রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:১৪ অপরাহ্ন

English Version
বিস্ফোরক দ্রব্য মামলা শেষ হয়নি ৯ বছরেও

বিস্ফোরক দ্রব্য মামলা শেষ হয়নি ৯ বছরেও



মাহবুবা পারভীন, নববার্তা : চাঞ্চল্যকর বিডিআর বিদ্রোহের ৯ বছর আজ। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনা শুধু বাংলাদেশে নয়; পৃথিবীতে এক কলঙ্কজনক অধ্যায় রচিত হয়েছিল। বিশ্বের কোথাও এক সাথে এত সেনা কর্মকর্তা হত্যার কোনো নজির বিডিআর বিদ্রোহ। ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিয়ার বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হয়েছিলেন।

সেদিন পিলখানার এই বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশের ৫৭টি ইউনিটে। টানা একদিন এক রাত শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ২৬ ফেব্রুয়ারি-বিদ্রোহ নিয়ন্ত্রণে আসে। ইতিহাসের বৃহত্তম এ ফৌজদারি মামলার তদন্ত কাজটাও তাই ততটা সহজ ছিল না। মামলার আলামত মুছে ফেলতে লাশ পুড়িয়ে দেওয়া, গণকবর, ম্যানহোলে ফেলে দেওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় মোট তিনটি মামলা করা হয়। এর মধ্যে বিডিআর বিদ্রোহ ও হত্যা মামলা রায় হলেও বিস্ফোরক দ্রব্য মামলা এখনো চলমান। মামলায় মোট আসামি ৮৩৪ জনের মধ্যে ২০ জন এখনো পলাতক রয়েছে।

আদালত ও মামলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, পিলখানা হত্যাযজ্ঞের পর বাহিনীর আইনে বিদ্রোহের বিচার করে অনেককেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া ছাড়াও আরো ৪২৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। গত বছরের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টে আপিলের রায়ে ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল রাখা হয়। ৮ জনের মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন ও চার জনকে খালাস দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ পাওয়া ১৬০ জনের মধ্যে ১৪৬ জনের সাজা বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টে আপিল চলার সময় কারাগারে থাকা অবস্থায় দু’জনের মৃত্যু হয়। খালাস পান ১২ জন আসামি। নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে আপিল করেছিল, তার মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া, সাত বছর করে চার জনকে কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনের খালাসের রায় বহাল রাখা হয়। এ মামলার ৮৩৪ আসামির মধ্যে আরো ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। এর মধ্যে ১৮২ জনকে ১০ বছরের কারাদল্গ, ৮ জনকে সাত বছরের, ৪ জনকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ২৯ জনকে খালাস দেয়া হয়।

বিভাগীয় মামলায় চাকরিচ্যুতসহ সাজা দেওয়া হয় আরো অনেককে। ২০০৯ সালের নির্মম এ হত্যাযজ্ঞের পর পুরো বাহিনী বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে বাহিনীর পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কলংকিত সেই ইতিহাস ও ক্ষত ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর নিরন্তর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এখনো। বিদ্রোহীদের হাতে নিহতদের স্মরণে প্রতি বছর ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি পালন করা হয়। এবারো সেই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

নববার্তা/নজরুল/মাহবুবা

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com