন উৎসবের আমেজ।

সরোজমিনে জেলার কয়েকটি পূজাম-পে ঘুরে দেখা যায়, কাদা মাটি, বাঁশ, খড় ও সুতলি দিয়ে তিলতিল করে গড়ে তোলা দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরিতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। বিভিন্ন মন্দিরে একেক জন কারিগর দুর্গা পূজা শুরুর এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই প্রতিমা তৈরিতে সময় নিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা দক্ষ কারিগররা জেলার বিভিন্ন মন্দিরে শুরু করেন এসব প্রতিমা বানানোর কাজ। ইতিমধ্যে অধিকাংশ পূজামন্ডপের প্রতিমা গড়ার প্রধান কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। এখন শেষ মুহুর্তে কারিগররা তাদের নিপুন হাতের প্রতিমা রং করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
কারিগররা জানান, বংশ পরম্পরায় এ পেশায় জড়িত আছেন তারা। বাপ দাদার কাছ থেকে শেখা কাদা মাটি আর খড় দিয়ে কিভাবে প্রতিমা তৈরির কাজ করতে হয়। বছরের এই সময়ে কাজের চাপ বেশি তাই রাত দিন পরিশ্রম করে মনের মাধুরী মিশিয়ে দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছে। তবে রং, কাপড় ও মুকুট দিয়ে এক সেট তৈরি করতে সময় লাগে ৮-১০ দিন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাবু শংকর মজুমদার জানান, জেলার প্রত্যেকটি ম-পে এখন প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত কারিগররা। দুই এক দিনের মধ্যে দুর্গা প্রতিমাগুলোকে রং লাগিয়ে পোশাক পরিচ্ছদে সুসজ্জিত করা হবে। এবার লক্ষ্মীপুর জেলায় ৭৬ টি ম-পে দুর্গাপূজা পালন করা হবে। সমাজের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবিসহ জেলার সর্বস্তরের মানুয়ের সহযোগীতায় এবারও পুজা উযাপনের কাজ চলছে। তবে পূর্বের ন্যায় এবারো শান্তিপূর্নভাবে আমরা দুর্গাপূজা পালন করতে পারব।

লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আমরা মন্ডপগুলোকে তিনটি শ্রেনীতে ভাগ করেছি। আর সে অনুযায়ী আমরা তিনটি ভাগে নিরাপত্তা দিয়ে থাকব। এছাড়াও র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ও সার্বক্ষনিক নিরাপত্তায় থাকবে যাতে পূর্বের ন্যায় এবারো কোন অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com