,

সিলেট নগরীর ৩০ মিনিটেই দখলমুক্ত ফুটপাত, ফের দখল

সিলেট নগরীর বন্দরবাজার সিটি পয়েন্ট থেকে অভিযান শুরু হয় বেলা পৌনে ৩টায়। চৌহাট্টা পয়েন্টে গিয়ে যখন অভিযান শেষ হয় তখন বেলা সোয়া ৩টা। মাত্র ৩০ মিনিটেই এই সড়কে অবৈধভাবে দখল করে রাখা ফুটপাত ও রাস্তা দখলমুক্ত করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বিশেষ টিম। তবে, অভিযান শেষ হওয়ার পর পরই হকাররা ফের ফুটপাত দখল করে বসে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

বুধবার দুপুরে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীবের নেতৃত্বে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মোঃ শরীফুজ্জামানের উপস্থিতিতেএই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

জানা গেছে, সিলেট সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত ‘বিশেষ অভিযানে’ নিয়োজিত ছিল সিটি কর্পোরেশনের একটি বুলডোজার, ৯টি ট্রাক, একটি ট্রাক্টর। সংশ্লিষ্ট শাখা প্রধান ছাড়াও কনজারভেন্সী শাখার ৫০ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানকালে রাস্তার উপরে গড়ে তোলা অবৈধ স্ট্যান্ড, হকার ও দোকানীদের গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা ও ফেস্টুন-ব্যানার অপসারণ করে ট্রাকে করে জব্দ করে নিয়ে আসা হয়।

এই অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে উল্লেখ করে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব জানান, ‘সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা নিয়ে সিলেট মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টাকে কেন্দ্র করে ধাপে ধােেপ ‘বিশেষ পরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করবে সিলেট সিটি কর্পোরেশন। এই পরিকল্পনার আওতায় পূর্ব জিন্দাবাজার থেকে মির্জাজাঙ্গাল এবং চৌহাট্টা পয়েন্ট থেকে মধুবন পয়েন্ট পর্যন্ত সড়ক পর্যন্ত ভাসমান ব্যবসা বন্ধ করা হবে।’

‘এছাড়াও এই সড়ক জুড়ে কোন অবৈধ স্থাপনা থাকবে না, যত্রতত্র আবর্জনা না ফেলা, রাস্তায় নির্মাণ সামগ্রী না রাখা এবং রাস্তায় পার্কিংয়ের ক্ষেত্রেও নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এই পরিকল্পনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে সরেজমিন নিয়মিতভাবে কাজ করবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ‘বিশেষ টিম’-জানালেন এনামুল হাবীব।

সবাই আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করলেন সিলেটকে পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব উল্লেখ করে এনামুল হাবীব বলেন ‘আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে মহানগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকার চেহারা অনেকটাই বদলে যাবে। রাস্তায় থাকবে না কোন আবর্জনা, প্রশস্ত ফুটপাত দিয়ে স্বচ্ছন্দ্যে হেঁটে যাবেন নগরবাসী। যত্রতত্র পার্কিং না করার কারণে যানজট থেকেও কিছুটা স্বস্তি পাবেন নাগরিকরা।’

সিটি কর্পোরেশনের চিফ কনজারভেন্সী অফিসার মোঃ হানিফুর রহমান জানান, ‘বন্দরবাজার এলাকা থেকে চৌহাট্টা পর্যন্ত সড়কজুড়ে গৃহিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কনজারভেন্সী বিভাগের ‘বিশেষ টিম’ অব্যাহতভাবে কাজ করবে, সিটি কর্পোরেশনের গৃহিত পরিকল্পনা সম্পর্কে ইতোমধ্যে এই এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে।’

হানিফুর রহমান জানান, ‘এই সড়কজুড়ে যাতে ময়লা আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলা হয় সেজন্য এই সড়কজুড়ে অচিরেই সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিশেষ ধরণের অর্ধশতাধিক ‘বিন’ স্থাপন করা হবে। পথচারীরা ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা এই ‘বিন’এ প্যাকেটজাত, বোতলজাত, অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সকল প্রকার দুর্গন্ধবিহীন ময়লা ফেলতে পারবেন।’

এদিকে অভিযান চলাকালেই সিটি কর্পোরেশনের এই অভিযানকে স্বাগত জানান বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা এলাকার বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। অবৈধ স্ট্যান্ড ও ভাসমান ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ব রোধ করতে কড়া নজরদারি রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com