,

সারা দেশেই এক আলোচনা, কী হচ্ছে

সারা দেশেই এক আলোচনা। কী হচ্ছে, কী হবে। এই প্রশ্নের চটজলদি কোনো জবাব নেই কারো কাছে। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে ততই গুঞ্জন আর গুজব দানা বাঁধছে। সরকারি মহলে অস্বস্তি। বিরোধী শিবিরে অন্তঃহীন উচ্ছ্বাস। কিন্তু কেন? এর কোনো জবাব নেই। হঠাৎ করেই রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত। বিচার বিভাগ আর নির্বাহী বিভাগ অনেকটা মুখোমুখি। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আদালত নানা প্রশ্নের সম্মুখীন।

শাসক আওয়ামী লীগ এই রায় মানতে নারাজ। তাদের কথায়, এই রায়ে বঙ্গবন্ধুকে খাটো করা হয়েছে। তাই প্রধান বিচারপতির অপসারণ দাবিতে আন্দোলন। যদিও কেউ কেউ বলছেন, রায়ে বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে পাতায় পাতায়। বরং সেনা শাসকদের তুলোধুনো করা হয়েছে। বিরোধী বিএনপি এরপরও খুশি। মাজেজাটা কি? বুঝে না বুঝে! আওয়ামী লীগ প্রধান বিচারপতির ওপর প্রচণ্ড বিরক্ত। নানাভাবে বার্তা যাচ্ছে আদালতপাড়ায়।

প্রধান বিচারপতি কী ভাবছেন, তা জানা যায়নি। ২৪শে আগস্ট চরমপত্র দিয়েছিল আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। বলেছিল, এই সময়ের মধ্যে প্রধান বিচারপতি যদি ইস্তফা না দেন, তাহলে নয়া কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী নিজে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। বলেছেন, পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা চলবে না।

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের অর্ধেক অঞ্চল বন্যাকবলিত। কোটি কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত এই বন্যায়। ত্রাণ নেই, পর্যাপ্ত সাহায্য নেই। লাখ লাখ মানুষ ঘরছাড়া। এদিকে কারো নজর নেই। সবাই ব্যস্ত ক্ষমতা নিয়ে। একদল ক্ষমতা হারানোর ভয়ে শঙ্কিত, অন্য দল ক্ষমতার মসনদে বসতে মরিয়া। এসবই নাকি জনগণের মঙ্গলের জন্য। কার মঙ্গল কে দেখে। হায়রে জনগণ! কেন এমন হলো। বিশ্বাস আর অবিশ্বাস। চায়ের টেবিলে কিংবা ড্রয়িংরুমে অঙ্ক মেলানো হচ্ছে। নানা গুজব। সত্য না মিথ্যা কেউ তলিয়ে দেখছেন না। বিরোধী বিএনপি’র দৌড়ঝাঁপ সন্দেহের মাত্রা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রায়ের আগে ও পরে কূটনৈতিক তৎপরতা চোখে পড়ছে। ২০১৪-এর খেলা এবার ভিন্নভাবে। নজিরবিহীন বৈঠকের খবরাখবর সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামও হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের রেখে ঢেকে কথা বলছেন না। তার কথা সিজে-এর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। আরো হবে। হাল আমলে গোপন কথা আর গোপন নয়।

ড. গওহর রিজভীর বৈঠক আরো খোলামেলা। আদালত চত্বরেই দীর্ঘ বৈঠক করলেন গওহর রিজভী। একদিন আগে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি সিজেকে নিশানা করে বক্তৃতা দিলেন। পরদিন উপদেষ্টা গওহরের বৈঠক নানা কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও কোনো পক্ষ থেকেই কিছুই বলা হয়নি। এই যখন অবস্থা তখন ওবায়দুল কাদের জানিয়ে দিলেন, ষড়যন্ত্র হচ্ছে আবার ওয়ান-ইলেভেন তৈরি করার। তিনি অবশ্য এজন্য বিএনপিকে দোষারোপ করেছেন। বলেছেন, তারাই ষড়যন্ত্র করছে।

এই খবর মিইয়ে যাওয়ার আগে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা আমীর হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এক সময় তারা ছিলেন উপেক্ষিত। সংকটকালে ফের ডাক পেয়েছেন। এ নিয়ে দলের ভেতরেই নানা কথা। যা-ই হোক কী উদ্দেশ্য এই বৈঠকের। কলকাতার টেলিগ্রাফ তো ইঙ্গিত দিয়েই ফেলেছে। এই অবস্থায় কী হতে যাচ্ছে- তা বলা আসলেই কঠিন। তবে ভালো কিছু যে হচ্ছে না, তা বলা যায় নিশ্চিত করে। কে হারবেন, কে জিতবেন এ নিয়ে বিতর্ক করে কি লাভ? নিয়তি যা ঠিক করে রেখেছে তাই হবে।

সূত্র: মানবজমিন।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com