শনিবার, ২১ Jul ২০১৮, ০৫:২৫ অপরাহ্ন

English Version


শাকিব খান-এর ৩৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

শাকিব খান-এর ৩৮তম জন্মবার্ষিকী আজ

Shakib Khan-Nobobarta



রুদ্র আমিন # বাবা আব্দুর রব আর মা নুরজাহানের ঘর আলো করে ১৯৭৯ সালে ২৮ মার্চ তাঁদের ঘরে এক ছেলে সন্তানের আগমন ঘটল। সরকারি কর্মচারী বাবা আর গৃহিণী মা বড় শখ করে ছেলের নাম রাখলেন “মাসুদ রানা”। নাহ, কাজী আনোয়ার হোসেনের “বিখ্যাত” গোয়েন্দা চরিত্রের মত কোন “স্পাই” বানানোর কোন ইচ্ছা বাবা মায়ের ছিল না। শখের বসেই নাম রেখেছিলেন মাদুস রানা।

রানার জন্ম নারায়ণগঞ্জে, ছেলেবেলার অধিকাংশ সময় সেখানেই কেটেছে। পড়ালেখার পাশাপাশি এক বোন আর এক ভাইয়ের সাথে খুনসুটি করে সময়টা মন্দ কাটছিল না তার। বাবা মাও ছেলেকে নিয়ে স্বপ্নে বিভোর হলেন- ছেলে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হবেন। সাইন্সে পড়া রানারও তাই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু ভাগ্যদেবী তার জন্য অন্য কিছু ভেবে রেখেছিলেন। নিজের ইচ্ছা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ইচ্ছে ছিল বড় হয়ে ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হব। কারণ আমি সাইন্সের ছাত্র ছিলাম। সবসময় বুকে লালন করতাম ডাক্তার হয়ে দেশের মানুষের সেবা করব। এর বাইরে যে অপশনটি আমার মধ্যে কাজ করত তা হলো ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। খুব পছন্দ ছিল এই পেশাটিও। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করার পর হঠাৎ করেই যেন ছোটবেলার স্বপ্নগুলো হারিয়ে যেতে থাকল।”

১৯৯৯ সালের কথা। সাইন্সে পড়া ছেলেটা গেল এফডিসিতে শুটিং দেখতে। ভালই লাগছিল রূপালী দুনিয়ার আলো ঝলমলে দুনিয়া চোখের এত সামনে থেকে দেখতে। নিজেকে নায়কের জায়গায় কল্পনা করেও বেশ আরাম পাচ্ছিল সদ্য এইচএসসি পাশ করা ছেলেটা। হঠাৎ এক সাংবাদিকের চোখ পরল এই ছেলের উপর। ” তোমাকে দেখতে তো বেশ হ্যান্ডসাম লাগছে, কিছু ছবি তুলতে পারি তোমার?” নির্দ্বিধায় রাজি হয়ে গেল রানা। সেই ছবি চলে গেল পরিচালক আবুল খায়ের বুলবুলের কাছে। নতুন একজনকে সিনেমার জন্য খুঁজছিলেন তিনি। রানাকে প্রস্তাব দিতেই দুরুদুরু বুকে রানা “হ্যাঁ” বলে দিল। মুক্তি পেল তার প্রথম সিনেমা ‘সবাইতো সুখী হতে চায়’। এ ছবির শুটিং শেষ না হতেই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডের পরিচালক-প্রযোজকদের মাঝে। সবাই বলাবলি করে, ছেলেটি ভালো ফাইট করে। নাচে দুর্দান্ত, দেখতে সুন্দর। “কেয়ামত থেকে কেয়ামত” খ্যাত পরিচালক এই মাসুদ রানাকে কেন্দ্রীয় নায়ক চরিত্রে নিয়ে তার নতুন ছবি বানালেন, নাম ” অনন্ত ভালবাসা’ । মুক্তি পেল ১৯৯৯ সালের ২৮ মে।

অভিনয় জীবন

শাকিব দুই বাংলার একজন বিখ্যাত অভিনেতা । তিনি অভিনয় করেন বিখ্যাত নায়ক মান্না, রিয়াজ, রাজ্জাক, আমিন খান, আলমগীর, বাপ্পারাজ, বুলবুল আহমেদ সহ আরো অনেকের সাথে।
১৯৯৯ – ২০০৫
শাকিব খান ১৯৯৯ সালে প্রথম চুক্তিবদ্ধ হন “সবাইতো সুখী হতে চায়” চলচ্চিত্রে। আফতাব খান টুলু পরিচালিত এ ছায়াছবির মাধ্যমে তিনি প্রথম ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। এতে তার বিপরীতে ছিল আরেক নবাগতা কারিশমা শেখ। এ ছবির শুটিং শেষ না হতেই তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে ঢালিউডের পরিচালক-প্রযোজকদের মাঝে। সবাই বলাবলি করে, ছেলেটি ভালো ফাইট করে, নাচে দুর্দান্ত, দেখতে সুন্দর। শাকিব খান অভিনীত প্রথম ছায়াছবি সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত অনন্ত ভালোবাসা মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের ২৮ মে। ছায়াছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন চলচ্চিত্রের আরেক অভিনয়শিল্পী মৌসুমীর ছোট বোন ইরিন জামান। দু’জনেরই এটি ছিল প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র। ছায়াছবি হিসেবে অনন্ত ভালোবাসা খুব একটা সফল না হলেও নায়ক হিসেবে শাকিব খান সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরের বছর ২০০০ সালে অভিনয় করেন গোলাম, আজকের দাপট, দুজন দুজনার, বিষে ভরা নাগিন চলচ্চিত্রে। ইস্পাহানী আরিফ জাহান পরিচালিত গোলাম চলচ্চিত্রে তিনি প্রথম শাবনূরের বিপরীতে, এজে রানা পরিচালিত আজকের দাপট চলচ্চিত্রে প্রথম পূর্ণিমার বিপরীতে, আবু সাঈদ খান পরিচালিত দুজন দুজনার চলচ্চিত্রে প্রথম পপির বিপরীতে, এবং দেলোয়ার জাহান ঝন্টু পরিচালিত বিষে ভরা নাগিন চলচ্চিত্রে প্রথম মুনমুনের বিপরীতে অভিনয় করেন। ২০০১ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত শিকারী, স্বপ্নের বাসর, মায়ের জেহাদ, রাঙ্গা মাস্তান, হিংসার পতন, বন্ধু যখন শত্রু ছায়াছবিগুলো। এফআই মানিক পরিচালিত স্বপ্নের বাসর চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও শাবনূরের পাশাপাশি তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ২০০২ সালে মুক্তি পায় এফআই মানিক পরিচালিত ফুল নেবনা অশ্রু নেব, ও স্ত্রীর মর্যাদা, শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত ও প্রিয়া তুমি কোথায়, জিল্লুর রহমানের নাচনেওয়ালী এবং বাদল খন্দকারের বিশ্ব বাটপার। স্ত্রীর মর্যাদা ছায়াছবিতে তিনি প্রথম মৌসুমীর বিপরীতে অভিনয় করেন। ২০০৩ সালে অভিনয় করেন সাহসী মানুষ চাই, প্রাণের মানুষ, ক্ষমতার দাপট, ও সবার উপরে প্রেম চলচ্চিত্রে। এ বছর তার অভিনীত মহম্মদ হান্‌নান পরিচালিত সাহসী মানুষ চাই চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয় এবং তিনটি বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে। ২০০৪ সালে তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলো মধ্যে নয়ন ভরা জল, আজকের সমাজ, বস্তির রানী সুরিয়া, রুখে দাড়াও উল্লেখযোগ্য। ২০০৫ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত এমএ রহিম পরিচালিত সিটি টেরর। এ চলচ্চিত্রে তিনি আরেক জনপ্রিয় অভিনেতা মান্নার সাথে অভিনয় করেন। এছাড়া শাহীন-সুমন পরিচালিত বাধা চলচ্চিত্রে রিয়াজ ও পূর্ণিমার সাথে অভিনয় করেন।

২০০৬ – ২০১০
২০০৬ সালে তিনি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প সুভা অবলম্বনে নির্মিত সুভা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন খ্যাতনামা চলচ্চিত্র পরিচালক চাষী নজরুল ইসলাম এবং নাম চরিত্রে অভিনয় করেন অভিনেত্রী পূর্ণিমা। এ চলচ্চিত্রে তার অভিনয় সমালোচকদের দৃষ্টিতে প্রশংসিত হয় এবং তিনি ২০০৭ সালে প্রদত্ত “লাক্স-চ্যানেল আই পারফরম্যান্স পুরস্কার”-এ শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে দর্শক জরিপ ও সমালোচক উভয় শাখায় মনোনীত হন। একই বছর আরো মুক্তি পায় এফআই মানিক পরিচালিত কোটি টাকার কাবিন, পিতার আসন, দাদীমা, ও চাচ্চু, এবং দিলীপ বিশ্বাস পরিচালিত মায়ের মর্যাদা। কোটি টাকার কাবিন ছায়াছবিতে তিনি প্রথম অপু বিশ্বাসের সাথে অভিনয় করেন এবং পরবর্তীতে তার সাথে জুটি বেঁধে অসংখ্য ছায়াছবিতে অভিনয় করেন। চাচ্চু চলচ্চিত্রটি দিয়ে শাকিব প্রথম জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।[১১] ২০০৭ সালে মা আমার স্বর্গ, আমার প্রাণের স্বামী, কাবিনামা, স্বামীর সংসার, ডাক্তার বাড়ী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। পিএ কাজল পরিচালিত আমার প্রাণের স্বামী চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে প্রথম মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তার অভিনীত ছায়াছবিগুলো হল তোমাকে বউ বানাবো, আমার জান আমার প্রাণ, সমাধি, ১ টাকার বউ, ভালোবাসার দুশমন, প্রিয়া আমার প্রিয়া, টিপ টিপ বৃষ্টি, তুমি স্বপ্ন তুমি সাধনা, আমাদের ছোট সাহেব, সন্তান আমার অহংকার, যদি বউ সাজো গো, মনে প্রাণে আছ তুমি। এ বছর বদিউল আলম খোকন পরিচালিত প্রিয়া আমার প্রিয়া চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং লাক্স-চ্যানেল আই পারফরম্যান্স পুরস্কার অর্জন করেন। পিএ কাজল পরিচালিত ১ টাকার বউ চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করেন শাবনূর ও রুমানা খান। চলচ্চিত্রটি একটি বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার এবং একটি বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

২০০৯ সালে তিনি অভিনয় করেন আমার প্রাণের প্রিয়া, স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা, ভালোবাসা দিবি কিনা বল, মন যেখানে হৃদয় সেখানে, বলোনা কবুল, বিয়ের প্রস্তাব, জন্ম তোমার জন্য, প্রেম কয়েদী, সাহেব নামের গোলাম, ও সাথী রে চলচ্চিত্রে। এই বছর পিএ কাজল পরিচালিত স্বামী স্ত্রীর ওয়াদা চলচ্চিত্রটি প্রশংসিত হয় এবং তিনটি বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার অর্জন করে। এছাড়া জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত আমার প্রাণের প্রিয়া চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ২০১০ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন। এই চলচ্চিত্রের “কি জাদু করেছো বলোনা” গানটি এক বছর হিট গানের তালিকায় ছিল। পরের বছর ২০১০ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত বলোনা তুমি আমার, প্রেম মানে না বাধা, টপ হিরো, পরান যায় জ্বলিয়া রে, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না, টাকার চেয়ে প্রেম বড়, জীবন মরণের সাথী, প্রেমে পড়েছি, চেহারা: ভন্ড-২, প্রেমিক পুরুষ, হায় প্রেম হায় ভালোবাসা। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না চলচ্চিত্রে একজন স্বাধীনচেতা যুবক সূর্য চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে ছিলেন অপু বিশ্বাস ও রুমানা খান। এই চলচ্চিত্রের জন্য ২০১১ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পুরস্কৃত হন। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ২০১২ সালে প্রদত্ত জাতীয় চলচিত্র পুরস্কারে প্রথমবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার অর্জন করেন। এছাড়া এই বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান, চাচ্চু আমার চাচ্চু, ও নিঃশ্বাস আমার তুমি। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত নাম্বার ওয়ান শাকিব খান ব্যবসায়িক সফলতা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে। শাহাদাৎ হোসেন লিটনের জীবন মরণের সাথী, পিএ কাজলের চাচ্চু আমার চাচ্চু, এবং বদিউল আলম খোকনের নিঃশ্বাস আমার তুমি তিনটি চলচ্চিত্রেই তার বিপরীতে অভিনয় করে অপু বিশ্বাস এবং চলচ্চিত্রগুলো বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার অর্জন করে।

২০১১ – ২০১৫
২০১১ সালে শাকিব খান অভিনীত কোটি টাকার প্রেম, মাটির ঠিকানা, কিং খান, মনের জ্বালা, আদরের জামাই, বস নাম্বার ওয়ান, টাইগার নাম্বার ওয়ান চলচ্চিত্রগুলো মুক্তি পায়। মালেক আফসারী পরিচালিত মনের জ্বালা চলচ্চিত্র তার বিপরীতে অভিনয় করে অপু বিশ্বাস। এই ছায়াছবিতে তিনি প্রথম নেপথ্য শিল্পী হিসেবে আমি চোখ তুলে তাকালেই সূর্য লুকায় গানে কণ্ঠ দেন। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত কোটি টাকার প্রেম ও পরিচালক জুটি শাহীন-সুমন পরিচালিত টাইগার নাম্বার ওয়ান ব্যবসাসফল হয়। মোহাম্মদ হোসেন জেমী পরিচালিত কিং খান চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে অভিনয় করে অপু বিশ্বাস ও লামিয়া মিমো। ছায়াছবিটি এই বছর সবচেয়ে ব্যবসাসফল হয়। এ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ২০১২ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কার অর্জন করেন। শাহাদাৎ হোসেন লিটন পরিচালিত আদরের জামাই ছায়াছবির জন্য মনোনীত হন মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ সমালোচক শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত বস নাম্বার ওয়ান ও শাহ আলম কিরণ পরিচালিত মাটির ঠিকানা বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কার ও মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন। ২০১২ সালে অভিনয় করেন সে আমার মন কেড়েছে, বুক ফাটে তো মুখ ফুটেনা, এক টাকার দেনমোহর, মাই নেম ইজ সুলতান, ডন নাম্বার ওয়ান, খোদার পরে মা, ঢাকার কিং চলচ্চিত্রে। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ডন নাম্বার ওয়ান চলচ্চিত্রের জন্য ২০১৩ সালে দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার অর্জন করেন। শাহীন-সুমন পরিচালিত খোদার পরে মা মুন্না চরিত্রে অভিনয় করেন। এতে তার বিপরীতে ছিল সাহারা এবং তার মায়ের ভূমিকায় ছিলেন ববিতা। এই চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০১৪ সালে প্রদত্ত জাতীয় চলচিত্র পুরষ্কারে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে তার দ্বিতীয় পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া নায়ক হিসেবে রেকর্ডসংখ্যক পারিশ্রমিকের অধিকারী শাকিব খান সর্বশেষ চমক সৃষ্টি করেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে।

পরের বছর ২০১৩ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত ঢাকা টু বোম্বে, ফুল এন্ড ফাইনাল, জোর করে ভালবাসা হয় না, ভালোবাসা আজকাল, নিষ্পাপ মুন্না, জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার, দেবদাস, মাই নেম ইজ খান, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী। এফআই মানিক পরিচালিত জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে ছিলেন পূর্ণিমা। এছাড়াও এই ছায়াছবিতে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর একসাথে অভিনয় করেন রাজ্জাক, সোহেল রানা ও আলমগীর। ছায়াছবিটি ব্যবসাসফল হয়। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত মাই নেম ইজ খান চলচ্চিত্রে তার বিপরীতে ছিল অপু বিশ্বাস। অপরাজেয় কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত বিখ্যাত উপন্যাস দেবদাস অবলম্বনে নির্মিত দেবদাস চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম এবং শাকিব খানের বিপরীতে পার্বতী চরিত্রে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস ও চন্দ্রমুখী চরিত্রে অভিন করেন মৌসুমী। চলচ্চিত্রটি একই পরিচালকের ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দেবদাস চলচ্চিত্রের পুনঃনির্মাণ। পিএ কাজল ভালবাসা আজকাল ছায়াছবিতে তিনি প্রথম মাহিয়া মাহীর বিপরীতে অভিনয় করেন। সাফি উদ্দীন সাফি পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ছায়াছবিতে তার সাথে অভিনয় করেন জয়া আহসান ও আরিফিন শুভ। এই ছায়াছবিতে তিনি দ্বিতীয়বার নেপথ্য শিল্পী হিসেবে কণ্ঠ দেন ও প্রিয় আমি তোমার হতে চাই গানে। ছায়াছবিটিতে জয় শিকদার চরিত্রে অভিনয় করে অর্জন করেন ২০১৪ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতার পুরস্কার।

শাকিব খান ২০১৪ সালে অভিনয় করেন রাজত্ব, ফাঁদ – দ্যা ট্র্যাপ, সেরা নায়ক, ডেয়ারিং লাভার, কঠিন প্রতিশোধ, হিটম্যান, হিরো: দ্যা সুপারস্টার ছায়াছবিতে। এস. কে. ফিল্মসের ব্যানারে হিরো: দ্যা সুপারস্টার ছায়াছবিটি প্রযোজনা করেন শাকিব খান নিজেই। বদিউল আলম খোকন পরিচালিত এই চলচ্চিত্রে তার সাথে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস, ইয়ামিন হক ববি, ববিতা ও নূতন। ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ছায়াছবিটি ব্যবসাসফল হয় এবং ঢালিউডের সর্বকালের সবচেয়ে ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের সেরা দশে অবস্থান করে। এ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি ২০১৫ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা বিভাগে পুরস্কৃত হন। এছাড়া চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ প্রযোজিত এক কাপ চা ছায়াছবিতে একটি অতিথি চরিত্রে অভিনয় করেন। ২০১৫ সালে তার অভিনীত এইতো প্রেম, আরো ভালোবাসবো তোমায়, দুই পৃথিবী, লাভ ম্যারেজ, রাজা বাবু মুক্তি পায়। সোহেল আরমান পরিচালিত এইতো প্রেম তার অভিনীত প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। এতে তার বিপরীতে প্রথমবার অভিনয় করেন আফসানা আরা বিন্দু। এই চলচ্চিত্রের জন্য তিনি ২০১৬ সালে প্রদত্ত মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার-এ দর্শক জরিপ শাখায় শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে মনোনীত হন। এস এ হক অলিক পরিচালিত আরো ভালোবাসবো তোমায়-এ তিনি প্রথম অভিনয় করেন পরীমনির বিপরীতে। এই চলচ্চিত্রে শাকিব খান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি তৃতীয়বারের মত শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৬ – ২০১৭
২০১৬ সালে উত্তম আকাশ পরিচালিত রাজা ৪২০ এবং সাফি উদ্দীন সাফি পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২ মুক্তি পায়। পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ২ ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনীর অনুবর্তী পর্ব। দুই ক্রিকেটারের দ্বন্দ্ব নিয়ে নির্মিত এই ছায়াছবিতে তার সাথে অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও মামনুন হাসান ইমন। এই বছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত শিকারি, রানা পাগলা, সম্রাট। যৌথ প্রযোজনার শিকারি পরিচালনা করেন বাংলাদেশী জাকির হোসেন সীমান্ত ও ভারতীয় জয়দীপ মুখার্জী। এতে টালিউড অভিনেত্রী শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের সাথে প্রথম জুটি বেঁধে বেশ সুনাম অর্জন করেন। শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত রানা পাগলা-এ তার বিপরীতে প্রথম অভিনয় করেন নুসরাত ইমরোজ তিশা। সম্রাট পরিচালনা করেন মুহম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ। এতে তার সাথে অভিনয় করেন অপু বিশ্বাস ও কলকাতার ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত। ঈদুল আযহায় মুক্তি পাবে তার অভিনীত বসগিরি ছায়াছবি। শামীম আহমেদ রনি পরিচালিত এই ছায়াছবিতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন নবাগত শবনম বুবলি। এই বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় তার অভিনীত ধূমকেতু। শফিক হাসান পরিচালিত ছবিটিতে তার বিপরীতে ছিলেন পরীমনি।

২০১৭ সালের শুরুতে মুক্তি পায় তার অভিনীত চলচ্চিত্র সত্তা। কথাসাহিত্যিক সোহানী হোসেনের মা গল্প অবলম্বনে নির্মিত ছবিটি পরিচালনা করেছেন হাসিবুর রেজা কল্লোল এবং এতে প্রথমবার শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেন কলকাতার পাওলি দাম। এই সিনেমায় শাকিব খানের অভিনয় সব শ্রেনীর দর্শকের মন কাড়ে,সিনেমার ব্যবসাও সন্তোষজনক। এবছর ঈদুল ফিতরে মুক্তি পায় তার অভিনীত নবাব ও রাজনীতি। নবাব সিনেমাটি রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে ইতিহাসে জায়গা করে নেয়,পাশাপাশি ভারতেও সিনেমাটি ঝড় তোলে। ইন্দো-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনার নবাব পরিচালনা করেন জয়দীপ মুখার্জী এবং এতে প্রথমবারের মত তার বিপরীতে অভিনয় করেন কলকাতার শুভশ্রী গাঙ্গুলী। ১২৮টি হলে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ব্যবসাসফল হয় এবং শাকিব নতুনরূপে আত্মপ্রকাশ ও অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হন। তবে সর্বোপরি ছবিটি নেতিবাচক সমালোচনা লাভ করে। অন্যদিকে, রাজনীতি ছবিটি পরিচালনা করেন বুলবুল বিশ্বাস। এতে দীর্ঘ একবছর পর তাকে অপুর বিপরীতে দেখা যায়। ছবিটি দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করে। ঈদুল আযহায় মুক্তি পায় শাকিব অভিনীত রংবাজ ও অহংকার। দুটি ছবিতেই তার বিপরীতে ছিলেন শবনম বুবলি।

ব্যক্তিগত জীবন
শাকিব খান ২০০৮ সালে ১৮ এপ্রিল অপু বিশ্বাসকে বিয়ে করেন। বিয়ের বিষয়টি গণমাধ্যমে গোপন রাখা হয়। পরে ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে বিয়ের করার কথা অপু বিশ্বাস জানান। বিয়ের পর তাঁদের ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাঁদের একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। যার নাম রাখা হয় আব্রাহাম খান জয়।

শাকিব খান ক্রিকেট খেলার ভক্ত। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের ভক্ত ও বন্ধু। “নিজের নাম সাকিব বলে বা আপনার মিতা বলেই কি তার প্রতি আপনার এত দরদ?” এই প্রশ্ন যাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে, তাঁদের জন্য বলি- জি না, এই জন্য না, দুনিয়ার অন্য প্রায় সব জায়গার সিনেমা আমার দেখা হয়, সেগুলা দেখতে পারলে কেন শাকিবের সিনেমা নয়? সে আমার নিজের দেশের, নিজের ইন্ডাস্ট্রির নায়ক, আমি না দেখলে কে দেখবে তাঁকে? নিজের টিউশনের টাকা খরচ করে রিকশাওয়ালার পাশে বসে শাকিবের সিনেমা এখতে ও সিটি বাজাতে আমার কোন সমস্যা হয়না, আমার “জাতে” উঠার কোন চিন্তা নাই, ইচ্ছাও নাই, আমি অনেক সস্তা, সো চিপ। আমি শাকিবের সমালোচনা কম করি নাই, তবে সেটা তার সিনেমা দেখে করি, না দেখে না, আর যেটা সমস্যা সেটাই বলি, যেটা ভালো সেটাই বলি, আমার ইন্ডাস্ট্রির নায়ক, আমাকে যে বলতেই হয় দর্শক হিসেবে।

প্রযোজক

হিরো: দ্যা সুপারস্টার
বসগিরি
প্রিয়তমা, (২০১৮)

নেপথ্য গায়ক

বছর চলচ্চিত্র সঙ্গীত
২০১১ মনের জ্বালা আমি চোখ তুলে তাকালেই সূর্য লুকায়
২০১৩ পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী ও প্রিয় আমি তোমার হতে চাই

পুরস্কার ও সম্মাননা

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার

বছর বিভাগ চলচ্চিত্র ফলাফল
২০১২ শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না (২০১০) বিজয়ী
২০১৪ খোদার পরে মা (২০১২) বিজয়ী
২০১৭ আরো ভালোবাসবো তোমায় (২০১৫) বিজয়ী

মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার

বছর শাখা বিভাগ চলচ্চিত্র ফলাফল
২০০৭ দর্শক জরিপ পুরস্কার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা সুভা (২০০৬) মনোনীত
২০০৮ সমালোচক পুরস্কার আমার প্রাণের স্বামী (২০০৭) বিজয়ী
২০০৯ দর্শক জরিপ পুরস্কার প্রিয়া আমার প্রিয়া (২০০৮) বিজয়ী
২০১০ বলবো কথা বাসর ঘরে (২০০৯) মনোনীত
২০১১ ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায় না (২০১০) বিজয়ী
২০১২ দর্শক জরিপ পুরস্কার কিং খান (২০১১) বিজয়ী
সমালোচক পুরস্কার আদরের জামাই (২০১১) মনোনীত
২০১৩ দর্শক জরিপ পুরস্কার ডন নাম্বার ওয়ান (২০১২) বিজয়ী
২০১৪ পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী (২০১৩) বিজয়ী
২০১৫ হিরো: দ্যা সুপারস্টার (২০১৪) বিজয়ী
২০১৬ এইতো প্রেম (২০১৫) মনোনীত
২০১৬ শিকারি (২০১৬) বিজয়ী

লাক্স-চ্যানেল আই পারফরম্যান্স পুরস্কার

বছর শাখা বিভাগ চলচ্চিত্র ফলাফল
২০০৭ দর্শক জরিপ পুরস্কার শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা সুভা (২০০৬) মনোনীত
সমালোচক পুরস্কার সুভা (২০০৬) মনোনীত
২০০৯ দর্শক জরিপ পুরস্কার প্রিয়া আমার প্রিয়া (২০০৮) বিজয়ী

অন্যান্য

সি জে এফ বি পুরস্কার
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০০৮
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০০৯

ওয়ালটন বৈশাখী স্টার অ্যাওয়ার্ড
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০১১

বি সি আর এ পুরস্কার
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০০৯
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০০৮

একতা পুরস্কার
মনোনয়ন: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০০৫

ঢালিউড চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত পুরস্কার
বিজয়ী:শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০০৯

বিনোদন বিচিত্রা পুরস্কার
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০১০

‘বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাব পুরস্কার’
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা – ২০১২
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা ও সেরা জুটির পুরস্কার – ২০১৭

‘এটিএন বাংলা পারফরমেন্স পুরস্কার’
বিজয়ী: শ্রেষ্ঠ অভিনেতা পুরস্কার – ২০১৭

হলি, বলি, কলকাতা স্টারদের জন্মদিন তো আমাদের মনে থাকে, নিজেদেরটা না থাকলেও আজ নাহয় শাকিবের জন্মদিনটাও একটু মনে রাখি? ২৮ শে মার্চ শাকিব খানের জন্মদিন। আজ ঢালিউডের এই বরপুত্রের জন্মদিনে তাঁকে জানাই জন্মদিনের অনেক শুভেচ্ছা। শুভ জন্মদিন “কিং খান” শাকিব খান ।

তথ্যসূত্রঃ উইকিপিডিয়া

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com