,

লক্ষ্মীপুরে জেঁকে বসছে শীত, বাড়ছে লেপ-তোষকের কদর

কিশোর কুমার দত্ত, লক্ষ্মীপুর: ঋতু পরিক্রমায় লক্ষ্মীপুর জেলার প্রত্যান্ত অঞ্চলে আবহাওয়ার ব্যাপক পরিবর্তন দেখা দিয়ে শীত জেঁকে বসতে শুরু করেছে। রাত শেষে ভোরে আলো ফুটলেও কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে থাকে চারপাশ। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত শীত অনুভব হলেও গত সপ্তাহ থেকে শীতল ঠান্ডা হাওয়া বইছে। সন্ধ্যা নামলেই গরম কাপড় পড়তে হচ্ছে এ অঞ্চলের মানুষদের। সব মিলিয়ে শীত আর হিমেল হাওয়া জেকে বসতে শুরু করেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে শীতের বার্তার সাথে সাথে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন লেপ-তোষক তৈরির কারিগররা। বাড়ছে লেপ-তোষকের কদর। সদর উপজেলার কয়েকটি লেপ-তোষকের দোকান ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, শীতের প্রস্ততি হিসেবে আগেই লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার দিয়ে রাখছেন অনেকে। লেপ-তোষক তৈরির কারিগরদের ব্যবসায়ীক মৌসুম শীতকাল হওয়ায় নিজেদের কাজে সার্বক্ষণিক ব্যস্থ সময় পার করছে তারা। আর সাধারণ মানুষ শীত থেকে রক্ষা পেতে অগ্রিম প্রস্তুতি হিসেবে লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার দিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এবার লেপ তৈরির কাপড় ও তুলার দাম তুলনামূলক একটু বেশি হওয়ায় গ্রাহকদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

লক্ষ্মীপুর পৌর চকবাজারে লেপ তৈরির অর্ডার দিতে এসে সিরাজ বলেন, সারা দিনে হালকা কাপড় পড়লেও সন্ধ্যার পর গরম কাপড় পড়তে হয়। আর বর্তমানে রাতে কাঁথা বা চাদর গায়ে জড়িয়ে ঘুমাতে হয়। কয়েকদিন আগেও রাতে ফ্যান চালিয়ে ঘুমাতে হয়েছে। এবার শীতের শুরুতেই যে দাপট দেখা যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে সামনে প্রচুর ঠান্ডা পড়বে। তাই শীতের অগ্রিম প্রস্ততি হিসেবে লেপ তৈরির অর্ডার দিতে এসেছি।

কলেজ রোড এলাকার লেপ-তোষক তৈরির কারিগর সাহেদ বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার কাপড় ও তুলার দাম একটু বেশি। এ কারণে লেপ-তোষক তৈরিতে অতিরিক্ত টাকা লাগছে। বর্তমানে প্রকার ভেদে লেপ-তোষক তৈরির কাপড় প্রতি গজে ১০ থেকে ৩০ টাকা দাম বেড়েছে। এছাড়া শিমুল তুলা প্রতি কেজি ৪’শ থেকে ৪৫০ টাকা, কার্পাস তুলা প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩’শ টাকা, প্রতি কেজি কালো হুল ৭০ থেকে ৮০ টাকা। কালো রাবিশ তুলা ৩০ থেকে ৪০ টাকা, সাদা তুলা ৯০ থেকে ১শ টাকা করে দাম চলছে। আকার অনুযায়ী লেপ-তোষক তৈরিতে ৩’শ টাকা থেকে ৭’শ টাকা পর্যন্ত মজুরি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একটি ভালো মানের লেপ তৈরি করতে খরচ হচ্ছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। এছাড়া ভালো মানের তোষক তৈরিতে গত বছর দেড় থেকে দুই হাজার টাকা লাগলেও এবারে তা বেড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫টি লেপ-তোষকের অগ্রিম অর্ডার পেয়েছি। তাই সার্বক্ষণিক কাজেই ব্যস্থ থাকতে হচ্ছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com