জবি ছাত্র ফ্রন্টের সম্মেলনে গানের টানে প্রাণের মিলন

 

 

 

জবি প্রতিনিধি:

চার দফা দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার ৪র্থ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনের মাধ্যমে আগামী দুই বছরের জন্য কিশোর কুমার সরকারকে সভাপতি ও গোলাম রাব্বিকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৭ সদস্যের নতুন কমিটি ঘোষণা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক স্নেহাদ্রি চক্রবর্তী রিন্টু।

গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উদ্বোধন করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ¯স্নেহাদ্রী চক্রবর্তী রিন্টু। উদ্বোধনের পর একটি সুসজ্জিত র‌্যালি পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভাস্কর্য চত্বরে এসে শেষ শেষ হয়।  সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক কিশোর কুমার সরকারের পরিচালনায় সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিত্তুল মুনা হাসান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সত্যজিৎ বিশ্বাস সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট জবি শাখার অর্থ সম্পাদক প্রসেনজিৎ সরকার , দপ্তর সম্পাদক গোলাম রাব্বী।

১. ২০১৮ সালেই আবাসিক সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন কর

২. ক্যান্টিনে পর্যাপ্ত ভর্তুকি দিয়ে খাবারের দাম কমাও, মান বাড়াও

৩. সকল রুটে বাসের ডাবল ট্রিপ চালু কর

৪. সকল বিভাগে বাণিজ্যিক নাইটকোর্স বন্ধ কর – দাবীর উল্লেখপূর্বক

সম্মেলনে বক্তারা বলেন,“বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ১২ বছর অতিক্রান্ত হলেও নানা সংকট নিয়ে চলছে ২১ হাজার শিক্ষার্থীর প্রাণ প্রিয় এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০১৬ সালে ৩৩ দিন ব্যাপী হল আন্দোলনে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরও যথার্থ উদ্যোগহীনতার অভাবে তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। গত ৪ জানুয়ারি রাজউক কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া ইউনিয়নে ২০০একর জমি অধিগ্রহণের অনুমতি দেয়ার পরও প্রশাসন এখনও কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যান্টিনের বেহাল অবস্থা। খাবারের নিম্নমান ও উচ্চ দাম যা শিক্ষার্থীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। গত বছর আমাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ক্যান্টিনের সমস্যা নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করেন। কিন্তু ঐ কমিটির ভূমিকা আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

বক্তারা আরো বলেন, পরিবহনের অবস্থা আরো শোচনীয়। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল পরিবহনের ডাবল ট্রিপ চালু করা। কিন্তু প্রশাসন নানা অজুহাত দেখিয়ে পরিবহনে ডাবল ট্রিপ চালু করেনি। অথচ বাণিজ্যিক সান্ধ্যকালীন কোর্সের শিক্ষার্থীদের জন্য রাত্রিবেলা বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংকট নিরসনের চেষ্টা প্রশাসনের না থাকলেও তারা বাণিজ্যিক সান্ধ্যকালীন কোর্স চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বেশ সরব। তাই আমাদের  প্রাণ প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সংকট মুক্ত করে উচ্চ শিক্ষার প্রকৃত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে নতুন এই কমিটি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

সম্মেলন শেষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের  ছাত্রশিক্ষক ব্যান্ডদল অভিকর্ষ  তাদের গান পরিবেশনের মাধ্যমে  উন্নত সংস্কৃতির চর্চা এবং   মানবতার জয়গানের মাধ্যমে উপস্থিত সুধীদের বিপ্লবী অভিবাদন জানান। দলটির সৃষ্টিশীল  সদস্যরা হলেন সৌম্য সরকার (সহকারী শিক্ষক,ইংরেজি বিভাগ) অভি চৌধুরী (সহকারী, শিক্ষক,বাংলা বিভাগ), অভি চৌধুরী পার্থ(পার্কশনিস্ট), কাইয়ুম রেজা( পার্কাসিভ গিটার), সাকিব( বেজ গিটার),অভিজিৎ( লিড গিটার) নাহিদ(কন্ঠ) মারুফ (কন্ঠ)। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডদল ‘ক্ষ্যাপা’ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিয়ে রচিত ‘নাফ নদীর ওপাড়ে কান্না শোনা যায়’ শিরোনামে গান পরিবেশন করে।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com