,

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ বড় দুই দলেই কোন্দল ৪ কেন্দ্রীয় নেতা মাঠে

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রায় এক ডজন নেতার নাম শোনা যাচ্ছে। মনোনয়ন পেতে মাঠে রয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির চার কেন্দ্রীয় নেতাও। এ আসনে বড় দুই দলেই কোন্দল রয়েছে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে দু’জন করে মোট চার প্রার্থীর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারও শুরু করেছেন। তাদের পক্ষে নেতাকর্মীরা পোস্টার, লিফলেট সাঁটিয়েছেন। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনের আগে থেকেই আওয়ামী লীগে কোন্দল প্রকাশ্য হতে থাকে। সে তুলনায় বিএনপির কোন্দল এখনও জনসমক্ষে আসেনি। একাদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগের পক্ষ দুটি পরস্পরের মুখোমুখি রয়েছে।

দলটির প্রধান দুই প্রার্থী হলেন_ কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা কমিটির সভাপতি ও বর্তমান সাংসদ র. আ. ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র মো. হেলাল উদ্দিন। এ ছাড়া গত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে জয়ী হওয়া দলের সাবেক সহসভাপতি শফিকুল আলম এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিনের নামও শোনা যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে জেলা পরিষদ নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগে যে দ্বিধাবিভক্তি স্পষ্ট হয়, তার একাংশে রয়েছেন মোকতাদির চৌধুরী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার। অপরাংশের নেতৃত্ব দেন শফিকুল আলম, হেলাল উদ্দিন ও তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন। ভোটারদের ধারণা, নির্বাচন কাছাকাছির এলে হেলাল উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়াবেন শফিকুল আলম ও তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিন।

বিএনপির প্রধান দুই প্রার্থী হলেন কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও এই আসনের পাঁচ বারের সাংসদ হারুন-আল-রশীদ এবং কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থনীতি বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। বিএনপির অন্য দুই সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা কমিটির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি এবং জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জেলার রাজনীতিতে হারুন আল রশীদের অনুসারী বলে পরিচিত। ২০১১ সালে উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাংসদ হিসেবে আওয়ামী লীগে মোকতাদির চৌধুরীর অভিষেক হয়, তাতে বিএনপি তাদের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা হারুন-আল-রশীদের পরিবর্তে খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামলকে প্রার্থী করে। এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুল হাই সাচ্চু এক লাখ ৫৯ হাজার ৫৩৩ এবং বিএনপির প্রার্থী হারুন-আল-রশীদ ৮৬ হাজার ৪৯৮ ভোট পেয়েছিলেন। লুৎফুল হাই সাচ্চুর মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোকতাদির চৌধুরী এক লাখ ২৪ হাজার ৩৫০ এবং খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ৮৪ হাজার ৫৩০ ভোট পান। নির্বাচনী ফলাফলে ব্যবধান কমিয়ে আনা এবং সেই থেকে মাঠে থাকার পরও শ্যামল জেলা বিএনপি নেতাদের সঙ্গে দূরত্ব কমাতে পারেননি।

এ ছাড়া ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন জহির। জেলা বিএনপির ২ বারের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন একজন দক্ষ সংগঠক । ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারী কলেজের সাবেক ভিপি, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জহির তৃনমূল নেতাকর্মীদের নিকট ব্যাপক জনপ্রিয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনে একাধিক জনপ্রিয় বিকল্প প্রার্থী আছে। একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে, বিজয়নগর উপজেলা বিএনপিতে কোন্দল চরম আকার ধারন করেছে, গত ৩ বছরে উপজেলা বিএনপির ৩ টি কমিটি হয়েছে। উপজেলা বিএনপির বিশাল অংশ ইঞ্জি শ্যামলকে এর জন্য দায়ী করে। এ নিয়ে কেন্দ্রে তৃনমুলের দায়িত্তপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহানের নিকট একাধিকবার নালিশ করা হয়েছে। মুল কারন ইঞ্জি শ্যামল নিয়ন্ত্রিত ছাত্র দল ও যুবদল নেতৃবৃন্দ দিয়ে জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের একাধিক বার নাজেহাল করা।

হারুন আল রশীদ বলেন, এই আসনটি বিএনপিকে উপহার দিয়েছিলাম। তৃণমূলের সবাই সঙ্গে আছে। তাই মনোনয়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাব বলে আশা করছি। খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দলের চেয়ারপারসন। ছাত্রজীবন থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যে অবদান রাখছি, তা নিশ্চয়ই তার সুবিবেচনায় থাকবে। জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন দলের চেয়ারম্যানের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ও জেলার নেতা আবদুল্লাহ আল-হেলাল। এখানে ঢাকা দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সহসভাপতি জামাল রানাও প্রার্থী হতে চান।

আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় মনোনয়নে এগিয়ে আছেন মোকতাদির চৌধুরী। তিনি নির্বাচিত হওয়ার পর গত সম্মেলনে দলীয় সভাপতির পদও পান। এরপর দলের সাংগঠনিক অবস্থা সুদৃঢ় হয়েছে। তার নির্বাচনী এলাকায় তৃণমূল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর সক্রিয় কমিটি রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করে দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তিনি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। মোকতাদির চৌধুরী মাসে ১০ থেকে ১২ দিন নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে দলীয় কর্মকাণ্ডসহ নিয়মিত বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করছেন।

কয়েক মাস আগে জেলা পরিষদ নির্বাচনে জয়ী শফিকুল আলমের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে হেলাল উদ্দিন সদর আসনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। পরে তিনি গত ঈদে জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে করা পোস্টারে নির্বাচন করার কথাও প্রচার করেন। হেলাল উদ্দিন বলেন, মনোনয়ন চাইব, পেলে দলীয় নেতাকর্মীরা পক্ষেই কাজ করবেন। এদিকে শফিকুল আলম মনোনয়ন চাইবেন বলে শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো তৎপরতা নেই। তিনি বলেন, ‘৯১ সাল থেকেই মনোনয়ন চেয়ে আসছি। এবারও চাইব। দলীয় মনোনয়ন পেলে ইনশাল্লাহ জয়ী হব। মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী তাজ মোহাম্মদ ইয়াছিনও। তিনি বলেন, দল যাকেই মনোনয়ন দেবে, তার পক্ষেই কাজ করব। র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও আল-মামুন সরকার দাবি করেন, দলের অভ্যন্তরের কোনো টানাপড়েন নেই। তাদের বক্তব্য, একটি বড় দলে অনেকেই প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারেন। তার মানে এই নয়, দল ঐক্যবদ্ধ নেই।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

আরও অন্যান্য সংবাদ


Nobobarta on Twitter




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com