সোমবার, ২৮ মে ২০১৮, ০১:২২ পূর্বাহ্ন



সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ

সব্যসাচী সৈয়দ শামসুল হকের ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ



বাংলা সাহিত্যকে আধুনিকতা ও সমসাময়িকতার সঙ্গে যুক্ত করার ক্ষেত্রে যার অবদান অনস্বীকার্য; কবিতা, গল্প ও নাটকের মাধ্যমে জানালার পর জানালা খুলে দিতে সচেষ্ট ছিলেন যিনি, বাংলা সাহিত্যের সব শাখাতেই যার তুমুল প্রভাববিস্তারী বিচরণ, সেই সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮২তম জন্মদিন আজ। তিনি ১৯৩৫ সালের এই দিনে কুড়িগ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। দীর্ঘ বাষট্টি বছর লেখালেখির জীবনে সৈয়দ শামুসল হক কবিতা, গল্প, উপস্যাস, প্রবন্ধ, নাটক, চলচ্চিত্র, অনুবাদ, কাব্যনাট্য, গান রচনাসহ সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে সব্যসাচী লেখকের পুরোধা ব্যক্তিত্বলাভ করেন। সাহিত্য চর্চায় লেখালেখিতে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি অসাধারণ সৃষ্টিশীলতার সাক্ষর রাখেন। লেখালেখির জন্য তিনি স্বাধীনতা পদক, একুশে পদক ও বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কবি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন।

উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম করেন। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প তথা সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’ বলা হয়। তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে সাহিত্যিকদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান। প্রখ্যাত এ সাহিত্যিক সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও হালিমা খাতুন দম্পতির আট সন্তানের প্রথম সন্তান। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক এ লেখক ব্যক্তিজীবনে প্রথিতযশা লেখকা ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হকের স্বামী।

সৈয়দ শামসুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালের মে মাসে। ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’ পত্রিকায়। সেখানে ‘উদয়াস্ত’ নামে তার একটি গল্প ছাপা হয়। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। এরপর ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

সৈয়দ শামসুল হকের পিতা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু, লেখক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সৈয়দ হক মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার বদলে ১৯৫১ সালে বম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) পালিয়ে যান। সেখানে তিনি বছরখানেকের বেশি একটি সিনেমা প্রডাকশন হাউসে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৫২ সালে তিনি দেশে ফিরে এসে জগন্নাথ কলেজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তীতে স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সালে সেখান থেকে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে বেরিয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয়।

তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) ছাড়াও একুশে পদক (১৯৮৪), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), অলক্ত স্বর্ণপদক (১৯৮২), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), ২০০৭ সালের জেমকন সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media








© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com