,

সন্ধ্যায় ফিরছেন খালেদা জিয়া

প্রায় তিন মাসের যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে বেগম খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে বিমানবন্দরেই তাকে ব্যাপক সংবর্ধনা দেয়ার পাশাপাশি তাকে একটি উপাধি দেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি। নেত্রীকে ‘ফাইটার অব ডেমোক্রেসি’ বা ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ বলে আখ্যা দিয়েই বরণ করবে স্বেচ্ছাসেবক দল। সংগঠনের শীর্ষ নেতারা বলছেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ নয় বছর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধেও তিনি লড়াই করছেন। যে কারণে তিনি দেশে ফিরলে তারা ‘গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ হিসেবে তাকে আখ্যায়িত করতে চান।

স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু বলেন, ‘এক এগারোর অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াই করেছেন। তাই তাকে আপসহীন নেত্রী বলা হয়ে থাকে। এ কারণে তিনি চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলে আমরা তাকে ‘ফাইটার অব ডেমোক্রেসি বা গণতন্ত্রের যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করব।’ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানি না। তবে বেগম খালেদা জিয়া আমার কাছে আপসহীন নেত্রী। এর বাইরেও অন্যান্য সংগঠন তাকে অবশ্যই অন্য বিশেষণ দিতে পারে। কারণ তিনি তো জীবনটা গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তাই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই।’

রাজনীতিতে খালেদা:

খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসা ঘটনাচক্রেই বলা যায়। তিনি ছিলেন একজন গৃহিনী মাত্র। তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালের ৩০ মে একটি ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন। পরে তার স্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮৩ সালের মার্চ মাসে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হন তিনি।

এরপর বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে খালেদা জিয়া ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন হন।১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকায় জামায়াতের সমর্থনে সরকার গঠন করে দলটি। বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

এরপর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের বর্জনের মুখে একতরফা নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় আসে বিএনপি। কিন্তু আওয়ামী লীগের তীব্র আন্দোলনের মুখে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে সংসদ ভেঙে দেন খালেদা জিয়া। আর ১২ জুনের ভোটে হেরে যাওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতা হন খালেদা জিয়া।

২০০১ সালের ১ অক্টোবর খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে চারদলীয় জোট নির্বাচনে জিতে খালেদা জিয়া আবারও প্রধানমন্ত্রী হন। তবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের ভোটে চারদলীয় জোটের ভরাডুবি হয় এবং খালেদা জিয়া আবার বিরোধীদলীয় নেতা হন। সবশেষ ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দুর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেফতার হন বিএনপি নেত্রী। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নির্দেশে মুক্ত হন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ এক বছর সাত দিন কারাভোগ করেন তিনি।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com