,

ঈদ উৎসবের আনন্দ হোক সবার

সফিউল্লাহ আনসারী # ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মানে খুশি। বছর ঘুরে একবার আসে ঈদুল ফিতরের ঈদ। ঈদ মানেই বিশাল উৎসব। বাংলাদেশে যেমন রয়েছে নানা জাতী ধর্মে মানুষের বাস ঠিক এই ভিন্ন জাতি গোষ্টির রয়েছে আলাদা ধমীয় উৎসব। বিশ্বের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশেও ঈদ উৎসব যেমন রয়েছে আলাদা ঐতিহ্য অন্য দিকে রয়েছে ধর্মীয় ভাবগার্ম্বিযের মতো বিশ্বাসের একটা বিষয়। ইসলাম শুধু ধর্ম নয় জীবন ব্যাবস্থাও। এদেশের ভিন্ন জাতীর গোষ্ঠির উৎসবগুলোও আমাদের আনন্দে ভাসায়,মেল বন্ধনে করে একিভূত। জাতী ধর্ম ভূলিয়ে সকল ব্যবধান ঘুচিয়ে এক করে দেয় ঈদ।

বিশ্ব মুসলিমের সবচেয়ে বড় উৎসবের মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতর অন্যতম। দ্বীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর মুসলিমের ঘরে আনন্দের বারতা নিয়ে আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর।পশ্চিশ আকাশে বাঁকা চাঁদের আগমনে এ খুশি ছড়িয়ে পড়ে সবখানে। ধনী-দরিদ্র, উঁচু-নিচু সবার জন্যই ঈদ বয়ে আনে অন্তহীন খুশির জোয়ার। ভেদাভেদহীন এই আনন্দ নির্মল পবিত্রতার পরশ ছড়িয়ে যায় সর্বত্র।

ঈদ আরবী শব্দ। ঈদের শাব্দিক অর্থ আনন্দ-খুশি। মুসলমানদের দু‘টি খুশির দিন হচ্ছে হচ্ছে ঈদুল ফিতর আর ঈদুল আজহা। এ দু’টি দিবসই অত্যন্ত মর্যাদাশীল, আনন্দ ও খুশি আর ইবাদতেরও দিন । সিয়াম সাধনা শেষে আনন্দময় উৎসব ঈদুল ফিতর আসে বিভেদহীন সমাজ বিণির্মানের শিক্ষা নিয়ে প্রতিটা মুসলিমের ঘরে ঘরে। ঈদ শুধুই আনন্দ আর ফুর্তির জন্য নয় এতে আছে ইবাদতের মর্যাদাও। তাই ঈদুল ফিতর আমাদের বিভেদহীন সমাজ গঠনের মানুষের কল্যাণ আর ইহ ও পরকালীন শান্তির বার্তা দিয়ে যায়। আমাদের প্রত্যাহিক কাজ-কর্মে এই শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি কামনা ও আমাদের জীবনে মঙ্গল খোঁজে নিতে পারি ঈদকে উপলক্ষ করে।

ঈদের আনন্দে রয়েছে নির্মল পবিত্রতার পরশ। ঈদ আসে খুশির প্লাবনে ভাসাতে, ঈদ আসে আনন্দের উচ্ছলতায়, ঈদ আসে প্রার্থনা আর ক্ষমার বারতা নিয়ে। কথা হলো আমরা কতোটুকু ত্যাগ করতে পারলাম, ঈদের শিক্ষা থেকে কতোটুকু বাস্তবায়ন করতে পারলাম নিজের জীবনে। ঈদ কি শুধু নিজের আনন্দ আর খুশি? না । প্রতিবেশী,গরীব-দু:খীর পাশে দাড়িয়ে তাদের সুখ-দু:খে একাত্ব হয়ে সকলের খুশিতে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারাতে ঈদের আনন্দ নিহিত। সমাজের সকল ভেদাভেদ ভুলে একে অপরকে বুকে টেনে নিয়ে সাম্য-ভ্রাতৃত্ব, সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ক্ষমা আর ভালোবাসায় মহা মিলনের এই ক্ষনকে স্বার্থক করা। সত্য আর সুন্দরে নিজের জীবন এবং সমাজকে গড়তে হবে ঈদের শিক্ষায়।

রহমত,মাগফেরাত আর নাজাতের এই পবিত্র রমজান মাস জুড়ে কতোটুকু সংযমী হয়েছি তা জীবন চলার পথে সকল পাপ আর নেতিবাচক প্রবণতা থেকে রক্ষা করবে সে কামনা মহান আল্লাহর কাছে। ধর্মীয় শিক্ষায় নিজেকে সঠিক পথে পরিচালিত করে অন্যায়-অবিচার, ঘৃণা-বিদ্বেষ, হিংসা-হানাহানি ত্যাগ করে মহান ঈদের শিক্ষায় আমাদের জীবন গঠন করাতেই স্বার্থকতা। ঈদ এলো আর গেলো আমরা কোনরকম আদর্শে নিজেকে সুধরাতে পারলামনা তা এক প্রকার হেরে যাওয়া। মানুষে-মানুষে যে বন্ধন তাতে যেনো থাকে সত্য-ন্যায়ের চেতনা।

উৎসব যেহেতু একা উদযাপনের বিষয় নয় তাই মুসলমান সম্প্রদায়ের এই ঈদ ইৎসব যেনো সব ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের,প্রতিবেশীদের মাঝে সার্বজনিনতা নিয়ে আসে সে দিকে খেয়াল রাখাও দরকার। কারন আমার প্রতিবেশী অন্য ধর্মের ,আমি আনন্দ করবো আর সে তার ভাগ থেকে বঞ্চিত হবে তা ঠিক হবেনা।  যার গান ছাড়া ঈদের আনন্দ পুর্ণতা পায়না,তিনি আমাদের জাতীয় কবি নজরুল ইসলাম। তাঁর ঈদের গান-
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানী তাগিদ।
তোর সোনা-দানা, বালাখানা সব রাহে লিল্লাহ
দে যাকাত , মুর্দা মুসলিমের আজ ভাঙাইতে নিঁদ
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ পড়বি ঈদের নামাজ রে মন সেই সে ঈদগাহে
যে ময়দানে সব গাজী মুসলিম হয়েছে শহীদ।
ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ।
আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমণ, হাত মেলাও হাতে,
তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল ইসলামে মুরিদ।

–(সংক্ষেপিত) আমাদেরকে উজ্জীবিত করে,আমাদের চেতনাবোধকে শানিত করে,মানবতার প্রতি মমত্ববোধ জাগায়।  বিভেদহীন সমাজ গঠনের শিক্ষা নিয়ে ঈদকে আরো অর্থবহ করে তুলতে ধার্মিকতার সাথেই মানবতাবাদী,সত্য-ন্যায়ের পথের পথিক হওয়া জরুরী।একটি সুখী-সমৃদ্ধ, সুন্দর ও কল্যাণময় সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় হোক এবারের ঈদ। ঈদ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য হয়ে উঠুক সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল ও কল্যাণের। ঈদুল ফিতরের মহান শিক্ষা যেনো আগামী দিনে এক হয়ে চলতে শক্তি জোগিয়ে আমাদের মানবিক চেতনাকে উজ্জীবিত করে সে কামনা করছি মহান প্রভুর কাছে। ঈদ হোক ভেদাভেদ ভূলে মিলনের আনন্দে মুখর অনন্য দিন । পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা সকলকে। ঈদ মোবারক ।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com