রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন

English Version
জাতীয় শিশু দিবস ও শিশুর নিরাপত্তা

জাতীয় শিশু দিবস ও শিশুর নিরাপত্তা

National children's day 2018 bd



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সফিউল্লাহ আনসারী # শিশুরাই জাতীর ভবিষ্যত, আগামী সম্ভাবনার কর্ণধার । শিশু মাত্রই নির্মলতা আর পবিত্রতার প্রতিচ্ছবি। শিশুরা নিষ্পাপ নিরপরাধ। শিশুর প্রতি মমত্ববোধ নেই এমন মানুষ খুব কমই আছে। পরিবারে সকলের প্রিয় ও আদরের পাত্র মানেই শিশু । হোক সে ছেলে অথবা মেয়ে। শিশুর প্রতি ভালোবাসার কোন হিসেব বা একটি দিনে সীমাবদ্ধতা নেই। শিশুর প্রতি আমাদের মমত্ববোধ সকল সময়, সকল অবস্থায় এবং অবস্থানে খুবই আবেগী। শিশুর সবচেয়ে নিরাপদ ও আস্থার জায়গা তার মা-বাবার কোল, তার পরিবার। শিশুর নিরাপত্তায় সমাজের দায়বদ্ধতাও অনেক। কারন একজন শিশু শুধু তার পরিবারই নয়, সে বেড়ে উঠে তার সমাজে। সমাজের কৃষ্টি-কালচার, নিয়ম-কানুন, সমাজের প্রতি তার কর্তব্য বিভিন্নভাবে শিশুরাও সমাজ দ্বারা প্রভাবিত।

শিশুর প্রতি আদর-ভালোবাসার কমতি না থাকলেও বর্তমানে আমাদের সামাজিক পরিবর্তনের প্রভাব আর অপরাধ প্রবণতার ঘৃন্য কিছু ঘটনা আমাদের বিবেকবোধকে দংশিত করছে। লজ্জায় মাথা নিচু হচ্ছে শিশুর প্রতি অমানবিক আচরনের কারনে। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ভালুকায় এক শিশুর শিক্ষক কর্তৃক প্রথমে শারিরিক নির্যাতন ও অমানবিকতায় নির্যাতিত শিশুটির মৃত্যু শুধু ভালুকা নয় সারা দেশের মানুষকে দুঃখ দিয়েছে, করেছে মর্মাহত, বিবেককে তাড়িত করেছে প্রবলভাবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু হত্যার বিচার চেয়ে এই ঘৃণ্য কাজের প্রতি নিন্দার ঝড় বইছে। শিশু হত্যার মতো পৈশাচিকতা এই আধুনিক ও সভ্য সমাজে কোনভাবে কাম্য নয়। বরং ঘৃনা ও সবচেয়ে বড় অপরাধ।

আধুনিক সভ্য সমাজে শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ প্রবনতা কেনো? শিশুর প্রতি দুর্বলতা, শিশুর অসহায়ত্ব এবং সরলতা অন্যতম কারন হিসেবে মনে করা হয়। কারন শিশুর প্রতি মানুষের আবেগ বেশী কাজ করে, তাই অপরাধীর টার্গেট কোমলমতি শিশু। সামাজিক ও পারিবারিক মুল্যবোধের অভাব, অপ্রতিরোধ্য শিশু শ্রম, পরকীয়া, স¤পদের লোভ, বেকারত্ব, ভিনদেশী কালচার-সংস্কৃতিতে বিদেশী প্রভাব, অনলাইন প্রযুক্তিতে পর্নোগ্রাফির প্রসার ও সহজলভ্যতা, বেপরোয়া জীবন-যাপন, পাচার, কর্তৃত্বের বিরোধ-শত্র“তা, ব্যক্তি স্বার্থপরতা ইত্যাদী নেতিবাচক প্রভাবে সমাজের বিবেকবর্জিত কতিপয় নোংরা মস্তিস্কের লোক শিশুদের প্রতি নৃসংশ আচরনে স¤পৃক্ত হচ্ছে । নতুনভাবে যোগ হয়েছে শিক্ষক কর্তৃক কোমলমতি শিক্ষার্থীকে হত্যার মতো জঘণ্যতা।

আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ আমরা প্রায়ই বলে থাকি। শিশুরাই আগামী দিনে সমাজ গড়ার কারিগড়।কোমলমতি এসব অবুঝ শিশুরাই শিকার হচ্ছে খুন, ঘুম, অপহরণ, নির্যাতনসহ বিভিন্ন নির্যাতনের। নিষ্পাপ শিশুরা সংসারের বন্ধনকে অটুট করে। অথচ দুর্বলতার সুযোগে আজ দুর্বৃত্তদের ঘৃণ্য টার্গেট কোমলমতি শিশু। শিশুর প্রতি অমানবিকতা সমাজে সৃষ্টি করে মানবিক বির্পযয়। শিশু অপহরণ, শিশু শ্রম, শিশুর প্রতি বৈষম্য, অত্যাচার ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ইদানিং উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। বর্তমান সময়ে সমাজের জন্য আতংকের বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুর প্রতি বর্বরতা শিশু শিক্ষার প্রতি হুমকি এমনকি অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের (ধর্মীয়) আবাসিক প্রতিষ্ঠানে দিতে আতংকগ্রস্থ।
১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বাংলাদেশে জাতীয় শিশু দিবস পালিত হয়। এ উপলক্ষে নানা আয়োজনে মুখরিত থাকে শিশু সমাজ। শিশুর প্রতি মমত্ববোধ জাগাতে একটা সুযোগ এ দিনটি গুরুত্বপুর্ণ।

এই সময়ে বাংলাদেশে শিশুদের নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হয়ে পড়ছে। শিশুর প্রতি আবেগ-অনুভূতির কারনে এসব শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সমাজ-রাষ্ট্রের অসহায়ত্ব প্রকাশ পায়। স্বার্থান্বেসী কতিপয় বিবেকহীন অপরাধীর হিংস্রতা, শিশুর উপর নির্মম ও বর্বরোচিত আচরন মানবতাবোধকে দংশিত করছে। মানবিকতার চরম লজ্জাকর পরিস্তিতিতে আমরা পড়ে যাই যখন আমাদের সমাজে আমাদেরই শিশু সন্তান নির্যাতিত হয়। আমাদের দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন বিরোধী আইন রয়েছে । ধর্মীয় নির্দেশায় রয়েছে শিশুর প্রতি মমত্ববোধের বিষয়। শিশুর জন্মের প্রথম দিন থেকে পরিণত বয়সে উপনীত হওয়া পর্যন্ত তার লালন-পালন,শিক্ষা-দীক্ষা ও তার জীবনের উত্তম বিকাশের জন্য মা-বাবার প্রতি বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে। নবী (সা:) বলেছেন-‘যে ব্যক্তি ছোটকে স্নেহে মমতা করে না এবং বড়কে সম্মান দেখায় না, সে আমার উম্মত নয়’- (বোখারি)। শুধু ইসলাম ধর্মেই নয় অন্যান্য ধর্মে শিশুর প্রতি স্নেহ-মমতার নির্দেশ রয়েছে।

শিশুর প্রতি দুর্বলতা নেই এমন ব্যাক্তি খুব কমই আছে। তারপরও ইদানিং শিশু নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে গেছে।মা-বাবা কর্তৃক সন্তান হত্যার মতো অমানবিক ঘৃণ্য ঘটনা সত্যিই সভ্য সমাজের বুদ্ধিমান জীব হিসেবে মানুষকে বিবেকহীনতায় নিক্ষেপ করে। যা কখনোই কাম্য নয়। শিশুর প্রতি মানুষের আবেগ বেশী কাজ করে বলেই অপরাধীদের শিকার কোমলমতি শিশু। শিশু হত্যা ও নির্যাতনের মতো ঘটনা থেকে বাঁচতে আমাদের ধর্মীয় মুল্যবোধকে জাগ্রত করে পারিবারিক বন্ধনে শিশুকে সুনজরে রেখে তাদের সার্বিক মঙ্গল কামনায় সদা জাগ্রত থাকতে হবে তবেই শিশু দিবসের স্বার্থকতা আসবে। বিকৃত মানসিকতার পরিবর্তনে এবং শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে সামাজিক সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ সামাজিক আন্দোলনে গড়ে তুলতে হবে। তার সাথে পারিবারিক বোঝাপড়া ও শিশুর প্রতি সহমর্মিতার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।

“ বিশ্বব্যাপী শিশুদের সম্মান করতে দিবসটি পালিত হয়। শিশু দিবস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময় পালিত হয়ে থাকে, বিশ্বব্যাপী শিশুদের সম্মান করতে। শিশু দিবসটি প্রথমবার তুরস্কে পালিত হয়েছিল সাল ১৯২০র এপ্রিল ২৩ তারিখে। বিশ্ব শিশু দিবস নভেম্বর ২০শে উদযাপন করা হয়, এবং আন্তর্জাতিক শিশু দিবস জুন ১ তারিখে উদযাপন করা হয়। তবে বিভিন্ন দেশে নিজেস্ব নির্দিষ্ট দিন আছে শিশু দিবসটিকে উদযাপন করার।” বাংলাদেশে ১৭মার্চ পালিত হয় শিশু দিবস। (উইকিপিডিয়া)

জাগ্রত হোক মানবিক মুল্যবোধ, বন্ধ হোক শিশুর প্রতি সহিংসতা। শিশুকে তার প্রাপ্য অধিকার দিয়ে তার প্রতি আমাদের মমত্ববোধ বাড়িয়ে আসুন সচেতন হই। সচেতনতাই অনেকাংশে শিশু জীবন সুরক্ষায় কার্যকরি ভুমিকা রাখতে পারে। ফুলের মতো জীবনের অধীকারী শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা ও তাদের অধীকার আদায়ে- শিশু নিরাপত্তা আইনের প্রয়োগ সময়ে দাবী। শিশুর জীবনের হুমকি মোকাবিলায় এবং তাদের সুরক্ষার জন্য পরিবারের ভুমিকার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহন করা অতীব জরুরী। শিশু দিবস স্বার্থক হবে শিশুর নিরাপত্তায়, শিশুর প্রতি সহনশীল আচরন আর ভালোবাসায়।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com