,

সাংবাদিক উৎপল দাস কোথায়?

এম নজরুল ইসলাম # রাজধানীর মতিঝিলে অফিস থেকে বের হওয়ার পর থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন সাংবাদিক উৎপল দাস। গত ১০ অক্টোবর নিখোঁজ হবার পর ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও তাকে উদ্ধারের কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া এখনো দৃশ্যমান হয়নি। উৎপল দাস নিখোঁজের ঘটনায় দিন দিন রহস্য বেড়েই যাচ্ছে। তিনি কি নিজে থেকেই আত্মগোপনে আছেন, নাকি তাকে অপহরণ করা হয়েছে, নাকি অন্যকিছু, এনিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজে।

সাংবাদিক উৎপল দাস নিখোঁজের ঘটনায় ২২ অক্টোবর মতিঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছে অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিম কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আজতক পর্যন্ত তাকে উদ্ধারে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর প্রক্রিয়া দৃশ্যমান না হওয়ায় বেড়েছে হতাশা। নিখোঁজের পর থেকে সাংবাদিক উৎপল দাসের দুটি মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। উৎপল দাসকে খুঁজে বের করতে প্রযুক্তির ব্যবহার করছে পুলিশ। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কললিস্টের রেকর্ড ও লোকেশন বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বশেষ ধানমন্ডি এলাকায় উৎপলের মোবাইল সচল ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। অনলাইন নিউজ পোর্টাল পূর্বপশ্চিমবিডি ডট নিউজের সিনিয়র রিপোর্টার উৎপল দাস (২৯) নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার থানাহাটি এলাকার চিত্ত দাসের ছেলে। তিনি রাজধানীর ফকিরাপুল এক নম্বর গলিতে ভাড়া বাসায় থাকতেন।

কয়েকটি সংবাদ মাধ্যম বলছে, সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎ উৎপলের মোবাইল নম্বর থেকে কল আসে তার বাবা চিত্তরঞ্জন দাসের কাছে। অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, উৎপল দাস তাদের কাছে আটক আছে। এক লাখ টাকা দিলে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে। উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস এ তথ্য জানিয়ে বলেছেন, নিখোঁজের পর থেকেই তার ছেলের ফোন বন্ধ ছিল। সোমবার হঠাৎ ওই নম্বর থেকে কল করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, তাদের কথা শুনে আমি বলেছি, আগে আমার ছেলের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিন। তার সঙ্গে কথা বলার পর আপনারা যেখানে বলবেন সেখানে টাকা নিয়ে আসবো। তখন ওরা লাইন কেটে দেয়। পরে বিষয়টি উৎপলের বন্ধু রাজীবের মাধ্যমে পুলিশকে জানানো হয়েছে। এদিকে, মতিঝিল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) গোলাম রব্বানি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাংবাদিক উৎপল দাসের খোঁজে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে তদন্ত করে বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত আমরা সাংবাদিক উৎপল দাসের কোনো সন্ধান পাইনি। তবে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমরা তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছি। উৎপলের বাবা চিত্তরঞ্জন দাস জিডিে উল্লেখ করেছেন, গত ১০ই অক্টোবর দুপুরে তার ছেলের সঙ্গে বিমলা রানী দাসের মোবাইল ফোনে কথা হয়। তখন উৎপল অফিসে ছিল। এরপর বিকাল থেকে তার মোবাইল ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। জিডি করার কথা জানিয়ে অনলাইন পোর্টাল পূর্বপশ্চিম সম্পাদক খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন বলেন, গত ১০ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে কাজ শেষে অফিস থেকে বের হন উৎপল দাস। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ। উৎপল নিখোঁজের ঘটনায় দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং তাকে উদ্ধারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি জানিয়েছেন।

এক যুক্ত বিবৃতিতে সাংবাদিক সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-ডিইউজের নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে উৎপল দাসের সন্ধান দাবি করা হয়। একই বিবৃতিতে গাজীপুরের টঙ্গী থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া সাংবাদিক আবুুল বাসার নুরুর মুক্তি দাবি করেন সাংবাদিক নেতারা। বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিইউজে সভাপতি শাবান মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, গত ১০ অক্টোবর থেকে উৎপল দাস নিখোঁজ হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ না পাওয়া উদ্বেগজনক। উৎপল দাসের সন্ধান চেয়ে একাধিক সাধারণ ডায়েরি করা হলেও তাকে উদ্ধারের কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া এখনো দৃশ্যমান হয়নি। টঙ্গী থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন আবুল বাসার নুরু। তিনি অসুস্থ জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে আবুল বাশার নূরুর নিঃশর্ত মুক্তি ও উৎপল দাসকে উদ্ধারে দ্রæত পদক্ষেপ নিতে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। দু’টি ঘটনার ইতিবাচক নিষ্পত্তি চেয়ে সরকার, বিচার বিভাগ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

লেখক : সাংবাদিক, বগুড়া।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com