,

কাউখালীতে জেলের ঘরে জিপিএ-৫ মঞ্জিলার পাশে সাবেক চেয়ারম্যান মনু ও শিক্ষানুরাগী খসরু

সৈয়দ বশির আহম্মেদ, কাউখালী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি ॥  শত বাধা পেরিয়ে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ১ নং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের ধাবড়ী গ্রামের হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত ইয়াকুব হোসেন ও লাল বানু দম্পতির মেয়ে মঞ্জিলা (১৬) উপজেলার সয়না রঘুনাথপুর ইজিএস স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এ বছর বিজ্ঞান বিভাগে এস,এস,সিতে জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। এই সংবাদটি অনলাইন ও জাতীয় পত্রিকায় গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়। এর আগে ফলাফল প্রকাশের পরপরই অদম্য মেধাবী মঞ্জিলার বাড়ীতে ছুটে যান উপজেলার শিক্ষানুরাগী সামাজিক উদ্যোক্তা আ: লতিফ খসরু। ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়ে ও মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে আনন্দে উৎসবে দিন কাটে মঞ্জিলা পরিবারের সাথে এই শিক্ষানুরাগী খসরুর।  তারই ধারাবাতিকতায় আজ রবিবর জেলের ঘরের আলোর ঝিলিক মঞ্জিলাকে সহায়তা দিতে এগিয়ে গেলেন ১ নং সয়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনু মিঞা। তিনি মেধাবী মঞ্জিলার হাতে উপহার সামগ্রী ও ফুলের তোড়া তুলে দিলেন। এবং এই অদম্য মেধাবী মঞ্জিলা এইচ,এস,সি পড়াশুনার সকল দায়িত্ব নিজে কাঁধে তুলে নেন।  এসময় মেধাবী মঞ্জিলার বাবা ইয়াকুব হোসেন ও মা লাল বান,ু শিক্ষানুরাগী আ: লতিফ খসরু, সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ঈমাম হোসেন, স্থানীয় যুবক নয়নসহ মঞ্জিলার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য প্রায়ই ওদের ঘরে খাবার থাকত না। তাই তো না খেয়ে রাতে পড়তে বসতে হতো মঞ্জিলাকে। অনেকদিনই না খেেেয় স্কুলে যেতে হতো হতদরিদ্র মঞ্জিলাকে। মঞ্জিলার বাবার পক্ষে কোন সময় চাল কেনার পয়সাও জোগাড় করা সম্ভব হত না। জেলে বাবার পক্ষে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয়। মঞ্জিলার বাবা ইয়াকুব হোসেন অভাবের সংসারে সন্তানের লেখাপড়া করানোর জন্য গ্রামের খালেবিলে জাল টেনে (মইলা জাল) মাছ ধরে আর সেই মাছ বাজারে বিক্রি করে যে আয় হত তাই দিয়েই চলত তাদের সংসার। ওদের কখনও ভাল খাবার ও ভাল জামাকাপড় দিতে পারে নাই মঞ্জিলার বাবা। এই অদম্য মেধাবী মঞ্জিলা একবেলা খেয়ে অন্যবেলা না খেয়ে অন্যের বাড়ীতে শিশুদের লেখাপড়া শিখিয়ে নিয়মিত স্কুলে গেছে। আর তারই ফল পেয়েছে সে। এবছর এস,এস,সিতে জিপিএ-৫ পেয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয় মঞ্জিলা। হতদরিদ্র অদম্য মেধাবী মঞ্জিলা বলে, আজ (রবিবার) মনু চাচা ও খসরু চাচা আমাদের বাড়ীতে এসে আমাকে কিছু উপহার সামগ্রী দিয়েছেন। তাতে আমি খুশি। আর আবু সাঈদ মনু চাচা (সাবেক চেয়ারম্যান) আমার এইচ,এস,সি পড়ার সকল ব্যয়ভার নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।এজন্য আমি তার কাছে চিরকৃতজ্ব। আর খসরু চাচাও আমার পাশে দাঁড়িয়ে আমাকে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমার বাবা আগামী দিনের লেখাপড়ার খরচ নিয়ে ছিলেন চিন্তিত। মনু চাচার এই সহায়তার জন্য কিছুটা হলেও নিশ্চিন্ত হলেন বাবা।

কাউখালী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি শিক্ষানুরাগী আ: লতিফ খসরু বলেন, আমরা নিজেদের সন্তানের জন্য কত কিছুই না করি। তাই মেধাবী মঞ্জিলাকে নিজের সন্তানের মতো মনে করে মেধাবী মঞ্জিলার পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি গর্বিত। আসুন আমরা সবাই মিলে যার যার অবস্থান থেকে নানা প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মঞ্জিলার মতোন মেধাবীদের পাশে দাঁড়াই। বাড়াই সহায়তার হাত। Kaukhali pk-16 m

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com