,

ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু আশঙ্কায় লক্ষ্মীপুরে সতর্কতা জারি

উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ এর সম্ভাব্য আঘাত মোকাবেলায় মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) সন্ধ্যা থেকে দু’উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে এলাকাবাসীকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে আসার জন্য। উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে খোলা হয়েছে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। রামগতি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সন্ধ্যায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শফি কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় উপজেলার বিভিন্ন বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম শফি কামাল জানান, ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জানিয়ে উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় ইউনিয়ন চরআলেকজান্ডার, চরআলগী, চররমিজ ও বড়খেরী ইউনিয়নে মাইকিং করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে।

কমলনগর উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহাবুবুল আলম মজুমদার জানান, বিকেলে দুর্যোগ প্রতিরোধ কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উপজেলার মেঘনা উপকূলীয় ইউনিয়ন চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চরফলকন ও পাটারীরহাটে মাইকিং করানো হচ্ছে। ওইসব এলাকায় সাইক্লোন শেল্টারগুলো প্রস্তুত রাখা পাশাপাশি তার কার্যালয়ে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) রামগতি ও কমলনগর উপজেলা টিমলিডার মো. মাইন উদ্দিন খোকন জানান, যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি রামগতি ১০১ ইউনিটের এক হাজার ৫১৫ জন এবং কমলনগর উপজেলার ৬৩ ইউনিটের ৯৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছেন। উল্লেখ্য, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলায় বিকেল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৩৬৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিম, কক্সবাজার সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ৩৩৫ কিমি দক্ষিণপশ্চিম, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ১৮৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ১ হাজার ২১৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এ ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এজন্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মংলা ও পায়লা সমুদ্র বন্দরসহ উপকূলীয় এলাকায় ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সঙ্কেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com