,

চরম দূভোর্গের মধ্যে ৩লক্ষাধিক জনসাধারণ

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৭ বছর পরেও জামালগঞ্জ-সাচনা সেতুর কাজ শুরু হচ্ছে না

জাহাঙ্গীর আলম ভুঁইয়া, জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) # সুনামগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৬বছর পার হলেও জামালগঞ্জ উপজেলার মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর জামালগঞ্জ-সাচনা সেতু নির্মানের কাজ শুরু হচ্ছে না। ফলে চরম দূভোর্গের মধ্য দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হচ্ছে উপজেলার ৩লক্ষাধিক জনসাধারন। ২০১০সালে তাহিরপুর উপজেলায় এক জনসভায় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা যে ৪টি সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছিলেন তার মধ্যে জামালগঞ্জ-সাচনা সেতুটি ছিল উল্লেখ্য যোগ্য। প্রধান মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির ৭বছরেও সেতু নির্মানের কার্যক্রম না নেওয়ার ফলে এলাকাবাসীর মাঝে র্দীঘ দিনের ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাহিরপুরের লাউড়ের গড়ের যাদুকাটা নদীর উপর সেতু সহ অন্য তিনটি সেতুর শাল্লার মারকুলি বাজারের কুশিয়ারা সেতু, জামালগঞ্জের সেলিমগঞ্জ সড়কে সেলিমগঞ্জে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মানের প্রকল্প স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন হলেও জামালগঞ্জ-সাচনা সেতুটি নির্মান উদ্যোগ নেওয়া হয় নি আজও। সরেজমিনে এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানাযায়, জামালগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৩লক্ষাধিক জনসাধারন দীর্ঘ ৪০বছর ধরে দাবী জানিয়ে আসলেও জামালগঞ্জ-সাচনা বাজারের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মানের দাবী বার বার উপেক্ষিত হয়ে আসছে। এই সেতুর নির্মানের অপেক্ষায় অধির আগ্রহ নিয়ে উপেক্ষা করছে জামালগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের দু-লক্ষাধিক উপজেলাবাসী সহ ৪টি উপজেলার ১২লক্ষাধিক জনসাধারন।

সেতুটি তৈরী হলে জেলা সদরের সাথে বিভিন্ন উপজেলার সাথে কম সময়ের মধ্যে পৌছানো যাবে এবং ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। এ নদীর উপর একটি মাত্র সেতু না থাকায় জীবনের যুকিঁ নিয়ে ও র্দীঘ সময় নষ্ট করে নদী পারাপাড় হচ্ছে প্রতিদিন স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্টানের চাকুরীজীবি, ব্যবসায়ী, চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও সাধারন মানুষ। নদী পারাপড়ের জন্য দুটি ইঞ্জিন চালিত নৌকা দিয়ে বাইসাইকেল, মটরসাইকেল, ঠেলাগাড়ি, ভেনগাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন পারাপার হচ্ছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। এই সেতুর সাথে জরিয়ে আছে জামালগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও পার্শ্ববর্তী বিশ্বাম্ভরপুর, তাহিরপুর, ধর্মপাশা উপজেলা ও জেলা সদরের কয়েকটি ইউনিয়নের ১২লক্ষাধিক জনসাধারন।

জেলার ব্যবসা বানিজ্য ও হাট বাজার করার প্রান কেন্দ্র হিসাবে সাচনা বাজার প্রসিদ্ধ হওয়ায় ও জামালগঞ্জ-দিরাই রাস্তা চলাচলের অযোগ্য থাকায় এবং সময় বেশী লাগার কারনে জেলা সদরের সাথে সহজে যোগযোগের জন্য এই নদী পাড় হয়ে সাচনা-সুনামগঞ্জ সড়কটি ব্যবহার করেছেন সর্বস্তরের জনসাধারন। আর এই সড়ক দিয়ে বাস,সিএনজি,লেগুনা সহ বিভিন্ন যানবাহন সাজনা বাজার আসে লোকজন পরে নদী পাড় হয়ে জামালগঞ্জ উপজেলায় আসছে। আরো জানা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে ১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সরকারী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান। শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোতে ৮-৯শত শিক্ষার্থীর বেশি লেখাপড়া করে। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন এলাকার হাজার হাজার মা, শিশু ও বৃদ্ধ অসুস্থ রোগীরা ঝুকি নিয়ে এই নদী পাড় হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসছেন। আর এখানকার অধিকাংশ কৃষক, সবজি চাষীরা তাদের উৎপাদিত পন্য সামগ্রী বেচা কেনার সাচনা বাজার, জেলা সদর, পাশ্ববর্তি বিশ্বাম্ভরপুর, তাহিরপুর ও জেলা সদরে আসা যাওয়া করতে পারছে না নদী ব্রীজ না থাকায়।

এই সুযোগে জেলা পরিষদ থেকে লীজ নিয়ে মটর সাইকেল, ঠেলাগাড়ি/ ভেনগাড়ি জীবনের যুকি নিয়ে পারাপার করছে খেয়াঘাটের ইজারাদারগন। জেলা সদর, পাশ্ববর্তি উপজেলা গুলোর বাজারের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য জামালগঞ্জ-সাচনা বাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর সর্বস্তরের জনসাধারন স্বাধীনতার পর থেকে একটি ব্রীজ নির্মানের দাবী জানিয়ে আসছে। সড়ক ও সেতু মন্ত্রনালয় এবং এলজিইডির সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, সাচনা বাজার সেতুটির ডিজাইন করার প্রস্তাব গত ফেরুয়ারী মাসে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। এই সেতুটির ডিজাইন করা প্রস্তাব স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ে অনুমোদন হবে। অনুমোদন হলেই প্লানিং কমিটিতে পাঠানো হবে। প্লানিং কমিশনে অনুমোদনের পরই দরপত্র প্রক্রিয়ায় যাবে। স্থানীয় সাংবাদিক তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ বলেন, এই সেতুটি নির্মান হলে জেলা সদর, পাশ্বভর্তি জামালগঞ্জ, তাহিরপুর উপজেলা ও ধর্মপাশা উপজেলার সড়ক পথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হত। স্থানীয় এলাকাবাসী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীরা জানান-জামালগঞ্জ-সাচনা বাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর একটি ব্রীজ নির্মান হলে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারনের ব্যবসা-বানিজ্য ও চলাচলের পথ সুগম হবে।

বর্ষায় স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী সহ সর্বস্থরের জনসাধারন জীবনের যুঁকি নিযে নদী পার হতে হয়। এই এলাকার কৃষকগণ জানান, ব্রীজ না থাকায় আসা-যাওয়া করতে গেলে যাতায়াত খরচের পরিমান বেড়ে যাওয়া। ফলে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের কষ্টার্জিত ফসল বিক্রি করে লাভবান হতে পারছেন না। ক্ষোভের সাথে প্রবীন সাংবাদিক ওয়ালী উল্লাহ সরকার বলেন, এ নদীতে সেতু না থাকায় জরুরী কাজে পাড় হতে গিয়ে প্রচুর সময় নষ্ট হচ্ছে। রাতের বেলায় ত জরুরী ভিত্তিতে কোন রোগী নিয়ে বা সমস্যার হলে পার হতে ত দূর্ভোগের অন্ত নেই। জামালগঞ্জ-সাচনা সেতু হলে জামালগঞ্জ উপজেলা সহ ৪টি উপজেলার চিত্র বদলে যেত সহজে। ভাটির মানুষের প্রানের দাবী বাস্থবায়ন হবে কবে তা বুজতে পারছিনা। সুনামগঞ্জ ১আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন জানান, এলাকাবাসীর সুবিধার স্বার্থে জামালগঞ্জ-সাচনা বাজারের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মানের জন্য আমি সবার্ত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করি উন্নয়নের রুপকার আমার নেন্ত্রী মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে জামালগঞ্জ-সাচনা বাজার সেতুর নির্মানের বিষয়ে গুরুত্বের সাথে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com