,

২০ ঘণ্টা কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রুয়েট উপাচার্য

জি.এ.মিল্টন, রাবি প্রতিনিধি #  ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট)  উপাচার্যকে এখনো অবরুদ্ধ করে রেখেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। গতকাল শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে আজ রবিবার সকাল ১০ পর্যন্তও কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন রুয়েট উপাচার্যসহ প্রায় ২২জন শিক্ষক। রুয়েট সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে। তারপর থেকেই উপাচার্যসহ শিক্ষক ও কর্মকর্তারা রুয়েটের প্রশাসন ভবনেই রয়েছেন।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, গতকাল শনিবারের মতোই রুয়েটের ১৪ ও ১৫ সিরিজের প্রায় দুইশত শিক্ষার্থী রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. রফিকুল আলম বেগের দফতরের সামনে বারান্দায় অবস্থান করছে। এসময় তারা তাদের দাবি আদায়ে স্লোগান দিচ্ছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা শনিবার সকাল ১০টা থেকে টানা ২০ ঘণ্টা উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে। জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভা থেকে শিক্ষার্থীর দাবির বিষয়ে কোনো এক সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের একটাই দাবি, ৩৩ ক্রেডিট অর্জন পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। নয়তো তাদের আন্দোলন চলবে।

শিক্ষার্থীরা  আরো বলেন, ২৮ জানুয়ারি থেকে আমরা আন্দোলন করে আসছি। আমাদের আন্দোলন দমাতে একটি হলের শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও আমরা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছি। বিক্ষোভ মিছিল, রক্ত ঢালাসহ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছি। বর্তমানে উপাচার্যের কক্ষের সামনে অবস্থান করছি। আমাদের দাবির পক্ষে ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করবো না।    

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ৩৩ ক্রেডিট পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে, রুয়েটে ক্লাস-ল্যাবের সংকট থাকার কারণে যারা ক্রেডিট অর্জন করতে পারবে না তাদেরকে অন্য ব্যাচের সাথে ক্লাস বা ল্যাবে থাকতে হবে। সেক্ষেত্রে জায়গা ও শিক্ষাগত দুই দিকেই সমস্যা হবে।
এছাড়া কোনও শিক্ষার্থী অসুস্থ বা অন্য কোনও সমস্যার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে তার এক বছরের বেশি সময় ক্ষতি হবে। এমনকি সিলেবাসগত জটিলতাতেও পড়তে হয় ওই শিক্ষার্থীকে। প্রশাসন কোনও পদ্ধতি প্রণয়ন করলে সেটা সবদিক বিবেচনা করে করা উচিত বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

রুয়েট সূত্রে জানা যায়, শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হবার ক্ষেত্রে দুই সেমিস্টারে বাধ্যতামূলক ৪০ ক্রেডিটের মধ্যে ন্যূনতম ৩৩ ক্রেডিট অর্জন করতে হয়। অন্যথায়, তাকে পুনরায় সেই বর্ষেই থাকতে হবে। এর আগে নিয়ম ছিল, কোনও শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা অনুপস্থিতির কারণে ন্যূনতম ক্রেডিট অর্জন না করলেও পরবর্তী বর্ষে উত্তীর্ণ হতে পারতো। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে তাকে পরীক্ষা দিয়ে ওই ক্রেডিট অর্জন করতে হতো। তবে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে এ নিয়ম পরিবর্তন আনা হয়। এ বিষয়ে রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. রফিকুল আলম বেগ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা সারারাত কার্যালয়েই অবরুদ্ধ রয়েছি। দুপুর সাড়ে ১২টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওখানে কোনো একটা সিদ্ধান্ত হবে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের আন্দোলনে ১১ আগস্ট একই দাবিতে রুয়েটের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে প্রশাসন ভবনের সামনে আন্দোলন করেন রুয়েটের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। টানা দুই দিন আন্দোলনের পর ১২ আগস্ট রাতে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সকল ক্লাশ-পরীক্ষা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে প্রশাসনের অনড় অবস্থানের কারণে তখন শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে আসেন। দেড় বছর পর চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি থেকে একই দাবিতে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করে আসছে শিক্ষার্থীরা। টানা চারদিন আন্দোলনের পর ৩১ জানুয়ারি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। পরে ২ জানুয়ারি সকাল ১০টার মধ্যে টিনসেড হলে অবস্থানরত আন্দোলনকারী ১৪ ও ১৫ সিরিজের শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা হল ছাড়লেও আন্দোলনে অংশ নেয়।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com