রাজাপুরে ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোয় ধ্বংশ বনজ সম্পদ ,সংরক্ষণে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই

মো.অহিদ সাইফুল, প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রচলিত আইন-কানুনকে উপেক্ষা করে, পরিবেশকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে নতুন নতুন ইট ভাটায় বনাঞ্চলের বৃক্ষরাজি ধ্বংস করে লক্ষ লক্ষ মন কাঠ পোড়ানোর প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে ঝালকাঠির জনবহুল রাজাপুর উপজেলায়। ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানোর ফলে উজাড় হচ্ছে মুল্যবান বনজ সম্পদ। অজ্ঞাত কারণেই নীরব স্থানীয় প্রশাসন। অবৈধভাবে গড়ে উঠা অধিকাংশ ভাটায় কয়লার পরিবর্তে কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানোর প্রস্তুতি গ্রহণের পাশাপাশি শিশুদের দিয়েও কাজ করানো হচ্ছে। বেসকারি এক পরিসংখ্যানে উপজেলায় অবাধে গড়ে উঠা অবৈধ শতাধিক মৌসুমি ছোট ছোট ইট ভাটায় ইট প্রস্তুতের কাজ চলছে, যাদের ট্রেড লাইসেন্স, জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছ থেকে কোন প্রকার ছাড়পত্র নেই। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী স্থানীয়দের। গত বছরগুলোতে মৌসুমি ছোট ছোট ইট ভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ার কারনে এ বছরও বীরদর্পেই চালিয়ে যাচ্ছে তাদের লাইসেন্সবিহীন এসকল ইটভাটা। যেখানে নিয়মের কোন বালাই নেই। এসব ইটভাটায় প্রচুর পরিমাণে কাঠ মজুত করা হয়েছে। কোথাও কোথাও বাড়ীর অঙ্গিনায় জন সম্মুখে ইট ভাটা স্থাপন করা হয়েছে। বি.এস.টি আই এর অনুমোদন, পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র না নেওয়ায় সরকার প্রচুর রাজস্ব হারাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের নিয়ম অনুসারে ইট ভাটা স্থাপন করতে হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, জেলা প্রশাসনের নিয়ম অনুসারে প্রতি বছর ভাটা স্থাপনের অনুমতি ও লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রে ১২০ ফুট উচু কংক্রিটের তৈরী চিমনী স্থাপন ছারাও আধুনিক পরিবেশ বান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহার, নির্ধারিত মাত্রার সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার, জ্বালানি হিসাবে কাঠ ও কৃষি জমির উর্বর মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকার প্রত্যয়ন পত্র সহ ভ্যাট সার্টিফিকেট দাখিল করতে হবে।
উপজেলার ইটভাটাগুলোয় শত শত একর কৃষিজমির উর্ভর মাটি বা টপ সয়েল ব্যবহার হচ্ছে ইট তৈরির কাঁচামাল হিসেবে। এতে একদিকে কৃষিজমি কমে উপজেলার কৃষি উৎপাদন চরমভাবে হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে গাছের বাগান উজাড় হয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।দেশে গাছ লাগানো আজ একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হলেও তার কাঙ্খিত সুফল পাচ্ছে না উপজেলাবাসী। ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহারের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে এবং অনেক মূল্যবান বিরল প্রজাতির উদ্ভিদও পরিবেশ থেকে বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে ইটভাটা সৃষ্ট দূষণে বয়স্ক ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লোকালয়ে তৈরি ভাটায় কাঠ পোড়ানো হলে তার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ব্রংকাইটিস, ফুসফুসের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট ও ঠান্ডাজনিত নানা রোগ দেখা দিতে পারে। এলাকার কৃষক জমির হোসেন জানান, ভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফসলি জমির মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। ভাটার কারণে উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এলাকার কৃষকদের দাবি কৃষি ফসলি ধানী জমি ও ফলের বাগান ধ্বংস করে যারা ইট ভাটা নির্মান করছে তাদের বিষয়ে এখনি ব্যবস্থা না নিলে কৃষি ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ে যাবে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com