আজ শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ, ৬ই রবিউস-সানি, ১৪৪০ হিজরী
National Election
আজ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন-এর ৩৯তম প্রয়াণ দিবস

আজ শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন-এর ৩৯তম প্রয়াণ দিবস

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের আধুনিক শিল্পকলা আন্দোলনের পথিকৃৎ। তাঁর বিখ্যাত চিত্রকর্মের মধ্যে রয়েছে– দুর্ভিক্ষ-চিত্রমালা, নৌকা, মনপুরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সংগ্রাম, সাঁওতাল রমণী, ঝড় ইত্যাদি। ১৯৪৩ সালে দুর্ভিক্ষ চিত্রমালার জন্য সারা বিশ্বে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।১৯৭০ সালে গ্রাম বাংলার উত্স ব নিয়ে আঁকেন ৬৫ ফুট দীর্ঘ এক বিখ্যাত চিত্র ‘নবান্ন’। জয়নুল আবেদিন ১৯১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম তমিজউদ্দিন আহমেদ এবং মা জয়নাবুন্নেছা।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত তিনি কলকাতার সরকারি আর্ট স্কুলের ছাত্র ছিলেন। ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসের ড্রইং এ্যান্ড পেইন্টিং ডিপার্টমেন্ট থেকে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৩৮ সালেই নিখিল ভারত চিত্র প্রদর্শনীতে গভর্নরের স্বর্ণপদক লাভ করেন তিনি। এ পুরস্কার ছিল ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদ নিয়ে আঁকা তাঁর একগুচ্ছ জলরং ছবির জন্যে। ১৯৪৬ সালে জয়নুল আবেদিন ঢাকা নিবাসী তৈয়ব উদ্দিন আহমদের কন্যা জাহানারা বেগমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের তিন পুত্র সাইফুল আবেদিন (টুটুল), খায়রুল আবেদিন (টুকুন) ও মঈনুল আবেদিন (মিতু)।

জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৯৪৮ সালে পুরান ঢাকার জনসন রোডের ন্যাশনাল মেডিকেল স্কুলের একটি জীর্ণ বাড়িতে মাত্র ১৮ জন ছাত্র নিয়ে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউটের যাত্রা শুরু হয়। জয়নুল আবেদীন ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের প্রথম শিক্ষক। ১৯৫১ সালে এটি সেগুনবাগিচার একটি বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। ১৯৫৬ সালে গভর্নমেন্ট আর্ট ইন্সটিটিউট শাহবাগে স্থানান্তর করার পর ১৯৬৩ সালে এটি একটি প্রথম শ্রেণীর সরকারী কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। তখন এর নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় নামে এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় নামে। তিনি ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর এই সরকারী কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভূক্ত হয়।

তাঁর অসাধারণ শিল্প-প্রতিভার জন্যে তিনি দেশে ও বিদেশে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন, সরকার এবং জনগণের কাছ থেকে পেয়েছেন সম্মান। রাষ্ট্রীয় আমন্ত্রণে তিনি অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন। বাংলাদেশে চারুকলার উন্নয়নে জয়নুল আবেদিন তাঁর অবদানের যথার্থ স্বীকৃতি পেয়েছেন ‘শিল্পাচার্য’ সম্বোধনে। জয়নুল আবেদীন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে লোকশিল্প জাদুঘর ও ময়মনসিংহে জয়নুল সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন।

১৯৭২ সালে তিনি বাংলা একাডেমীর সভাপতি নির্বাচিত হন এবং ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত তিনি এখানে কাজ করেন। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর অন্যতম উপদেষ্টা মনোনীত হন। একই বছর জয়নুল বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় অধ্যাপক নিযুক্ত হন। মাত্র ৬২ বছর বয়সেই ১৯৭৬ সালের ২৮শে মে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মৃত্যুবরণ করেন। এই গুণী শিল্পীর প্রতিটি চিত্রকর্মই যেন একেকটি সময়ের তাৎপর্যকে বিম্বিত করে দারুণভাবে! তাই সময়ের পরিক্রমাতেও তিনি অমলিন তাঁর শিল্পকর্মের মাঝে। তাঁর প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি।

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Nobobarta on Twitter

© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com