শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ১০:০৭ পূর্বাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :


কবি অয়ন আহমেদ-এর সাক্ষাৎকার

কবি অয়ন আহমেদ-এর সাক্ষাৎকার



২০১৮ সালের একুশে বই মেলায় জেব্রাক্রসিং প্রকাশন প্রকাশ করেছে কবি অয়ন আহমেদ-এর প্রথম কবিতাগ্রন্থ ‘রৌদ্রজলের কাল’। একই সাথে তিনি কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক এবং অনুবাদকও। সাহিত্য সমালোচনাতেও তিনি বেশ সিদ্ধহস্ত । সাহিত্যের অনেক শাখায় তাঁর বিচরণ থাকলেও মূলত কবিতায়ই তিন বেশ স্বাচ্ছ্ন্দ্য।   সম্প্রতি এই অসামান্য প্রতিভার মুখোমুখী হয়েছেন সময়ের প্রতিভাবান কবি অনিরুদ্ধ দিলওয়ার।

অনিরুদ্ধঃ ‘রৌদ্রজলের কাল’ আপনার প্রথম কবিতাগ্রন্থ। আপনার অনুভূতি কি?
অয়ন আহমেদঃ যে কোনো বহিপ্রকাশ ও প্রচার ইতিবাচক পরিণতি দ্বারা ঋগ্ধ থাকলে তার আনন্দের একটি মাত্রা থাকেই। সে অর্থে কবিতার গ্রন্থ একটি আশাপ্রদ ও কল্পনার একটি অবকাঠামোগত দিক ও প্রদিকের উম্মেষ। আমি আনন্দবোধ করছি। সুদূর সময়ের নিরিখে দ্বন্ধে,দোলায় আমিও ভুগছি।

অনিরুদ্ধঃ কবি ও কবিতা বিষয়ে আপনার মূল্যায়ন কি?
অয়ন আহমেদঃ বরাবরই কবিতার সমকালীনতা নিয়ে আমি বিশ্বাসী নই। কেন না কবি ও কবিতা কখনোই সর্বতভাবে সমকাল দ্বারা সর্বাংশে তাড়িত নয়। সমকালের একটি চতুর্পাশই আদতে আবছাভাবে কবিতার গায়ে লেপটে থাকে। কিন্তু কবিতা যে দূর উদ্দেশ্য নিয়েও চলে বিষয়টি সরলভাবে স্বীকারও করা যায় না। কবিতা কি ভাষা দ্বারা তাড়িত হবে? প্রায়ই আমরা যে কবির দশক বিভাজন করি তা অনেকখানি কিন্তু ভাষার বহিঃপ্রকাশের দ্বারা প্রভাবিত বলে। তবে কি কবিতা ভাষার দ্বারা চতুর্বন্ধ সত্তা! ব্যক্তিগতভাবে আমার মনে হয়েছে নাটকে সেটা চলে কবিতায় সেটা চলতে পারে না। আজকের কবি-লেখকের ভাবনা থেকে মনে হয়, কবিতাকে তারা নাট্যমণ্ডিত কিছু ভাবেন। কবি ও কবিতার যে জগত তা অনেখানিই পরস্পরের জগতের একটি রূপ- খুব সমারূঢ স্বরূপ সেটির। কবিতায় কবিকে কিংবা কবির চোখে কবিতাকে দেখা যায়। আজকের কবিরা সে অর্থে হয়তো নয়, কিন্তু অসংখ্য লাইন লিখেছেন, সেগুলো কবিতা। হয়ত দিন বদলেছে, ধ্যান-ধারণাও বদলেছে। অবশ্য পাঠক হিসেবে আমিও শুধু তাদের লাইনগুলোকেই লালন করি, কবিকে সে অর্থে নয়।

অনিরুদ্ধঃ কেন আপনি কবিতা লেখেন ?
অয়ন আহমেদঃ প্রশ্নটি কিছুটা ক্রিপটিক, যদিও নতুন কিছু জিজ্ঞাসা নয়। এই সুযোগ নিয়ে একটি ভাষ্যের মতো কিছুতো বলে থাকেন কেউ কেউ। আমার কাছে মনে হয়েছে কবিতার তাড়না থেকেই কবিতা লিখেছি। নিজের তাড়নায় লিখে উঠিনি। না হলে এখনো নিজের লিখবার তীব্র ইচ্ছে পোষণ থেকেও বছর বছর লিখে উঠতে পারিনে।

অনিরুদ্ধঃ কবিতার প্রতি আপনার দায়বদ্ধতা কতটুকু ?
অয়ন আহমেদঃ যে সত্তা কবি বানিয়েছে, তার প্রতি একটি রোখ ছাড়া অন্য কোন দায়বদ্ধতা খুঁজে পাই না। ও দিক থেকে দেখতে গেলে তো Art for Art’s sake হয়ে উঠেনা।

অনিরুদ্ধঃ আপনি কি মৌনকবিতা লেখতে পছন্দ করেন বেশি?
অয়ন আহমেদঃ যখন যেভাবে আসে সেভাবেই- তবে ব্যক্তিক ভাষাটি হয়তো শোনায় মৌন।

অনিরুদ্ধঃ সমকালীন কবি কবিতা ও সাহিত্য বিষয়ে আলাদাভাবে কিছু বলুন।
অয়ন আহমেদঃ কবিতা হল কবিতা। এটা যদি হয় একটি সত্তা, মনে করুন যা আপনাকে জীবনে প্রথম তাড়িত করেছিলো, যে বোধটি নিছকই আবিষ্কারের অরূপ শুভ্রতার। মহাকবি বাল্মিকীর প্রথমবোধ স্মরণ করলে আপনি সেটা বুঝতে পারবেন। কোনোভাবেই এই জায়গাটিকে আপনি ‘আড়াল’ শব্দ দ্বারা আড়াল করতে পারবেন না। কারণ আপনি পূর্বে ‘আড়াল’ ছিলেন, এখন না। এখন আপনি আলোর মতো। তাহলে কবিতায় রহস্য থাকতে হবে কেন, আর রহস্য আদৌ মিস্টেক কিনা সেটা ও ভেবে দেখতে হবে। রহস্য তো মেকি বা মিথ্যে হতে পারে। কবিতা অলিক হলেও মিথ্যে কিছু নয়। তাই কবিতায় রহস্যারোপ একটি হিপোক্র্যাসি বলে জানি। এই রহস্যের টোপে পড়ে তারা জগত থেকে টপকে শব্দ জাটিল্যে ভোগেন এবং জটিল শব্দের জগতকে মনে করেন তার কবিতার জগত।

অনিরুদ্ধঃ বর্তমানে কবিতার স্বর্ণযুগ চলছে বলে অনেকের দাবি। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি?
অয়ন আহমেদঃ কথাটা অনেকাংশে ঠিক ।তবে বাংলা যেভাবে সার্বজনীন একটি ভাষা, সে অর্থে বলা চলে না ।আমরা ভাষিক সম্প্রদায় হিসেবে যে গরিষ্ঠতায় পৌঁছেছি সে অর্থে আমাদের সাহিত্য পৌঁছেনি। আন্তর্জাতিকতা আমাদের কবিতায় এখনো মডেল হয়ে ওঠেনি, এক্সপেরিমেন্টের ভিতর রয়েছে। যারা ভালো লেখক তারা ও কবিতার সাম্প্রদায়িকতাভারে কৃষ্ট। হয়তো কবিতা পাচ্ছি; কিন্তু সে অর্থে কবি খুঁজে পাচ্ছি না।

অনিরুদ্ধঃ সমকালীন বাংলা কবিদের মধ্যে কাদের লেখা আপনাকে নাড়া দেয়?
অয়ন আহমেদঃ নাড়া দেয় বলতে সমগ্র আকাশটা সার্বিক বা নির্বিশেষ এভাবে তেমন কাউকে পাই নি। এখন কবিতায় বর্ণনার একটা বেলা চলছে- সে অর্থে এ মেলায় অসংখ্য কবি’র কবিতাই ভালো লেগেছে। এছাড়া গত মেলায়-শামীম আরেফীন, শাহ মাইদুল ইসলাম ও এবারের সোহেল হাসান গালিব, শামস রুবেল প্রমুখ এ মুহূর্তে আর নাম মনে পড়ছে না।

অনিরুদ্ধঃ কবিতা ছাড়া আর কি কি লিখেন? কোনটাতে স্বাচ্ছ্ন্দ্যবোধ করেন বেশি?
অয়ন আহমেদঃ যদি শুধু কবিতাই লেখা ছাড়া অন্য কিছু না হতো তবে বেশ গর্বিত হতে পারতাম। কিন্তু একটু-আধটু গদ্যেও মনের খামতি ছড়িয়েছে, সেটিও না বলেও থাকা যায়না , প্রবন্ধ ও ছোট গল্পেও অধিকারটা আছে।

অনিরুদ্ধঃ যতোটুকু জানি আপনি অনেকদিন থেকে লেখেন। আপনার সাহিত্যভাণ্ডার ও বেশ সমৃদ্ধ। লেখা প্রকাশে বোধকরি একটু দেরি করে ফেলেছেন, কেন ?
অয়ন আহমেদঃ বই প্রকাশটা আসলে একটা সামর্থের ও প্রকাশ। লেখালেখি আর সামর্থটা অনেক সময়ে কাছাকছি হয় না। একটা বইয়ের জন্য কিছু গোছানোর ব্যাপার থাকে। আক্ষরিক অর্থে আমার কবি বন্ধুরা যদি এতখানি কষ্ট স্বীকারপূর্বক গুছিয়ে না দিতেন এবারে বই করা সম্ভব হতো না। ব্যক্তিগত জীবনে আমি খুবই অগোছালো।

অনিরুদ্ধঃ আপনার রৌদ্রজলের কাল সম্মন্ধে নির্দিষ্ট করে কিছু বলুন।
অয়ন আহমেদঃ কবিদের নাকি কবিতার পেছনে অনুপ্রেরণাদায়ী থাকে। ব্যক্তিগতভাবে কবিতাই আমার অনুপ্রেরণা। কবিতা থেকেই আমার কান্না জল অনিদ্রা সকল। কবিতার জন্য যতটা মরেছি কোনোদিন মনে পড়েনা প্রেমিকার জন্য কুদেছি। ‘রৌদ্রজলের কাল’ কবিতার জন্য কবিতা-শুধু এটুকু বলবো। তবে প্রশ্ন থাকতে পারে কবিতা হয়ে উঠেছে কিনা। বর্ণনার নান্দনিকতার বাইরে একটা সত্তা মনে হয় বইটিতে পাওয়া যেতে পারে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com