,

সিলেটে সংবাদপত্র এজেন্ট ও হকার মুখোমুখি

কমিশন নিয়ে সিলেটে সংবাদপত্র এজেন্ট ও হকাররা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে বৃহস্পতিবার থেকে প্রথম আলো পত্রিকা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন সিলেটে হকাররা। অন্যদিকে, প্রথম আলো বিক্রি না করায় হকারদের অন্য কোন পত্রিকা দেননি এজেন্টরা।

জানা যায়- প্রথম আলো পত্রিকা বিক্রির কমিশন বৃদ্ধির দাবিতে সিলেট মহানগর হকার্স সমবায় সমিতির হকাররা প্রায় একমাস ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। তারা এজেন্টদের কাছে ৫% কমিশন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বর্তমানে প্রথম আলো বিক্রি করে হকাররা ২৫% কমিশন পেয়ে থাকেন। এজেন্টরা এই দাবি মানতে অপরাগতা প্রকাশ করায় বৃহস্পতিবার থেকে প্রথম আলো বিক্রি বন্ধ করে দেন হকাররা।

সকালে হকাররা প্রথম আলো ছাড়া অন্য পত্রিকা আনতে গেলে এজেন্টরা অন্য কোন পত্রিকা বিক্রি করেননি। প্রথম আলো ছাড়া কোন পত্রিকা দেয়া হবে না বলে হকারদের জানিয়ে দেন এজেন্টরা। পরে হকাররা এজেন্টদের কাছ থেকে পত্রিকা না নিয়ে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করেন। হকার সমিতি যেসব পত্রিকার এজেন্সির দায়িত্বে রয়েছে তারা কেবল সেই পত্রিকাগুলো আজ বৃহস্পতিবার নগরীতে বিক্রি করছেন।

এদিকে, সংবাদপত্র এজেন্টরা তাদের নিজস্ব লোক দিয়ে নগরীর সকল পয়েন্টে পত্রিকা বিক্রি করছেন। পাঠকরা যাতে বঞ্চিত না হন সেজন্য তারা এ উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান।

সিলেট মহানগর সংবাদপত্র হকার্স সমবায় সমিতির সভাপতি শাহ আলম জানান- হকাররা রোদে পুড়ে-বৃষ্টিতে ভিজে পত্রিকা বিক্রি করেন। পত্রিকার কাটতি কমে যাওয়ায় হকাররা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। প্রথম আলো যে ২৫% কমিশন দেয় তা খুবই কম। হকারদের আর্তসামাজিক অবস্থার কথা চিন্তা করে তারা এজেন্টদের কাছে ৩০% কমিশন দাবি করে আসছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে তাদের দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা পত্রিকাটি বিক্রি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তারা আরও ৪টি জাতীয় পত্রিকা বিক্রি বন্ধেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে সংবাদপত্র এজেন্টরা জানিয়েছেন- যে পত্রিকা যত কমিশন দেয় তা থেকে মাত্র ১০% ভাগ রেখে বাকি তারা হকার্সদের দিয়ে দেয়। প্রথম আলো পত্রিকা ৩৫% কমিশন দিয়ে থাকে, তা থেকে হকাররা পান ২৫%। হকারদের আরো ৫% বেশি কমিশন দেয়া হলে পত্রিকার এজেন্সি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না বলে দাবি করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, হকার্সদের আন্দোলনের কারনে আজ নগরীর বেশিরভাগ পাঠক পত্রিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এনিয়ে পাঠকদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com