বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৮:২৫ অপরাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :
লক্ষ্মীপুর সদর পূর্বাঞ্চলে আবার’ও আতঙ্ক লক্ষ্মীপুরে এ্যানি চৌধুরীর বাসভবনে ছাত্রলীগের হামলা, মোটর সাইকেল ভাঙচুর রাজাপুরে গৃহবধুর কাছ থেকে ২০ হাজার জাল টাকা উদ্ধার। সিরাজদিখান প্রেসক্লাব সাংবাদিকদের সাথে ওসি’র মতবিনিময় সভা   পাবনায় সরকারের উন্নয়ন প্রচারে কাজ করছে ‘উন্নয়ন সাফল্য প্রচার মঞ্চে’ শিক্ষকের পিটুনিতে গফরগাঁওয়ে শিক্ষার্থী অজ্ঞান মাভাবিপ্রবিতে ‘ব্যান্ড মিউজিক কমিউনিটি’র যাত্রা শুরু সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে সাড়ে চার কেজি স্বর্ণ উদ্ধার শ্রীনগরে শিক্ষার্থীরা সেলফি তোলার বায়নায় আটকে দিল মনোনয়ন প্রত্যাশী কবীরকে নতুন নিয়‌মে জবির ভর্তি পরীক্ষার মানবন্টন ও পদ্ধতি
ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম

ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম



মেহেদী জামান লিজন (ত্রিশাল, ময়মনসিংহ) # ১৯০৯ সালে এফ.এ পাস করেন ত্রিশালের ছেলে কাজী রফিজউল্লাহ । ১৯১০ সালে চাকুরির জন্য ময়মনসিংহ সদরে যান । সাব-ইন্সপেক্টর পদের জন্য আবেদন করেন এবং চাকরি পেয়ে যান । তাঁর পোস্টিং হয় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমানের আসানসোলে । কাজী রফিজউল্লাহ তাঁর ছোট ভাই কাজী আবুল হোসেনকে একসময় সেখানে নিজের কাছে নিয়ে যান এবং আসানসোল হাইস্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করিয়ে দেন । নজরুল তাঁর সহপাঠী ছিলেন । বার্ষিক পরীক্ষায় নজরুল প্রথম হয়ে সপ্তম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন । আবুল হোসেন উঠতে পারেননি, আগের শ্রেণিতেই থাকেন । কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক অটুট থাকে । নজরুল মাঝে মাঝে এসে আবুল হোসেনকে পড়াতেন ।

জানা যায়, শিক্ষকগণ মেধাবী ছাত্র নজরুলকে খুব পছন্দ করতেন । কারণ, তাঁকে যা বোঝানো হতো খুব সহজেই বোঝে ফেলতেন । শিক্ষকগণ মাঝে মাঝে তাঁকে ক্লাস নিতে বলতেন । এমনও হয়েছে নজরুল ক্লাস নিচ্ছেন, আর শিক্ষক বসে আছেন । যাহোক, অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে একসময় নজরুলের লেখাপড়া বন্দ হয়ে যায় । তাঁকে স্কুল ছাড়তে হয় । তিনি সেখানকার এক রুটির দোকানে মাসিক পাঁচ টাকা মাহিনায় চাকরি নেন ।

ত্রিশালে নজরুল

কেউ কেউ বলেন, কাজী রফিজউল্লাহ্‌ দারোগা নজরুলকে বাসার সিঁড়ির নিচে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে পান । তারপর দয়াপরবশ হয়ে তাঁকে ময়মনসিংহে নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন । ১৯১৪ সালে রফিজ উল্লাহ্‌ দারোগা নজরুলকে বর্ধমানের আসানসোল থেকে ত্রিশালের কাজির সিমলায় নিয়ে আসেন । দরিরামপুর হাইস্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন ।

নজরুল প্রথমে কাজির সিমলা থেকে পাঁচ মাইল হেঁটে সহপাঠীদের সাথে স্কুলে আসতেন । বর্ষা-বাদলের দিনে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হতো । কারণ, রাস্তাঘাট এখনকার মতো পাকা ছিলোনা । হাঁটু সমান কাদা মাড়িয়ে আসতে হতো । এহেন সমস্যার কারণে একসময় তাঁকে বটতলা নামাপাড়ায় বিচুতিয়া বেপারীর বাড়িতে লজিং থাকতে হয় ।

এখানে নজরুল একবছর পড়াশোনা করেন । একাডেমীক রেজাল্টও খুব ভালো ছিল তাঁর । শিক্ষকগণও তাঁর প্রতিভায় মুগ্ধ হতেন । একবার কোন কারণে, যদ্দুর জানা যায়, পরীক্ষার খাতায় নাম্বারিং নিয়ে কোন এক শিক্ষকের সাথে তাঁর মনোমালিন্য হয় । তিনি স্কুল ছেড়ে বেপারী বাড়ি চলে আসেন এবং সারারাত খুব কান্নাকাটি করেন । সবাই কারণ জানতে চাইলে তিনি নিশ্চুপ থাকেন । পরদিন কাউকে না বলে রানীগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন । প্রচণ্ড অভিমানী নজরুল আর কখনো ত্রিশালে আসেননি ।

১৯২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি তারিখে ময়মনসিংহের টাউন হলে জেলা কৃষক ও শ্রমিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় । অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার জন্য নজরুলকে দাওয়াত দেয়া হয় । অসুস্থতার অজুহাতে তিনি আসেননি । তবে ময়মনসিংহের অবদান সম্পর্কে লিখেছেনঃ

“ময়মনসিংহ আমার কাছে নতুন নহে । এই ময়মনসিংহ জেলার কাছে আমি অশেষ ঋণী । আমার বাল্যকালে অনেকগুলি দিন ইহারই বুকে কাটিয়া গিয়াছে । আজও আমার মনে সেইসব প্রিয় স্মৃতি উজ্জ্বল ভাস্বর হইয়া জ্বলিতেছে । বড় আশা করিয়া ছিলাম আমার সেই শৈশবচেনা ভূমির পবিত্র মাটি মাথায় লইয়া ধন্য হইব, উদারহৃদয় ময়মনসিংহ জেলাবাসীর প্রাণের পরশমণির স্পর্শে আমার লৌহপ্রাণকে কাঞ্চনময় করিয়া তুলিব । কিন্তু তাহা হইল না, দুর্ভাগ্য আমার ।”

ত্রিশাল এখন

নজরুল নেই, কিন্তু এখনো আছে সেই বটগাছ; যার নিচে বসে নজরুল আপন মনে বাঁশি বাজাতেন । কাটিয়ে দিতেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা । এখনো আছে সুতিয়া নদী, যার কূল ঘেঁষে নজরুল হাঁটতেন; যদিও নদীতে নাব্যতা নেই । কাজির সিমলায় নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে । বটতলা নামাপাড়ায় বিচুতিয়া বেপারী বাড়িতে নজরুল যাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছে । দরিরামপুর হাইস্কুলের নাম পাল্টে এখন নজরুল একাডেমী রাখা হয়েছে । নজরুলের নামে ত্রিশালে গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ।

শুকনি বিলের ওপর ২০০৬ সালে একটি সাংস্কৃতিক বিশ্ববিদ্যালয়ও স্থাপন করা হয়েছে । যার নাম রাখা হয়েছে “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়” । দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো শিক্ষার্থী এসে নজরুল সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করছে । নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রতিবছর নজরুল জয়ন্তী হয়, নজরুলের ওপর আলোচনা হয় । গানবাজনার পাশাপাশি নজরুলের সাহিত্য নিয়ে নাতকও হয় । অভিনয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা । এই জয়ন্তী এখন ত্রিশালবাসীর বাৎসরিক উৎসবে পরিণত হয়েছে ।

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com