শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮, ১০:৪৯ অপরাহ্ন

সেহরী ও ইফতার সময় :
আজ ২৪ মে বুধবার, রমজান- ৭, সেহরী : ৩-৪২ মিনিট, ইফতার : ৬-৪২ মিনিট, ডাউনলোড করে নিতে পারেন পুরো ফিচার- সেহরী ও ইফতার-এর সময়সূচী


ঝিনাইদহে অর্গানিক চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুর্দ্ধ করতে কৃষি কর্মকর্তার সংগ্রাম

ঝিনাইদহে অর্গানিক চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুর্দ্ধ করতে কৃষি কর্মকর্তার সংগ্রাম



ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ কোনো ধরনের কৃত্রিম সার, রাসায়নিক, কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলকেই অর্গানিক বলা হয়। জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়। উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ। ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় বিষমুক্ত চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান। তার পরামর্শে ইতিমধ্যে উপজেলার কয়েক’শ কৃষক চাষাবাদ করছেন জৈব পদ্ধতিতে। এমনই একজন কৃষক সদর উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের ইদ্রিস আলী। আগে রাসায়নিক সার ব্যবহার করে চাষাবাদ করলেও সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি এখন জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন।

এতে সফলও হয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যে গ্রীণচাষী খেতাব অর্জন করেছেন তিনি। তার উৎপাদিত সবজি বা ফসলাদির চাহিদা রয়েছে ওই এলাকায়। আর একজন কৃষক সদর উপজেলার গান্না ইউনিয়নের দুদুমিয়া। ইতিমধ্যে তার কয়েক বিঘা জমিতে শুরু করেছেন জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ। সেক্সফেরোমন ট্রাপ ব্যবহার, কোচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করছেন তার জমিতে। কৃষক দুদমিয়া জানান, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান এর পরামর্শে তিনি রাসায়নিক সার ব্যবহার বাদ দিয়ে জৈব পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। এতে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যেমন জৈব সারের প্রয়োজন তেমনি উৎপাদিত সবজি মানব দেহের জন্যেও নিরাপদ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা হতে পারে।

তাই রাসায়নিক সার ব্যতিরেকে জৈব সারের ব্যবহার করছেন বলে তিনি জানান। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. খান মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বাজার থেকে আমরা যেসব খাবার-দাবার ও সবজি কিনে খাই, তার প্রায় সবগুলোর মধ্যেই বিভিন্ন কৃত্রিম সার, রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে। এর ক্ষতিকারক প্রভাব আমাদের সবার উপর পড়ছে। কৃত্রিম সার, রাসায়নিক দ্রব্য, ফরমালিন ইত্যাদির যথেচ্ছ ব্যবহারে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, লিভারের ক্ষতি সাধনসহ নানাবিধ রোগব্যাধির প্রকোপ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই অর্গানিক খাবার ও শাক-সবজি আমাদের নিজেদের জন্য তো দরকারই, শিশুদের জন্য এর প্রয়োজন আরও বেশি।এ কারণেই সদর উপজেলাকে বিষ মুক্ত চাষাবাদের মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছি।

এছাড়াও সদর উপজেলায় ২৮০ টি সিআইজি গ্রুপ ও ৩২০ টি এসএফজি গ্রুপ তৈরী করা হয়েছে। এই কৃষক সংগঠনের মাধ্যমে কৃষকদের জৈব চাষে উঠান বৈঠক ও মাঠ দিবসের মাধ্যমে পরামর্শ প্রদাণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জৈবসার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং সবজির উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। জৈবসার ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন খরচ রাসায়নিক সারের চেয়ে শতকরা ৫০-৬০ শতাংশ কম হয়। অর্গানিক খাবার ও শাক-সবজি হয়ত সামান্য ব্যয়বহুল। তবুও ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা মাথায় রেখে আমাদের রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বর্জন করতে হবে। আর এতে সবথেকে বেশি প্রয়োজন সচেতনতা। তবেই আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি বিষমুক্ত দেশ গড়তে পারবো।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media








© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com