,

জাবিতে লক্ষ টাকায় প্রক্সি, ভাইভায় এসে ৬জন কারাগারে

জোবায়ের কামাল, জাবি প্রতিনিধি# জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ছয়জনকে আটক করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আটককৃত ছয়জনকে আশুলিয়া থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

সোমবার (১৩ নভেম্বর) লিখিত পরীক্ষার পরবর্তী মৌখিক পরীক্ষায় হাতের লেখায় অমিল পাওয়ায় স্ব-স্ব অনুষদ থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন আইন ও বিচার অনুষদের ভর্তি-ইচ্ছুক নিশাদ আহমেদ, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে ভর্তি-ইচ্ছুক নাঈমুর রহমান ও মাহমুদুল বশির সৌরভ এবং কলা ও মানবিক অনুষদে ভর্তি-ইচ্ছুক আশরাফুজ্জামান নয়ন। নিশাদের সঙ্গে আসা তার বড় ভাই নাঈমুর রহমান সরকারকেও আটক করা হয়। তার সকলেই জালিয়াতির কথা স্বীকার করে। এছাড়া রিজওয়ান নামের এক ব্যক্তিকেও আটক করা হয়। তবে সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলে, নিশাদ ও নাইমুর আমাকে সঙ্গে নিয়ে এসেছে। জালিয়াতির বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার লিখিত অংশের উত্তরপত্রে পরীক্ষার্থীদের বাংলা এবং ইংরেজীতে দুটি বাক্য লিখতে হয়। পরবর্তী সময়ে মোখিক পরীক্ষায় ওই বাক্য দুটি আবার লিখতে হয়। প্রাথমিকভাবে হাতের লেখার সঙ্গে মিল দেখে প্রকৃত পরীক্ষার্থী যাচাই করা হয়। কিন্তু তাদের হাতের লেখায় অমিল পাওয়া গেছে।

প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা যায়, আইন ও বিচার অনুষদে (এফ ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে নিশাদ আহমদকে। তিনি ৩ লক্ষ টাকার বিনিময়ে শান্ত নামের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে চুক্তি করে। চুক্তি মোতাবেক আইন ও বিচার বিভাগে শান্ত পরীক্ষা দিলে ৪২তম স্থান লাভ করে।

এছাড়া বিজনেস স্টাডিজ অনুষদে (ই ইউনিট) মাহমুদুল বশির সৌরভ ৫লক্ষ টাকার বিনিময়ে তার হয়ে অন্যজন পরীক্ষা দেয়। এতে সে ই্ ইউনিটে ১৫২তম স্থান লাভ করে।

একই ইউনিটে চান্সপ্রাপ্ত নাইমুর রহমনকেও একই অভিযোগে আটক করা হয়। তিনি সুবির নামের এক শিক্ষার্থীর সাঙ্গে ২লক্ষ টাকার চুক্তি করেন। এতে সে ই ইউনিটে ১২৭তম স্থান লাভ করে। ইতমধ্যে সে ১লক্ষ টাকা পরিশোধ করেছে।

কলা ও মানবিকি অনুষদে (সি ইউনিট) জালিয়াতির অভিযোগে আটক করা হয়েছে আশরাফুজ্জামান নয়নকে। তিনি এক ব্যক্তির সাথে ১লক্ষ টাকার চুক্তি করে চান্স পায়। এতে সে সি ইউনিটে ১৭তম স্থান লাভ করে।

প্রক্টর তপন কুমার সাহা বলেন, তাদের হাতের লেখা মেলেনি। তা ছাড়া মেধা তালিকায় তাদের অবস্থান অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তরও তারা দিতে পারেন নি। তারা ভর্তি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগে তাদেরকে আটক করা হয়েছে। থানায় নিয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, রোববার (১২ নভেম্বর) মাহবুব হোসেন, ইমাম হোসেন, অমিত হাসান ও আশিকুল হাসান রবিন নামের আরো ৪শিক্ষার্থীকে একই অভিযোগে আশুলিয়া থানা পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com